ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৪)
, ২৩ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৪ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ২৯ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) আইন ও জিহাদ
খন্দক খননকালে সংঘটিত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মুজিযাহ শরীফ:
অসংখ্য হাদীছ শরীফ, তাফসীর শরীফ ও কিতাব মুবারক উনাদের মাঝে উল্লেখ রয়েছে-
عَن حضرت جَابِرٍ رضي الله تعالى عنه، قَالَ: إنَّا كُنَّا يَوْمَ الْخَنْدَقِ نَحْفِرُ، فَعَرَضَتْ كُدْيَةٌ شَدِيدَةٌ، فَجَاؤُوا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَوا: هَذِهِ كُدْيَةٌ عَرَضَتْ في الخَنْدَقِ. فَقَالَ: ্রأنَا نَازِلٌগ্ধ ثُمَّ قَامَ، وَبَطْنُهُ مَعْصُوبٌ بِحَجَرٍ، وَلَبِثْنَا ثَلاَثَة أيّامٍ لاَ نَذُوقُ ذَوَاقاً فَأخَذَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم المِعْوَلَ، فَضَرَبَ فَعَادَ كَثِيباً أهْيَلَ أَو أهْيَمَ، فَقُلتُ: يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، ائْذَنْ لِي إِلَى البَيْتِ، فَقُلتُ لامْرَأتِي: رَأيْتُ بالنَّبيِّ صلى الله عليه وسلم شَيئاً مَا في ذَلِكَ صَبْرٌ فَعِنْدَكِ شَيْءٌ ؟ فَقَالَت: عِنْدي شَعِيرٌ وَعَنَاقٌ، فَذَبَحْتُ العَنَاقَ وَطَحَنْتُ الشَّعِيرَ حَتَّى جَعَلْنَا اللَّحْمَ في البُرْمَةِ، ثُمَّ جِئْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، وَالعَجِينُ قَدِ انْكَسَرَ، وَالبُرْمَةُ بَيْنَ الأثَافِيِّ قَدْ كَادَتْ تَنْضِجُ، فَقُلتُ: طُعَيْمٌ لِي، فَقُمْ أنْتَ يَا رَسُولَ اللهِ وَرَجُلٌ أَوْ رَجُلانِ، قَالَ: ্রكَمْ هُوَগ্ধ؟ فَذَكَرْتُ لَهُ، فَقَالَ:্রكَثِيرٌ طَيِّبٌ قُل لَهَا لاَ تَنْزَعِ البُرْمَةَ، وَلاَ الخُبْزَ مِنَ التَّنُّورِحَتَّى آتِيগ্ধ فَقَالَ: ্রقُومُواগ্ধ، فَقَامَ المُهَاجِرُونَ وَالأنْصَارُ، فَدَخَلْتُ عَلَيْهَا فَقُلتُ: وَيْحَكِ قَدْ جَاءَ النبيُّ صلى الله عليه وسلم وَالمُهَاجِرُونَ وَالأنْصَارُ وَمَن مَعَهُمْ! قَالَت: هَلْ سَألَكَ؟ قُلْتُ: نَعَمْ، قَالَ: ্রادْخُلُوا وَلاَ تَضَاغَطُواগ্ধ فَجَعَلَ يَكْسرُ الخُبْزَ، وَيَجْعَلُ عَلَيْهِ اللَّحْمَ، وَيُخَمِّرُ البُرْمَةَ وَالتَّنُّورَ إِذَا أخَذَ مِنْهُ، وَيُقَرِّبُ إِلَى أصْحَابِهِ ثُمَّ يَنْزِعُ، فَلَمْ يَزَلْ يِكْسِرُ وَيَغْرِفُ حَتَّى شَبِعُوا، وَبَقِيَ مِنْهُ، فَقَالَ: كُلِي هَذَا وَأهِدي، فَإنَّ النَّاسَ أصَابَتْهُمْ مَجَاعَةٌগ্ধ. متفقٌ عَلَيْهِ
হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খন্দক জিহাদের সময় আমরা পরিখা খনন করছিলাম। সেই সময় এক খন্ড কঠিন পাথর বেরিয়ে এলে (যা ভাঙ্গা যাচ্ছিল না) সকলেই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এসে বললেন, খন্দকের মধ্যে এক খন্ড পাথর বেরিয়েছে (আমরা তা ভাঙ্গতে পারছি না)।’ এ কথা শুনে তিনি বললেন, “আমি নিজে খন্দকে অবতরণ করবো।”
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (এসে) একটি গাঁইতি/কুঠার/কোদাল হাতে নিয়ে পাথরের উপর আঘাত করলেন, ফলে তৎক্ষণাৎ তা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে বালুকা রাশিতে পরিণত হলো। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর আমি বললাম, ‘ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাকে বাড়ী যাওয়ার জন্য অনুমতি দিন।’ (তিনি আমাকে অনুমতি দিলে বাড়ী পৌঁছে) আমার আহলিয়াকে বললাম, ‘আপনার নিকট কোন খাবার আছে কি?’ তিনি বললেন, ‘আমার নিকট কিছু যব ও একটি বকরীর বাচ্চা আছে।’ সুতরাং বকরীর বাচ্চাটি আমি যবেহ করলাম এবং তিনি যব পিষে দিলেন। অতঃপর গোশত ডেকচিতে দিয়ে আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে আসলাম। সে সময় আটা খামির হচ্ছিলো এবং ডেকচি চুলার ঝিঁকের উপর ছিলো ও গোশত প্রায় রান্না হয়ে এসেছিলো।
আমি বললাম, ‘ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার (বাড়ীতে) সামান্য কিছু খাবার আছে। দয়া করে একজন বা দু’জন সাথে নিয়ে আসুন।’ তিনি বললেন, ‘কি পরিমাণ খাবার আছে?’ আমি উনার নিকট সব খুলে বললে তিনি বললেন, ‘অনেক এবং উত্তম।’ অতঃপর তিনি আমাকে বললেন, “আপনি আপনার আহলিয়া উনাকে গিয়ে বলেন, আমি না আসা পর্যন্ত তিনি যেন ডেকচি চুলা থেকে না নামান এবং রুটি তন্দুর থেকে না নামান।” তারপর (সকলের উদ্দেশ্যে) তিনি বললেন, “আপনারা আসুন, (হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি আপনাদেরকে খাবারের দাওয়াত দিয়েছেন।)”
হযরত মুহাজির ও আনছার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা উঠলেন (এবং চলতে লাগলেন)। অতঃপর আমি আমার আহলিয়া উনার নিকট গিয়ে বললাম, ‘আপনি পরীক্ষার মধ্যে পড়েছেন! (এখন কি হবে?) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত মুহাজির, আনছার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এবং উনাদের অন্য সাথীদের নিয়ে চলে আসছেন।’ উনার আহলিয়া বললেন, ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কি আপনাকে কিছু জিজ্ঞাসা করেছিলেন?’ আমি বললাম, ‘হ্যাঁ।’ (আমার আহলিয়া বললেন, ‘তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা অধিক জানেন। আমাদের কাছে যা আছে তা তো আপনি উনাকে জানিয়ে দিয়েছেন।’ হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, ‘তখন আমার কিংকর্তব্যবিমূঢ়তা দূর হলো। আমি বললাম, আপনি ঠিকই বলেছেন।’) তারপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উপস্থিত হয়ে বললেন, “আপনারা সকলেই প্রবেশ করুন এবং ভিড় করবেন না।” এ বলে তিনি রুটি টুকরো করে তার উপর গোশত দিয়ে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মাঝে বিতরণ করতে শুরু করলেন। (এগুলো পরিবেশন করার সময়) তিনি ডেকচি মুবারক ও চুলা মুবারক ঢেকে রেখেছিলেন। এভাবে তিনি রুটি টুকরো করে বিতরণ করতে লাগলেন। এতে সকলে তৃপ্তি সহকারে খেলেন এবং খাবার পরেও কিছু বাকী রয়ে গেলো। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার আহলিয়াকে বললেন, এগুলো আপনি খান এবং অন্যকে উপহার দিন। কেননা, লোকদেরকে ক্ষুদায় পেয়েছে।” (বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ) (চলবে)
-আল্লামা মুহম্মদ নাজমুল হুদা ফরাজী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৩য় পর্ব)
১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৩)
০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (২)
০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৩)
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১ম পর্ব)
২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১)
২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২)
২১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১)
১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত জিহাদ মুসলমানদের একটি বিশেষ ফরয ইবাদত
১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২৩০৩)
১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২৩০২)
১২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












