মন্তব্য কলাম
৭১ এ তারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলো ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধীতার নামে। তবে তারা ২০২৬- এ আমেরিকার আধিপত্যবাদী বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতায় নামছে না কেন? ভারত বাংলাদেশ চুক্তিকে তারা গোলামীর চুক্তি বলে কঠিন আওয়াজ তুলেছিলো!
, ০১ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৯ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৯ মে, ২০২৬ খ্রি:, ০৫ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) মন্তব্য কলাম
আজ আমেরিকার প্রকাশ্য গোলামী বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে তারা নীরব কেনো?
দেশ বিরোধী বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধীরাও নিস্ক্রিয় থেকে কঠিন বৈষম্য করছে।
বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের যেহেতু সুযোগ আছে সেহেতু অবিলম্বে এই চুক্তি বাদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সবার আগে বাংলাদেশ প্রমাণ করতে হবে ইনশাআল্লাহ।
(২য় পর্ব)
যুক্তরাষ্ট্রের ‘অফিস অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ’ (ইউএসটিআর)-এর দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী ব্রেন্ডান লিঞ্চ তিন দিনের সফরে গত (৫ মে) ঢাকায় এসেছে। তার এই সফরের মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সই হওয়া বাণিজ্য চুক্তির অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা।
বিএনপি সরকার গঠনের পর গত মার্চের শুরুতে ঢাকা সফরে এসেছিলো যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাপুর। এরপর এপ্রিলের মাঝামাঝিতে তিন দিনের সফরে ঢাকায় আসে মার্কিন বিশেষ দূত হার্ডার। এবার এসেছে দেশটির দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী ইউএসটিআর প্রতিনিধি ব্রেন্ডান।
এদিকে গতকাল ৮ই মে সিলেটের বাইশটিলা এলাকায় জেলা পরিষদ ন্যাচারাল পার্ক পরিদর্শন শেষে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে কথা বলে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে তা দুটি দেশের মধ্যে। এটা দুই ব্যক্তির কোনো চুক্তি নয়। দুটি রাষ্ট্র কোনো চুক্তি করলে তা ইচ্ছা-স্বাধীন পরিবর্তন করা যায় না। দুটি রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়। তবে চুক্তির বাস্তবায়নের সময় এমন কিছু যদি দেশের স্বার্থের অনুকূল নয়, এমন ধারা পরিলক্ষিত হয়- তা পরিবর্তনের সুযোগ চুক্তির মধ্যেই আছে।
শুক্রবার সকালে সিলেটের বাইশটিলা এলাকায় জেলা পরিষদ ন্যাচারাল পার্ক পরিদর্শন শেষে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
মূলত: গোটা দেশবাসী চাচ্ছে অবিলম্বে দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রীকারী এ চুক্তি বাতিল করা হোক। আর দেশবাসীর চুক্তি বিরোধী জোর মনোভাবের কারণেই মন্ত্রী কথা বলতে বাধ্য হয়েছে বলে অভিজ্ঞমহল মনে করছেন।
কারণ এ বাণিজ্যচুক্তি বাস্তবায়নে প্রকৃত প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের অনুকূলে বাংলাদেশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার পাশাপাশি শুল্ক, শ্রম আইন, ডিজিটাল নীতি, কৃষি, বিনিয়োগসহ নানা ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংস্কার করতে হবে। চুক্তিতে বাংলাদেশের সামগ্রিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো পুনর্বিন্যস্ত করার বাধ্যবাধকতার বিষয়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে বছরে গড়ে রপ্তানি করে ৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য, আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করে ২ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের পণ্য। এ ৪ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতা কীভাবে দূর করা যায়, এটি নিয়ে নিশ্চয় যৌক্তিক আলোচনার সুযোগ রয়েছে। সমস্যা এখানে নয়, সমস্যা হচ্ছে বাণিজ্যচুক্তির নামে বাংলাদেশের বিনিয়োগ, ডিজিটাল বাণিজ্য, শিল্প, কৃষি, জ্বালানি, প্রতিরক্ষাসহ বিস্তৃত ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যায় ও অন্যায্য হস্তক্ষেপ নিয়ে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দেশীয় উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানকে প্রদত্ত সুবিধা মার্কিন কোম্পানিকেও দিতে হবে; যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশকেও মেনে চলতে হবে, আমদানি করা মার্কিন কোনো পণ্যের গুণগত মান পরীক্ষা করা যাবে না; যুক্তরাষ্ট্র ব্যতিরেকে নতুন করে বাংলাদেশ অন্য কোনো দেশ থেকে পারমাণবিক প্রযুক্তি ক্রয় করতে পারবে না।
চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ এমন কোনো দেশ থেকে পারমাণবিক চুল্লি, জ্বালানি বা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কিনতে পারবে না, যা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচিত হবে। এ চুক্তি অনুযায়ী, আগে থেকে চালু চুল্লির ক্ষেত্রে সীমিত ছাড় পাওয়া গেলেও ভবিষ্যতে রাশিয়া বা চীন বা অন্য কোন মুসলিম দেশের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। চুক্তির ধারা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় গৃহীত সীমান্ত বা বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞামূলক ব্যবস্থার সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশকেও ‘পরিপূরক বিধিনিষেধের’ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এর অর্থ হচ্ছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অথবা বাণিজ্যিক যুদ্ধে বাংলাদেশকেও তার অনুরূপ অবস্থান গ্রহণ করতে হবে; কাফির-মুশরিকদের দ্বন্দ্ব-সংঘাতে বাংলাদেশ নিরপেক্ষ অবস্থান নিতে পারবে না। ‘কিছু নির্দিষ্ট দেশ’ থেকে বাংলাদেশকে সামরিক সরঞ্জাম কেনাকাটা কমাতে হবে, যা আসলে চীনের দিকেই ইঙ্গিত করে।
বিদ্যমান এ চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি দামে গম-আটা, সয়াবিন তেল ইত্যাদি নানা নিত্যপণ্য কিনতে হবে। চুক্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাণিজ্য আরও ‘সহজ ও বিস্তৃত’ করার কথা বলা হয়েছে। মার্কিন শুল্ক ৩৫ থেকে ১৯ শতাংশে নেমে এলেও তাতে আমাদের তেমন কোনো লাভ হয়নি; উলটো নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, শুল্ক কমলেও আমাদের রপ্তানি বাড়েনি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ চুক্তিতে বাস্তবে আমাদের প্রাপ্তির চেয়ে বঞ্চনা অনেক বেশি। এ ধরনের একতরফা চুক্তি কেবল আমাদের আরও বাণিজ্যিক বৈষম্যের দিকেই ঠেলে দেবে।
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
“বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে ১৪০টির বেশি দেশে”- গত পরশু (৮ই জুন) এই বিবৃতি দেয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী ভেবে দেখবেন মার্কিনীদের সাথে করা গোলামী চুক্তিতে তার এই উচ্ছাস পুরোটাই গভীর এবং চরম-পরম উৎকণ্ঠায় পর্যবসিত হয়েছে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের জন্যও মহা ধ্বংস প্রক্রিয়া বাংলাদেশের ৫১ কোটি নাগরিকের নিরাপত্তা নির্মূলীকরণ প্রক্রিয়া। মহা আত্মঘাতী, সর্বনাশী, দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রিকারী এ চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে (২য় পর্ব)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বাংলাদেশের মহাকাশ প্রতিরক্ষা কৌশল: ৫০ লক্ষাধিক বহরের সমন্বিত বাহিনীর জন্য কৃত্রিম উপগ্রহ প্রযুক্তির রূপরেখা (পর্ব-৪)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১১)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বর্তমান জ্বালানী সংকটে অনেক দেশই এখন কয়লার দিকে ঝুকছে। কয়লার উপর নির্ভরতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। দেশে বিপুল পরিমাণ কয়লার মজুদ থাকার পরও রহস্যজনকভাবে তা উত্তোলনে আগ্রহ নেই সরকারের। ৭ হাজার ৮০০ মিলিয়ন টন কয়লা মজুদের দেশে কয়লার ঘাটতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ কেন?
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা: ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১০)
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৯)
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম মিয়াজাকি, পুষ্টিগুণেও ভরপুর
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
“বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে ১৪০টির বেশি দেশে”- গত পরশু (৮ই জুন) এই বিবৃতি দেয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী ভেবে দেখবেন মার্কিনীদের সাথে করা গোলামী চুক্তিতে তার এই উচ্ছাস পুরোটাই গভীর এবং চরম-পরম উৎকণ্ঠায় পর্যবসিত হয়েছে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের জন্যও মহা ধ্বংস প্রক্রিয়া বাংলাদেশের ৫১ কোটি নাগরিকের নিরাপত্তা নির্মূলীকরণ প্রক্রিয়া। মহা আত্মঘাতী, সর্বনাশী, দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রিকারী এ চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে (১ম পর্ব)
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
শুধু একটি মৃত্যুর খবর, নাকি একটি সমাজের ভবিষ্যৎ?
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সস্তা জনপ্রিয়তার বিপরীতে সস্তা জনরোষের পথেই কী হাটতে চায় সরকার? মাত্র ১০/১৫ হাজার কোটি টাকার জন্য ওয়াদা খেলাফ করে বিদ্যুতের দাম আবার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির আগুনে আরো ঘি ঢালছে সরকার। জনভোগান্তির জুলুম থেকে সরে আসতে হবে সরকারকে।
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৮)
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
১৯৯০ সালে কাঁচা চামড়া রফতানীর নিষিদ্ধ করণের প্রেক্ষাপট বর্তমানে নেই। এ মুহুর্তে কাঁচা চামড়া রফতানীর অনুমোদন বর্তমান সংকটকে অনেকটাই কমাতে পারে।
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












