নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানীকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (৪৪)
, ২৯ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৯ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৯ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ০৫ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
দুই কুচক্রী ইহুদীর কঠিন পরিণতি:
সপ্তাহব্যাপী শত সহস্র ভেড়া, দুম্বা, উট যবেহ করে লক্ষ লক্ষ লোককে মেহমানদারী করানো হলো। আর তিনি উনার অনুরোধের উক্তি পুনরাবৃত্তি করতে থাকেন।
বার বার এই কথা শুনে এক পর্যায়ে পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মুছল্লীগণ সকলেই একবাক্যে বলে উঠলেন, “হে সুলতান! পবিত্র মদীনা শরীফ উনার আশপাশে এমন কোনো লোক আর বাকী নেই, যারা আপনার মেহমানদারীতে শরীক হয়নি।” তখন হযরত নূরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অত্যন্ত বলিষ্ঠ কণ্ঠে বললেন, “আমি বলছি আপনারা ভালোভাবে অনুসন্ধান করুন, এখনো কিছু লোক দাওয়াত খেতে বাকী রয়েছে। কেন তারা আমার এই দাওয়াতে শরীক হলো না? তারা কোথায় এবং তারা কারা? তাদেরকে আপনাদের খোঁজ করে আনতে হবে।”
হযরত নূরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বলিষ্ঠ কণ্ঠে এই ঘোষণা মুবারক পবিত্র মদীনা শরীফ উনার আকাশ-পাতালে যেন এক প্রকম্পন তুলে দিয়েছিলো। একদিকে উনার চেহারা মুবারক-এ অনুতাপের ছাপ অপরদিকে দরদ যেন উথলে পড়ছিলো কণ্ঠ থেকে। বিশাল জনতার ভরা মজলিসে হঠাৎ কিছু লোক বলে উঠলেন-
لَـمْ يَـبْقَ سِوٰى رَجُلَـيْـنِ صَالِـحَيْـنِ عَفِيْـفَيْـنِ مَغْرِبِـيَّـيْـنَ يُكْثِرَانِ الصَّدَقَةَ فَطَـلَـبَـهُمَا فَـرَاٰهُـمَا فَاِذَا هُـمَا الرَّجُلَانِ اللَّذَانِ اَشَارَ اِلَيْهِمَا النَّبِـىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
“দু’জন নেককার-পরহেযগার, সচ্চরিত্র, সংযমশীল পশ্চিমা বা ইউরোপীয় ছাড়া আর কেউই বাকী নেই। তারা দুজন প্রচুর পরিমাণে দান-ছদকা করে। (তারা দু’জন কারো সাথে সাক্ষাত করে না, কারো দাওয়াতে অংশগ্রহণ করে না।) তখন সুলতান ঐ দুইজন লোককে তলব করলেন। সুলতান ঐ দুইজন লোককে দেখার সাথে সাথেই নিশ্চিত হন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেই দুইজন লোকের দিকে ইশারা মুবারক করেছিলেন, এরাই হচ্ছে সেই দুই লোক।” (নুযহাতুন নাযিরীন, খুলাছাতুল ওয়াফা)
অন্য বর্ণনায় রয়েছে, হযরত নূরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কাল-বিলম্ব না করে কয়েকজন লোকসহ কাঙ্খিত লোকদ্বয়কে দাওয়াতের অনুরোধের জন্য নিজেই তাদের বাসস্থানে উপস্থিত হলেন। তারপর তিনি নম্র কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমরা কে এবং কোথা থেকে এসেছো? তোমরা দাওয়াতে শরীক হলে না কেন?’ তারা নিজেদেরকে গোপন করে বললো, ‘আমরা মুসাফির, দীর্ঘদিন যাবৎ এখানে আছি। আমরা কারো দাওয়াত গ্রহণ করি না। মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি নির্ভরশীল। আমরা সবসময় ইবাদত, রিয়াজত-মাশাক্কাত ও পরকালের চিন্তা-ফিকিরে ব্যস্ত আছি। পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত আর নফল নামায আদায় করতেই আমাদের সময় শেষ হয়ে যায়, দাওয়াত খাওয়ার সময় আমাদের নেই।’
হযরত নূরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তাদেরকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে নিশ্চিত হলেন, এরা সেই দুই বেয়াদব, যাদেরকে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে স্বপ্নে দেখিয়েছিলেন। হযরত নূরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি আবার তাদেরকে প্রশ্ন করলেন, ‘তোমরা কারা? কোথা থেকে এসেছো? তোমরা কি কাজে ব্যস্ত আমাকে সঠিক সংবাদ প্রদান করো।’
তারা দু’জনেই সমস্বরে বললো, ‘পবিত্র হজ্জ পালনের জন্য আমরা এখানে এসেছি এবং মহাসম্মানিত রওযা মুবারক উনার নৈকট্য লাভের জন্য এখানে অবস্থান করছি।’ হযরত নূরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি চরম ধৈর্যের সাথে তাদেরকে আবার প্রশ্ন করলেন, ‘এখানে তোমরা কি করো আমাকে সত্য কথা বলো।’
হযরত নূরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি প্রশ্ন করছিলেন আর তাদের বসবাসের ঘরটিকেও ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করছিলেন। পবিত্র মদীনা শরীফ উনার গণ্যমান্য লোকজন উনারা তাদের প্রশংসা করে বলছিলেন যে, ‘তারা খুবই ভালো লোক। তাদের আচরণে পবিত্র মদীনা শরীফ উনার অধিবাসীগণ মুগ্ধ এবং তাদের সহানুভূতির কারণে বহু লোক উপকৃত হচ্ছে। গত কয়েক মাস আগে পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যে দুর্ভিক্ষের লক্ষণ দেখা দেয়। সেই কঠিন সময়ে এই দুই ব্যক্তির অবদানে অনেক লোকের উপকার হয়েছে। তারা দিনের বেলায় রোযা রাখে আর রাত্রির বেশির ভাগ সময় ইবাদত-বন্দেগী করে। শেষ রাতে সম্মানিত জান্নাতুল বাক্বী শরীফ যিয়ারত করে।’ (অসমাপ্ত)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইলমে গাইব অস্বীকার করা সুস্পষ্ট গোমরাহী
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কারবালার ঘটনা ও ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহির ব্যাপারে শরঈ ফয়ছালা মুবারক:
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (১৩)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (১০)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের তিনটি বিশেষ আক্বীদা মুবারক
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আশূরা শরীফ উনার আক্বীদাহ্ মুবারক
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (১২)
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৯)
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
একখানা বিশেষ ওয়াক্বেয়াহ্ ও নছীহত মুবারক (২)
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান বুলন্দী শান মুবারক প্রকাশ: ‘উম্মী’ শব্দ নিয়ে বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচারের চূড়ান্ত জবাব (১৫)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












