নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানীকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (৪১)
, ০৮ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৮ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১৩ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
ইবরাহীম আল-ফাযারী:
কতিপয় ঐতিহাসিক বলেন, ‘যখন তার ফাঁসির কাষ্ঠ উপরে উত্তোলন করা হলো এবং তার থেকে ফাঁসি কার্যকরী ব্যক্তিদের হাত সরে গেলো, হঠাৎ কাষ্ঠ নরাধমটার চেহারা কিবলার দিক থেকে ফিরিয়ে দিলো। ঠিক তখনই কোথা থেকে দৌড়ে এসে একটি কুকুর নরাধমটার দেহ থেকে দরদর করে বেয়ে পড়া জমাট রক্তে মুখ লাগিয়ে চপচপ করে তা পান করে নিলো!
এই ঘটনাটি উপস্থিত সকলের জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে এক বিরাট নিদর্শন ছিলো। এটা দেখে সকলেই ‘আল্লাহু আকবর’ বলে তাকবীর ধ্বনি দিয়ে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত করে তুললো। তখন কাযী ইয়াহইয়া বিন উমর বলেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সত্যিই বলেছেন-
لا يلغ الكلب في دم مسلم
‘কুকুর কখনো কোনো মুসলমানের রক্তে মুখ লাগাতে পারে না।’ (শিফা শরীফ ২/২১৮, ই’লামুল মুসলিমীন বিহুকূকী সাইয়্যিদিল মুরসালীন, হায়াতুল হাইওয়ান ইত্যাদি)
এক খ্রিষ্টান পাদরি:
আরব উপদ্বীপভুক্ত একটি ভূখ- বাহরাইন। ইসলামপূর্ব যুগে পারস্য সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিলো। এই অঞ্চলের লোকগুলো নাস্তুরিয়া খ্রিষ্টবাদের অনুসারী ছিলো। পবিত্র হিজরত মুবারক উনার পর এ অঞ্চলের আব্দুল ক্বাইস গোত্রের মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দাওয়াত মুবারকের মাধ্যমে ইসলাম প্রচারিত হয়। ফলে বাহরাইনে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার আলো ছড়িয়ে পড়ে। পবিত্র ফতহে মক্কা বা মক্কা শরীফ বিজয়ের বছর, অষ্টম হিজরীতে আব্দুল ক্বাইস গোত্রের বেশ কয়েকজন লোক পবিত্র মদীনা শরীফে আগমন করে ইসলাম উনার বুনিয়াদি শিক্ষা গ্রহণ করেন। অবশ্য এর আগেও ষষ্ট হিজরীতে উনাদের কিছু লোক পবিত্র মদীনা শরীফে আগমন করেছিলেন। আর এভাবেই বাহরাইন ইসলামী সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।
দ্বিতীয় খলীফা, আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার খিলাফতকাল। আরব উপদ্বীপ ছাড়িয়ে বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছেন ইসলামী খিলাফত। আরব উপদ্বীপভুক্ত বাহরাইনও খিলাফতের শাসনাধীন। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার পক্ষ থেকে এই এলাকার গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন যথাক্রমে হযরত আলা ইবনুল হাযরামী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত উছমান ইবনে আবুল আছ বিন বাশার রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত আইয়াশ ইবনে আবী ছাওর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত কুদামা ইবনে মাজঊন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা।
সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার খিলাফতকালে যদিও বাহরাইনে ইসলাম শেকড়গাঁথা ছিলো; তথাপিও সেখানে কিছু লোক খ্রিষ্টান থেকে গিয়েছিলো। তারা খ্রিষ্টবাদ চর্চা করতো। সেখানে গির্জা এবং কতিপয় খ্রিষ্টান পাদরিদের বসবাস ছিলো।
একদিনের ঘটনা। বাহরাইনের কতগুলো মুসলিম শিশু ‘ছাওলাজান’ আর বল নিয়ে হৈ হুল্লোড় করে খেলা করছিলো।(صولجان) ছাওলাজান হলো, অগ্রভাগ বাঁকানো এক প্রকার লাঠি; যা দিয়ে তখনকার সময়ে শিশুরা খেলাধুলা করতো। পাশেই উপবিষ্ট ছিলো একজন খ্রিষ্টান পাদরি। সে শিশুদের এই হই হুল্লোড় উপভোগ করছিলো।
একপর্যায়ে তাদের বলটি গিয়ে পড়লো ওই খ্রিষ্টান পাদরির গায়ে। সাথে সাথে সে রেগে উঠলো। সে বলটি নিজের কাছে নিয়ে নিলো। শিশুরা খুব করে তাকে বলটি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বলছিলো। কিন্তু সে অনড়। বলটি ফিরিয়ে দিতে মোটেও রাজী নয়। শেষ উপায় হিসেবে একটি শিশু কাতরকণ্ঠে বললো, ‘আমি আমাদের মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উসিলা ধরে বলছি, বলটি ফিরিয়ে দিন।’ এতে সে বল তো ফেরত দিলোই না; বরং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক শুনতেই সে আগের চেয়ে আরও ভয়ানক হয়ে উঠলো। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করলো! নাঊযুবিল্লাহ!
এবার শিশুদের ঈমানী নূর প্রকাশিত হলো। শিশু হলেও তাদের মাথায় খুন চেপে বসলো! ক্ষুধার্ত বাঘের ন্যায় তারা ঝাঁপিয়ে পড়লো বুড়ো পাদরির উপর। প্রত্যেকেই নিজ নিজ হাতের ছাওলাজান (লাঠি) দিয়ে, খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে, পিটিয়ে পিটিয়ে, পাদরির ভবলীলা একেবারে সাঙ্গ করে ছাড়লো, জাহান্নামে পাঠিয়ে দিলো।
(অসমাপ্ত)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান মুবারক-এ বিশেষ বর্ণনা মুবারক
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহি সালাম উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার মহাসম্মানিত মাক্বাম মুবারক হাদিয়া
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মাননিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা কত জন সে বিষয়ে বর্ণনা মুবারক এবং মহাসম্মাননিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়া ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার ব্যাপারে ইতিহাসের একটি কুফরী দিক ও তার খণ্ডন মূলক জবাব (২)
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা কত জন সে বিষয়ে বর্ণনা মুবারক এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার ব্যাপারে ইতিহাসের একটি কুফরী দিক ও তার খণ্ডন মূলক জবাব (১)
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান বুলন্দী শান মুবারক প্রকাশ: ‘উম্মী’ শব্দ নিয়ে বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচারের চূড়ান্ত জবাব (৩)
২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার মহাসম্মানিত মাক্বাম মুবারক হাদিয়া
১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানতি ও মহাপবত্রি হযরত আহলু বাইত শরীফ আমহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাস উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক আলোচনা করা বা পাঠ করার সম্মানিত ফযীলত মুবারক সম্পর্কে বর্ণনা মুবারক
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহাসম্মানতি ও মহাপবত্রি হযরত আবনাউ রসূলল্লিাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদরে মহাসম্মানতি ও মহাপবত্রি শান মুবারক-এ বশিষে র্বণনা মুবারক
১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (২০)
১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মহাসম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে সর্বোচ্চ আদব মুবারক শিক্ষা দান
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












