মন্তব্য কলাম
আইনি লেবাসে সন্ত্রাসী ইহুদিদের পৈশাচিক রাষ্ট্রীয় হত্যাকা-: ইসরায়েলের বর্বরতা, আন্তর্জাতিক নীরবতা এবং আমাদের করণীয়
, ১৬ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৫ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৫ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ২২ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মন্তব্য কলাম
ইসরায়েলের পার্লামেন্টে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদ-ের আইন পাসের যে জঘন্য প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা কেবল একটি রাষ্ট্রীয় নীতির পরিবর্তন নয় - বরং সমগ্র মানবতার বিরুদ্ধে এক ঘৃণ্য আগ্রাসন এবং ন্যায়বিচারের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেয়ার শামিল। "সন্ত্রাস দমন" -এর ঠুনকো দোহাই দিয়ে সন্ত্রাসী ইসরায়েল আসলে একটি সম্পূর্ণ জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসকে বৈধতা দেওয়ার নোংরা কাজে মেতেছে। এটি কোনো বিচারিক প্রক্রিয়া নয় বরং আইনি লেবাসে সুপরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় হত্যাকা-।
দ্বৈত বিচারব্যবস্থা ও আধুনিক বর্ণবাদ :
একই ভূখ-ে বসবাসকারী দুই জনগোষ্ঠীর জন্য দুই ধরনের বিচারব্যবস্থা - ইসরায়েলিদের জন্য বেসামরিক আদালত আর ফিলিস্তিনিদের জন্য সামরিক আদালত- প্রমাণ করে যে সন্ত্রাসী ইসরায়েল আজ দক্ষিণ আফ্রিকার আপার্টহাইডকেও হার মানিয়েছে। জেনেভা কনভেনশনকে পদদলিত করে তারা যে পথে হাঁটছে, তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও যুদ্ধ আইনের মৌলিক নীতিগুলোর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ন্যায্য বিচারের নিশ্চয়তা যেখানে শূন্য, সেখানে মৃত্যুদ- কার্যকর করা মানেই রাষ্ট্রীয় হত্যাকা-ের বৈধ আবরণ মাত্র। বিশ^সন্ত্রাসী সন্ত্রাসী ইসরায়েল এটিকে "সন্ত্রাসবাদ দমন" বললেও বাস্তবে ফিলিস্তিনিদের অধিকাংশই সামরিক আইনের নিষ্পেষণে পিষ্ট, যেখানে মৌলিক অধিকার বলতে কিছু নেই। এটি নিরাপত্তা রক্ষা নয় - একটি সম্পূর্ণ জাতিকে দমন ও নিশ্চিহ্ন করার রাষ্ট্রীয় হাতিয়ার।
সংঘাত আরও ভয়াবহ করার ষড়যন্ত্র :
ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে - দমনমূলক আইন কখনো শান্তি আনে না; বরং প্রতিশোধ, ঘৃণা ও সংঘাতের নতুন চক্র তৈরি করে। একটি জনগোষ্ঠী যখন নিজেকে প্রতিনিয়ত লক্ষ্যবস্তু হিসেবে অনুভব করে, তখন তা গভীর মানবিক ক্ষত তৈরি করে - যার প্রতিধ্বনি প্রজন্মের পর প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভ-ামি ও লজ্জাজনক নীরবতা :
সবচেয়ে ঘৃণ্য ও হতাশাজনক হলো তথাকথিত 'মানবাধিকারের ফেরিওয়ালা' আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নির্লজ্জ নীরবতা। শক্তিশালী রাষ্ট্র যখন মানবাধিকার লঙ্ঘন করে, তখন জাতিসংঘ থেকে শুরু করে পশ্চিমা দেশগুলোর মুখে কুলুপ এঁটে যায়। একই ধরনের লঙ্ঘনে বিভিন্ন দেশের প্রতি ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া - এটি স্পষ্ট করে দেয় যে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাঠামো আজ শক্তিশালীদের স্বার্থরক্ষার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। মানবাধিকার যদি সবার জন্য সমান না হয়, তবে তা কেবল একটি ফাঁকা স্লোগান - যার আড়ালে জুলুম টিকে থাকে। বিশ^বিবেকের এই পচন ইতিহাসের পাতায় এক কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে।
কুরআন শরীফ উনার আলোকে আমাদের অবস্থান :
এই বাস্তবতায় মুসলিম উম্মাহর অবস্থান কী হবে- তার সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা পবিত্র কুরআন শরীফ উনাতেই রয়েছে। ইরশাদ মুবারক হয়েছেন, "তোমরা আমার শত্রু ও তোমাদের শত্রুদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না" (সূরা মুমতাহিনা শরীফ ৬০:১)। এখানে 'বন্ধু' মানে রাজনৈতিক নির্ভরতা, কৌশলগত আনুগত্য ও মানসিক সমর্থনও। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ রাসূলুল্লাহ ছলাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো জাতির অনুকরণ করে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত" (আবু দাউদ শরীফ)।
যে শক্তি প্রকাশ্যে নির্যাতন, দখল ও হত্যার আইন প্রণয়ন করে - তার সাথে "স্বাভাবিক সম্পর্ক" বজায় রাখা নৈতিক অপরাধ।
সন্ত্রাসী ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো সমস্ত মুসলমানের ঈমানী কর্তব্য। রাষ্ট্রের দায়িত্ব এটাকে নিন্দা জানানো ও প্রতিহত করার চেষ্টা করা।
শেষ কথা: নীরবতা কখনো নিরপেক্ষতা নয়
ইসরায়েলের এই রক্তপিপাসু আইন কার্যকর হলে তা কেবল ফিলিস্তিন নয়, সমগ্র অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। ইতিহাস সাক্ষী - যখনই মুসলিম উম্মাহ নিজের নীতি বিসর্জন দিয়েছে, তখনই অপমানিত হয়েছে; আর ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় থেকেছে, তখনই সম্মান অর্জন করেছে। আজ প্রয়োজন আবেগ নয়- সচেতন, নীতিনিষ্ঠ ও ঈমানভিত্তিক অবস্থান। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কণ্ঠ তোলা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়; এটি ঈমানের দাবি।
কারণ, ন্যায়বিচার তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হয় - গায়ের জোরের ওপর ভিত্তি করে নয়। আর নীরবতা কখনো নিরপেক্ষতা নয়- অনেক সময় তা জুলুমের নীরব সমর্থন।
-মুহম্মদ আরিফুল খবীর।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
‘ছবি’ ও ‘বেপর্দা’- বর্তমানে সমস্ত পাপ কাজের মূল উৎস
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
তেল আমদানিতে আমাদের যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়, এতে আমাদের রিজার্ভে চাপ পড়ে। সমস্যা কৃষকের সক্ষমতায় নয়, বরং নীতিগত অগ্রাধিকার ও বিনিয়োগের ঘাটতিতে।
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে ভারতীয় খপ্পরে বাংলাদেশ!
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নদীভাঙনে গত এক দশকে বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ মানুষ, নদী ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিন
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সরকার থেকে খাস বন্দোবস্তের ব্যবস্থা করা হলেও প্রভাবশালী দখলদারদের দাপটে ভূমির ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ভূমিহীনরা।
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আন্তর্জাতিক চুক্তিতে সক্ষমতা তৈরির জন্য সর্বোচ্চ যোগ্যতা সম্পন্ন ও যথেষ্ট সংখ্যক আমলা, কূটনৈতিক তৈরি ও প্রয়োগ করতে হবে।
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
“আঃলীগ আবার ক্ষমতায় আসলে কি করবে তার পরিকল্পনা ফাঁস আঃলীগ ক্ষমতায় আসলে সেনাবাহিনী বিলুপ্ত করে ভারতের সেনাবিাহিনীকে দেশ রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হবে।”
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সামরিক সম্পর্ক জোরদার হওয়া উভয় দেশের জন্যই কল্যাণকর
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মার্কিনীরা তাদের পতিত সরকারকেই নূতন করে তুলে ধরে অপেক্ষাকৃত বেশি লুটতরাজের শর্তে। নূতন করে মার্কিন গোয়েন্দাদের আনা-গোনা কি তারই আলামত!
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
এমপিদের জন্য ৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দের আইনী ও ব্যবহারিক প্রতিবন্ধকতা অনেক।
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সংসদে সরকারি ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওভেন এমনকী জানালার পর্দা চাইলো জামায়াত এমপি বিরোধী এমপিদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ ঘোষণা, স্পিকার বললেন ‘আমি কোনোদিন কানাকড়িও পাইনি’ সংসদ সদস্যরা ৫০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ পাবেন এমপিদের জন্য ৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দের আইনী ও ব্যবহারিক প্রতিবন্ধকতা অনেক। এমপিদের জন্য বরাদ্দ প্রদান সংবিধান পরিপন্থী সংসদে বসে সাংসদরাই সংবিধান বিরোধী কাজ এবং নিজস্ব ভোগ বিলাসে তথা লুটতরাজে মত্ত (২য় পর্ব)
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সংসদ সদস্যরা ৫০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ পাবেন এমপিদের জন্য ৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দের আইনী ও ব্যবহারিক প্রতিবন্ধকতা অনেক।।
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












