নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানীকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (৪০)
, ২রা রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২২ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ০৭ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
আমির বিন তুফাইল ও আরবাদ বিন ক্বাইস:
তারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করার যে ষড়যন্ত্র করেছিলো, সেটা বাস্তবায়ন করার কোনো সুযোগ না পেয়ে হুমকি দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। হযরত মুয়াজ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত উসাইদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা তাদের ধাওয়া করেন। এক পর্যায়ে হযরত উসাইদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তাদেরকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘ওরে মহান আল্লাহ পাক উনার দুশমনরা! তোদের উপর মহান আল্লাহ পাক উনার অভিশাপ বর্ষিত হোক।’
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট থেকে পালিয়ে গিয়ে আমির আরবাদকে বললো, হে আরবাদ! ধিক্ তোমার প্রতি, যে নির্দেশ দিয়েছিলাম, তার কি করলে? মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম, পৃথিবীতে আমি তোমাকেই সবচেয়ে বীর পুরুষ মনে করতাম এবং তোমাকেই সবচেয়ে বেশি ভয় করে চলতাম। আজ থেকে আর তোমাকে ভয় করবো না। আরবাদ বললো, তোর সর্বনাশ হোক! তাড়াহুড়া করিস না। আমাকে যা করতে বলেছিলি, তা করতে উদ্যত হয়েই দেখি, আমার সামনে তুই ছাড়া আর কেউ নেই! সে অবস্থায় কোপ দিলে তো তোর ঘাড়েই পড়তো! শেষ পর্যন্ত তোকেই আমি কোপ দেবো নাকি?
কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করার জন্য আরবাদ তরবারি উত্তোলন করলে, তার হাত অবশ হয়ে যায়। মোটেও তা নাড়াতে সক্ষম হয়নি। যাই হোক, মানুষরূপী এই দুই শয়তান মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করার ষড়যন্ত্র করার মাধ্যমে মানহানী করে অবশেষে বাড়ির পথ ধরে।
তাদের ধ্বংসের বর্ণনা:
আমির বিন তুফাইলের মৃত্যু সম্পর্কে বর্ণিত রয়েছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট থেকে পলায়ন করে যখন সে প্রায় পবিত্র মদীনা শরীফ উনার নিকট পৌঁছলো; তখন হঠাৎ বনূ সালূলিয়াহ গোত্রের এক মহিলার সাথে তার দেখা হলো। তারপর সে ঘোড়া থেকে নেমে ঐ মহিলার ঘরে যেয়ে শুয়ে পড়লো। তখন তার গলায় প্লেগ জাতীয় কি একটা দেখা গেলো এতেই তার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসলো।
মৃত্যুর আগে সে চিৎকার করে বলতে লাগলো, ‘হে বনূ আমির! আমাকে কি শেষ পর্যন্ত উটের গলগ-তেই ধরলো, আর তাও বনূ সালুলের এক মহিলার বাড়িতে? এভাবে সে আফসোস করতো আর গাভীর মতো চিৎকার করতো।
তার এ কথার কারণ ছিলো এই যে, বনু সালুল আরবদের মধ্যে অত্যন্ত কাপুরুষ ও হীনম্মন্য গোত্র হিসেবে পরিচিত ছিলো।
এরপর সে বনু সালুলের ওই মহিলার ঘর থেকে বেরিয়ে তার ঘোড়ার পিঠে বসে দিগি¦দিক ছুটতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ঘোড়ার পিঠ থেকে পরেই সে মারা যায়।
আমির বিন তুফাইলকে কবর চাপা দিয়ে তার সঙ্গীরা বনূ আমিরের বসতিতে দুটি ছাগল নিয়ে হাযির হয়। তাদের মধ্যে মালউন আরবাদ বিন ক্বাইসও ছিলো। গোত্রের লোকেরা আরবাদকে জিজ্ঞেস করলো, হে আরবাদ! তোমরা কি করে এলে? সে বললো, কিছুই না। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদেরকে এমন এক সত্তার ইবাদত করার আহবান জানিয়েছেন, যাঁকে নাগালে পেলে আমি তীর নিক্ষেপ করে শহীদ করতাম। নাঊযুবিল্লাহ!
একদিন আরবাদ বিন ক্বাইস উটের উপর সওয়ারি হয়ে কোথাও যাচ্ছিলো। পথিমধ্যে হঠাৎ করে মহান আল্লাহ পাক তিনি তার উপর আকাশ থেকে বজ্র নিক্ষেপ করে উটসহ তাকে সেখানেই জ্বালিয়ে ভস্ম করে দেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করার চেষ্টাকারীর ভবলীলা এখানেই সাঙ্গ হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ! (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৪/৮২, আত তবাক্বাতুল কুবরা ১/৩১০, আস সীরাতুন নবূবিয়্যাহ লি ইবনে হিশাম ইত্যাদি)
ইবরাহীম আল-ফাযারী:
ইবরাহীম আল ফাযারী। সে ছিলো একজন প্রসিদ্ধ কবি। ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় তার বড় পান্ডিত্য ছিলো। সে কাযী আবুল আব্বাস বিন আবূ তালিব মালেকী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মজলিসে উপস্থিত হতো, উনার সাথে মুনাযারা বা বিতর্ক করা জন্য। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক উনার হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম, বিশেষ করে আমাদের প্রানপ্রিয় নবী ও রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানী করে কবিতা রচনা করাই ছিলো তার নিত্যদিনের কাজ। তার কাব্যের প্রতিটি পঙক্তি থেকে প্রকাশ হতো উপহাস।
তিউনিসিয়ার কায়রাওয়ানের হযরত ফুকাহায়ে কিরাম ও ইমাম হযরত সাহনুন মালেকী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার শিষ্যরা এই মুরতাদ ইবরাহীম আল-ফাযারিকে হত্যা করে, মহান আল্লাহ পাক উনার যমীনকে পবিত্র করার ফতওয়া প্রদান করলেন। আর কায়রাওয়ানের বিজ্ঞ বিচারক ইয়াহইয়া বিন উমর তিনি অভিশপ্তটাকে হত্যা করে ফাঁসির কাষ্ঠে লটকিয়ে রাখার আদেশ দিলেন। তাকে ছুরিকাঘাত করে, মাথা অধোমুখী করে, ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে রাখা হলো। এরপর কাষ্ঠ থেকে নামিয়ে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে ভস্ম করে ফেলা হলো। (অসমাপ্ত)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুলতান আব্দুল হামিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলদিজ প্রাসাদে ইফতার আয়োজনের স্মৃতিকথা
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৬)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাদের অনবদ্য তাজদীদ মুবারক-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের হাঁচি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৬)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












