মার্কিনীদের তল্পীবাহক দৈনিক পত্রিকাটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে রিপোর্ট করেছে, “রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে ইউনুসই প্রেসিডেন্ট পদে উপযুক্ত।” এই সব রাজনীতিক বিশ্লেষকদের নাম কী? তা উল্লেখ করেনি কেন? অন্ধ, বধির, বোবা কুশীল- এসব লোক কী ইউনুসের আমলনামা ভূলে গেছে? বিএনপির নেতা কর্মী বর্তমান উপদেষ্টা মন্ত্রীরা-এমপিরাও,
সুদী মহাজন ও বড় চোর, সমকামীমনা, ১৬৮ মামলার আসামী, দেশ বিক্রিকারী মার্কিন চুক্তিকারী, ক্ষমতার মসনদে বসে অর্থ লুটকারী, অন্যায় সুবিধা গ্রহণকারী, পাহাড় সম অপরাধ মব-সন্ত্রাসের জনক কুখ্যাত ইউনুসের প্রতি ভীষণ বীতশ্রদ্ধ।
এই কুলাঙ্গার আবারো ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে, রাষ্টের শীর্ষ পদে তথা প্রেসিডেন্ট পদে আলোচনায় আসে কি করে? নেপথ্যে কি মার্কিন দূত গর? অথচ “ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়”- বিএনপির শ্লোগান শুধু বিএনপিই নয় তাই গোটা দেশবাসীর কাছে ধিকৃত, নিন্দিত, ঘৃণীত ইউনুস যেনো কোন ক্ষমতাধর ব্যক্তির একক ইচ্ছায় প্রেসিডেন্ট না হয়। (৪র্থ পর্ব)
, ২০ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৫ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৪ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২০ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) মন্তব্য কলাম
(১)
দীর্ঘ আলোচনার পর রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করেছে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি। ১লা আগস্ট শনিবার রাতে গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়।
কিন্তু এতে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ। তারা আক্ষেপ করে বলেছেন, তাহলে স্থায়ী কমিটির মতামতের অবকাশ থাকলো কৈ?
তাহলে দলের মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা হল কীভাবে? একক ব্যক্তি বিবেচনা ভূল হলে সংশোধন করবে কে?
ইউনুসের প্রতি তার দুর্বলতা থাকলে ঠেকাবে কে?
বোঝাবে কে?
দেশ জাতির অপূর্ণনীয় ও অকল্পনীয় ক্ষতি সামলাবে কে?
(২)
কুখ্যাত ইউনুসের যতসব কুকীর্তি
(পূর্ব প্রকাশের পর)
কুখ্যাত ইউনুসের এতসব প্রতারণার পরও যদি সে প্রেসিডেন্ট হয় তাহলে এরপরের প্রতারণা কত প্রকট হবে? দেশ জাতি কী মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হবে?
ইউনূস বাংলাদেশে মব সন্ত্রাসকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। তার আমলে এটা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছিল যে, ক্ষমতার জোরে অন্যের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করা যায়। ইউনূস বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী মব বাহিনী উপহার দিয়েছে। যারা আইনের ঊর্ধ্বে, বিচারের বাইরে, তারা যা বলবে সবাই তা মানতে বাধ্য। এরা যদি বলে পরীক্ষা হবে না, তাহলে পরীক্ষা বন্ধ করতেই হবে। এরা যদি বলতো কাউকে গ্রেপ্তার করতে হবে, তাকে গ্রেপ্তার না করলে পুলিশের চাকরি যেতো। এরা যদি বলে কাউকে জেল থেকে মুক্তি দিতে হবে, তাহলে আইন-কানুন যাই থাকুক, তাদের ছেড়ে দিতেই হবে, নইলে দেশে তুলকালাম হবে। এদের কথাই ছিলো আইন। এরাই ছিলো দেশের মালিক। জনগণ ক্রীতদাস।
ইউনূস বলেছিলো, অর্থনীতি চাঙ্গা করবে। বিদেশ থেকে নিজের লোকদের উড়িয়ে এনে বসিয়েছিলো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে। স্যুট-টাই পরা এসব প্রবাসীরা বিদেশি পাসপোর্ট নিয়ে দেশে এসে হৈচৈ করলো। বাংলাদেশ নাকি সিঙ্গাপুর হয়ে যাবে খুব তাড়াতাড়ি। সাধারণ মানুষরা তো আনন্দে আত্মহারা। কিন্তু একি-কদিন পর দেখা গেল বাংলাদেশ উত্তর কোরিয়ারও নিচে। পরে জানা গেল, এরা সবাই বিদেশি দালাল, বিদেশি নানা কম্পানির এজেন্ট। এরা এসে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সবকিছু বিক্রি করার তোড়জোড় শুরু করল। ইউনূস বললো, এভাবেই তো দেশ এগুবে। নানা কেনাকাটার ধুম পড়ল। কিন্তু কোনোটাই দেশের মানুষের স্বার্থে নয়।
ইউনূস দেখলো, বেসরকারি খাতকে যদি ধ্বংস না করা যায় তাহলে বিদেশি কম্পানির কাছে গ্যাস, সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর ইত্যাদি বিক্রি হবে কিভাবে। এ জন্য তিনি বেসরকারি খাতের কোমর ভাঙার কাজ শুরু করলেন। বেসরকারি উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক হত্যা মামলা দায়ের করা শুরু হলো। মব বাহিনী শিল্পকারখানায় নির্বিচারে লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগ করতে লাগল। সরকার দূর থেকে তামাশা দেখতে থাকল। ব্যবসায়ীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করে হয়রানি করা হলো। শিল্পকারখানায় গ্যাস, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলো। বেসরকারি উদ্যোক্তারা হতাশায় হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকাই নিরাপদ মনে করলো। বন্ধ হলো বহু কারখানা, নতুন করে বেকার হলো দেড় কোটি মানুষ। দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেল আরো দুই কোটি মানুষ।
গত ১৮ মাসে ইউনূস দেশের অর্থনীতি ফোকলা করে ফেলেছে। ২ কোটি বেকার আর ৫ কোটি চরম দরিদ্র মানুষ সৃষ্টি করেছে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এটাই তার জাতিকে উপহার।
ইউনূস ১৮ মাসে দেশের শিক্ষার পরিবেশকে ধ্বংসের কিনারায় নিয়ে গেছে, দেশের শিক্ষাঙ্গনে স্বাভাবিক পরিবেশ নেই। কথায় কথায় মারামারি, ক্লাস বন্ধ, অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। শিক্ষার্থীরা ক্লাস না করে রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন করছে। এসব নিয়ে ড. ইউনুসের না ছিল উদ্বেগ, না ছিল শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান। প্রতিটি ভাষণে শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে বরং তিনি এসব প্রশ্রয় দিয়েছেন।
২০২৩ সালে বিদেশি বিনিয়োগ ছিল ২১১ কোটি ডলার, ২৫ সালে সেটি ১৪০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে, ২৪ এর শেষভাগে অবস্থা ছিল আরও খারাপ, মাত্র ৭৭ কোটি ডলার। এমনকি তথাকথিত মহামারীর সময়েও এরচেয়ে বেশি বিদেশি বিনেয়োগ বাংলাদেশে ঢুকেছে। বিনিয়োগের এই অধোগতির সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির গভীর সম্পর্ক আছে। কিন্তু আশিক চৌধুরীর নেতৃত্বে বিনিয়োগ বোর্ড সেটা স্বীকার করেননি। বিজিএমইএ বলছে, ইউনুস আমলে শুধু পোশাক শিল্প ১৫ লাখ মানুষ চাকুরি হারিয়েছে।
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুসলমানকে ‘মুসলমানিত্ব’ বুঝতে হবে। ‘আশহাদু আন্না মুহম্মাদার রসূলুল্লাহ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাক্বীক্বীভাবে বলতে হবে ও আমলে আনতে হবে।
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতি বছর শুধু অসুস্থতার কারণে প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রধানমন্ত্রী নিজেই ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেয়া শুরু করেছেন। বাতিল হয়েছে ‘রাষ্ট্রপতির’ সাথে ‘মহামান্য’ শব্দ ব্যবহারও।
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের সামরিক ব্যয় গত দশকগুলোতে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি মূলত বেতন, স্থায়ী খরচ এবং চলমান পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়েছে। তবে সামরিক আধুনিকায়ন, সমরাস্ত্র ক্রয় এবং নতুন প্রযুক্তি সংযোজনের জন্য মোট বাজেটের মাত্র ২-৪ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ্র পরিক্রমায় চললেই সে প্রজ্ঞা পাওয়া সম্ভব ইনশাআল্লাহ
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!!!!
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সরকারের ঋণের পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ কোটি টাকা
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
তবে কি সাবেক সরকারের অসমাপ্ত ষড়যন্ত্রের সমাপনীর পথেই হাঁটতে চাইছে বর্তমান সরকার?
০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুসলিম দেশগুলোর উচিৎ মক্কা চুক্তিকে আরো বিশুদ্ধ ও বিস্তৃত করা যাতে ভারতের গোস্বা এত বাড়ে যে তাদের গোস্বার অনলেই তারা জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












