মন্তব্য কলাম
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না।
যানজট নিরসনের মূল কারণ চিহ্নিত ও পদক্ষেপ নিতে না পারাই ঢাকায় যানজটের প্রধান কারণ। (প্রথম পর্ব)
, ১৫ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৪ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৪ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ২১ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মন্তব্য কলাম
ঢাকায় যানজট নিত্য জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে। প্রধান প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লাতেও ভয়াবহ যানজট লেগে থাকে। যানজটের কারণে ঢাকা শহর দিন দিন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে। এ থেকে পরিত্রাণের সঠিক উপায় এখনো প্রয়োগ করতে পারেনি কোন সরকার। নগর বিশেষজ্ঞ এবং দেশী-বিদেশী পরামর্শক থেকে সরকার বিভিন্ন সময় সরকার পরামর্শ নিয়েছে। সেই অনুযায়ী বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এতেও যানজটের সমাধান হয়নি। সাময়িক কিছু উপকার হলেও এসবের মাধ্যমে যানজট নিরসনে স্থায়ী সমাধান হবেনা। বরং এসব পদক্ষেপ কোন কোন ক্ষেত্রে যানজট এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হয়েছে মাত্র। প্রকৃতপক্ষে যানজট নিরসনের মূল সমস্যা চিহ্নিত করতে না পারাই এর প্রধান কারণ।
ঢাকা মহানগরে যানজটের সাধারণ কিছু কারণ যেমন রয়েছে তদ্রুপ মূল বা প্রধান কিছু কারণও রয়েছে।
যানজটের কিছু সাধারণ কারন:
১) অপর্যাপ্ত রাস্তা: জনসংখ্যা ও যানবাহনের তুলনায় রাস্তার পরিমাণ অত্যন্ত কম। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী ঢাকা শহরে প্রায় ২,৮০০ থেকে ৩,০০০ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদ- অনুযায়ী একটি শহরের রাস্তার পরিমাণ হওয়া উচিত মোট আয়তনের ২৫ শতাংশ। অথচ ঢাকায় মোট রাস্তার পরিমাণ মাত্র ৭-৯%। যা টোকিওতে ২২%, সিঙ্গাপুরে ১২%। প্রয়োজনের তুলনায় ঢাকায় প্রায় ১৬% রাস্তার ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া ৬০% এর বেশি রাস্তার প্রস্থ ২০ ফুটেরও কম, যা ট্রাফিক ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক নিচে। তবে মূল সমস্যা দূর করে পরিকল্পিত ব্যবস্থা নিলে ৮ ভাগ রাস্তা দিয়েও ঢাকার যানজট নিরসন সম্ভব।
২) ধীরগতির যানের জন্য আলাদা লেন না থাকা: আলাদা লেন না থাকায় ধীরগতির যানবাহনের কারণেও অনেক সময় যানজটের তৈরী হয়। সেজন্য প্রায়ই অটো রিক্সা নিষিদ্ধের দাবি তোলা হয়। যা আইনী ও মানবিক কোন দৃস্টিতে কোনভাবেই বৈধ নয়। নিয়মের মধ্যে এনে তাদের জন্য আলাদা লেন করা উচিত। নগরীতে দ্রুত গতির যানবাহনের সংখ্যা অনেক। তবে রিক্সা-অটো রিক্সা, ভ্যান, ঠেলা গাড়ির সংখ্যা আরো বেশী। আত্মকর্মসংস্থানে ধীরগতির যানবাহনের জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান ব্যাপক। বিভিন্ন গবেষণা ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধুমাত্র রিক্সা খাত বাংলাদেশের জাতীয় জিডিপিতে প্রায় ৬% থেকে ৭% অবদান রাখে। ঢাকার মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ১২-১৩% এই খাতের সাথে যুক্ত। ধারণা করা হয়, ঢাকা শহরে প্রায় ১১ থেকে ১২ লক্ষ প্যাডেল ও ব্যাটারিচালিত রিক্সা চলাচল করে। এর সাথে জড়িয়ে আছে প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষের সরাসরি জীবিকা (চালক, মেকানিক এবং গ্যারেজ মালিক)। এছাড়াও অনেক মানুষের জীবিকা রয়েছে। ঢাকার প্রায় ৬০% মানুষ যাতায়াতের জন্য রিক্সা বা পায়ে হাঁটার ওপর নির্ভরশীল। সরকারের কোন সহায়তা ছাড়াই তারা এসব বাহনের মাধ্যমে স্বউদ্যোগে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। তাই দ্রুত গতির যানবাহন চলার অধিকারের মতো ধীরগতির যান চলার অধিকার দিতে হবে। সড়কে তাদের জন্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা করতে হবে।
৩) অকার্যকর বৈদ্যুতিক ট্রাফিক সিগন্যাল সিস্টেম: কিছু এলাকায় বৈদ্যুতিক ট্রাফিক সিগন্যাল সিস্টেম স্থাপন করা হলেও দীর্ঘদিন যাবত অকেজো পড়ে আছে।
৪) পার্কিংয়ের পর্যাপ্ত জায়গা না থাকা: রাস্তা ও মার্কেটগুলোতে পার্কিংয়ের পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় যত্রতত্র অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে কোন কোন রাস্তা ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে।
৫) ট্রাফিক আইন প্রশিক্ষণ না থাকা: ট্রাফিক আইনের উপর চালকদের কোন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। ফলে যানবাহন চালক প্রায়শঃ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করে।
৬) গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি: ঢাকায় ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাবলিক ট্রান্সপোর্টের তুলনায় ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার বেশি হওয়ায় রাস্তাগুলো গাড়িতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়।
৭) পাবলিক ট্রান্সপোর্টের অপ্রতুলতা: ঢাকায় পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা অপ্রতুল এবং অনিয়মিত। এটি ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহারকে উৎসাহিত করে, যা যানজট বাড়ায়।
৮) রাস্তা মেরামত ও নির্মাণ কাজ: ঢাকায় প্রায়ই রাস্তা মেরামত, নির্মাণ ও উন্নয়ন কাজ চলতে থাকে। এসব কাজের কারণে রাস্তার অংশবিশেষ বন্ধ হয়ে যায়, যা যানজটের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
৯) হকারদের পুনর্বাসনের অভাব: নিম্ন আয়ের হকারদের পুনর্বাসনে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করা ও তাদের জন্য জায়গা নির্দিস্ট না করায় রাস্তা ও ফুটপাতে হকার বসায় কোথাও কোথাও যানজটের সৃষ্টি হয়।
১০) অপরিকল্পিত নগর উন্নয়ন: ঢাকার নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা যথাযথ নয়। অপরিকল্পিতভাবে বাসস্থান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানা গড়ে ওঠায় যানজটের সমস্যা তীব্র হয়।
১১) স্কুল ও অফিসের নির্দিষ্ট সময়: স্কুল ও অফিসের নির্দিষ্ট সময়ে একই সাথে প্রচুর গাড়ি ও মানুষের ভিড় হয়, যা যানজটের কারণ হয়।
১২) পানিবদ্ধতা: বর্ষাকালে ঢাকার অনেক রাস্তায় পানিবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, যা যানবাহনের চলাচলকে ব্যাহত করে এবং যানজট তৈরি করে।
-মুহম্মদ জুলফিকার হায়দার।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সরকারের এক মূর্খ মন্ত্রী বলেছে তেলের দাম বৃদ্ধিতে মূল্যস্ফীতি হবে না। অথচ তেলের দাম বৃদ্ধিতে প্রথম দাম বাড়বে খাদ্যের।
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অপসংস্কৃতি রোধ করতে হলে কথিত ফ্যাশন হাউজগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উগ্র হিন্দুত্ববাদী ভারত এবং পতিত আওয়ামীলীগ চাচ্ছে বাংলাদেশে তথাকথিত জঙ্গী তৎপরতা প্রমাণ করতে।
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানকে ‘মুসলমানিত্ব’ বুঝতে হবে। ‘আশহাদু আন্না মুহম্মাদার রসূলুল্লাহ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাক্বীক্বীভাবে বলতে হবে ও আমলে আনতে হবে।
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতি বছর শুধু অসুস্থতার কারণে প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রধানমন্ত্রী নিজেই ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেয়া শুরু করেছেন। বাতিল হয়েছে ‘রাষ্ট্রপতির’ সাথে ‘মহামান্য’ শব্দ ব্যবহারও।
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের সামরিক ব্যয় গত দশকগুলোতে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি মূলত বেতন, স্থায়ী খরচ এবং চলমান পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়েছে। তবে সামরিক আধুনিকায়ন, সমরাস্ত্র ক্রয় এবং নতুন প্রযুক্তি সংযোজনের জন্য মোট বাজেটের মাত্র ২-৪ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ্র পরিক্রমায় চললেই সে প্রজ্ঞা পাওয়া সম্ভব ইনশাআল্লাহ
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!!!!
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












