উচ্চ আদালতে ‘ডেড ল’ বা অকার্যকর ঘোষিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ১৯০০’ পুণঃবহালের অপচেষ্টা চলছে।
এর মাধ্যমে পাহাড়কে উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা, ‘এক দেশে দুই আইন’ ও পাহাড়ে রাজা-প্রজা প্রথা বহাল, বাঙ্গালী ও রাষ্ট্রের ভূমি অধিকার হরণ এবং সেনা প্রত্যাহারসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিচ্ছিন্নের গভীর ষড়যন্ত্র চলমান। উচ্চ আদালত, সেনাবাহিনী এবং সরকারের উচিত দেশবিরোধী এই চক্রান্ত ষড়যন্ত্র রুখে দেয়া। (২)
, ০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) মন্তব্য কলাম
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল নিজেদের দখলে রাখতে ব্রিটিশ লুটেরারা ঐ অঞ্চলকে বিশেষ অঞ্চল নামে আখ্যা দিয়ে ১৯০০ সালে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি-১৯০০’ (চিটাগং হিল ট্র্যাক্ট ম্যানুয়েল ১৯০০) নামক আইন প্রণয়ন করে এবং ১৯০০ সালের ১ মে থেকে কার্যকর করে। এই আইনের মাধ্যমে উপজাতিদের ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামের শাসন ক্ষমতা নিজেরা কুক্ষিগত করে। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল এই সমৃদ্ধ অঞ্চলটি দূরে থেকে কিভাবে শাসন-শোষণ করা যায়। এলক্ষ্যে পার্বত্য উপজাতিদের তারা ব্যবহার করে।
পার্বত্য অঞ্চলের মূল নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখলেও এই আইনের মাধ্যমে উপজাতিদের উপজাতি দ্বারা শাসনে তাদের মধ্যে রাজা-প্রজা প্রথা চালু করে দেয়। রাজাদের সার্কেল চিফ হিসেবে ঘোষণা করে। তারা তিন পার্বত্য জেলায় ৩টি সার্কেল গঠন করে। রাঙামাটি জেলা নিয়ে চাকমা সার্কেল, বান্দরবান পার্বত্য জেলায় বোমাং সার্কেল এবং খাগড়াছড়ি জেলা নিয়ে মং সার্কেল নিয়ে গঠন করে। ১৮৬০ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামকে চট্টগ্রাম জেলা থেকে পৃথক করার পর থেকে এই সার্কেল ব্যবস্থাটির ভিত্তি তৈরি করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা করে ১৮৮১ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশনের মাধ্যমে। আর ১৯০০ সালের 'পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি'র মাধ্যমে এই ব্যবস্থাটি আরো শক্তিশালী ও স্থায়ী আইনী রূপ দেয় ব্রিটিশরা।
এই আইনে উপজাতিদের রীতি, প্রথা ও পদ্ধতির আলোকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিচালিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামকে উপজাতিদের জন্য একটি 'স্বতন্ত্র এলাকা' হিসেবে ঘোষণা করা হয়, যার ফলে সমতলের সাধারণ আইনগুলো এখানে সরাসরি প্রযোজ্য করা যায় না। তাই বাংলাদেশের সংবিধান, আইন-কানুন, বিধি বিধান সবকিছু সেখানে অচল।
এই আইনের ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে দেশের প্রচলিত আইন অকার্যকর হয়ে পড়ে। পাহাড়ী ও বাঙ্গালীদের জন্য এক দেশে দুই সংবিধান ও দুই আইন বলবৎ হয়। তাই আইনটি দেশের সাংবিধানিক বিধিবিধানের সাথে স্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক হওয়ায় ২০০৩ সালে উচ্চ আদালত এক রায়ে এই আইনকে মৃত আইন বলে ঘোষণা করেন।
কতিপয় পশ্চিমা দেশের মদদপুষ্ট কিছু উপজাতী ১২৫ বছর পর এসে ব্রিটিশ লুটেরাদের সেই আইন বলবৎ এর দাবি তুলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র করছে।
"পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি- ১৯০০”এর মধ্যে কি আছে?
‘পার্বত্য চট্টগ্রাম ম্যানুয়াল বা শাসনবিধি ১৯০০’ এই আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসনামলে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে বসবাসরত ক্ষুদ্র উপজাতিদের নিজস্ব বিচার ব্যবস্থা, ভূমির মালিকানা, রাজস্ব আদায় এবং প্রশাসনিক কাঠামো ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অধিকার দেওয়া হয়েছে। মোগল আমলের বাঙ্গালী মুসলিমদের জমি ক্রয় বা বসবাসের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়।
বাঙ্গালী মুসলিমদের বাদ দিয়ে এ অঞ্চলের শাসন, ভূমির মালিকানা ও প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণ, নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সুরক্ষা, সামাজিক আইন-বিচারের মতো মামলা পরিচালনার ক্ষমতাও উপজাতিদের দেওয়া হয়েছে।
পার্বত্য শাসনবিধি অনুযায়ী, এখানে ভূমি ব্যবস্থাপনা অন্যান্য জেলাগুলো থেকে আলাদা। এখানে জেলা প্রশাসক এবং সার্কেল চিফ বা রাজার সমন্বয়ে ভূমি রাজস্ব ও বন্দোবস্ত নিয়ন্ত্রিত হয়।
১৯৯৭ সালের "পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি’র পর এই বিধির অনেক ধারার সাথে সমন্বয় করে নতুন আইনও (যেমন- পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন) প্রণয়ন করা হয়েছে। তারপরও ১৯০০ সালের এই বৈষম্যমূলক আইনটি ২০০৩ সালের আগে বাতিল করা হয়নি। তখন সেটাকে মৃত আইন ঘোষণা দেওয়া হয়। এবং ২০১৮ সালে উচ্চ আদালত চূড়ান্তভাবে এই আইনকে ‘ডেড ল’ বা অকার্যকর আইন ঘোষণা করলেও এটি বলবৎ এর জন্য নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।
-মুহম্মদ জুলফিকার হায়দার।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ফারাক্কা মরণ বাঁধ, তিস্তার পানি বন্ধের পর, ভারত এখন মেঘালয়ে মিন্টডু ও কিনশি নদীতে ৭টি পানিবিদ্যুৎ প্রকল্প করতে যাচ্ছে।
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইউনুসের দেশদ্রোহীতার বয়ান : এক সাংবাদিকের জবানবন্দি (১)
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার বরকতে- দেশের বুকে রয়েছে বিপুল পরিমাণ মহামূল্যবান ইউরেনিয়াম। বাংলাদেশের ইউরেনিয়াম অনেক বেশী গুণগত মান সম্পন্ন। ভারতসহ দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের কারণেই তা উত্তোলন হচ্ছে না। হিন্দুস্থান টাইমস ও কুখ্যাত প্রথম আলো তথা ভারত-আমেরিকার কুচক্রীরা একযোগে ষড়যন্ত্র করছে। জনগণকে জনসচেতন হতে হবে ইনশাআল্লাহ। (১ম পর্ব)
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল থেকে ১ মে পর্যন্ত নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের (টঘচঋওও) ২৫তম অধিবেশনে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশ রাষ্ট্র, অপাহাড়ি বাংলাদেশি নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে জঘন্য মিথ্যাচার করছে।
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সন্ধ্যা ৭টায় দোকান বন্ধ: বিদ্যুৎ বাঁচানোর নামে অর্থনীতি ধ্বংস এবং দারিদ্রতা বৃদ্ধি করে দেশে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করা
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
এক সাগরে দুই চিত্র দেশের জেলেদের উপর পুলিশি সাড়াশী অভিযান আর ভারতীয় জেলেদের ক্ষেত্রে চোখ কান বন্ধ রেখে মাছ লুটের অবাধ সুযোগ করে দেয়া নিষেধাজ্ঞার সুফল পায়- ভারতীয় জেলে আর ঠকে এদেশীয় জেলে ও গণমানুষ।
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না। যানজট নিরসনের মূল কারণ চিহ্নিত ও পদক্ষেপ নিতে না পারাই ঢাকায় যানজটের প্রধান কারণ। (৬)
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
চিনিকল খোলার দাবীতে আন্দোলন করছে শ্রমিকরা। বিদেশিরা চিনিকল চালু, বিনিয়োগ ও লাভের সম্ভাবনা দেখতে পেলেও সরকার তা দেখতে পাচ্ছে না কেন চিনিকল বন্ধ থাকলে রাষ্ট্র হারায় সম্পদ, লুণ্ঠনকারীদের হয় পোয়াবারো।
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
উৎপাদনহীন অর্থনীতি: সংকটের মূল কোথায়?
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
“স্কুলে সংস্কৃতি চর্চা হলে দেশে উগ্রবাদ থাকবে না” নতুন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর এ বক্তব্য ফ্যাসিস্ট গত সরকার, তার ইসলাম বিরোধী সংস্কৃতি নীতি ও কুখ্যাত আওয়ামী সংস্কৃতিমন্ত্রীর হুবহু কণ্ঠস্বর। সংস্কৃতির নামে ঠগ সঙ্গীত, ঠগ বন্দনা, নাচ-গান তথা হিন্দুয়ানী সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা ছিল আওয়ামী রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। দ্বীনদার মুসলমান ও সন্ত্রাসবাদের নাটক ছিলো তাদের, ইসলাম দমনের হাতিয়ার।
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার অনবদ্য তাজদীদ ‘আত-তাক্বউইমুশ শামসী’ সম্পর্কে জানা ও পালন করা এবং শুকরিয়া আদায় করা মুসলমানদের জন্য ফরয। মুসলমান আর কতকাল গাফিল ও জাহিল থাকবে?
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
লালদিয়া: উন্নয়নের স্বপ্ন, নাকি সার্বভৌমত্বের সওদা?
২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












