যুদ্ধের আগেই প্রস্তুতি
বাংলাদেশের সামরিক কৌশল বাড়ানো উচিত
, ১৮ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৩ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০২ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ১৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মন্তব্য কলাম
বিশ্ব রাজনীতির আকাশে আজ অস্থিরতার কালো মেঘ। একবিংশ শতাব্দীর যুদ্ধ আর শুধু ট্যাংক, কামান কিংবা যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষে সীমাবদ্ধ নয়; এটি এখন সাইবার হামলা, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্যাটেলাইট নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য এবং অর্থনৈতিক চাপের সমন্বয়ে পরিচালিত এক বহুমাত্রিক লড়াই। এমন বাস্তবতায় সামরিক শক্তি কোনো যুদ্ধপ্রীতি নয়, বরং শান্তি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পূর্বশর্ত। বাংলাদেশ যদি ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে চায়, তবে এখনই দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা কৌশল নিয়ে ভাবতে হবে।
শুধু খেলাধুলা নয়, জাতীয় প্রস্তুতিও জরুরি:
স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সহশিক্ষা কার্যক্রমের নামে খেলাধুলাকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। অথচ খেলাধুলায় না রয়েছে ইহলৌকিক ফায়দা, না রয়েছে পরলৌকিক ফায়দা। অতএব এই খেলাধুলা সম্পূর্ণ বর্জন করতে হবে। এখন প্রশ্ন হলো, রাষ্ট্র যখন বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে, তখন তরুণদের কি কেবল মাঠের জন্য প্রস্তুত করা হবে, নাকি প্রয়োজনে দেশের জন্যও প্রস্তুত করতে হবে?
বিশ্বের অনেক দেশ শিক্ষার্থীদের নাগরিক প্রতিরক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং মৌলিক সামরিক প্রশিক্ষণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে।
রাশিয়া (২০২২-বর্তমান):
ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতার পর রাশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স্বদেশের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার মৌলিক শিক্ষা পাঠ্যক্রমকে আধুনিকায়ন করেছে। এতে ড্রোন পরিচালনা, যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাথমিক চিকিৎসা, নাগরিক প্রতিরক্ষা, অস্ত্র সম্পর্কে মৌলিক ধারণা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রাশিয়ার যুক্তি স্পষ্ট-আধুনিক যুদ্ধে শুধু সেনাবাহিনী নয়, সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুত নাগরিকও প্রয়োজন।
চীন (২০০১, সংশোধিত ২০২৪)
চীনের জাতীয় প্রতিরক্ষা শিক্ষা আইন ২০০১ সালে প্রণীত হয় এবং ২০২৪ সালে আরও যুগোপযোগী করে সংশোধন করা হয়। বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক, কলেজ ও বিশ^বিদ্যালয়ে সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি নি¤œ মাধ্যমিক স্তরেও জাতীয় প্রতিরক্ষা শিক্ষার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। চীনের বিশ^াস, শক্তিশালী সেনাবাহিনী গড়ার আগে জাতীয় নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন নাগরিক গড়ে তুলতে হবে।
ইরান (১৯৭৯-বর্তমান):
১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বাসিজ কাঠামোর মাধ্যমে স্কুল ও বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সামরিক শৃঙ্খলা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা চেতনায় সম্পৃক্ত করা হয়। ইরান এটিকে শুধু সামরিক কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ববোধ ও জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার একটি সামাজিক কাঠামো হিসেবে বিবেচনা করে।
তবে বাংলাদেশ ভূ রাজনৈতিক স্পর্শকাতর অঞ্চলে থেকেও কেন সামরিক প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা মনোযোগ দিবেনা।
শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বিলাসিতা নয়:
স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পার হলেও বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এখনও আধুনিকায়নের অনেক সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিমান প্রতিরক্ষা, দূরপাল্লার নজরদারি, উন্নত রাডার ব্যবস্থা, ড্রোন প্রযুক্তি এবং উপকূলীয় নিরাপত্তায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রয়োজন।
প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানো মানেই শুধু অস্ত্র কেনা নয়। এর অর্থ গবেষণায় বিনিয়োগ, প্রযুক্তি উন্নয়ন, দক্ষ জনবল তৈরি এবং ভবিষ্যতের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। নিরাপত্তা ব্যয়কে খরচ হিসেবে নয়, রাষ্ট্রের অস্তিত্ব রক্ষার বিনিয়োগ হিসেবে দেখার সময় এসেছে।
অস্ত্র কেনার চেয়ে অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ:
যে রাষ্ট্র প্রতিটি সামরিক সরঞ্জামের জন্য বিদেশের দিকে তাকিয়ে থাকে, সংকটের সময় তার স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও সীমিত হয়ে যায়। তাই ধীরে ধীরে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলা, সামরিক গবেষণা বাড়ানো এবং প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনে বিনিয়োগ করা এখন আর বিলাসিতা নয়; এটি কৌশলগত প্রয়োজন। আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা শিল্প শুধু নিরাপত্তাই নয়, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানেও নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে।
তথ্যযুদ্ধে জিততে হলে গোয়েন্দা সক্ষমতা বাড়াতে হবে:
আধুনিক যুদ্ধের প্রথম গুলি অনেক সময় সীমান্তে নয়, তথ্যের জগতে ছোড়া হয়। আগাম তথ্য, কৌশলগত বিশ্লেষণ এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন ছাড়া কোনো রাষ্ট্রই দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ থাকতে পারে না।
বাংলাদেশের বিদ্যমান গোয়েন্দা সংস্থাগুলো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে। তবে বৈদেশিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণ এবং হাইব্রিড যুদ্ধ মোকাবিলায় আরও বিশেষায়িত সক্ষমতা গড়ে তোলা নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বসহকারে ভাবার সময় এসেছে। কারণ যুদ্ধক্ষেত্রে অনেক সময় অস্ত্রের চেয়ে তথ্যই বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
প্রস্তুতিই শান্তির সবচেয়ে বড় নিশ্চয়তা:
ইতিহাস বলে, দুর্বল রাষ্ট্র কখনো শান্তির নিশ্চয়তা পায় না; বরং প্রস্তুত রাষ্ট্রই সংঘাত এড়ানোর সক্ষমতা অর্জন করে। তাই বাংলাদেশের প্রয়োজন এমন একটি প্রতিরক্ষা নীতি, যেখানে আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা, প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ, শক্তিশালী গোয়েন্দা বিশ্লেষণ এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প একসঙ্গে এগিয়ে যাবে।
যুদ্ধের আকাক্সক্ষা নয়, যুদ্ধ ঠেকানোর সক্ষমতাই হওয়া উচিত বাংলাদেশের লক্ষ্য। কারণ একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি যুদ্ধ শুরু করার ক্ষমতায় নয়, বরং যুদ্ধ প্রতিরোধ করার প্রস্তুতিতে।
-ফিয়াদ নওশাদ ইয়ামিন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বিএনপির নেতা কর্মী বর্তমান উপদেষ্টা মন্ত্রীরা-এমপিরাও, সুদী মহাজন ও বড় চোর, সমকামীমনা, ১২৬ মামলার আসামী, দেশ বিক্রিকারী মার্কিন চুক্তিকারী, ক্ষমতার মসনদে বসে অর্থ লুটকারী, অন্যায় সুবিধা গ্রহণকারী, পাহাড় সম অপরাধ মব-সন্ত্রাসের জনক কুখ্যাত ইউনুসের প্রতি ভীষণ বীতশ্রদ্ধ।
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
এই কুলাঙ্গার আবারো ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে, রাষ্টের শীর্ষ পদে তথা প্রেসিডেন্ট পদে আলোচনায় আসে কি করে? নেপথ্যে কি মার্কিন দূত গর? অথচ “ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়”- বিএনপির শ্লোগান
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আম্রিকা, চীন, ভারত, রাশিয়া সবার নজর বাংলাদেশের দিকে।
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নতুন নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের অজুহাতে চলছে শোষণ প্রকল্প।
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর দ্বীনদার ব্যক্তির জন্য দ্বীন ইসলামই সবচেয়ে বড়
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইহুদীরাই আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট বানায়, নামায় তথা আমেরিকা চালায়।
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘ছবি’ ও ‘বেপর্দা’- বর্তমানে সমস্ত পাপ কাজের মূল উৎস
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
তেল আমদানিতে আমাদের যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়, এতে আমাদের রিজার্ভে চাপ পড়ে। সমস্যা কৃষকের সক্ষমতায় নয়, বরং নীতিগত অগ্রাধিকার ও বিনিয়োগের ঘাটতিতে।
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে ভারতীয় খপ্পরে বাংলাদেশ!
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নদীভাঙনে গত এক দশকে বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ মানুষ, নদী ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিন
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সরকার থেকে খাস বন্দোবস্তের ব্যবস্থা করা হলেও প্রভাবশালী দখলদারদের দাপটে ভূমির ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ভূমিহীনরা।
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আন্তর্জাতিক চুক্তিতে সক্ষমতা তৈরির জন্য সর্বোচ্চ যোগ্যতা সম্পন্ন ও যথেষ্ট সংখ্যক আমলা, কূটনৈতিক তৈরি ও প্রয়োগ করতে হবে।
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












