ইতিহাস
সেনেগালে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম
, ০২ জুমাদাল উলা শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ১৯ সাদিস ১৩৯১ শামসী সন , ১৭ নভেম্বর, ২০২৩ খ্রি:, ০১ অগ্রহায়ণ কার্তিক, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) স্থাপত্য নিদর্শন
৪ এপ্রিল সেনেগালের স্বাধীনতা দিবস। ১৯৬০ সালে ফ্রান্স থেকে তারা স্বাধীনতা লাভ করে। সেনেগালের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অনুষ্ঠান আফ্রিকার অন্যান্য দেশের মতো হলেও আলাদা একটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সেটা হলো, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে আয়োজিত সমাবেশে দাঁড়িয়ে পবিত্র কুরআন শরীফ খতম দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কুরআন তেলাওয়াতে আগ্রহীদের আগে থেকেই এক পৃষ্ঠা করে ভাগ করে দেওয়া হয়। সেনেগালের প্রচলিত কুরআন শরীফগুলো ৩০০ পাতার (৬০০ পৃষ্ঠা)। সে হিসেবে খতম দিতে প্রয়োজন হয় ৬শ’ মানুষের মাত্র ২ থেকে ৩ মিনিট। মানুষ বেশি হলে একাধিক খতম দেওয়া হয়।
কোনো দেশের স্বাধীনতা দিবসের আনুষ্ঠানিকতায় এটি একটি নতুন মাত্রা।
ডাকার গ্র্যান্ড মসজিদ সেনেগালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীনী স্থাপনা। দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি ডিজাইন করেছেন ফরাসি এবং মরক্কোর স্থাপত্যবিদরা।
১৯৬৪ সালে মরক্কোর রাজা দ্বিতীয় হাসান ও সেনেগালের প্রেসিডেন্ট লেয়পল সেডার সেংঘোর মসজিদটি উদ্বোধন করেন।
মসজিদের ভিতর ও বাহিরে জমকালোভাবে সাজানো হয়েছে। মসজিদের মিনার ৬৭ মিটার উচু। এই মসজিদের নির্মাণশৈলী মরক্কোর বিখ্যাত ক্লাসাব্লাঙ্কার মসজিদের সঙ্গে মিল রয়েছে।
সম্প্রতি সেনেগালের ‘লুঘা’ শহরের মুসলমানদের মাঝে ৪০ হাজার কুরআন শরীফ বিতরণ করা হয়েছে।
সেনেগালে দ্বীন ইসলাম প্রধান ও রাষ্ট্রীয় ধর্ম। ২০১৭ সালে পিউ রিসার্চ সেন্টার ও দেশটির সরকারি হিসাব মতে, সেনেগালের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯৭% মুসলমান। প্রায় ১১ শতক থেকে সেনেগালে পবিত্র দ্বীন ইসলামের উপস্থিতি রয়েছে। ১০৪০ সালে তকরুর রাজবংশীয় রাজা ওয়ার জাবিরের ইসলাম গ্রহণের সাথে সাথে এই এলাকায় ইসলামের প্রভাব শুরু হয়। তখন তকরুর রাজা ওয়ার জাবির তিনি তার রাজ্য ও প্রজাদের মাঝে দ্বীন ইসলাম প্রচারের ব্যাপক চেষ্টা করেন। তবে তার পার্শ্ববর্তী জোলোফ সাম্রাজ্য নিজেদের বাতিল ধর্মের পক্ষে সম্মানিত দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়ে ওঠে।
সেনেগালে ইলমে তাছাউফের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। দেশটিতে প্রচলিত প্রধান ইলমে তাছাউফের তরীক্বাগুলি হলো- তিজানিয়া, মুরিদিয়া ও কাদেরিয়া।
১৭ ও ১৮ শতকে দ্বীন ইসলাম গোটা সেনেগাল অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে এবং তখন ইসলাম অভিজাত ও বণিক শ্রেণীর দ্বীনে পরিণত হয়। ১৭৭৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকা জুড়ে অন্যান্য ইসলামী আন্দোলন দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তুকুল মুসলিমরা ডেনিয়াঙ্ক রাজবংশকে উৎখাত করে একটি অভিজাত ইসলামী রাষ্ট্র গঠন করে। তারা পার্শ্ববর্তী ঐতিহ্যবাহী ইসলামী ভাবাপন্ন দেশগুলিকে নিয়ে একটি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সামরিক লড়াই শুরু করে। তবে ঐতিহ্যবাহী সের ধর্মাবলম্বী রাজ্যগুলিকে সংযোজন করার সময় এই সম্প্রসারণ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পশ্চিম সুদান থেকেও কাদেরিয়া তরীক্বার একটি আন্দোলন তখন সেনেগালের গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে এবং সেনেগালে তারা একটি বড় সংখ্যার অনুসারী অর্জন করে।
সেনেগালে ইলমে তাছাউফের তরীক্বার মধ্যে মুরিদিয়া তরীক্বা সবচেয়ে বেশি সংগঠিত ও প্রভাবশালী। এই তরীক্বা আহমাদ বাম্বা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি ফরাসী ঔপনিবেশিক শক্তিকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেন এবং তার এই অবস্থান অনেক রাজনৈতিক নেতাকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়, যারা ফরাসিদের দখলের কারণে নিজেদের অবস্থান হারিয়েছিল। প্রতি বছর হাজার হাজার সেনেগালি শেখ বাম্বাকে সম্মান জানাতে মুরিদিয়ার অনুসারীদের আয়োজিত একটি ইসলামী সভায় যোগদান করে।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ভারতের জান্নাতবাদে ঐতিহাসিক জাহানীয়া মসজিদ
১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সুবা বাংলার ঐতিহাসিক শেখ বাহার উল্লাহ শাহী জামে মসজিদ
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ঢাকায় ৩০০ বছর আগের মুঘল আমলের ঐতিহাসিক মসজিদ
২৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ফুলের মতোই সুন্দর মালয়েশিয়ার পুত্রাজায়ায় অবস্থিত পুত্রা মসজিদ
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৫ম পর্ব)
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৪র্থ পর্ব)
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৩য় পর্ব)
০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান”
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (১ম পর্ব)
২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (৩)
১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (২)
১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (১)
০৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












