ইসলামী নিদর্শন:
সুনামগঞ্জে কালের সাক্ষী শত বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী পাগলা বড় মসজিদ
, ২৯ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৬ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৫ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ৩১ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) স্থাপত্য নিদর্শন
সুনামগঞ্জে কালের সাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে শত বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী পাগলা বড় মসজিদ। এই মসজিদটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৮ ফুট ও প্রস্থ ২৫ ফুট। মসজিদটিতে রয়েছে ৩টি বিশাল গম্বুজ ও ৬টি বড় মিনারসহ আরো রয়েছে ১২টি ছোট মিনার। এছাড়াও রয়েছে ১টি বারান্দা ও বিশাল ঈদগাহ ময়দান। মসজিদের বাহিরের তুলনায় ভিতরের দৃশ্য খুবই নান্দনিক।
ফ্লোর ও চারপাশের কারুকার্য দেখে অনেকেই আশ্চর্য হয়ে যায়। পুরো মসজিদের চারপাশে তিনফুট উচ্চতায় যে নান্দনিক টাইলস লাগানো হয়েছে তা আনা হয়েছে ইতালি ও ইংল্যান্ড থেকে। মসজিদে প্রবেশ করার জন্য রয়েছে ১টি গেইট। দৃষ্টিনন্দন দুতলা বিশিষ্ট ঐতিহ্যবাহী মসজিদটির বাহিরের দৃশ্য দূর থেকে এক নজর দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। আর মসজিদের ভিতরের স্থাপত্যশৈলী দেখলে আনন্দে ভড়ে উঠে মনপ্রাণ। তাই সুবিশাল এই মসজিদটি এক নজরে দেখার জন্য দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ আসেন যা গণজমায়েতে পরিণত হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়- জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলার রায়পুর নামকস্থানে অবস্থিত দৃষ্টিনন্দন এই পাগলা ঐতিহ্যবাহী বড় মসজিদ। এই মসজিদটি নির্মাণ করতে সময় লেগে ছিল প্রায় ১০ বছর। আর নির্মাণ শ্রমিক থেকে শুরু করে প্রধান কারিগর ছিলেন এই উপমহাদেশেরই লোকজন। তবে পাগলা মসজিদটির মূল স্থপতি হলেন মুমিন আস্তাগার। তার পূর্বপুরুষ নির্মাণ করেছেন ভারতের ঐতিহাসিক তাজমহল।
১৩৩১ বঙ্গাব্দে কোন এক জুমুয়াবার পাগলা মসজিদটির ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করা হয়। ভূমিকম্প নিরোধক মজবুত পাতের উপর মসজিদটি নির্মাণ করার ফলে এখনও পর্যন্ত কোন সমস্যা হয়নি। তবে প্রায় ৩০ বছর আগে মসজিদটির গম্বুজের কিছু পাথর পরিবর্তন করা হয়েছিল। মসজিদটি তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়েছে ইট, শ্বেতপাথর, রেলের সিøপার, কালো পাথরসহ আরো অনেক দূর্লভ উপকরণ।
যা তাজমহল তৈরির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছিল। আর এসব উপকরণ আনা হয়েছিল ভারতের জয়পুর থেকে। তবে ঐতিহ্যবাহী এই পাগলা মসজিদের মূল প্রতিষ্ঠাতা হলেন ইয়াসিন মির্জা ও তার ভাই ইউসুফ মির্জা। তারা দুজন ছিলেন খুবই বিত্তবান ও দ্বীনদার।
এব্যাপারে পর্যটকদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে- প্রাচীন দৃষ্টিনন্দন এই নিদর্শনটি পর্যটকদের জন্য টিকিয়ে রাখা জরুরী। তাই শীঘ্রই এই নান্দনিক মসজিদটি রক্ষণাবেক্ষনের দায়িত্ব সরকারের নেওয়া উচিত।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মোঘল শাসক আওরঙ্গজেবের শাসনামল নিয়ে প্রচলিত ভাষ্য বদলে দিতে পারে ৩০০ বছর আগের নথি
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উমাইয়া আমলের মুসলিম স্থাপত্য ‘কুসাইর আমরা দুর্গ’
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আফ্রিকার দেশ ঘানার ঐতিহাসিক স্থাপত্য ‘লারাবাঙ্গা মসজিদ’
০৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বন্দরের ঐতিহাসিক নিদর্শন হযরত বাবা সালেহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাজার শরীফ
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র মসজিদে জুমুয়াহ
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সম্মানিত ইসলামী সভ্যতার অনবদ্য নিদর্শন নাফত বা পেট্রোলিয়াম
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ভারতের সাদা রত্ন ঐতিহাসিক মতি মসজিদ
২৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নহরে জুবাইদা: ঐতিহাসিক মিষ্টি পানির খাল
১৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত নূর কুতুবে আলম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নামকরণে তৈরী করা হয়েছিলো ভারতের যে মসজিদ: ফিরোজাবাদে যুগের সাক্ষী ঐতিহাসিক নিদর্শন কুতুব শাহি মসজিদ
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ভারতের জান্নাতবাদে ঐতিহাসিক জাহানীয়া মসজিদ
১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সুবা বাংলার ঐতিহাসিক শেখ বাহার উল্লাহ শাহী জামে মসজিদ
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ঢাকায় ৩০০ বছর আগের মুঘল আমলের ঐতিহাসিক মসজিদ
২৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












