নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানীকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (৩৮)
, ০৯ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ৩১ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১৫ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
হুয়াইরিছ ইবনে নুকাইদ:
হুয়াইরিছ সে পবিত্র মক্কা শরীফে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অনেক কষ্ট দিয়েছে এবং উনার শান মুবারকে সে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করতো। নাঊযুবিল্লাহ!
‘শিফাউল গুরাম’ কিতাবে এসেছে- সে হচ্ছে হুয়াইরিছ ইবনে নুকাইদ; যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বানাত সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুল ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে বর্শা দিয়ে আঘাত করেছিলো, যখন (উনার হিজরত মুবারককালে) সে এবং হযরত হাব্বার ইবনে আসওয়াদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে ধরে ফেলেন। ফলে আন নূরুল উলা আলাইহাস সালাম তিনি উনার বাহন মুবারক থেকে যমীনে তাশরীফ মুবারক নেন এবং উনার একজন আওলাদ আলাইহিস সালাম তিনি বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। (তিনি তখন হামিলাহ শান মুবারকে ছিলেন।)
আর ‘আল ইকতিফা’ কিতাবে এসেছে যখন হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম তিনি বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ্ আলাইহাস সালাম এবং বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আন নূরুর রবি‘য়াহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাদেরকে পবিত্র মক্কা শরীফ থেকে পবিত্র মদীনা শরীফে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন এই হুয়াইরিছ উনাদেরকেও বর্শা দিয়ে আঘাত করেছিলো। নাঊযুবিল্লাহ! ফলে উনারা বাহন থেকে যমীনে তাশরীফ মুবারক নেন। অতঃপর পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের দিন হযরত ইমামুল আউওয়াল আলাইহিস সালাম তিনি তাকে হত্যা করেন।
পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের দিনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবার জন্য সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা মুবারক দিয়েছিলেন। কিন্তু কয়েকজনকে সেদিনও ক্ষমা করা হয়নি। তাদের মধ্যে হুয়াইরিছও একজন। পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের দিনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
أَرْبَعَةٌ لاَ أُؤَمِّنُهُمْ فِى حِلٍّ وَلاَ حَرَمٍ الْحُوَيْرِثُ بْنُ نُقَيْدٍ وَمِقْيَسٌ وَهِلاَلُ بْنُ خَطَلٍ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِى سَرْحٍ গ্ধ. فَأَمَّا الْحُوَيْرِثُ فَقَتَلَهُ حضرت عَلِىُّ عليه السلام وَأَمَّا مِقْيَسٌ فَقَتَلَهُ ابْنُ عَمٍّ لَهُ لَحٍّا وَأَمَّا هِلاَلُ بْنُ خَطَلٍ فَقَتَلَهُ حضرت الزُّبَيْرُ رَضِىَ اللَّهُ تعالى عَنْهُ وَأَمَّا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِى سَرْحٍ فَاسْتَأْمَنَ لَهُ حضرت عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ عليه السلام وَكَانَ أَخَاهُ مِنَ الرَّضَاعَةِ وَقَيْنَتَيْنِ كَانَتَا لِمِقْيَسٍ تُغَنِّيَانِ بِهِجَاءِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم-قُتِلَتْ إِحْدَاهُمَا وَأَفْلَتَتِ الأُخْرَى فَأَسْلَمَتْ
অর্থ: চার ব্যক্তিকে আমি হালাল অবস্থাতেও নিরাপত্তা দিচ্ছি না, হারাম অবস্থাতেও না। (তারা হলো) হুয়াইরিছ ইবনে নুকাইদ, মিকইয়াস, হিলাল ইবনে খতাল এবং আবদুল্লাহ ইবনে আবী সারহ। অতঃপর হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি হুওয়ারিছকে হত্যা করেন। মিকইয়াসকে তার এক চাচাতো ভাই গোপনে (হঠাৎ আক্রমণ করে) হত্যা করেন। হযরত যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি হিলাল ইবনে খতালকে হত্যা করেন।
আর আব্দুল্লাহ ইবনে আবী সারহের জন্য হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি আশ্রয় প্রার্থনা করেন। কারণ সে ছিলো উনার দুধ ভাই। (ফলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাকে নিরাপত্তা প্রদান করেন।)
আর মিকইয়াসের দুইজন গায়িকা ছিলো, যারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধে ব্যঙ্গাত্মক গান গাইত। নাঊযুবিল্লাহ! তাদের একজনকে হত্যা করা হয় এবং অন্যজন পালিয়ে যায়; পরে সে ইসলাম গ্রহণ করে। (আস সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৯/২১২)
হুয়াইরিছকে হত্যার বিবরণ:
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে-
ويوم الفتح لما سمع ان رسول الله صلى الله عليه وسلم أهدر دمه أغلق بابه واستتر فى بيته فجاء حضرت علىّ عليه السلام الى بابه يطلبه ويسأل عنه فقيل له قد خرج الى البادية فعلم حويرث أنّ المسلمين يطلبونه فمكث حتى ذهب حضرت علىّ عليه السلام عن بابه فخرج من بيته وأراد أن ينتقل الى مكان آخر متنكرا فصادفه حضرت علىّ عليه السلام فضرب عنقه
‘পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের দিনে যখন হুয়াইরিছ শুনলো যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তার রক্ত হালাল ঘোষণা করেছেন, তখন সে নিজের দরজা বন্ধ করে ঘরের ভিতরে আত্মগোপন করলো। এরপর হযরত ইমামুল আউওয়াল আলাইহিস সালাম তিনি তার দরজায় এসে তাকে খুঁজতে লাগলেন ও তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন বলা হলো সে নাকি মরুভূমির দিকে চলে গেছে।
হুয়াইরিছ বুঝতে পারলো যে, মুসলমানরা তাকে খুঁজছেন। তাই সে অপেক্ষা করলো, যতক্ষণ না ইমামুল আউওয়াল আলাইহিস সালাম তিনি তার দরজা থেকে চলে গেলেন। এরপর সে ঘর থেকে বের হয়ে ছদ্মবেশে অন্য স্থানে চলে যেতে চাইল। কিন্তু পথে হযরত ইমামুল আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার সঙ্গে তার দেখা হয়ে যায়। তখন হযরত ইমামুল আউওয়াল আলাইহিস সালাম তিনি উনার তরবারী দ্বারা তার গর্দানে আঘাত করে মস্তক বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। (তারীখুল খমীস ২/৯২) (অসমাপ্ত)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানীকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (৪৪)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত মাক্বাম মুবারক সম্পর্কে বর্ণনা মুবার
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত ওয়ালিদাইন শরীফাইন আলাইহিমাস সালাম উনাদের খুশি মুবারক প্রকাশ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে গভীর নিসবত মুবারক এবং ২৪ ঘণ্টা দায়িমীভাবে উনাদের মহাসম্মানিত দীদার মুবারক-এ মশগূল থাকার বিষয়ে বর্ণনা মুবারক (২)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান বুলন্দী শান মুবারক প্রকাশ: ‘উম্মী’ শব্দ নিয়ে বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচারের চূড়ান্ত জবাব (৫)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে গভীর নিসবত মুবারক এবং ২৪ ঘণ্টা দায়িমীভাবে উনাদের মহাসম্মানিত দীদার মুবারক-এ মশগূল থাকার বিষয়ে বর্ণনা মুবারক (১)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার বিশেষ বিশেষ নিসবত মুবারক সম্পর্কে বর্ণনা মুবারক
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম “لِـيَـعْبُدُوْنِ (লিইয়া’বুদূন) থেকে لِـيُصَلُّوْنِ (লিইউছল্লূন) পর্যন্ত ৮টি মাক্বাম মুবারক উনাদের বর্ণনা মুবারক
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অদ্বিতীয় হাক্বীক্বী কায়িম-মাক্বাম হিসেবে, উনার হুবহু নক্বশা মুবারক হিসেবে উনার সমস্ত নিয়ামত মুবারক আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনাকে হাদিয়া মুবারক করা
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












