নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানীকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (৪৭)
, ২১ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১০ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ২৭ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
৩১. হাদী আল-মুস্তাজিবীন:
হাকিম বিআমরিল্লাহ (৯৮৫-১০২১ খ্রি.) মিশরের উবাইদি খিলাফতের ষষ্ট শাসক। তার শাসনামলের শেষ দিকে হামযা বিন আলী জুজনি নামে এক লোক আত্মপ্রকাশ করে। তার উপাধি ছিলো হাদী আল-মুস্তাজিবীন। সে কায়রোর অদূরে ‘তাবার মসজিদ’-এ অবস্থান করতো। শরীয়তের হুকুমের রহস্য সম্পর্কে ভালো ইলিম রাখতো বিধায় সে নামায, রোযা ইত্যাদি দৈহিক আমলের হুকুম রহিত করে দিয়েছিলো। নাঊযুবিল্লাহ! সে ও তার অনুসারীরা আত্মিক নামায পড়ার দাবী করতো। তার মতে, নামায হলো মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে বান্দার একটি সম্পর্ক মাত্র।
এই মতের উপর সে আলাদা একটি মতবাদ প্রবর্তন করে। এই মতবাদের দিকে লোকজনকে দাওয়াত দিতে থাকে। দিনদিন তার অনুসারী বাড়তে থাকে। ইরান, আফগানিস্তান, হিন্দুস্তান, বৈরুত ও শামের উপকূলীয় অঞ্চলে তার মতবাদের ব্যাপক প্রসার ঘটে। তার মতবাদের লোকদের ‘দারজিয়াহ’ বলা হয়। যেহেতু তার ভ্রান্ত মতবাদের ডাকে এসব অঞ্চলের লোক সাড়া দেয় এবং তাকে তাদের আধ্যাত্মিক গুরু হিসেবে মেনে নেয়, এজন্যই তাকে হাদী আল-মুস্তাজিবীন বা সাড়া দানকারীদের পথ প্রদর্শক বলে উপাধি দেয়া হয়। সে মানুষদেরকে শাসকের ইবাদতের দিকে আহ্বান করতো। নাঊযুবিল্লাহ!
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে- এই মালউন শয়তানটা মুসলমানদের কলিজার টুকরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানী করেছিলো। নাঊযুবিল্লাহ! শুধু তাই নয়; সে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার উপর থুথুও নিক্ষেপ করেছিলো। নাঊযুবিল্লাহ! সে মরুভূমিতে ঘুরে বেরিয়ে লোকদেরকে তার দিকে ডাকতে থাকে। অবশেষে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে পবিত্র মক্কা শরীফে ধ্বংস করেন।
পবিত্র মক্কা শরীফ উনার একজন ছূফী ব্যক্তি, যার উপনাম ছিলো “আবুল ওয়াফা” তিনি বাগদাদের হাদীছ শরীফ বিশারদ হযরত আবুল ফাতহ ইবনে আবিল ফাওয়ারিস রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট একটি চিঠি লেখেন, সেখানে তিনি মালউনটাকে হত্যার ঘটনাটি বিস্তারিত বর্ণনা করেন। এই ঘটনা ৪১০ হিজরীতে সংঘটিত হয়েছিলো।
ছূফী আবুল ওয়াফা তিনি উনার চিঠিতে উল্লেখ করেন যে, ‘হাদী আল-মুস্তাজিবীন’ পবিত্র মক্কা শরীফে এসে সেখানকার আমীর আবুল ফুতুহ হাসান বিন জাফর (ইন্তেকাল-১০৩৯ খ্রি:) তার সাথে সাক্ষাৎ করে এবং তার আশ্রয়ে অবস্থান করে।
তার প্রতিবেশীরা তাকে পবিত্র কা’বা শরীফ তাওয়াফ করতে দেখে আমীরের কাছে গিয়ে তার ব্যাপারটি জানায়। আমীর বললো, সে আমার আশ্রয়ে এসেছে, আমি তাকে নিরাপত্তা দিয়েছি।
তখন তার প্রতিবেশীরা বললো, ‘এই ব্যক্তি আমাদের প্রাণপ্রিয় রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গালি দিয়েছে এবং পবিত্র কুরআন শরীফ উনার উপর থুথু নিক্ষেপ করেছে।’ নাঊযুবিল্লাহ! তখন আমীর তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে তা স্বীকার করে এবং বলে, ‘আমি তওবা করেছি।’
তখন প্রতিবেশী লোকজন বললো-
إِنَّ تَوْبَةَ هٰذَا لَا تَصِحُّ، وَقَدْ أَمَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَتْلِ ابْنِ خَطَلٍ، وَهُوَ مُتَعَلِّقٌ بِأَسْتَارِ الْكَعْبَةِ، وَهٰذَا لَا يَصِحُّ أَنْ يُّعْطَى الذِّمَامَ، وَلَا يَسَعُ إِلَّا قَتْلُهُ، فَدَافَعَهُمْ أَبُو الْفُتُوْحِ عَنْهُ.
‘তার তওবা গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইবনে খতালকে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, সে পবিত্র কা’বা শরীফ উনার গিলাফ আঁকড়ে ধরা সত্ত্বেও। অতএব এই ব্যক্তিকে নিরাপত্তা দেয়া বৈধ নয়; তাকে হত্যা করাই একমাত্র পথ। কিন্তু আমীর আবুল ফুতূহ তাকে রক্ষা করতে থাকে।’ নাঊযুবিল্লাহ!
লোকজন মনক্ষুণœ হয়ে পবিত্র কা’বা শরীফ উনার আশপাশে একত্রিত হয়ে চিৎকার করে কান্নাকাটি শুরু করে দিলো। দুহাত তুলে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট দোয়া করতে লাগলো। পবিত্র কা’বা শরীফ উনার মেহমানদের এই কান্নাকাটি আর ফরিয়াদ মহান আল্লাহ পাক উনার দরবার শরীফে কবুল হলো। তৎক্ষনাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার ফায়সালা চলে আসলো। মহান আল্লাহ পাক তিনি একপ্রকার কালো দমকা হাওয়া প্রেরণ করলেন; যা সারা দুনিয়াকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করে দিলো। কিছুক্ষণ পর এই অন্ধকার আলোতে রূপান্তরিত হয়ে গেলো। পবিত্র কা’বা শরীফ উনার উপর সাদা ঢালের মতো কিছু একটা দেখা গেলো, যা থেকে সূর্যের রশ্মির মতো আলো প্রকাশিত হতে থাকলো। এই আলো দিন-রাত বিরাজ করতে থাকলো। দিন আর রাতের কোনো তফাৎ রইলো না।
চিঠির লেখক ছূফী আবুল ওয়াফা বলেন, ‘আমি এই চিঠি লেখার সময় পর্যন্ত এই আলোকরশ্মি ১৭ দিন ধরে একই অবস্থায় ছিলো।’ (অসমাপ্ত)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বুলন্দী শান মুবারক
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান বুলন্দী শান মুবারক প্রকাশ: ‘উম্মী’ শব্দ নিয়ে বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচারের চূড়ান্ত জবাব (৭)
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ১৩
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বুলন্দী শান মুবারক
১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান বুলন্দী শান মুবারক প্রকাশ: ‘উম্মী’ শব্দ নিয়ে বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচারের চূড়ান্ত জবাব (৭)
১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ১২
১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে ‘শব্দ’ ব্যবহারে কতটুকু আদব রক্ষা করা আবশ্যক (৩)
০৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
০৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা সৃষ্টির শুরু থেকেই একই সাথে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল যাবৎ থাকবেন
০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












