নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানীকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (৪৯)
, ০৬ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৫ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ১২ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
৩২. কির্কের শাসক রেজিনাল্ড:
অতঃপর যখন তাকে হযরত সালাহউদ্দীন আইয়ুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সামনে উপস্থিত করা হলো, তখন সুলতান তাকে শাসক গাই-এর পাশে বসালেন। তারপর সুলতান তাকে ভৎর্সনা করলেন, তার অজুহাতকে তিরস্কার করলেন এবং তার অপরাধগুলো স্মরণ করিয়ে দিলেন। তিনি বললেন-
“তুমি কতবার শপথ করো এবং তা ভঙ্গ করো!
অঙ্গীকার করো, আবার ভেঙে ফেলো!
চুক্তি দৃঢ় করো, আবার তা লঙ্ঘন করো!
সমঝোতার দিকে এগিয়ে আসো, তারপর তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও!”
তখন তার পক্ষ থেকে দোভাষী বললো-
‘সে বলছে, রাজাদের তো এমনই অভ্যাস, আর আমি প্রচলিত সঠিক পথ অনুসরণ করিনি।’ অর্থাৎ সে তার অন্যায়গুলো স্বীকার করছিলো। এদিকে শাসক গাই তৃষ্ণায় হাঁপাচ্ছিলো এবং ভয়ের আতঙ্কে যেন মাতালের মতো টলছিলো। তখন হযরত সুলতান সালাহউদ্দীন আইয়ুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তাকে সান্ত¡না দিলেন, তার সাথে কথা বললেন, তার ভয়ের তীব্রতা কমিয়ে দিলেন, আতঙ্ক প্রশমিত করলেন এবং তার অন্তরকে নিরাপদ করলেন।
সুলতান তাকে ঠান্ডা পানি দিতে বললেন। সে তা পান করলো এবং তৃষ্ণা নিবারণ করলো। এরপর শাসক সেই পানপাত্রটি রেজিনাল্ডের দিকে বাড়িয়ে দিলো, সেও তা পান করলো এবং তার তৃষ্ণা কিছুটা নিবারণ করলো। তখন সুলতান গাইকে বললেন- ‘তুমি এই অভিশপ্তকে আমার অনুমতি ছাড়া পানি দিয়েছো; এর ফলে আমার পক্ষ থেকে তার জন্য কোনো নিরাপত্তা প্রযোজ্য হবে না।’
এরপর সুলতান বাহনে আরোহন করলেন এবং তারা উভয়ে আতংক ও ভয়ের মধ্যে সময় পার করতে থাকলো। যতক্ষণ না উনার বিশাল শিবির স্থাপন, পতাকা উত্তোলন করা এবং সৈন্যবাহিনী যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে এসে নিজ নিজ স্থানে সমবেত হওয়া পর্যন্ত তিনি বাহনেই অবস্থান করছিলেন।
(যখন সব কাজ সমাধা হলো) অতঃপর তিনি নিজের শিবিরে প্রবেশ করে রেজিলান্ডকে ডেকে পাঠালেন। যখন সে সামনে এলো, সুলতান নিজেই তার দিকে এগিয়ে গেলেন এবং তলোয়ার দিয়ে তার কাঁধে আঘাত করলেন। সে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার মাথা কেটে ফেলার নির্দেশ দিলেন। মালউনটার শিরচ্ছেদ করা হলো এবং শাসক গাই-এর সামনে তার লাশ টেনে আনা হলো।
এ দৃশ্য দেখে সে অত্যন্ত ভীত ও বিচলিত হয়ে পড়লো। সুলতান গাই-কে ডেকে বললেন, ‘এ লোকের নীচতা তাকে ধ্বংস করেছে, তার বিশ্বাসঘাতকতাই তাকে এমন পরিণতিতে পৌঁছেছে। তুমি যেমন দেখছো, তার বিশ্বাসঘাতকতাই তাকে শেষ করে দিয়েছে। তার সীমালঙ্ঘন ও অত্যাচারই তার ধ্বংস ডেকে এনেছে; তার জীবনের আগুন নিভে গেছে।’
ইতিহাসবিদ হযরত আবূ শামা আরও বলেন- যখন মহান আল্লাহ পাক তিনি মুসলমানদেরকে বিজয় দান করলেন, তখন সুলতান তাঁবুর প্রবেশপথে বসেন; কারণ তখনও তাঁবুটি সম্পূর্ণভাবে স্থাপন করা হয়নি। এদিকে লোকেরা বন্দীদের এবং অগ্রগামীদের মধ্যে যাদেরকে খুঁজে পেয়েছিলেন তাদেরকে উনার নিকট নিয়ে আসছিলেন। এরপর যখন তাঁবু স্থাপন করা হলো। তখন তিনি সেখানে অত্যন্ত আনন্দচিত্তে বসলেন এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে যেই নিয়ামত দান করেছেন, তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন।
তারপর শাসক জেফ্রি এবং তার ভাইকেসহ অন্যান্যদেরকে ডেকে পাঠালেন। মালউন রেজিলান্ডকে আনা হলো। সুলতান গাইকে বরফ শীতল পানীয় পান করতে দিলেন। সে তা পান করলো, কারণ সে তীব্র তৃষ্ণায় কাতর ছিলো। এরপর গাই সেই পানির কিছু অংশ রেজিলান্ডকে দিলো। তখন সুলতান দোভাষীকে বললেন-
“গাইকে বলো- তুমি তাকে পান করিয়েছ; আমি তাকে পান করাইনি।”
কারণ আরবদের উত্তম রীতি ও মহৎ চরিত্র অনুযায়ী- কোনো বন্দী যদি বন্দীকারী ব্যক্তির খাবার বা পানীয় গ্রহণ করে, তবে সে তার পক্ষ থেকে নিরাপত্তা লাভ করে। কিন্তু সুলতান এই কথার মাধ্যমে রেজিলান্ডকে নিরাপত্তা দিতে অস্বীকৃতি জানালেন।
এরপর তাবুর সামনে গাই ও রেজিলান্ডকে বসানো হলো। সে পূর্বের কথাগুলো স্বীকার করলো। তখন সুলতান তাকে বললেন-
هَا أَنَا أَنْتَصِرُ لِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
“দেখ এখন আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষ থেকে উনার উম্মতের সাহায্যার্থে এসেছি।”
এরপর তাকে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানানো হলো, কিন্তু সে তা গ্রহণ করলো না। তখন সুলতান তার দিকে উঠে দাঁড়ালেন, নিজের তলোয়ার বের করে তাকে আঘাত করলেন, যার ফলে তার কাঁধ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর উপস্থিত অন্যরা তাকে সম্পূর্ণভাবে হত্যা করে। অতঃপর তার লাশ তাঁবুর দরজার সামনে নিক্ষেপ করা হয়।” (উয়ূনুর রওদ্বাতাইন ফী আখবারিদ দাওলাতাইন ৩/২৯৬-২৯৭, ওয়া মুহাম্মাদাহ ৩/৬৯-৭১) (অসমাপ্ত)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (৬)
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৫)
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ৫১
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (৫)
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ অবস্থান মুবারক
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ৫০
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
‘উম্মী’ শব্দ নিয়ে বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচারের চূড়ান্ত জবাব (১৩)
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (৪)
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৩)
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ৪৯
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (৩)
০৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












