৩২. কির্কের শাসক রেজিনাল্ড:
অতঃপর যখন তাকে হযরত সালাহউদ্দীন আইয়ুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সামনে উপস্থিত করা হলো, তখন সুলতান তাকে শাসক গাই-এর পাশে বসালেন। তারপর সুলতান তাকে ভৎর্সনা করলেন, তার অজুহাতকে তিরস্কার করলেন এবং তার অপরাধগুলো স্মরণ করিয়ে দিলেন। তিনি বললেন-
“তুমি কতবার শপথ করো এবং তা ভঙ্গ করো!
অঙ্গীকার করো, আবার ভেঙে ফেলো!
চুক্তি দৃঢ় করো, আবার তা লঙ্ঘন করো!
সমঝোতার দিকে এগিয়ে আসো, তারপর তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও!”
তখন তার পক্ষ থেকে দোভাষী বললো-
‘সে বলছে, রাজাদের তো এমনই অভ্যাস, আর আমি প্রচলিত সঠিক পথ অনুসরণ করিনি।’ অর্থাৎ সে ত বাকি অংশ পড়ুন...
৩১. হাদী আল-মুস্তাজিবীন:
অবশেষে যখন আমীর আবুল ফুতূহ এই ঘটনা দেখলো, তখন সে ‘হাদী আল-মুস্তাজিবীন’ এবং তার সাথে থাকা এক মাগরিবী সহযোগীকে ‘বাবুল উমরা’ নামক দরজার কাছে নিয়ে গিয়ে তাদের উভয়ের শিরচ্ছেদ করার আদেশ দেয় এবং তাদেরকে শূলবিদ্ধ করা হয়।
এরপর লোকেরা তাদেরকে পাথর নিক্ষেপ করতে থাকে, যতক্ষণ না তারা মাটিতে পড়ে যায়। তারপর তাদেরকে একত্রিত করা হয়। অতঃপর তাদের জন্য কাঠ ও হাড় জমা করে তাদের উভয়কে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
এই খবর সংক্রান্ত ছূফী আবুল ওয়াফা উনার প্রেরিত চিঠিটি ৪১১ হিজরীতে বাগদাদের হাদীছ শরীফ বিশারদ হযরত আবুল ফাতহ ইবনে আবিল ফাওয় বাকি অংশ পড়ুন...
৩১. হাদী আল-মুস্তাজিবীন:
হাকিম বিআমরিল্লাহ (৯৮৫-১০২১ খ্রি.) মিশরের উবাইদি খিলাফতের ষষ্ট শাসক। তার শাসনামলের শেষ দিকে হামযা বিন আলী জুজনি নামে এক লোক আত্মপ্রকাশ করে। তার উপাধি ছিলো হাদী আল-মুস্তাজিবীন। সে কায়রোর অদূরে ‘তাবার মসজিদ’-এ অবস্থান করতো। শরীয়তের হুকুমের রহস্য সম্পর্কে ভালো ইলিম রাখতো বিধায় সে নামায, রোযা ইত্যাদি দৈহিক আমলের হুকুম রহিত করে দিয়েছিলো। নাঊযুবিল্লাহ! সে ও তার অনুসারীরা আত্মিক নামায পড়ার দাবী করতো। তার মতে, নামায হলো মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে বান্দার একটি সম্পর্ক মাত্র।
এই মতের উপর সে আলাদা একটি মতবাদ প্র বাকি অংশ পড়ুন...
কামাল আহদাব:
৭০৪ হিজরীর ঘটনা। শাম দেশের দামেশক শহরে কামাল আহদাব নামে একজন লোক ছিলো। কারও সাথে তুমুল বাকবিত-ার মাঝখানে সে এমন একটি কথা বললো, যা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে চরম মানহানিকর।
বিষয়টা আইনিভাবে এমন অবস্থায় রূপ নিলো যে, লোকটা তা কল্পনাও করতে পারেনি। তখন দামেশকের বিচারক ছিলেন প্রসিদ্ধ ফক্বীহ আল্লামা জামালুদ্দীন আল-মালিকী। তিনি ত্রিশ বছর ধরে দামেশকে বিচারকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
প্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক আল্লামা ইবনুল ইমাদ হাম্বলী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ঘটনাট বাকি অংশ পড়ুন...
দুই কুচক্রী ইহুদীর কঠিন পরিণতি:
হযরত নূরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মাথা হেলিয়ে আগ্রহ ভরে ধৈর্য্যরে সাথে, নীরবে তাদের সমস্ত কথা শুনার পর গম্ভীর স্বরে বললেন, ‘আমি তোমাদের কারো কথা শুনতে রাজী নই। তোমাদের এই বৈঠকখানা বাদ দিয়ে আসল বিশ্রামের কক্ষ কোথায় আমাকে সংবাদ দাও।’ তিনি সাথের লোকজনসহ একটি পর্দা উঠিয়ে নতুন এক কক্ষে প্রবেশ করলেন। তাদের এই গোপন কক্ষে তিনি মাটি, ধূলা-বালি যুক্ত কিছু পোশাক-পরিচ্ছদ দেখতে পেলেন।
فَـرَفَعَ السُّلْطَانُ حَصِيْـرًا فِـى الْـبَـيْتِ فَـرَاٰى سِرْدَابًا مَـحْفُوْرًا يَـنْـتَهِىْ اِلـٰى صَوْبِ الْـحُجْرَةِ فَارْتَاعَتِ النَّاسُ لِذٰلِك বাকি অংশ পড়ুন...
দুই কুচক্রী ইহুদীর কঠিন পরিণতি:
সপ্তাহব্যাপী শত সহস্র ভেড়া, দুম্বা, উট যবেহ করে লক্ষ লক্ষ লোককে মেহমানদারী করানো হলো। আর তিনি উনার অনুরোধের উক্তি পুনরাবৃত্তি করতে থাকেন।
বার বার এই কথা শুনে এক পর্যায়ে পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মুছল্লীগণ সকলেই একবাক্যে বলে উঠলেন, “হে সুলতান! পবিত্র মদীনা শরীফ উনার আশপাশে এমন কোনো লোক আর বাকী নেই, যারা আপনার মেহমানদারীতে শরীক হয়নি।” তখন হযরত নূরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অত্যন্ত বলিষ্ঠ কণ্ঠে বললেন, “আমি বলছি আপনারা ভালোভাবে অনুসন্ধান করুন, এখনো কিছু লোক দাওয়াত খেতে বাকী রয়েছে। কেন তার বাকি অংশ পড়ুন...
দুই কুচক্রী ইহুদীর কঠিন পরিণতি:
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, হযরত সুলতান নূরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছিলেন সম্মানিত ইসলাম উনার একজন অন্যতম বীর সিপাহসালার, ইনসাফগার সুলতান এবং বিশিষ্ট বুযূর্গ। উনার সম্মানিত মাজার শরীফ সিরিয়ার দামেস্কে অবস্থিত।
তারীখুল খমীস, নুযহাতুন নাযিরীনসহ আরো অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, “নিশ্চয়ই উল্লেখিত সুলতান (হযরত নূরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি) তিনি সবসময় রাত্রে ছলাতুত তাহাজ্জুদ আদায় করতেন এবং সম্মানিত ওযীফাসমূহ পাঠ করতেন। (৫৫৭ হিজরী শরীফ উনার কোন এক রাতে) তিনি তাহাজ্জুদ আদায়ের পর ঘু বাকি অংশ পড়ুন...
এক খ্রিষ্টান পাদরি:
অন্তর প্রশান্তকারী এই ঘটনার খবর গিয়ে পৌঁছলো খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নিকট। শুনে তিনি এতটাই আনন্দিত হলেন যে, কখনও এতটা আনন্দিত হননি কোনো অভিযানে বিজয় বা গনিমত অর্জনের পর! তিনি আনন্দের বহিঃপ্রকাশ করতে গিয়ে বললেন, ‘এখন ইসলাম সম্মানিত হলো।’ ইসলামের স্বকীয়তা বজায় রইলো! কতগুলো ছোট্ট শিশু তাদের মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানীকর কথা শুনলো, অতঃপর রেগে উঠলো এবং বিজয় লাভ করলো। এরপর সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক বাকি অংশ পড়ুন...
ইবরাহীম আল-ফাযারী:
কতিপয় ঐতিহাসিক বলেন, ‘যখন তার ফাঁসির কাষ্ঠ উপরে উত্তোলন করা হলো এবং তার থেকে ফাঁসি কার্যকরী ব্যক্তিদের হাত সরে গেলো, হঠাৎ কাষ্ঠ নরাধমটার চেহারা কিবলার দিক থেকে ফিরিয়ে দিলো। ঠিক তখনই কোথা থেকে দৌড়ে এসে একটি কুকুর নরাধমটার দেহ থেকে দরদর করে বেয়ে পড়া জমাট রক্তে মুখ লাগিয়ে চপচপ করে তা পান করে নিলো!
এই ঘটনাটি উপস্থিত সকলের জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে এক বিরাট নিদর্শন ছিলো। এটা দেখে সকলেই ‘আল্লাহু আকবর’ বলে তাকবীর ধ্বনি দিয়ে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত করে তুললো। তখন কাযী ইয়াহইয়া বিন উমর বলেন- নূরে মুজাসসাম হাবীব বাকি অংশ পড়ুন...
আমির বিন তুফাইল ও আরবাদ বিন ক্বাইস:
তারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করার যে ষড়যন্ত্র করেছিলো, সেটা বাস্তবায়ন করার কোনো সুযোগ না পেয়ে হুমকি দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। হযরত মুয়াজ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত উসাইদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা তাদের ধাওয়া করেন। এক পর্যায়ে হযরত উসাইদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তাদেরকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘ওরে মহান আল্লাহ পাক উনার দুশমনরা! তোদের উপর মহান আল্লাহ পাক উনার অভিশাপ বর্ষিত হোক।’
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্ল বাকি অংশ পড়ুন...
আমির বিন তুফাইল ও আরবাদ বিন ক্বাইস:
আমির বিন তুফাইল, আরবাদ বিন ক্বাইস। তারা ছিলো বনূ আমীরের গোত্র প্রধান। আরবের অধিকাংশ লোক যখন সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার ছায়াতলে প্রবেশ করেছেন তখনও এই দুই অভিশপ্ত ঈমানতো আনেইনি বরং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। গোত্রের সবাই ঈমান গ্রহণ করেছেন, এই কথা বলে আমির বিন তুফাইলকে বলা হলো সেও যেন ইসলাম গ্রহণ করে। কিন্তু সে বললো, ‘আমি শপথ নিয়েছি, সমগ্র আরব জাতি আমার নেতৃত্ব মেনে না নেয়া পর্যন্ত আমি থামবো না। আজ কিনা কুরাইশ গোত্ বাকি অংশ পড়ুন...
হুয়াইরিছ ইবনে নুকাইদ:
হুয়াইরিছ সে পবিত্র মক্কা শরীফে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অনেক কষ্ট দিয়েছে এবং উনার শান মুবারকে সে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করতো। নাঊযুবিল্লাহ!
‘শিফাউল গুরাম’ কিতাবে এসেছে- সে হচ্ছে হুয়াইরিছ ইবনে নুকাইদ; যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বানাত সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুল ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে বর্শা দিয়ে আঘাত করেছিলো, যখন (উনার হিজরত মুবারককালে) সে এবং হযরত হাব্বার ইবনে আসওয়াদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে ধ বাকি অংশ পড়ুন...












