নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানীকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (৪৮)
, ২৮ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৭ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ০৪ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
৩১. হাদী আল-মুস্তাজিবীন:
অবশেষে যখন আমীর আবুল ফুতূহ এই ঘটনা দেখলো, তখন সে ‘হাদী আল-মুস্তাজিবীন’ এবং তার সাথে থাকা এক মাগরিবী সহযোগীকে ‘বাবুল উমরা’ নামক দরজার কাছে নিয়ে গিয়ে তাদের উভয়ের শিরচ্ছেদ করার আদেশ দেয় এবং তাদেরকে শূলবিদ্ধ করা হয়।
এরপর লোকেরা তাদেরকে পাথর নিক্ষেপ করতে থাকে, যতক্ষণ না তারা মাটিতে পড়ে যায়। তারপর তাদেরকে একত্রিত করা হয়। অতঃপর তাদের জন্য কাঠ ও হাড় জমা করে তাদের উভয়কে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
এই খবর সংক্রান্ত ছূফী আবুল ওয়াফা উনার প্রেরিত চিঠিটি ৪১১ হিজরীতে বাগদাদের হাদীছ শরীফ বিশারদ হযরত আবুল ফাতহ ইবনে আবিল ফাওয়ারিস রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার উপস্থিতিতে পবিত্র জুমুআর দিন ‘জামে আল মাহদী মসজিদে’ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দরসের মজলিসে পাঠ করে শুনানো হয়। (যাইলু তারিখি মাওলিদিল উলামা ওয়া ওফায়াতিহিম: ১/১৩৯-১৪০, আল ইক্বদুছ ছামীন ফী তারীখিল বালাদিল আমীন ৬/১৭১)
৩২. কির্কের শাসক রেজিনাল্ড:
রেজিনাল্ড। কির্কের শাসনকর্তা। ইসলামী ইতিহাসে রেনাল্ড দ্য শ্যাটন নামে পরিচিত এক কুকুর। সে ছিলো সম্মানিত ইসলাম ও মুসলমানদের কট্টর দুশমন। সারাজীবন সম্মানিত ইসলাম ও মুসলমানদের নিঃশেষ করতে অতিবাহিত করেছে। বেশ কয়েকবার সে মুসলমানদের হাতে বন্দি হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই মুক্তিপণ দিয়ে নিজেকে মুক্ত করে নিয়েছে। যাতে অপর আরেকটি যুদ্ধে মুসলমানদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরতে পারে। প্রায়ই মুসলমান কাফেলার উপর আক্রমণ করতো এই কীট। এই নরাধমই পবিত্র মক্কা শরীফ ও পবিত্র মদীনা শরীফে হামলা করতে চেয়েছিলো। নাঊযুবিল্লাহ!
৫৮২ হিজরীতে রেজিনাল্ডের সাথে সন্ধি অবস্থায় তার নিরাপত্তায় মিশরের একটি কাফেলা বর্তমান জর্ডানের শোবেক শহর দিয়ে যাচ্ছিলো। যেই কাফেলাকে তার সৈন্যদের নিরাপত্তা দেয়ার কথা ছিলো। কিন্তু রেজিনাল্ড ঐ মুসলিম কাফেলার সাথে প্রতারণা করে তাদেরকে শহীদ করে এবং তাদের মাল-সম্পদ লুন্ঠন করে। মুসলিম কাফেলার লোকজন তখন মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট সাহায্য কামনা করেন এবং মুসলমানদের সাথে স্থাপিত সন্ধির কথা তাকে মনে করিয়ে দেন। তখন রেজিনাল্ড এমন কিছু কথা বলে যা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারক উনার সম্পূর্ণ খিলাফ। এমন কি সে বেয়াদবীর সমস্ত মাত্রা ছাড়িয়ে বলে-
قُوْلُوْا لِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لِمَ لَمْ يُخَلِّصْكُمْ؟
‘সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সরাসরি নাম মুবারক নিয়ে বললো, উনাকে গিয়ে বলুন! তিনি কেন আপনাদেরকে উদ্ধার করতে পারলেন না?’ নাঊযুবিল্লাহ!
এই খবর হযরত সালাহউদ্দীন আইয়ুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে পৌঁছায়। (তখন)
فَحَمَلَهُ الدِّيْنُ وَالْحَمِيَّةُ عَلَى أَنَّهُ نَذَرَ إِنْ ظَفِرَ بِهِ قَتَلَهُ
‘তিনি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার প্রতি অনুরাগ ও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি প্রচন্ড মুহব্বতে ফানা হয়ে এই শপথ নিলেন যে, তিনি যদি তার উপর বিজয় লাভ করেন অর্থাৎ তাকে পাকড়াও করেন তাহলে অবশ্যই তাকে হত্যা করবেন।’ (উয়ূনুর রওদ্বাতাইন ফী আখবারিদ দাওলাতাইন ৩/২৯৬, ওয়া মুহাম্মাদাহ ৩/৬৯)
অতঃপর এক বছর পর অর্থাৎ ৫৮৩ হিজরীতে যে বছরটি অত্যন্ত কল্যাণকর ও বরকতময় ছিলো। এই বছরই হিত্তীনের জিহাদে মহাবিজয় অর্জিত হয়। এতে হযরত সুলতান সালাহউদ্দীন আইয়ুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ফিরিঙ্গিদের প্রায় সকল রাজা ও কমান্ডারদেরকে বন্দী করেন; তবে ‘ত্রিপোলির কাউন্ট’ (রেমন্ড তৃতীয়) সে প্রথমেই যুদ্ধে পরাজিত হয়ে পালিয়ে যায়, যার কারণে সে বন্দী হয়নি।
হযরত আবূ শামা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার ‘উয়ূনুর রওদ্বাতাইন’ কিতাবে বলেন-
হযরত সালাহউদ্দীন আইয়ুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কাফিরদের বড় বড় বন্দীদের পরিদর্শনের জন্য বসেন। তারা শিকলে বাঁধা অবস্থায় এমনভাবে টলতে টলতে আসছিলো, যেন মাতালদের মতো দুলছে। প্রথমে উপস্থিত করা হয় নাইটস টেম্পলারদের নেতা ও তাদের অনেক সদস্যকে এবং ‘ইস্পিতারিয়া’ (হসপিটালারদের) একটি বড় দলকে।
এরপর আনা হয় রাজা গাই, তার ভাই জেফ্রি, জুবাইলের শাসক আউক, হুনফরী এবং কির্ক দুর্গের শাসক অভিশপ্ত রেজিনাল্ডকে। সেই ছিলো প্রথম ব্যক্তি, যে ফাঁদে ধরা পড়ে। সুলতান তার রক্ত ঝরানোর শপথ করেছিলেন এবং বলেছিলেন-
لَأُعَجِّلَنَّ عِنْدَ وِجْدَانِهِ عَدَمَهُ
‘আমি তাকে পেলে দ্রুতই তার জীবন শেষ করে দেবো।’
(অসমাপ্ত)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (২৬)
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৩২)
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নূরে মুজাসসাম এবং উনার নূর মুবারকই সর্বপ্রথম সৃষ্টি
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ইসমে যাত বা নাম মুবারক বারবার বলা ও লেখা সম্পূর্ণ আদবের খিলাফ (৪র্থ পর্ব)
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (২৫)
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৩১)
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (১৪)
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (২৪)
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৩০)
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (১৩)
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












