ভারতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসনে ভেঙ্গে যাচ্ছে সামাজিক শৃঙ্খল;
পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে ভারতীয় খপ্পরে বাংলাদেশ!
ভারতীয় এই অপসংস্কৃতির আগ্রাসন থেকে দেশ ও জাতিকে বাঁচাতে হলে চর্চা করতে হবে সম্মানিত ইসলামী তাহযীব-তামাদ্দুন।
, ১১ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৭ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৬ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ১১ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মন্তব্য কলাম
বর্তমানে বাংলাদেশে সামাজিক অবক্ষয় এবং নৈতিকতা ভূলুন্ঠিত হওয়ার অন্যতম কারণ হলো এই ভারতীয় টিভি সিরিয়াল। ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলোতে প্রচারিত নাটক সিনেমার আসল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে- অনৈতিকতা, অশ্লীলতা, কুটনামি, অপরাধ, খুন, সম্ভ্রমহরণ ইত্যাদি শিক্ষা প্রদান। প্রায় সব সিরিয়ালের মধ্যে থাকে কীভাবে পরকীয়া করা যায় তার বাস্তব প্রশিক্ষণ। পরকীয়ার অশ্লীল যত কাহিনী সব আছে ঐসব সিরিয়ালে। ভারতীয় টিভি সিরিয়াল এদেশে আসার পূর্বে এদেশের বেশিরভাগ মহিলা বোরকা পরিধান করতো। কিন্তু এই ভারতীয় টিভি সিরিয়াল নামক ভাইরাসগুলো এদেশে আমদানির পর থেকে বাঙালি মুসলিম মা-বোনদের শালীন পোশাক তথা পর্দার প্রতি অনীহা চলে এসেছে, তাদের পোশাক পরিচ্ছদে ধীরে ধীরে সুতার ঘনত্ব কমে যাচ্ছে, জামা সংক্ষিপ্ত হতে হতে কটি ছুঁয়েছে। দিনদিন সেঁটে যাচ্ছে ত্বকের সঙ্গে। জিন্স, টি-শার্ট, ফতুয়ার মতো খর্বাকৃতির পোশাকও অবলীলায় চড়েছে তাদের গায়। আর বাঙালি মুসলিম ছেলেরা ছেড়েছে ধর্মীয় নীতি, জাতীয় সংস্কৃতি, সামাজিক বৈশিষ্ট্য ও পারিবারিক ঐতিহ্য। তারা এখন পরিধান করছে ছেঁড়া গেঞ্জি, থ্রি কোয়ার্টার, চুল হয়েছে ইঁদুরের কাটা, থুতনিতে মরা নদী সদৃশ্য দাড়ির উদ্ভট চিহ্ন। আর হালে পিঠ কুঁজো করে হাঁটার স্টাইল একনজরে তাদেরকে সভ্য মানুষ থেকে বানরের কাছাকাছি কিছু একটায় রূপান্তরিত করে ফেলছে।
সেইসাথে মাতৃভাষার সঙ্গে ইংরেজি-ও হিন্দির উচ্চারণভঙ্গি এবং দেদারসে ইংলিশ ও হিন্দি ওয়ার্ডের এলোপাথাড়ি ব্যবহার আজকালের ছেলেমেয়েদের অভ্যাসে রূপ নিয়েছে- যা হিন্দি ছবিরই নির্ঘাত কুপ্রভাব। আজকাল বাঙালি মুসলিম তরুণ-তরুণীদের সম্বোধনের ক্ষেত্রেও অমুকদা, তমুকদা-এর ব্যবহার বেশ শোনা যাচ্ছে। বিয়েবাড়ির সাজ, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা, বিয়ে পরবর্তী সংবর্ধনা সবকিছু হিন্দি আদলে হয়ে যাচ্ছে। ঘাস দুর্বা ঘুরিয়ে আশির্বাদ, সঙ্গে মঙ্গলপ্রদীপও! দুলাভাইকে ‘জিজু’ আর ভাবীকে ‘বৌদি’ ডাকতে শোনা যাচ্ছে অহরহ। সালামের জায়গায় আদাব, নমস্কার; এমনকি দু’হাত তুলে মোনাজাতের পরিবর্তে দু’হাত জোড় করে প্রার্থনার মহড়া ও প্রশিক্ষণও ভারতীয় সিরিয়ালগুলো আমাদের এ প্রজন্মের তারুণ্যকে শেখানোর চেষ্টা করছে। যা একটি ভয়ঙ্কর দুরভিসন্ধিমূলক আচরণ।
ভারতীয় এসব চ্যানেল যা আমাদের দেশের বাঙালি মুসলিম পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক স্বচ্ছতা বিনষ্ট করে যাচ্ছে প্রতি মুহূর্তে। বিশেষত নাইন-এক্সএম চ্যানেল জুড়ে ২৪ ঘণ্টা প্রদর্শিত হিন্দি সিনেমার গানের ধরন, বাচন, অশ্লীল পোশাকের নাচ আর সীমাহীন নগ্নতা যুবচরিত্রে বিষবাষ্প মেখে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। ‘জিং’ চ্যানেলটি ভারতীয় নায়ক-নায়িকাদের আপত্তিকর স্টাইল-ফ্যাশনের আর চারিত্রিক খারাপ দিকগুলো সচিত্র সংবাদ বিশ্লেষণ দেখিয়ে যাচ্ছে রাতদিন। যা আমাদের উঠতি তারুণ্যকে প্রভাবিত করছে মারাত্মকভাবে।
ভারতীয় টিভি সিরিয়ালের আরেকটি ভয়ঙ্কর কুফল হলো দেশে মারাত্মকভাবে কিশোর অপরাধী তৈরি হচ্ছে। একসময় যে কিশোররা বয়সে বড়দের সালাম দিতো সেই কিশোররা এখন জড়িয়ে পড়ছে খুন, শ্লীলতাহানি, মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন ইত্যাদির সাথে। আর বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে মুখ্য কারণ হলো ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলো।
ভারতীয় টিভি সিরিয়ালগুলোর মৌলিক বিষয়বস্তুগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পূজা। সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্ব, পরকীয়া বা যা কিছু নিয়েই দ্বন্দ্ব, প্রতিযোগিতা বা প্রতিহিংসা যখন চরম পরিণতির দিকে যায়, তখন পূজা করলে তার সমাধান হয়ে যায়। নাউযুবিল্লাহ! পূজাই তথাকথিত সত্যের উপর অবিচল থাকা নায়ক বা নায়িকার শেষ আশ্রয়স্থল। নাউযুবিল্লাহ! ভারতের বাংলা বা হিন্দি সিরিয়ালগুলোতে সেটাই দেখা যায়। চরম সমস্যাসঙ্কুল পরিস্থিতিতে যখন কেউই তার পক্ষে নেই বলে মনে হয়, তখন দেখা যায় যে, সংক্ষুব্ধ নায়ক, নায়িকা বা সংশ্লিষ্ট চরিত্রের ব্যক্তি দেবীদুর্গার কাছে, কখনো কালির কাছে, কখনো স্বরসতীর কাছে, কখনো গণেশ, আবার কখনো রাম বা অন্য কোনো দেবতার মন্দিরে মূর্তির কাছে কান্নাকাটি করছে। দেবতার কাছে পূজা দিচ্ছে, তার কাছেই সব সমস্যার সমাধান খুঁজছে। শেষ পর্যন্ত সমাধানও তাদের দেবতার কাছে গিয়েই হচ্ছে বলে কাহিনীতে দেখানো হয়। একটা বিষয় খুবই লক্ষণীয় যে, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর ধরে চলা মেগা সিরিয়ালের কাহিনী, কথোপকথন এবং ঘটনা পরম্পরায় যখন যে পূজা তখন সেখানে গিয়ে আবর্তিত হয়। সিরিয়ালের ষড়যন্ত্রকারী, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম বিদ্বেষী, কাহিনীকার, পরিচালক, প্রযোজক পূজার পর্বগুলো এমনভাবে সাজায়, যেন কাহিনী এই পূজা উপলক্ষে সবেমাত্রই লেখা হয়েছে। সিরিয়ালের শেষ মীমাংসাও হয় পূজায়। বাস্তবে কৌশলে সিরিয়ালগুলোতে তারা তাদের হিন্দু ধর্মটাকেই প্রচার ও প্রতিষ্ঠিত করছে। পূজাকেই সর্বোচ্চ মর্যাদা দিচ্ছে সিরিয়ালগুলোতে।
বলতে হয়, বর্তমান যুগ আকাশ সংস্কৃতির যুগ। এই সংস্কৃতি এখন স্যাটেলাইটের সাহায্যে ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র। এর মধ্যে ভারত আমাদের কাছের দেশ হওয়াতে তাদের অপসংস্কৃতি আমাদের সমাজে ছড়িয়ে পড়ছে। এককথায় আমাদের পারিবারিক বন্ধন ছিন্নের ব্যবস্থা করে, সামাজিক চরিত্র বিনষ্টের আয়োজন করে, জাতীয় সংস্কৃতির আমূল বিকৃতির পরিকল্পনা প্রায় শেষ করে ধীরে ধীরে এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিককে ধর্মীয় বিশ্বাস ও রীতি-নীতি ধ্বংসেরও সেøা-পয়জনিং শুরু হয়ে গেছে ইতোমধ্যেই। এই ধারাবাহিকতা এভাবেই অবাধে চলতে থাকলে নিকট ভবিষ্যতে রাস্তাঘাটে, শপিংমলে, বাসে-ট্রেনে তরুণ-তরুণীদের অসামাজিক আচরণ বা নির্লজ্জতার প্রদর্শনীও মানুষের গা সওয়া হয়ে যাবে। লিভ টুগেদারের মতো ঘৃণ্য পাপাচারও হয়ে যাবে সামাজিকভাবে স্বীকৃত এবং মানুষের চোখে স্বাভাবিক। অবশ্য এক্ষেত্রে মানুষ আর মানুষ থাকবে না। পশুর সমাজে তো সবই স্বাভাবিক হতে পারে, মানব সমাজে নয়।
তাই আমরা মনে করি, সরকারের উচিত সবার আগে দেশের স্বার্থ এবং দেশের জনগণের স্বার্থ বিবেচনা করা। বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র। বাংলাদেশের ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলিম। সে হিসেবে এই দেশে এই অশ্লীলতার ভাইরাস ভারতীয় টিভি সিরিয়ালগুলো কোনোক্রমেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ভারতীয় টিভি সিরিয়াল নিষিদ্ধ করে দেশকে সামাজিক অবক্ষয়, বেহায়া-বেলেল্লাপনা, শ্লীলতাহানী মুক্ত করবে এটাই দেশের ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী ক্ষমতাসীন সরকারের কাছ থেকে আশা করে।
-মুহম্মদ আশরাফুল আলম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুসলমানকে ‘মুসলমানিত্ব’ বুঝতে হবে। ‘আশহাদু আন্না মুহম্মাদার রসূলুল্লাহ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাক্বীক্বীভাবে বলতে হবে ও আমলে আনতে হবে।
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতি বছর শুধু অসুস্থতার কারণে প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রধানমন্ত্রী নিজেই ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেয়া শুরু করেছেন। বাতিল হয়েছে ‘রাষ্ট্রপতির’ সাথে ‘মহামান্য’ শব্দ ব্যবহারও।
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের সামরিক ব্যয় গত দশকগুলোতে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি মূলত বেতন, স্থায়ী খরচ এবং চলমান পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়েছে। তবে সামরিক আধুনিকায়ন, সমরাস্ত্র ক্রয় এবং নতুন প্রযুক্তি সংযোজনের জন্য মোট বাজেটের মাত্র ২-৪ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ্র পরিক্রমায় চললেই সে প্রজ্ঞা পাওয়া সম্ভব ইনশাআল্লাহ
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!!!!
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সরকারের ঋণের পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ কোটি টাকা
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
তবে কি সাবেক সরকারের অসমাপ্ত ষড়যন্ত্রের সমাপনীর পথেই হাঁটতে চাইছে বর্তমান সরকার?
০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুসলিম দেশগুলোর উচিৎ মক্কা চুক্তিকে আরো বিশুদ্ধ ও বিস্তৃত করা যাতে ভারতের গোস্বা এত বাড়ে যে তাদের গোস্বার অনলেই তারা জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












