মন্তব্য কলাম
সুলতানুন নাছীর হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার বদ দোয়ার কারণে আমেরিকা এখন চরমভাবে ক্ষতবিক্ষত, বিপর্যস্ত, ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং মৃত আমেরিকা শুধু দাফন করা বাকি কিন্তু ভোগবাদে মক্ত চরম চরিত্রহীণ, পশ্বাধম আমেরিকাবাসী টালমাটাল হওয়ার কারণেই এখনো তা উপলব্ধি করতে পারছে না
, ১৮ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৮ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৮ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ২৩ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মন্তব্য কলাম
(৩য় পর্ব)
আমেরিকা (ইউ এস) এমন এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেটিকে রাশিয়া এবং চিনের বিরুদ্ধে এক নতুন ঠান্ডা লড়াই বলা যেতে পারে। এটিকে গণতন্ত্র এবং স্বৈরতন্ত্রের মধ্যে লড়াই বলে তুলে ধরার চেষ্টা বলে চালানো হলেও সাধারণ মানুষ এ কথা মানতে নারাজ। আমেরিকার এহেন অবস্থান গ্রহণের নেপথ্যে রয়েছে চিনা চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে নিজের বিশ্বব্যাপী প্রাধান্য বজায় রাখার আকাক্সক্ষা।
বর্তমান বিশ্বের নজরে মার্কিন বিপত্তিগুলি- প্রথমে ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং পরবর্তী কালে ইরাক এবং আফগানিস্তানে বিপর্যয়কর হস্তক্ষেপ- তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের অগ্রসর হওয়ার জায়গা করে দিয়েছে।
অভ্যন্তরীণ ঘটনাপ্রবাহ
আমেরিকার প্রধান সমস্যা হল তার কূটনৈতিক ক্ষমতার অবক্ষয় এবং একাধিক ক্ষেত্রে এর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। এর একটি অন্যতম উদাহরণ হল, সেই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে গভীর বিভাজন যেখানে জনমত সমীক্ষায় বারবার দেখা গিয়েছে যে, ৭০ শতাংশ রিপাবলিকান ভোটার বাইডেনকে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বৈধ বিজয়ী বলে মনে করে না। ২০০৮ সালের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সঙ্কটের ফলে দেশটির আর্থিক ক্ষেত্রটি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে মার্কিন পরিবারগুলি তাদের সম্পদের নিরিখে এখনও সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ১৯৮০ সাল থেকেই আমেরিকায় উপার্জন বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সমকক্ষ দেশগুলির তুলনায় সে দেশে এই বৈষম্যের মাত্রা অনেকটাই বেশি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশটি মনে করেছে যে, উন্নততর গণতন্ত্র এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার দৌলতে সে যে কোনও প্রতিযোগিতায় জয়ী হতে সক্ষম। কিন্তু বর্তমানে সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাটি জটযুক্ত হয়ে পড়েছে। সে দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার একটি দ্বিদলীয় পদ্ধতিতে কাজ করার ক্ষমতা আর নেই।
পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে দেশটি বন্দুক সংক্রান্ত হিংসা এবং জনগণের উপরে গুলি চালানোর ঘটনা থেকে শুরু করে দীর্ঘস্থায়ী দারিদ্র, গৃহহীনতা এবং মাদকাসক্তির মতো অবক্ষয়মূলক সামাজিক সমস্যাগুলির সঙ্গে যুঝতে অসমর্থ বলে মনে হচ্ছে। এর ফলে এই ধারণা ক্রমশ জোরালো হয়ে উঠেছে যে, আমেরিকা এক অনিবার্য পতনের সম্মুখীন।
বিশ্বায়ন
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিশ্বায়নের প্রেক্ষিতে আমেরিকার সুনির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গির অভাব। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রায় অক্ষত থাকা আমেরিকা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার রূপরেখা নির্ধারণে সাহায্য করেছিল। এই ব্যবস্থার তিনটি ভিত্তি হল আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য রাষ্ট্রপুঞ্জের (ইউ এন) ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ও শ্রমের মান বৃদ্ধি করতে সহযোগী সংস্থাগুলিকে কাজে লাগানো এবং সর্বোপরি বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং বিশ্ব ব্যাঙ্কের মতো সংস্থাগুলির দ্বারা আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করা। এ ছাড়াও তৎকালীন সোভিয়েত রাশিয়া সংক্রান্ত সমস্যার মোকাবিলা করার জন্য আমেরিকা বিশ্বব্যাপী নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন, সেন্ট্রাল ট্রিটি অর্গানাইজেশন, সাউথ-ইস্ট এশিয়া ট্রিটি অর্গানাইজেশনের মতো সামরিক জোটের শৃঙ্খল নির্মাণ করে, যদিও এগুলির মধ্যে শুধু মাত্র প্রথমটিরই এখনও অস্তিত্ব রয়েছে।
আমেরিকার অভ্যন্তরেও উদীয়মান রাজনৈতিক প্রবণতার ফলে আমেরিকার বৈশ্বিক ভূমিকা এবং উদার আন্তর্জাতিকতাবাদের পরিসর নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা এবং ইউ এন ব্যবস্থা-সহ সর্ব ক্ষেত্রেই আমেরিকার অসামঞ্জস্যপূর্ণ অংশীদারিত্বকে সমালোচনার মুখে ফেলে।
আমেরিকা দ্বারা সৃষ্ট বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে কৌশলের সঙ্গে ব্যবহার করে চিন প্রথমে বিশ্বের সর্ববৃহৎ কারখানা রূপে ও তার পরবর্তী সময়ে এক ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি হিসেবে উঠে আসে। ইরাক এবং আফগানিস্তানে সন্ত্রাস ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মনোনিবেশ করার ফলে আমেরিকা বিশ্বের বিস্তীর্ণ অংশে নজর দিতে ব্যর্থ হয়। আমেরিকার অভ্যন্তরেও উদীয়মান রাজনৈতিক প্রবণতার ফলে আমেরিকার বৈশ্বিক ভূমিকা এবং উদার আন্তর্জাতিকতাবাদের পরিসর নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা এবং ইউ এন ব্যবস্থা-সহ সব ক্ষেত্রেই আমেরিকার অসামঞ্জস্যপূর্ণ অংশীদারিত্বকে সমালোচনার মুখে ফেলে।
এর ফলে ২০১৬ সালে ট্রাপ নির্বাচিত হয় এবং প্রচ্ছন্ন একাধিক সমস্যা স্পষ্ট আকার ধারণ করতে শুরু করে। ট্রাপ প্রশাসন চিনের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক যুদ্ধের উপরে মনোনিবেশ করে, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে অবজ্ঞা করে এবং ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টি পি পি) থেকে নিজেদের সরিয়ে দেয়। এমনকি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আমেরিকার নিজস্ব সামরিক অংশীদার এবং মিত্রদেশগুলির প্রতি অবজ্ঞামূলক আচরণ করে এবং দেশগুলির কাছে তাদের নিরাপত্তার জন্য ন্যায্য মূল্য প্রদানের দাবি জানায়। এবং যখন কাফির বিশ্ব কোভিড-১৯ অতিমারিতে আক্রান্ত হয়, তখন সেটির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বৈশ্বিক নেতৃত্ব প্রদানের দায়িত্ব গ্রহণ করতে আমেরিকা অস্বীকার করে।
চিন
চিনের তুলনায় আমেরিকা এক স্পষ্ট অবক্ষয়ের সাক্ষী থেকেছে। ক্রয়ক্ষমতার সমতা বৃদ্ধির নিরিখে বৈশ্বিক জি ডি পি-তে আমেরিকার অবদান ১৯৫০ সালের ৫০ শতাংশ থেকে ২০১৮ সালে ১৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যেখানে চিনের অংশীদারিত্বের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ শতাংশে। চিনের জনসংখ্যা আমেরিকার জনসংখ্যার চার গুণ এবং আমেরিকার তুলনায় চিনের অর্থনীতি তিন গুণ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গবেষণা ও উন্নয়ন এবং স্টেম শিক্ষার মতো অন্য ক্ষেত্রগুলিও চিনে দ্রুত হারে বর্ধিত হচ্ছে। বর্তমান ধারা বজায় থাকলে ২০ বছর পরে সম্ভাব্য চিনা আধিপত্যের একটি ধারণা এখনই করা যেতে পারে।
ট্রাপ প্রশাসন চিনের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক যুদ্ধের উপরে মনোনিবেশ করে, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে অবজ্ঞা করে এবং ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টি পি পি) থেকে নিজেদের সরিয়ে দেয়।
১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকে মার্কিন সহায়তা যেভাবে ইউরোপ গড়ে তুলতে এবং ভারত ও অন্যান্য দেশের শিক্ষা ও কৃষি ক্ষেত্রগুলির রূপান্তরে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিল, ঠিক সেভাবেই চিন তার বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী পরিকাঠামো প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একাধিক দেশ কী ভাবে চিনা ঋণের ফাঁদে আটকা পড়েছে, সে নিয়ে বিস্তর সমালোচনা হলেও চিনা প্রস্তাব যে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয়, সে কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। ২০০১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে চিন আফ্রিকার দেশগুলিকে ১২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ প্রদান করেছে এবং দেশগুলিতে তার বিনিয়োগের পরিমাণ ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আমেরিকা চিনাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামলেও বর্তমানে তার পক্ষে চিনের সঙ্গে পেরে ওঠা সম্ভব নয়। জি৭ মঞ্চ থেকে ৬০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সর্বশেষ প্রস্তাব এখনও পর্যন্ত বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।
আধিপত্য বজায় রাখা : নতুন ঠান্ডা লড়াই
নতুন ঠান্ডা লড়াইয়ের ছায়া ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন প্রত্যত্তরে সঙ্গতির অভাব সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় চিনকে পরাজিত করার জন্য টি পি পি-সহ অ্যাফর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট-এর মতো অভ্যন্তরীণ সংস্কার কর্মসূচির উপরে ওবামার বিশেষ জোর দেওয়ার দৃষ্টিভঙ্গিকে ট্রাপ প্রশাসন গুরুত্ব দেয়নি। বরং কর, রফতানি নিয়ন্ত্রণ প্রবিধান এবং চিনা ছাত্রছাত্রীদের নির্দিষ্ট একাংশের উপরে বিধিনিষেধ আরোপের মতো একাধিক উপায় অবলম্বন করে তারা চিনকে দমন করার চেষ্টা করেছে। একই সঙ্গে আমেরিকার তরফে চিনকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মার্কিন আধিপত্য বিস্তারের পথে প্রধান বাধা রূপে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্য দিকে আমেরিকা প্রশাসন এখনও তার চিনা নীতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি। সামাজিক, পরিকাঠামোগত এবং পরিবেশগত কর্মসূচিতে ব্যাপক পরিমাণে সরকারি বিনিয়োগের প্রচেষ্টা মার্কিন কংগ্রেসের রাজনৈতিক অচলাবস্থার দরুন ব্যর্থ হয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ভবিষ্যৎ
এই সব বিশ্লেষণ অনেকাংশেই ইউক্রেন যুদ্ধ সংক্রান্ত ঘটনাপ্রবাহ দ্বারা প্রভাবিত হলেও তা সমান ও গুরুত্বপূর্ণ ভাবে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতার উপরেও নির্ভরশীল। ইউক্রেন যুদ্ধ নিঃসন্দেহে ইউরোপে মার্কিন জোট ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত এবং শক্তিশালী করে তুলেছে। কিন্তু আগামী দু’বছরের মধ্যেই ট্রাপ অথবা ট্রাপপন্থী কোনও ব্যক্তির সর্বোচ্চ ক্ষমতায় বহাল হওয়ার সম্ভাবনা জোটের কার্যকারিতাকে পুনরায় প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে এবং আমেরিকার আন্তর্জাতিক নীতিতে অনিশ্চয়তা এবং অসঙ্গতির সূচনা করতে পারে।
ট্রাপ অথবা ট্রাপপন্থী কোনও ব্যক্তির সর্বোচ্চ ক্ষমতায় বহাল হওয়ার সম্ভাবনা জোটের কার্যকারিতাকে পুনরায় প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে এবং আমেরিকার আন্তর্জাতিক নীতিতে অনিশ্চয়তা এবং অসঙ্গতির সূচনা করতে পারে।
‘নো লিমিট’ বা ‘সীমাহীন’ রুশ-চিন অংশীদারিত্ব-সহ ইউক্রেন যুদ্ধ একাধিক চ্যালেঞ্জের জন্ম দিয়েছে। পূর্বে আমেরিকার কাছে রাশিয়া ক্রমশ গুরুত্বহীন হয়ে পড়া এক দেশ হয়ে থাকলেও বর্তমানে সে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনের জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টিকারী আমেরিকার প্রকল্পগুলিকে বানচাল করে দেওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন এক প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে। আমেরিকার পরিকাঠামোগত সমস্যাগুলি সুস্পষ্ট। তবুও দেশটির সামরিক শক্তি সারা পৃথিবীর মধ্যে সর্বাধিক এবং পৃথিবীব্যাপী না হলেও মার্কিন অর্থ ব্যবস্থার আধিপত্য সমীহ উদ্রেক করে। হয়তো আমেরিকাকে তার বিশ্বদর্শনে পরিবর্তন আনার এবং বিশ্বকে নেতৃত্ব প্রদানকারী সকলের চেয়ে উঁচুতে অবস্থানকারী দেশ হিসেবে নিজেকে দেখার মনোভাব বদলানোর সময় এসেছে।
১৯৪৫ সালে অর্জিত বৈশ্বিক কর্তৃত্ববাদ এখনও আমেরিকার বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গির এক প্রধান ভিত্তি। যত দিন পর্যন্ত আমেরিকা অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ ছিল, তত দিন এমনটা মনে করা হয়তো যুক্তিযুক্ত ছিল। কিন্তু আমরা এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি, যখন চিনা অর্থনীতি ইতিমধ্যেই মার্কিন অর্থনীতিকে অতিক্রম করে গিয়েছে এবং আগামী ২০ বছরের মধ্যে তা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে, যা সামরিক খাতে বিনিয়োগের নিরিখে চিনকে আমেরিকার সমকক্ষ করে তুলবে। তার বৈশ্বিক অবস্থানের নিরিখে চিনের একটি নিজস্ব দর্শন রয়েছে এবং সেই দর্শন অনুযায়ী চিন নিজেকে মিডল কিংডম বা মধ্যবর্তী সাম্রাজ্য রূপে দেখে।
আমেরিকা তার এখনকার কর্তৃত্ববাদী অবস্থান ধরে রাখতে পারবে না, তা এখন নিশ্চিত বলা যায়। আর এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, ভবিষ্যতে দেশটিকে সর্বোচ্চ না হলেও একটি দুর্বল বৈশ্বিক শক্তি রূপে গণ্য করা হবে। যদিও এহেন অবস্থান বজায় রাখতে এবং চিনের সঙ্গে সফল ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য আমেরিকাকে তার সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আকর্ষণের ভিত্তিতে নিজের কূটনৈতিক দক্ষতাকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। বেগ পেতে হবে। সমগ্র বিশ্ব ইউক্রেন যুদ্ধের বৈশ্বিক পরিণতির সঙ্গে যুঝছে। এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে আমেরিকা-চিন সংঘাতের ফলাফল আমেরিকার জন্য গুরুতর আত্মঘাতী হতে পারে।
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
আফ্রিকার দৈত্য মুসলিম প্রধান দেশ- ‘নাইজেরিয়ায়’ আছে- ‘অফুরন্ত তেলের উৎস’ আছে- সবচেয়ে দামী খনিজ ‘লিথিয়াম’, ‘উচ্চ মানের লৌহ আকরিক’ সহ দুর্লভ সব খনিজ। বিশ্ব লুটেরা, হায়েনা, আমেরিকার- লোলুপ দৃষ্টি এখন ‘নাইজেরিয়ার’ উপর খ্রিস্টান নিধন চলছে এই মিথ্যা অজুহাতে- নাইজেরিয়া আক্রমনের ঘোষণা দিয়েছে, বিশ্ব ডাকাত সর্দার- ট্রাম্প।
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সুলতানুন নাছীর হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার বদ দোয়ার কারণে আমেরিকা এখন চরমভাবে ক্ষতবিক্ষত, বিপর্যস্ত, ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং মৃত আমেরিকা শুধু দাফন করা বাকি কিন্তু ভোগবাদে মক্ত চরম চরিত্রহীণ, পশ্বাধম আমেরিকাবাসী তালমাতাল হওয়ার কারণেই এখনো তা উপলব্ধি করতে পারছে না
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সুলতানুন নাছীর হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার বদ দোয়ার কারণে আমেরিকা এখন চরমভাবে ক্ষতবিক্ষত, বিপর্যস্ত, ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং মৃত আমেরিকা শুধু দাফন করা বাকি কিন্তু ভোগবাদে মক্ত চরম চরিত্রহীণ, পশ্বাধম আমেরিকাবাসী তালমাতাল হওয়ার কারণেই এখনো তা উপলব্ধি করতে পারছে না
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
এক কেজি আলু বেচে এক কাপ চা হয় না আলুর কেজি ৮ টাকা, লোকসানে কাঁদছে কৃষক ও ব্যবসায়ী ২৫০ মিলি লিটার পানির দামে এক কেজি আলু, আলুচাষির কান্নার আওয়াজ কে শুনবে? তিন মাসেও মেলেনি প্রণোদনা, লোকসানের চক্রে আলুচাষি আলু প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের উদ্যোগ জরুরি
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিভিন্ন দেশে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারের নেয়া ঋণকে ‘অডিয়াস ডেট’ বিবেচনা করে মওকুফ বা ঋণ পুনর্গঠনের উদাহরণ রয়েছে এ মুহূর্তে এমন ঋণ নিয়ে প্রক্রিয়া চালাচ্ছে লেবানন, গ্রিস, জাম্বিয়া, শ্রীলংকাসহ বেশ কয়েকটি দেশ কিন্তু দুর্নীতির মা- শেখ হাসিনার আমলে দুর্নীতিগ্রস্থ বিদেশী ঋণ নিয়ে প্রথমে অভিযোগ করলেও এখন নীরব সম্মতিতে, নিস্ক্রিয় হয়ে শেখ হাসিনার পক্ষেই হাটছে সরকার
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বাংলাদেশকে সুদী ইউনুস কতটা ঘৃণা করে এবং বাংলাদেশের চূড়ান্ত ক্ষতি ও সার্বভৌমত্ব বিক্রী কত বেশী পছন্দ করে; তার সাক্ষাত প্রমাণ আমেরিকার সাথে তার সরকারের বাণিজ্য চুক্তি
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিশ্লেষকদের অভিমত: এলএনজি আমদানিতে বিপর্যস্ত হবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। দেশে উৎপাদিত গ্যাসের চেয়ে ২৪ গুণ বেশি দামে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। এলএনজির ভর্তুকি পোষাতে বার বার গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে। জ্বালানি খাতে আর কত শোষিত হবে দেশের জনগণ?
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র যাকাত সঠিকভাবে আদায় না করায় দেশবাসী আক্রান্ত হচ্ছে অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, খরা, বন্যাসহ নানা দুর্যোগে। সঠিকভাবে পবিত্র যাকাত আদায় এবং সঠিক জায়গায় পৌঁছানোই এসব দুর্যোগ থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায়।
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বছরে অর্থনৈতিক অপচয় ৩০ হাজার কোটি টাকা, রোগাক্রান্ত হচ্ছে যুবসমাজ, ধানী জমিতে চাষ হচ্ছে তামাক। অন্য পদক্ষেপের পাশাপাশি ইসলামী মূল্যবোধের আলোকেই সরকারকে তামাক নিয়ন্ত্রণ সক্রিয় ও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে ইনশাআল্লাহ।
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার অনবদ্য তাজদীদ ‘আত-তাক্বউইমুশ শামসী’ সম্পর্কে জানা ও পালন করা এবং শুকরিয়া আদায় করা মুসলমানদের জন্য ফরয। মুসলমান আর কতকাল গাফিল ও জাহিল থাকবে?
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বাংলাদেশকে সুদী ইউনুস কতটা ঘৃণা করে এবং বাংলাদেশের চূড়ান্ত ক্ষতি ও সার্বভৌমত্ব বিক্রী কত বেশী পছন্দ করে; তার সাক্ষাত প্রমাণ আমেরিকার সাথে তার সরকারের বাণিজ্য চুক্তি এই তথাকথিত বাণিজ্যচুক্তির মাধ্যমে কার্যত বাংলাদেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য, এমনকি পররাষ্ট্রনীতির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিরঙ্কুশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠার আয়োজন করা হয়েছে।
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কথিত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা রোযার উপর গবেষনা করে রোযার মাহাত্ম স্বীকার করে তথাকথিত নোবেল পুরষ্কার পায়! কিন্তু মুসলমান দ্বীন ইসলাম উনার আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় লজ্জাকরভাবে ব্যার্থ হয়। কথিত বিজ্ঞান ও কথিত স্বাস্থ্যবিজ্ঞানী এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে রোযার উপকারিতা অপরিসীম।
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












