স্থাপত্য-নিদর্শন
স্থাপত্যশৈলীর অন্যতম নিদর্শন ঐতিহাসিক চন্দনপুরা তাজ মসজিদ (২)
, ০৪ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৩ ছানী, ১৩৯২ শামসী সন , ১১ জুলাই, ২০২৪ খ্রি:, ২৭ আষাঢ়, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) স্থাপত্য নিদর্শন
চট্টগ্রাম নগরীর সিরাজউদ্দৌলা সড়কের পশ্চিম পাশে মুঘল স্থাপনাশিল্পের আদলে ১৮৭০ খৃ: মাটি ও চুন-সুড়কির দেয়াল আর টিনের ছাদের মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন আবদুল হামিদ মাস্টার। তখনো মাটির দেয়ালে কারুকাজে ভরপুর ছিল। তার বংশধর তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের ঠিকাদার আবু সাইয়্যিদ দোভাষ ১৯৪৬ খৃ: এই মসজিদের সংস্কারকাজে হাত দেন। মসজিদের কারিগর ও নির্মাণসামগ্রী বিভিন্ন দেশ থেকে আনা হয়। এতে প্রায় ৫ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়। চারপাশের দেয়ালগুলোতে অবাধে বাতাস চলাচলের জন্য ছোট ছোট জানালার মতো রয়েছে এই ঐতিহাসিক মসজিদটিতে। এই দেয়ালগুলোর চারপাশের উপরের দিকে অবস্থিত ছোট ছোট জানালাগুলো দিয়েই দেয়ালের ফাঁক গলে ঢুকছে আলো। আলোর ঝরনাধারায় ভেতরটা করছে ঝলমল। আছে বাতাসের কোমল পরশ। ব্রিটিশ আমলে শুরু হয়ে পাকিস্থান আমলে ১৯৫০ খৃ: দিকে মসজিদের প্রথম সংস্কারকাজ সমাপ্ত হয়।
অনেকের কাছে এ মসজিদটি চন্দনপুরা বড় মসজিদ বা তাজ মসজিদ নামেও পরিচিত। এখন মসজিদটির বয়স ১৫৪ বছর। চট্টগ্রামের পর্যটনশিল্পের পরিচয় তুলে ধরতে মসজিদটির ছবি ব্যবহার করা হয় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রকাশনায়। এসব প্রকাশনায় এ মসজিদের ছবি থাকায় বিদেশ থেকে পর্যটকরাও আসেন এখানে।
এ মসজিদে রয়েছে ছোট-বড় ১৫টি গম্বুজ। এর মধ্যে বড় গম্বুজটি নির্মাণ করতে প্রায় ১৩ মণ রুপা ও পিতলের প্রয়োজন হয়েছিল। প্রতিটি গম্বুজে যাওয়ার জন্য আছে সিঁড়ি। গম্বুজ ও সিঁড়িতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মুঘল স্থাপত্য নিদর্শনের প্রতিচ্ছবি। গম্বুজের চারপাশে রয়েছে পবিত্র জান্নাত উনার সুসংবাদ প্রাপ্ত ১০ জন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের নাম মুবারক। যখন মাইকের ব্যবহার ছিল না, তখন চারতলা সমান উঁচু মিনারে উঠে আযান দেয়া হতো। এ রকম দুটি মিনার এখনো আছে। বর্তমানে প্রতি পাঁচ বছর পর একবার রং করা হয়। বৈরী আবহাওয়ায় মসজিদের অনেক জিনিস যেমন নষ্ট হয়েছে তেমনি সংস্কারের সময়ও অনেক কিছু হারিয়ে গেছে। পরবর্তী সময় বড় গম্বুজে সবুজ, গোলাপি ও হলুদ রং করে দেয়া হয়।
বর্তমানে এই মসজিদে সাধারণত দিনে গড়ে ৮০০ থেকে ৯০০ লোক নামায পড়েন। জুমুয়াবারে জুমুয়ার নামাযে পাঁচ হাজার মুসল্লি ছাড়িয়ে যায় এ ঐতিহাসিক মসজিদে। তখন মসজিদে জায়গা সংকুলান না হলে মসজিদসংলগ্ন রাস্তা বন্ধ করে সেখানেই নামায আদায় করেন মুসল্লিরা। মসজিদটিতে রয়েছে দুর্লভ ইসলামী নিদর্শনাবলির সমৃদ্ধ সংগ্রহশালা, যা দেখার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন এখানে আসেন। সূত্র: ইন্টারনেট।
-মুহম্মদ নাঈম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সীতাকু-ের পৌঁনে পাঁচশো বছরের ঐতিহাসিক হাম্মাদিয়া মসজিদ
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাগরে ৪৭০০ বছরের পুরোনো জাহাজের সন্ধান
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
তুরস্কে ‘হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার নৌকা’র খোঁজে পাহাড় খনন
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
অযত্নে ভঙ্গুর মোগল স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন খানবাড়ি মসজিদ
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
৫০০ বছরের ঐতিহ্য স্থাপত্যর এক অনন্য নিদর্শন রাজশাহীর বাঘা শাহী মসজিদ
০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুন্সীগঞ্জের দরগাহবাড়ি: সাড়ে পাঁচ শতাব্দী পেরিয়ে বাবা আদম মসজিদ
০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শ্যামপুর দায়রা শরীফ : ঐতিহ্য ও স্থাপত্যের নিদর্শন
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সউদীতে ১৩শ’ বছর পুরোনো মসজিদ
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক চুনাখোলা মসজিদ
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
স্পেনের কুরতুবা বা কর্ডোবা মসজিদ
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক চুনাখোলা মসজিদ
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সিলেটে ৯০০ বছরের প্রাচীন ‘গায়েবি মসজিদ’
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












