নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানীকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (৪৩)
, ২২ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১২ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ১২ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ২৭ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
দুই কুচক্রী ইহুদীর কঠিন পরিণতি:
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, হযরত সুলতান নূরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছিলেন সম্মানিত ইসলাম উনার একজন অন্যতম বীর সিপাহসালার, ইনসাফগার সুলতান এবং বিশিষ্ট বুযূর্গ। উনার সম্মানিত মাজার শরীফ সিরিয়ার দামেস্কে অবস্থিত।
তারীখুল খমীস, নুযহাতুন নাযিরীনসহ আরো অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, “নিশ্চয়ই উল্লেখিত সুলতান (হযরত নূরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি) তিনি সবসময় রাত্রে ছলাতুত তাহাজ্জুদ আদায় করতেন এবং সম্মানিত ওযীফাসমূহ পাঠ করতেন। (৫৫৭ হিজরী শরীফ উনার কোন এক রাতে) তিনি তাহাজ্জুদ আদায়ের পর ঘুমিয়ে যান। তিনি ঘুমিয়ে স্বপ্নে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র যিয়ারত মুবারক লাভে ধন্য হন। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হলুদ চক্ষু বিশিষ্ট দুই ব্যক্তির দিকে ইশারা মুবারক করে ইরশাদ মুবারক করলেন- ‘আমার মহাসম্মানিত রেযামন্দী-সন্তুষ্টি মুবারক লাভের জন্য আপনি এই দুইজনকে (অর্থাৎ এই দুই ইয়াহূদীকে) দৃষ্টান্তমূলক কঠিন শাস্তি দিন।’ (এই স্বপ্ন মুবারক দেখার সাথে সাথে) সুলতান অত্যন্ত চিন্তিত অবস্থায় ঘুম থেকে জেগে উঠেন এবং ওযূ করে সম্মানিত ছলাত আদায় করে আবার ঘুমিয়ে যান। ঘুমের মধ্যে তিনি আবার (একই) স্বপ্ন মুবারক দেখেন। (স্বপ্ন মুবারক দেখার সাথে সাথে) তিনি জেগে উঠেন এবং সম্মানিত ছলাত আদায় করে আবার ঘুমিয়ে যান। তখন তৃতীয় বারও তিনি (একই স্বপ্ন মুবারক) দেখেন। (স্বপ্ন দেখার সাথে সাথে) তিনি জেগে উঠেন এবং বলেন, কোনো ঘুম অবশিষ্ট থাকতে পারে না।
‘হযরত জামালুদ্দীন মূছিলী রহমতুল্লাহি আলাইহি’ নামে উনার একজন নেককার-পরহেযগার উযীর ছিলেন। হযরত সুলতান নূরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি রাত্রেই সেই উযীর উনার নিকট সংবাদ পাঠান। (এবং সুলতানের নিকট দ্রুত আসার জন্য নির্দেশ মুবারক দেন। সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই উযীর সুলতানের নিকট উপস্থিত হন।
অতঃপর উযীরকে নিয়ে সুলতান গোপন কক্ষে প্রবেশ করে প্রকাশ না করার শর্তে) যা সংঘটিত হয়েছে (স্বপ্নের) সমস্ত কিছু বর্ণনা করেন। তখন উযীর হযরত সুলতান নূরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বললেন- ‘কি কারণে আপনি এখনও বসে রয়েছেন? আপনি এখনই পবিত্র মদীনা শরীফ উনার উদ্দেশ্যে বের হন এবং আপনি যা দেখেছেন তা গোপন রাখুন। তখন রাত্র বাকী থাকতেই হযরত নূরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সৈন্যবাহিনী প্রস্তুত করলেন এবং ২০টি সৈন্যদলসহ উযীর উনাকে সাথে নিয়ে অত্যন্ত গোপনে (দ্রুতগামী) বাহনে করে অনেক মাল-সম্পদ, (দিনার-দিরহামসহ মহাসম্মানিত মদীনা শরীফ উনার উদ্দেশ্যে) খুব ভোরে বের হয়ে পড়েন।
অতঃপর হযরত সুলতান নূরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মাত্র ১৬ দিনের মধ্যেই মহাসম্মানিত মদীনা শরীফ পৌঁছেন।” সুবহানাল্লাহ! (তারীখুল খমীস ২/৩৬৩-৩৬৪)
হযরত সুলতান নূরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মহাসম্মানিত মদীনা শরীফ উনার নিকট উপনীত হয়ে সৈন্য-সামন্তসহ ওযূ করে দু’রাকায়াত নফল নামায আদায় করে দীর্ঘ সময় ধরে দোয়া-মুনাজাত করলেন। অতঃপর সমস্ত সৈন্য দ্বারা মহাসম্মানিত মদীনা শরীফ উনাকে ঘেরাও করে ফেললেন এবং শাহী ফরমান জারি করে দিলেন যে- “হযরত নূরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অত্যন্ত নেক নিয়তে মহাসম্মানিত মদীনা শরীফ উনার অধিবাসী উনাদেরকে মেহমানদারী করানোর ইচ্ছা পোষণ করেছেন। উনার এই মেহমানদারীতে কোনো লোক যেন বাদ না যায় সেটাও সবাইকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
আরো জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, “বহিরাগত লোক মহাসম্মানিত মদীনা শরীফ উনার মধ্যে আসতে পারবেন; কিন্তু পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে কোনো লোক বাইরে যেতে পারবে না; যতক্ষণ পর্যন্ত সুলতান নূরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দ্বিতীয় ফরমান জারী না হবে।” হযরত সুলতান নূরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পবিত্র জুমুয়ার দিন খুতবা দান করলেন এবং ঘোষণা করলেন, “আমি মহাসম্মানিত মদীনা শরীফ উনার অধিবাসী উনাদেরকে মেহমানদারী করানোর ইচ্ছা করেছি। আমার ইচ্ছা কেউ যেন এই মেহমানদারীতে অংশগ্রহণ করতে বাদ না থাকে।”
তিনি কয়েক হাজার ভেড়া, দুম্বা, উট যবেহ করে মহাসম্মানিত পবিত্র মদীনা শরীফ এবং পার্শ্ববর্তী দূর-দূরান্তের সর্বশ্রেণীর লোকদেরকে দাওয়াত দিয়ে তৃপ্তি সহকারে খাদ্য খাওয়ালেন এবং প্রত্যেকের নিকট অনুরোধ রাখলেন যে, “পবিত্র মদীনা শরীফ উনার এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার কোনো লোক যেন এই মেহমানদারীতে অংশগ্রহণ করতে বাদ না থাকে।”
(অসমাপ্ত)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
জাতিসংঘ ওরফে ইহুদী সংঘের কথিত মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয়: যা প্রকৃতপক্ষে একমাত্র পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানবিরোধী কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও পরিচালনার কেন্দ্র।
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
যে নিজে পর্দা করে না ও অধীনস্থদের পর্দা করায় না সে দাইয়ূছ
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
যে ব্যক্তি ইছলাহ বা সন্তুষ্টি হাছিলের জন্য ধন-দৌলত খরচ করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে তিনটি নিয়ামত দান করবেন-
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ব্যবসা করা হালাল ও সুন্নত আর সুদ হারাম
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৪)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা শক্ত হারাম, রয়েছে কঠিন শাস্তি
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
খলীফাতুল মুসলিমীন, খলীফায়ে ছানী, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সাথে সংশ্লিষ্ট কতিপয় নছীহতমূলক ঘটনা
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












