কায়রোর ঐতিহাসিক আল আযহার জামে মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় - ৭
, ১২ শা’বান শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ০৫ ‘আশির, ১৩৯০ শামসী সন , ০৫ মার্চ, ২০২৩ খ্রি:, ১৯ ফাল্গুন, ১৪২৯ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) স্থাপত্য নিদর্শন
এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি ইসলামী ও ফাতেমীয় স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত। মিশরে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার যুগের সর্বপ্রথম মসজিদ হলো “মসজিদে আমর ইবনুল আস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু” আর রাজধানী কায়রোর সর্বপ্রথম মসজিদ জামে আল আযহার। প্রাচীন সভ্যতার দেশ মিশরের রাজধানী কায়রো মসজিদ ও অন্যান্য ইসলামী স্থাপনায় এতোটাই সমৃদ্ধ যে, এক সময় এই মহানগরী "হাজার মিনারের নগরী” নামে খ্যতি লাভ করে। ইসলামী যুগের সূচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত রাজধানী কায়রোর সেই ঐতিহ্যবাহী ধারা অক্ষুণœ আছে। হিজরী ৩৫৯-৩৬১ মোতাবেক ৯৭১ থেকে ৯৭৫ খৃ: মধ্যবর্তী সময়ে এ মসজিদ নির্মাণ করা হয়। মিশরে ফাতেমীয় খেলাফতের সর্বপ্রথম উল্লেখযোগ্য স্মারক জামে আল আযহার ও আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়। হাজার বছর পূর্বে প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামের সুমহান শিক্ষা-সাংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যকে সমগ্র বিশ্বে সমভাবে আলোকিত করেছে। বিগত হাজার বছরে অগণিত উলামার জন্ম দিয়েছে এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ।
মিশরে ফাতেমীয় খেলাফতের প্রথম শাসক আল মুঈজ লিদ্বিনীল্লাহ এই ঐতিহাসিক মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। কায়রোকে ফাতেমীয় খেলাফতের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করার পর পবিত্র ১০ই রমাদ্বান শরীফ ৩৬১ হিজরী মোতাবেক ৯৭২খৃ: এর কার্যক্রম শুরু হয়।
ফাতেমীয়দের অধীনে কাঠামোগত পরিবর্তনঃ
মসজিদের মূল কাঠামো ২৮০ ফুট (৮৫ মি) দীর্ঘ এবং ২২৭ ফুট (৬৯ মি) প্রশস্ত ছিল। উঠোনের পাশে তিনটি আর্কেড উঠোনকে ঘিরে রয়েছে। উঠোনের দক্ষিণ পশ্চিমে নামাজের স্থান রয়েছে। ক্বিবলা দেয়ালের আকার ২৬০ ফুট (৭৯ মি) * ৭৫ ফুট (২৩ মি) যা সঠিক কোণ থেকে কিছুটা সরে আছে। নামাজের স্থানকে ঘিরে রাখা চারটি আর্কেডগুলো মার্বেলের স্তম্ভ দ্বারা ধরে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন পুরুত্বের ভিত্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন উচ্চতার স্তম্ভ গুলো স্থাপন করা হয়েছে। অভ্যন্তরের নকশায় আব্বাসীয় স্থাপত্যের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
১৯৩৩ খৃ: মূল মিহরাব উন্মোচিত হয়। এর উপরে একটি অর্ধবৃত্তাকার গম্বুজ ও দুইপাশে মার্বেলের স্তম্ভ রয়েছে। মিহরাবে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার দুটি আয়াত শরীফ ক্যালিগ্রাফি করা হয়েছিলো ছিল যা এখনো অক্ষত রয়েছে। প্রথমটি হলো পবিত্র সূরা আল মু'মিনূন শরীফ উনার প্রথম তিন আয়াত শরীফ। আর দ্বিতীয় আয়াতগুলো সূরা আল আনআমের ১৬২ ও ১৬৩ নং আয়াত শরীফ।
এই ক্যালিগ্রাফির অংশগুলো একমাত্র অলংকরণ যা নিশ্চিতভাবে ফাতেমীয় যুগের সাথে সম্পর্কিত করা যায়।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ভারতের জান্নাতবাদে ঐতিহাসিক জাহানীয়া মসজিদ
১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সুবা বাংলার ঐতিহাসিক শেখ বাহার উল্লাহ শাহী জামে মসজিদ
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ঢাকায় ৩০০ বছর আগের মুঘল আমলের ঐতিহাসিক মসজিদ
২৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ফুলের মতোই সুন্দর মালয়েশিয়ার পুত্রাজায়ায় অবস্থিত পুত্রা মসজিদ
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৫ম পর্ব)
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৪র্থ পর্ব)
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৩য় পর্ব)
০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান”
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (১ম পর্ব)
২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (৩)
১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (২)
১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (১)
০৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












