মন্তব্য কলাম:
জ্বালানি সংকট ব্যবস্থাপনায় স্বনির্ভরতায় জোর দেয়ার বিকল্প নেই
, ১৩ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০২ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ০২ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ১৯ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) মন্তব্য কলাম
মধ্যপ্রাচ্য পুড়ছে যুদ্ধের আগুনে। আর বিশ্বজুড়ে হু হু করে বাড়ছে জ্বালানি তেল ও জ্বালানি গ্যাসের দাম। এই জ্বালানি উপাদানগুলোই এখন ভূ-রাজনীতির হিসাব-নিকাশ সব পাল্টে দিচ্ছে।
আমাদের দেশ এইসব হিসাবের বাইরে থাকছে না। ইতোমধ্যে আমরা সেটা দেখতেও পেয়েছি। হঠাৎ করেই জ্বালানি তেলের পাম্পগুলোতে দেখা গিয়েছে লম্বা লম্বা লাইন। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিলো সবখানে। তবে সরকারের কিছু সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে এবং ঈদের লম্বা ছুটির কারণে এই আতঙ্ক এখন আড়ালে।
কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যেভাবে অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যাচ্ছে যুদ্ধের প্রেক্ষাপট, খুব বেশিদিন হয়তো সরকার জ্বালানি সংকট ও জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে না।
এই উদ্বেগ কাটাতে দেশের সচেতন মহল দীর্ঘ সময় ধরেই দেশের আভ্যন্তরীণ উৎপাদনে জোর দিতে সরকারকে পরামর্শ দিয়ে আসছেন।
বিশেষ করে দৈনিক আল ইহসান- সরকারী তেল-গ্যাস অনুসন্ধানকারী একমাত্র প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে শক্তিশালী ও আধুনিক করতে নিয়মিত লেখনী প্রকাশ করে আসছে।
তথ্যমতে, বর্তমান বাংলাদেশের গ্যাস জ্বালানির চাহিদার ৭০ ভাগ আসে দেশিয় কূপ থেকে, ৩০ ভাগ আসে আমদানির মাধ্যমে।
এক্ষেত্রে সরকার যদি আমদানির ৩০ ভাগ দেশিয় উৎস থেকে উত্তোলন করে, তাহলেই কিন্তু আর জ্বালানি গ্যাস বেশি দামে আমদানির প্রয়োজন হচ্ছে না।
এর ফলে আমাদের দেশ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব থেকে সহজেই মুক্ত থাকতে পারবে।
গ্যাস কূপ খননের প্রকল্পে যত দ্রুত সরকার জোর দিবে, বাপেক্সকে শক্তিশালী করবে এর সুফলও দ্রুত মিলবে।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় গ্যাস অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, ৬৮টি নতুন কূপ অনুসন্ধান করতে পারলে দৈনিক আরও ১৩৫ কোটি ঘনফুট পাওয়া সম্ভব। যা দেশের চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এসব কূপ খননে প্রয়োজনীয় জনবল, যন্ত্রপাতি ও অর্থ সংকটে আছে বাপেক্স।
অন্যদিকে জ্বালানি তেলের মধ্যে ডিজেল আমদানিনির্ভর হলেও পেট্রোল ও অকটেন মূলত দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া উপজাত কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে উৎপাদন করা হয়।
কনডেনসেট থেকে উৎপাদিত পেট্রোলের পরিমাণ অনেক সময় দেশের চাহিদার চেয়েও বেশি হয়ে যায়। এই পেট্রোলের সঙ্গে আমদানি করা অকটেন বুস্টার মিশিয়ে অকটেন তৈরি করা হয়। ফলে দেশে ব্যবহৃত পেট্রোলের প্রায় পুরোটা এবং অকটেনের সিংহভাগ দেশেই উৎপাদিত হয়।
দেশে সরকারি প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) এবং কয়েকটি বেসরকারি রিফাইনারি কনডেনসেট থেকে পেট্রোল, অকটেনসহ প্রায় ৪০ ধরণের পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন করে। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা বছরে প্রায় ১৬ লাখ টন। অন্যদিকে দেশে পেট্রোল ও অকটেনের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৮ থেকে সাড়ে ৮ লাখ টন। অর্থ্যাৎ পেট্রোল ও অকটেনে চাহিদার চেয়ে দেশীয় উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণ।
কিন্তু সম্প্রতি অবাক করা ব্যাপার দেখা যাচ্ছে যে, এই পেট্রোল ও অকটেন আমদানি পণ্য না হলেও দেশের জ্বালানি তেলের পাম্পগুলোতে এগুলো নিতেই লম্বা লম্বা লাইন লেগে থাকে।
মূলত একদিকে মানুষের কাছে দেশীয় সক্ষমতা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দিতে যেমন রয়েছে সরকারের ব্যর্থতা তেমনি রয়েছে সরকারের নীতি নির্ধারকদের অপরিপক্ক সিদ্ধান্ত। কারণ মধ্যপ্রাচ্য সংকটের পরই সরকার পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেল নেয়ার বিষয়ে সীমা ও সময় বেঁধে দিয়েছিলো। আর এতে করেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গ্রাহকদের মধ্যে।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা বলতে পারি-
সরকার যদি দ্রুত বাপেক্সকে কাজে লাগিয়ে নতুন গ্যাস কূপ ও জ্বালানি তেলের কূপ অনুসন্ধান করায়
এবং ইতোমধ্যে আবিষ্কৃত কূপসমূহ থেকে গ্যাস ও তেল উত্তোলনের প্রকল্প হাতে নেয়
তাহলে এই জ্বালানি স্বনির্ভরতা আমাদের অর্থনীতি যেমন শক্তিশালী রাখবে, তেমনি সাধারণ মানুষেরও জ্বালানি সংকটের আতঙ্ক পুরোপুরি কেটে যাবে।
-মুহম্মদ লিসানুল করিম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঋণ নির্ভর বাজেট প্রণয়ন না করে রফতানী বহুর্মুখীকরণের দ্বারা সমৃদ্ধ বাজেট প্রণয়ন খুব সহজেই সম্ভব। কাঁঠাল উৎপাদনে বাংলাদেশ প্রথম হলেও রফতানীতে তলানীতে। কাঁঠাল রফতানী করেও বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব।
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় ৫০ লক্ষ সেনাবাহিনীর অপ্রতিরোধ্যকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির বিবরণ (পর্ব ৬)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় ৫০ লক্ষ সেনাবাহিনীর অপ্রতিরোধ্যকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির বিবরণ (পর্ব- ৫)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
“বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে ১৪০টির বেশি দেশে”- গত পরশু (৮ই জুন) এই বিবৃতি দেয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী ভেবে দেখবেন মার্কিনীদের সাথে করা গোলামী চুক্তিতে তার এই উচ্ছাস পুরোটাই গভীর এবং চরম-পরম উৎকণ্ঠায় পর্যবসিত হয়েছে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের জন্যও মহা ধ্বংস প্রক্রিয়া বাংলাদেশের ৫১ কোটি নাগরিকের নিরাপত্তা নির্মূলীকরণ প্রক্রিয়া। মহা আত্মঘাতী, সর্বনাশী, দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রিকারী এ চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে (২য় পর্ব)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বাংলাদেশের মহাকাশ প্রতিরক্ষা কৌশল: ৫০ লক্ষাধিক বহরের সমন্বিত বাহিনীর জন্য কৃত্রিম উপগ্রহ প্রযুক্তির রূপরেখা (পর্ব-৪)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১১)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বর্তমান জ্বালানী সংকটে অনেক দেশই এখন কয়লার দিকে ঝুকছে। কয়লার উপর নির্ভরতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। দেশে বিপুল পরিমাণ কয়লার মজুদ থাকার পরও রহস্যজনকভাবে তা উত্তোলনে আগ্রহ নেই সরকারের। ৭ হাজার ৮০০ মিলিয়ন টন কয়লা মজুদের দেশে কয়লার ঘাটতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ কেন?
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা: ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১০)
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৯)
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম মিয়াজাকি, পুষ্টিগুণেও ভরপুর
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
“বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে ১৪০টির বেশি দেশে”- গত পরশু (৮ই জুন) এই বিবৃতি দেয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী ভেবে দেখবেন মার্কিনীদের সাথে করা গোলামী চুক্তিতে তার এই উচ্ছাস পুরোটাই গভীর এবং চরম-পরম উৎকণ্ঠায় পর্যবসিত হয়েছে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের জন্যও মহা ধ্বংস প্রক্রিয়া বাংলাদেশের ৫১ কোটি নাগরিকের নিরাপত্তা নির্মূলীকরণ প্রক্রিয়া। মহা আত্মঘাতী, সর্বনাশী, দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রিকারী এ চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে (১ম পর্ব)
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
শুধু একটি মৃত্যুর খবর, নাকি একটি সমাজের ভবিষ্যৎ?
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












