নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানীকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (৪২)
, ১৫ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৫ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৫ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ২০ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
এক খ্রিষ্টান পাদরি:
অন্তর প্রশান্তকারী এই ঘটনার খবর গিয়ে পৌঁছলো খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নিকট। শুনে তিনি এতটাই আনন্দিত হলেন যে, কখনও এতটা আনন্দিত হননি কোনো অভিযানে বিজয় বা গনিমত অর্জনের পর! তিনি আনন্দের বহিঃপ্রকাশ করতে গিয়ে বললেন, ‘এখন ইসলাম সম্মানিত হলো।’ ইসলামের স্বকীয়তা বজায় রইলো! কতগুলো ছোট্ট শিশু তাদের মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানীকর কথা শুনলো, অতঃপর রেগে উঠলো এবং বিজয় লাভ করলো। এরপর সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি খ্রিষ্টান পাদরির রক্তকে মূল্যহীন সাব্যস্ত করলেন। অর্থাৎ বিচারের আওতায় আনলেন না। কেননা সে তার প্রকৃত প্রাপ্যই বুঝে পেয়েছে। (রবীউল আবরার ওয়া ফুসূসুল আখবার ফিল মুহাজারাত)
খ্রিষ্টান মিশনারি:
হালাকু খাঁ (১২৫৬-১২৬৫) মঙ্গোল নেতা চেঙ্গিস খানের নাতি। সম্মানিত ইসলাম ও মুসলমানদের কট্টর দুশমন। তার নেতৃত্বেই ১২৫৮ সালে আব্বাসীয় খিলাফতের রাজধানী বাগদাদ ধ্বংস করা হয়। যা আজও ইতিহাসের এক কালো অধ্যায় হয়ে আছে। আর এসব কিছুর পিছনে হাত ছিলো তার স্ত্রী জাফার খাতুনের। জাফার খাতুন ছিলো গোঁড়া খ্রিষ্টান। অথচ হালাকু খাঁ ছিলো অগ্নিপূজক! স্ত্রীর মনোতুষ্টির জন্য হালাকু খাঁ মুসলমানদের জন্য রক্তখেকো হয়ে উঠেছিলো।
জাফার খাতুন সারাক্ষণ হালাকু খাঁ-কে মুসলমানদের রক্ত পান করার জন্য প্ররোচিত করতো। তার প্ররোচনায়ই হালাকু খাঁ মুসলমানদের উপর ধ্বংসযজ্ঞ চালাতো। স্ত্রীকে খুশি করতে কোনো কার্পণ্য করতো না সে। জাফার খাতুনের পৃষ্ঠপোষকতায় খ্রিষ্টান ক্রুসেডাররা তাদের মিশনারিদেরকে ছড়িয়ে দিতো মঙ্গোলদের মধ্যে। মিশনারিরা মঙ্গোল গোত্রগুলোতে ঘুরে ঘুরে অগ্নিপূজকদের খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হওয়ার দাওয়াত দিতো।
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে- মিশনারিদের দাওয়াতে মঙ্গোলদের একজন বড় নেতা খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করতে রাজী হলো। তার ধর্মান্তরিত হওয়াকে কেন্দ্র করে খ্রিষ্টানরা একটি জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করলো। যাতে এই অনুষ্ঠান অন্যান্য অগ্নিপূজকদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করে। সেই অনুষ্ঠানে আগমন করলো মিশনারিদের বড় একটি দল।
সভায় একটা নিকৃষ্ট খ্রিষ্টান মিশনারি মুসলমানদের কলিজার টুকরা, প্রানাধিক প্রিয়, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানীমূলক কথা-বার্তা বলতে শুরু করলো। নাঊযুবিল্লাহ! বলাবাহুল্য, সভার নিকটেই একটি শিকারি কুকুর বেঁধে রাখা ছিলো। যখনই ওই মিশনারি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে এলোমেলো কথা বলতে আরম্ভ করলো, কুত্তাটি উত্তেজিত হয়ে ক্রোধে গর্জন করতে শুরু করলো! একসময় বন্ধন ছিঁড়ে মুহূর্তেই ওই মিশনারির উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো। মিশনারিকে পায়ের নখর দ্বারা খামচিয়ে একেবারে নাজেহাল করে ছাড়লো! উপস্থিত লোকজন বহু চেষ্টা করে কুত্তার খপ্পর থেকে নিকৃষ্ট মিশনারিকে মুক্ত করলো। কুকুরটিকে পুনরায় পূর্বের জায়গায় বেঁধে রাখা হলো।
উপস্থিত লোকেরা ওই খ্রিষ্টান মিশনারিকে বললো- ‘তুমি মুসলমানদের মহাসম্মানিত নবী ও রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গালমন্দ করার কারণেই কুত্তাটা তোমার উপর হামলা করেছে।’ কিন্তু মালঊন মিশনারি তা মানতে নারাজ হলো। সে বললো-
كَلَّا بَلْ هَذَا الْكَلْبُ عَزِيْزُ النَّفْسِ رَآنِيْ أشيرُ بِيَدِيْ فَظَنَّ أَنِّيْ أُرِيْدُ أَنْ أَضْرِبَهُ
‘আরে না; বরং কুত্তাটা খুবই আত্মমর্যাদাশীল, সে আমাকে হাত তুলে ইশারা করতে দেখে মনে করেছে আমি তাকে মারতে উদ্যত হয়েছি, তাই সে এরকম করেছে।’
অভিশপ্ত খ্রিষ্টান মিশনারি আবারও একই কাজ শুরু করলো। তবে এবার সে পূর্বের চেয়েও অধিক আপত্তিকর কথা বলতে লাগলো, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে। এবার কুত্তাটা আরো অধিক ক্রোধে তার বন্ধন ছিঁড়ে ফেললো। এরপরই এক দৌড়ে এসে মিশনারির ঘাড় কামড়ে ধরলো এবং অল্পক্ষণের মধ্যেই তার ঘাড় মটকে দিলো! অভিশপ্ত খ্রিষ্টান মিশনারি তৎক্ষণাৎ সেখানেই মারা গেলো।
ঘটনার ভয়াবহতায় উপস্থিত লোকজন একেবারে ভড়কে গেল। মুসলমানদের মহাসম্মানিত নবী ও রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত শান-মান মুবারক উনার উপর আপত্তিকারীর এই অলৌকিক পরিণতি দেখে তখনই-
فَأَسْلَمَ بِسَبَبِ ذَلِكَ نحو أَرْبَعِيْنَ أَلْفًا مِنَ الْمُغْلِ
‘একারণে প্রায় ৪০ হাজার মঙ্গল সম্প্রদায় ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয়গ্রহণ করলো।’ সুবহানাল্লাহ! (আদ দুরারুল কামিনাহ ১/৩৮৬) (অসমাপ্ত)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (২৫)
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৩১)
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (১৪)
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (২৪)
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৩০)
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (১৩)
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (২৩)
২৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (২৯)
২৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (১২)
২৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
২৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












