দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (১১ম পর্ব)
, ১৯ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৬ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৫ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ২১ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) ইতিহাস
জাতিসংঘ ওরফে ইহুদী সংঘের কথিত মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয়: যা প্রকৃতপক্ষে একমাত্র পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানবিরোধী কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও পরিচালনার কেন্দ্র।
“মানবাধিকারের ছদ্মাবরণে বিশ্বব্যাপী ইহুদী কর্তৃক পবিত্র দ্বীন ইসলাম বিরোধী কার্যক্রমের মাধ্যমে মুসলমানদেরকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে কুফরীর শৃঙ্খলে বন্দি করার চক্রান্ত:
ইহুদীদের কথিত বিশ্ব মানবাধিকার
(আসলে মুসলমানদের অধিকারহরণ, অধিকারহীনতা, অমানবিকতা ও বর্বরতার) ঘোষণা (১৯৪৮)
* সর্বজনীন কথিত মানবাধিকার ঘোষণা Universal Declaration of Human Rights- UDHR (Declaration of Inhumanity ১. ইহুদীদের তথাকথিত মানবাধিকার কমিশনই ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বরে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের সাধারণ পরিষদে টউঐজ (Declaration of Inhumanity) পেশ করে এবং এটি গ্রহণ হয়। তারাই একদল প্রস্তাব করে আর একদল গ্রহণ করে। জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের যত অধিবেশনে যত প্রস্তাব পেশ ও গৃহীত হয়, সব ইহুদীদের সাজানো নাটক। তাদের সকল কার্যক্রমই হলো পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী এবং বিশ্বব্যাপী ইহুদীদের দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করার কার্যক্রম।
২. ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার কমিশনের প্রস্তাবিত এই তথাকথিত সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাই (আসলে মুসলমানদের অধিকারহরণ, অধিকারহীনতা, অমানবিকতা ও বর্বরতার ঘোষণা) বিশ্বব্যাপী কথিত মানবাধিকারের ভিত্তি হিসেবে তারা প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। উল্লেখ্য, এই ঘোষণায় কখনই কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ উনাদের অনুসরণ করা হয়নি, বরং তারা সম্পূর্ণরূপে পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের এককথায় পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানদের চরম বিরোধীতা করেই প্রস্তাব পেশ করে ও পাশ করায়। ইহুদীরা কখনই মুসলমানদের কল্যাণে কিছু করবেও না। কারণ, তারা পবিত্র কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ উনাদের সম্পূর্ণ বিরোধী এবং মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রু।
ইহুদীসংঘের তথাকথিত মানবাধিকার কমিশনের কাজের বিস্তার (১৯৫০-২০০০):
* ইহুদীদের কথিত মানবাধিকার কমিশন নানান দেশের কথিত মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শুরু করে। এর মাধ্যমে বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলোতে তারা পবিত্র দ্বীন ইসলাম বিরোধী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করে।
* এর মধ্যে শীতল যুদ্ধের কারণে রাজনৈতিক চাপ ও আন্তর্জাতিক মতপার্থক্য বেড়ে যায়।
* কিছু সময় কমিশনের কার্যকারিতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্ক হয়। নিজেদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে তাদের কার্যক্রম কিছুটা স্থবির হয়ে যায়। কিন্তু পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানদের শত্রুতা করার জন্য তারা আবার এক হয়ে কাজ করে।
* কথিত মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত সমস্যা মোকাবেলায় কাজের গতি ধীর হয়ে যায়। আসলে ইহুদী-নাছারা, কাফির-মুশরিকদের নিজেরা যখন মারামারি করে তখন তারা তা কথিত মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে না। নিজেদের মধ্যে মারামারিতে তাদের কাজ ধীর হয়ে যায়।
কমিশনের পুনর্গঠন ও UN Human Rights Council গঠন (২০০৬)
* ইহুদীরা তাদের তথাকথিত মানবাধিকার কমিশনকে আধুনিকায়ন ও আরো কার্যকর করার জন্য অর্থাৎ পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে নোংরাভাবে চক্রান্ত করার উদ্দেশ্যে তাদের ইহুদীসংঘ সাধারণ পরিষদের মাধ্যমে ২০০৬ সালে “Human Rights Council” (মানবাধিকার কাউন্সিল) প্রতিষ্ঠা করে।
* ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার কাউন্সিল:
১. কথিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত, প্রতিবেদন, ও সুপারিশের ব্যাপারে ক্ষমতাসম্পন্ন করে। (প্রকৃতপক্ষে এই সব অজুহাতে পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানদের বিরোধীতায় ব্যাপকভাবে লিপ্ত হয়।)
২. প্রতি বছর নিয়মিত তাদের তথাকথিত মানবাধিকার অবস্থা পর্যালোচনা (Universal Periodic Revie)ি করে।
* ৪৭ টি সদস্য দেশ নিয়ে গঠিত হয়।
বর্তমান কার্যক্রম ও ভূমিকা (২০০৬ থেকে বর্তমান)
* ২০০৬ সালে ইহুদীদের নবগঠিত ‘ইহুদীসংঘ কথিত মানবাধিকার কাউন্সিল’ বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলে নির্যাতন, যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ইত্যাদি তদন্ত শুরু করে। মূলতঃ কাফির-মুশরিকদের রক্ষা আর পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানদের ক্ষতি করার কাজকে এগিয়ে নেয়ার কাজ করে।
* ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার কাউন্সিল বিভিন্ন দেশে বিশেষ তদন্ত কমিশন ও অনুসন্ধান মিশন গঠন করে থাকে, যেমন:
সিরিয়া
ফিলিস্তিন
মিয়ানমার
ইউক্রেন ইত্যাদি দেশে।
* আন্তর্জাতিক কথিত মানবাধিকার আইন বাস্তবায়নে (মূলত ইহুদীদের দখলদারিত্ব ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে এবং পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানদের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব মিটিয়ে দিতে কার্যক্রম জারী করে) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। (সংকলিত)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সন্ত্রাসী সংগঠন ‘আইএস’ এর মাধ্যমে মুসলিম বিশ্ব ভাঙ্গার মানচিত্র বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়ে এখন গাজা যুদ্ধের মাধ্যমে সেই চেষ্টা করছে ক্রুসেডার জোট
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী ইহুদী-খ্রিস্টানদের নজরদারী, তথ্যচুরি, ফিৎনা সৃষ্টিকারী, সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী এবং বিমান হামলার কাজে ব্যবহৃত সন্ত্রাসী আমেরিকা ভিত্তিক মুসলিম বিদ্বেষী এক তথ্যজালিকা (২)
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হিজরী চর্তুদশ শতকের মহান মুজাদ্দিদ, ফুরফুরা শরীফের মুজাদ্দিদে যামান হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্বী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহ উমরী মুবারক
১১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আমেরিকা আবিষ্কারের যে সঠিক তথ্যটি আড়াল করা হয়েছে
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুসা বিন আবী গাসসান: হার না মানা এক অকুতোভয় মুসলিম সিপাহী
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বৃটিশরা কুচক্রীদের সহযোগিতায় মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে চালু করে সেক্যুলার নামক নাস্তিক্যবাদী সিলেবাস। (২য় পর্ব)
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক (৫)
০৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বৃটিশরা কুচক্রীদের সহযোগিতায় মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে চালু করে সেক্যুলার নামক নাস্তিক্যবাদী সিলেবাস। (১ম পর্ব)
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক (৪)
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক (২)
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
অশ্রুভেজা লঙ্কাদ্বীপ: যখন আর্তনাদই হয়ে ওঠে মুসলিমদের নিয়তি
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি একজন ক্রীতদাসীর ভক্তি
৩০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












