মন্তব্য কলাম
৯০ হাজার হরিণ থাকার কথা যে নিঝুম দ্বীপে প্রতিকূল পরিবেশে সে দ্বীপে এখন হরিণ সংখ্যা মাত্র ৫ হাজার কিন্তু নারিকেল দ্বীপের কুকুর প্রেমীরা এক্ষেত্রে নির্বিকার ভয়াবহ বায়ু দূষণসহ নানা দূষণে ৩ কোটি লোকের ঢাকা বসবাসের জন্য চরম ঝুকিপূর্ণ কিন্তু তথাকথিত পরিবেশবাদীরা নিশ্চুপ! ওরা মূলত: পশু প্রেমী না শুধুই কুকুর প্রেমী, পরিবেশবাদী না শুধুই নারিকেল দ্বীপ ষড়যন্ত্রী!
, ২ রা জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ০৭ সাবি’, ১৩৯২ শামসী সন , ০৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ খ্রি:, ২০ অগ্রহায়ণ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) মন্তব্য কলাম
নারিকেল দ্বীপ ষড়যন্ত্রকারীরা নারিকেল দ্বীপের কুকুর নিয়ে খুব মাতামাতি করছে। ১০ হাজার অধিবাসীর দ্বীপে পাঁচ হাজারের বেশী কুকুর। কিন্তু ঐ কুকুর যাতে না মরে সেজন্য অন্তর্জালে তাদের ব্যাপক প্রচারণা।
অর্থ তোলার এবং কুকুরের পেছনেই ব্যয় করার কু-প্রচেষ্টা। তারা নাকি তথাকথিত পরিবেশবাদী ও পশুপ্রেমী? আসলেই কী তাই? মোটেও নয়।
নিঝুম দ্বীপের হরিণের বিপন্ন অবস্থা এবং তাদের প্রতি কোনোই খোজখবর না নেয়া- এর প্রত্যক্ষ উদাহারণ।
প্রসঙ্গত, নিঝুম দ্বীপ বাংলাদেশের একটি অন্যতম জাতীয় উদ্যান। এটি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় অবস্থিত একটি লোকালয়, যেখানে স্থলপথে যাওয়া যায় না। ওই বিচারে এটিও দ্বীপ। আবার সুন্দরবনের পর যেসব জায়গায় ম্যানগ্রোভ বন আছে, তাদের মধ্যেও নিঝুম দ্বীপ অন্যতম।
গণমাধ্যমে এসেছে-
নিঝুম দ্বীপের এত হরিণ কোথায় গেল
সাগরের বুকে জেগে ওঠা দেশের অন্যতম বৃহৎ পর্যটন কেন্দ্র নিঝুম দ্বীপ। নোয়াখালী জেলার অন্তর্গত এ দ্বীপটি ভেসে ওঠার পর ৮০’র দশকে বন বিভাগ এখানে বনায়ন করে। এরপর ১৯৮৫ সালে সরকার এই দ্বীপে মাত্র দুই জোড়া হরিণ অবমুক্ত করলে পরবর্তীতে ২০০৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৭ হাজারে এবং ২০১১ পর্যন্ত হরিণের সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়িয়েছিল।
এ মুহূর্তে নিঝুম দ্বীপে হরিণের প্রকৃত সংখ্যা কত, সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত নেই সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কারও কাছেই। তবে পুরোনো জরিপ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে গত ১০ বছরে হরিণের অভয়ারণ্য নিঝুম দ্বীপে হরিণ ছিল প্রায় ৪০ হাজার। এখন সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজারে। হিসাব অনুযায়ী নিঝুম দ্বীপে এখন ৯০ হাজার হরিণ থাকার কথা কিন্তু এগুলো গেল কোথায়?
নিঝুম দ্বীপ নয়, হরিণের বিচরণ বৃদ্ধি পায় চরকবিরাসহ আশপাশের আরও ১০-১১টি দ্বীপ বনাঞ্চলে। কিন্তু ২০১১ সালের পর থেকেই দিন দিন কমতে থাকে নিঝুম দ্বীপের হরিণ। বর্তমানে নিঝুম দ্বীপে হরিণের পরিসংখ্যান বন বিভাগের কাছে না থাকলেও স্থানীয়দের মতে এর সংখ্যা ৪-৫ হাজারের বেশি হবে না। ফলে নিঝুম দ্বীপে হরিণের সংখ্যা নিয়ে সরকারিভাবে জরিপ করা এখনই জরুরি হয়ে পড়েছে।
নিঝুম দ্বীপের ৬ হাজার হরিণের জীবন বিপন্নের আশঙ্কা
নিঝুমদ্বীপ জাতীয় উদ্যানের মধ্যে উঁচু জায়গা না থাকায় উদ্যানে থাকা ৬ হাজার হরিণের জীবন বিপন্নের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নিঝুম দ্বীপ বন বিভাগ জাহাজমারা রেঞ্জ কর্মমকর্তা জানান, ২০০১ সালে নোয়াখালীর দ্বীপ হাতিয়া উপজেলার নিঝুমদ্বীপ ও জাহাজমারা ইউনিয়নের ১০টি চর নিয়ে নিঝুমদ্বীপ জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। এর আয়তন ৪০ হাজার ৩৯০ বর্গ কিলোমিটার। নিঝুমদ্বীপের বনে ৪ হাজার হরিণের সুপেয় পানি পানের জন্য অনেক আগে চারটি বড় পুকুর খনন করা হয়েছিল। বর্ষা মৌসুমে হরিণের দল এসব পুকুর পাড়ের উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতো।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই সব পুকুরের খনন না হওয়ায় পুকুর পাড় অনেকটা সমতল ভূমিতে পরিণত হয়েছে। এ কারণে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে জোয়ারের পানিতে পুকুর পাড়গুলো তলিয়ে যাওয়ায় আশ্রয় নেওয়ার জন্য হরিণের দল বিভিন্ন চর ও লোকালয়ে ছুটছে। জরুরি ভিত্তিতে সুপেয় পানির পুকুরগুলো খনন করে চারপাশ উঁচু করলে আগামীতে বন্যার হাত থেকে হরিণ ও অন্যান্য বন্য প্রাণীকে রক্ষা করা যেতে পারে।
নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন সম্পাদক দিনাজ উদ্দিন জানান, হরিণের আশ্রয়ের জন্য তেমন কোনো উঁচু জায়গা নেই। বেশিরভাগ হরিণ গাছের ডালের সঙ্গে মুখ উপরে তুলে পানিতে আছে। বনের মধ্যে বন বিভাগ থেকে তৈরি কয়েকটি পুকুর ও পুকুরের পাড়ও সমতল ভূমিতে পরিণত হওয়ায় অস্বাভাবিক জোয়ারে বর্তমানে হরিণের আশ্রয় নেওয়ার মতো কোনো জায়গা নেই। নিঝুমদ্বীপের হরিণকে বাঁচাতে উঁচু জায়গা নির্মাণ, সুপেয় পানির ব্যবস্থা খুব জরুরি।
নিঝুমদ্বীপের ইউপি চেয়ারম্যান মেহরাজ উদ্দিন জানান, নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নে কোনো বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ (বেড়িবাঁধ) নেই। এর ফলে নদীতে জোয়ার এলে মেঘনার কোল ঘেঁষা নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ৬০ হাজার লোক জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই সঙ্গে নিঝুমদ্বীপের হরিণ ও অন্য প্রাণীও ভেসে যায়। এসব হরিণ বাঁচাতে হলে নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং হরিণের আবাসস্থলগুলোতে উঁচু মাটির কিল্লা তৈরি করা দরকার।
হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ জাতীয় উদ্যানের বিভিন্ন চরে প্রায় ৬ হাজার হরিণ রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে ৭-৮ ফুট উঁচু জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় হরিণের আবাসস্থল তলিয়ে গেছে। জাতীয় উদ্যানের উন্নয়নে এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন প্রকল্প হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়াও হরিণের সুপেয় পানির পুকুর খনন করা অত্যাবশ্যক। প্রকল্পগুলো নিঝুমদ্বীপের হরিণ ও জীববৈচিত্র রক্ষায় কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।
নিঝুম দ্বীপে কমছে হরিণের সংখ্যা
নিঝুম দ্বীপে হরিণের সংখ্যা সংক্রান্তে সেখানকার দুলাল উদ্দিন নামের এক সমাজ কর্মীর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, হরিণ এখন সোনার হরিণ হয়ে গেছে। গেল ৩-৪ বছর আগেও এখানকার বিভিন্ন বাগানে ঢুকলেই হরিণ দেখা যেত। এখন দিনকে দিন অপেক্ষা করলেও হরিণের দেখা মিলে না। এর কারণ হিসেবে নিঝুম দ্বীপে জনবসতি বৃদ্ধিসহ নানান বৈরী পরিস্থিতিকে দায়ী করেন তিনি।
চানমিয়া নামের স্থানীয় মেম্বার জানান, নিঝুম দ্বীপ এলাকার দক্ষিণ-পশ্চিমের চরে প্রচুর মহিষ বিচরণ করে। ফলে হরিণ একদিকে ঘাস পায় না অন্যদিকে গাছের পাতাও তেমন পায় না। এসব কারণেও হরিণ কমে যেতে পারে বলে তিনি জানান।
কিন্তু গণমাধ্যমে প্রকাশিত মায়াবী হরিণের এত বিপন্ন অবস্থার পরও কোনো প্রতিক্রিয়া নেই তথাকথিত পশু প্রেমীদের মাঝে। মূলত: ওরা পশু প্রেমী নয় বরং শুধুই কুকুর প্রেমী।
অপরদিকে ঢাকার বাতাসে সীসাসহ মারাত্মক ক্ষতিকর পদার্থ এবং ভয়াবহ অবস্থা। কিন্তু ঢাকাকে বিকেন্দ্রীকরণ করে নিরাপদ ধারায় কোনো কথাই ওদের মুখে উচ্চারিত হয় না।
ঢাকা যে জনজটে মহাসঙ্কটাপন্ন ও বসবাসের অযোগ্য- এই উচ্চারণও তারা করে না। ওরা মূলত: পরিবেশবাদী নয়, ওরা নারিকেল দ্বীপ ষড়যন্ত্রী।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রসঙ্গ: গত পরশু বিজেপি নেতার খুলনা যশোর অঞ্চল দখলের হুমকী এবং বারবার উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের বাংলাদেশ দখলের আস্ফালন
০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
৭০০ কিলোমিটারের মরণব্যাধি ও আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা : বেগম পাড়ার বিলাসিতা কি সার্বভৌমত্বের কফিনে শেষ পেরেক?
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আমেরিকা থেকে উচ্চমূল্যে বিষাক্ত গম আমদানি বন্ধ করতে হবে
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আইনি লেবাসে সন্ত্রাসী ইহুদিদের পৈশাচিক রাষ্ট্রীয় হত্যাকা-: ইসরায়েলের বর্বরতা, আন্তর্জাতিক নীরবতা এবং আমাদের করণীয়
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না।
০৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও সার্বভৌমত্বের দুশমনদের অপতৎপরতা-উগ্র হিন্দুত্ববাদী ‘রবীন্দ্র ঘোষ’ ও ‘চিন্ময়’ চক্রের রাষ্ট্রদ্রোহী আঁতাত এবং প্রশাসনের জগৎশেঠদের মুখোশ উম্মোচন
০৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না।
০৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বাংলাদেশের পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা অর্জন: একবিংশ শতাব্দীর কৌশলগত অপরিহার্যতা
০৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
ইরান-সন্ত্রাসী আমেরিকা সন্ত্রাসী ইসরাইল যুদ্ধ: রহস্যময় ড্রোন, ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন ও যুদ্ধ অর্থনীতির বাস্তবতা
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
জুলাই সনদের ওপর গণভোট আদৌ সংবিধান সম্মততো নয়ই; শুধু এতটুকুই নয় বরং তা আদৌ বাস্তবসম্মতও নয়। অভিজ্ঞমহল বলেন, নির্বাচন কমিশন জাতির সঙ্গে তামাশা করছে। এত জটিল হিসাব-নিকাশে কি গণভোট হয়?
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যাবস্থা: ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে বাঁচার একমাত্র পথ
০১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
জ্বালানি সংকট ব্যবস্থাপনায় স্বনির্ভরতায় জোর দেয়ার বিকল্প নেই
০১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












