মন্তব্য প্রতিবেদন:
উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যাবস্থা: ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে বাঁচার একমাত্র পথ
, ১৩ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০২ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ০২ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ১৯ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) মন্তব্য কলাম
আধুনিক যুদ্ধবিগ্রহের চিত্র দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে। ড্রোন ঝাঁক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত মনুষ্যবিহীন বিমান, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র-এসব শব্দ এখন আর কল্পবিজ্ঞানের পাতায় সীমাবদ্ধ নেই। বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে এগুলো এমন হুমকি তৈরি করছে, যার মোকাবেলায় প্রচলিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রমশ অপ্রতুল হয়ে পড়ছে।
জার্নাল অফ ফিজিক্সে প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক গবেষণাপত্র এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোকপাত করেছে। গবেষকরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, লেজার, মাইক্রোওয়েভ এবং ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেলগানের মতো নতুন প্রজন্মের অস্ত্র এখন আর পরীক্ষাগারে সীমাবদ্ধ নেই- এগুলো কৌশলগত ব্যবহারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
প্রচলিত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা :
বর্তমান বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূলত সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (স্যাম) এবং অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট কামানের উপর নির্ভরশীল। এগুলোর কার্যকর পাল্লা সীমিত, প্রতি উৎক্ষেপণের খরচ বিপুল এবং একযোগে একাধিক লক্ষ্যবস্তু মোকাবেলার ক্ষমতা সীমাবদ্ধ। একটি মিসাইল উৎক্ষেপণে যেখানে লাখ ডলার খরচ হয়, সেখানে আক্রমণকারী হয়তো মাত্র কয়েক হাজার ডলার মূল্যের ড্রোন ঝাঁক দিয়ে হামলা চালাচ্ছে।
আরও বড় সমস্যা হলো, আধুনিক আকাশপথের হুমকি এখন বহুমাত্রিক। শত্রুপক্ষ এখন “স্বাভাবিকীকরণ” কৌশল অবলম্বন করে অর্থাৎ প্রথমে ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অন্ধ করে দেওয়া, তারপর দূর থেকে সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো। প্রচলিত ব্যবস্থা এই ধরণের সমন্বিত আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রায়শই অকার্যকর হয়ে পড়ে।
নতুন প্রজন্মের সমাধান :
গবেষকরা তিনটি মূল পর্যায়ে নতুন প্রযুক্তির একীকরণের কথা বলেছেন:
স্বল্প পরিমাণে সংহতকরণ: প্রথম পর্যায়ে, নতুন উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র-যেমন কৌশলগত লেজার বা মাইক্রোওয়েভ ব্যবস্থা-গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষিত স্থাপনার চারপাশে স্থাপন করা হবে। এগুলো প্রচলিত ব্যবস্থার পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।
বিপুল পরিমাণে ব্যবহার: দ্বিতীয় পর্যায়ে, নতুন প্রযুক্তির অস্ত্র প্রচলিত ব্যবস্থার সাথে সমন্বিতভাবে স্তরে স্তরে মোতায়েন করা হবে। ভেতর থেকে বাহিরের দিকে ঘেরে ঘেরে বিন্যস্ত এই “ফোর্স মোড” আগত হুমকিকে স্তরে স্তরে ধ্বংস করবে।
বুদ্ধিদীপ্ত একীকরণ: তৃতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (অও) নিয়ন্ত্রণে একটি বিকেন্দ্রীভূত নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। এতে নতুন ও প্রচলিত উভয় ধরনের অস্ত্র সংযুক্ত থাকবে এবং রিয়েল টাইমে হুমকি মূল্যায়ন করে সর্বোত্তম প্রতিরক্ষা কৌশল নির্ধারণ করবে।
এআই-চালিত নেটওয়ার্ক:
“নেটওয়ার্ক যুদ্ধ পদ্ধতি” সম্ভবত সবচেয়ে বৈপ্লবিক ধারণা। কল্পনা করুন, শত্রুপক্ষের একটি বড় ড্রোন ঝাঁক আসছে। এআই কমান্ড সিস্টেম তাৎক্ষণিকভাবে:
- হুমকির মাত্রা ও ধরন বিশ্লেষণ করবে
- প্রথমে ইলেকট্রনিক বিমান প্রতিরক্ষা দিয়ে জ্যামিং করবে
- লেজার বা মাইক্রোওয়েভ দিয়ে নিকটবর্তী লক্ষ্যগুলো নিষ্ক্রিয় করবে
- দূরপাল্লার হুমকির জন্য মিসাইল বা ইএমআরজি ব্যবহার করবে
- একটি নোড ক্ষতিগ্রস্ত হলে অন্য নোডগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে দায়িত্ব নেবে
এই সমন্বিত ব্যবস্থায়, প্রতিটি অস্ত্র তার সবচেয়ে উপযুক্ত লক্ষ্যের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হবে। ফলে সম্পদের অপচয় কমবে এবং কার্যকারিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
বাস্তবতা ও দৃঢ়তা:
অবশ্য, এই উন্নত ব্যবস্থা রাতারাতি গড়ে উঠবে না। গবেষকরা স্বীকার করেছেন যে নতুন প্রযুক্তির এখনও সীমাবদ্ধতা আছে। লেজার ব্যবস্থার কার্যকর পাল্লা আবহাওয়ার উপর নির্ভরশীল, মাইক্রোওয়েভ অস্ত্র এখনও ভারী ও স্থাপনযোগ্যতা সীমিত, এবং সবগুলো প্রযুক্তির জন্য প্রচুর বিদ্যুৎ শক্তির প্রয়োজন। যার যোগান দেওয়া অত্যাবশ্যক।
তদুপরি, প্রচলিত ও নতুন ব্যবস্থার মধ্যে নির্বিঘœ সমন্বয় নিশ্চিত করতে একটি অত্যন্ত কার্যকর কমান্ড ও কন্ট্রোল (সি২) ব্যবস্থা দরকার। সাইবার নিরাপত্তাও একটি বড় উদ্বেগের বিষয়-এআই-চালিত ব্যবস্থা হ্যাকিংয়ের ঝুঁকিতে থাকে। সেজন্য সাইবার নিরাপত্তা যোদ্ধাদের একটি বড় ডিভিশন মোতায়েন রাখতে হবে।
তবু, এই দিকে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। আধুনিক আকাশপথের হুমকি এতটাই বৈচিত্র্যময় ও জটিল হয়ে উঠেছে যে, প্রচলিত পদ্ধতিতে আটকে থাকা মানে অসহায়ত্ব মেনে নেওয়া। লেজার, মাইক্রোওয়েভ, এবং ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেলগানের মতো প্রযুক্তি ভবিষ্যতের কোনো স্বপ্ন নয়- এগুলো আজকের বাস্তবতা এবং যারা এই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করবে, তারাই ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে টিকে থাকবে।
প্রশ্ন হলো, আমরা কি প্রস্তুত? নাকি আমরা এখনও পুরনো কৌশলে আঁকড়ে থেকে ভবিষ্যতের হুমকির মুখে অসহায় হয়ে পড়ব? সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে এবং উত্তর খুঁজে পাওয়ার দায়িত্ব কেবল সামরিক পরিকল্পনাকারীদের নয়- এটি আমাদের সবার।
- মুহম্মদ কুররাতুল আইন হায়দার।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুদী মহাজন ও বড় চোর, সমকামীমনা, ১৬৮ মামলার আসামী, দেশ বিক্রিকারী মার্কিন চুক্তিকারী, ক্ষমতার মসনদে বসে অর্থ লুটকারী, অন্যায় সুবিধা গ্রহণকারী, পাহাড় সম অপরাধ মব-সন্ত্রাসের জনক কুখ্যাত ইউনুসের প্রতি ভীষণ বীতশ্রদ্ধ।
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সুদী মহাজন ও বড় চোর, সমকামীমনা, ১৬৮ মামলার আসামী, দেশ বিক্রিকারী মার্কিন চুক্তিকারী, ক্ষমতার মসনদে বসে অর্থ লুটকারী, অন্যায় সুবিধা গ্রহণকারী, পাহাড় সম অপরাধ মব-সন্ত্রাসের জনক কুখ্যাত ইউনুসের প্রতি ভীষণ বীতশ্রদ্ধ। এই কুলাঙ্গার আবারো ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে, রাষ্টের শীর্ষ পদে তথা প্রেসিডেন্ট পদে আলোচনায় আসে কি করে? নেপথ্যে কি মার্কিন দূত গর? অথচ “ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়”- বিএনপির শ্লোগান
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের সামরিক কৌশল বাড়ানো উচিত
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিএনপির নেতা কর্মী বর্তমান উপদেষ্টা মন্ত্রীরা-এমপিরাও, সুদী মহাজন ও বড় চোর, সমকামীমনা, ১২৬ মামলার আসামী, দেশ বিক্রিকারী মার্কিন চুক্তিকারী, ক্ষমতার মসনদে বসে অর্থ লুটকারী, অন্যায় সুবিধা গ্রহণকারী, পাহাড় সম অপরাধ মব-সন্ত্রাসের জনক কুখ্যাত ইউনুসের প্রতি ভীষণ বীতশ্রদ্ধ।
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
এই কুলাঙ্গার আবারো ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে, রাষ্টের শীর্ষ পদে তথা প্রেসিডেন্ট পদে আলোচনায় আসে কি করে? নেপথ্যে কি মার্কিন দূত গর? অথচ “ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়”- বিএনপির শ্লোগান
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আম্রিকা, চীন, ভারত, রাশিয়া সবার নজর বাংলাদেশের দিকে।
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নতুন নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের অজুহাতে চলছে শোষণ প্রকল্প।
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর দ্বীনদার ব্যক্তির জন্য দ্বীন ইসলামই সবচেয়ে বড়
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইহুদীরাই আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট বানায়, নামায় তথা আমেরিকা চালায়।
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘ছবি’ ও ‘বেপর্দা’- বর্তমানে সমস্ত পাপ কাজের মূল উৎস
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
তেল আমদানিতে আমাদের যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়, এতে আমাদের রিজার্ভে চাপ পড়ে। সমস্যা কৃষকের সক্ষমতায় নয়, বরং নীতিগত অগ্রাধিকার ও বিনিয়োগের ঘাটতিতে।
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে ভারতীয় খপ্পরে বাংলাদেশ!
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












