কয়লা বা এলএনজি আমদানিতে যে পরিমাণ কমিশন এবং বড় অংকের লেনদেনের সুযোগ থাকে, সৌরবিদ্যুতের মতো দেশীয় ও প্রাকৃতিক উৎসের ক্ষেত্রে তা সীমিত।
বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে না পারার প্রধান কারণ ‘মাফিয়া তান্ত্রিক’ সিন্ডিকেট ব্যবস্থা।
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে যথাযথ বিনিয়োগ দেশের আমদানিনির্ভরতা শুন্য করবে ইনশাআল্লাহ।
, ২৯ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৬ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৫ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ৩১ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) মন্তব্য কলাম
দেশে জ্বালানি চাহিদা এতটাই আমদানিনির্ভর যে ৬৫-৭০ শতাংশ জ্বালানি বিদেশ থেকে এবং বাকি ৩০-৩৫ শতাংশ দেশীয় উৎস থেকে আসে। মোট আমদানির প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল, বাকি ৮০ শতাংশই পরিশোধিত তেল। পরিশোধিত তেলের জন্য আমদানিনির্ভরতা এত বেশি থাকার কারণ দেশে তেল পরিশোধনের প্রতিষ্ঠান মাত্র একটি।
প্রায় শতভাগ এলএনজি এবং ৬০ শতাংশের বেশি এলপিজি আমদানি করতে হয়। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে এসব গ্যাস ও তেল আমদানি করতে হরমুজ প্রণালির ওপর আমাদের নির্ভর করতে হয়। মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও মালয়েশিয়া, চীন, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত থেকে আমরা তেল আমদানি করি। এই সময়ে প্রতিটি দেশ তেল সংকটে থাকায় তেল সরবরাহের শৃঙ্খল দুর্বল হয়ে পড়েছে।
বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ আর ভারতের ছকে চলার পরিপ্রেক্ষিতে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ধীরে ধীরে কমে গেছে। দেশীয় সরকারি কোম্পানী বাপেক্সকে অনেকটা অকার্যকর করে রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে প্রাকৃতিক গ্যাস অনেক বেশি ব্যবহার করা হয়।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি তথা সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এগিয়ে নিতে পারলে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার কমে আসত।
দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবদান মাত্র ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। সৌরবিদ্যুতের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত গ্রিডে সৌরবিদ্যুতের হিস্যা ২ দশমিক ৬৯ শতাংশ করা গেছে। মূলত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও বিদেশনীতি মেনে নেয়ার কারণে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। অথচ সরকার উদ্যোগ নিলে তিন বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সৌরবিদ্যুতের আওতায় নিয়ে আসতে পারত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে কেবল আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্পকারখানার ছাদ ব্যবহার করে পাঁচ-আট হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।
এর মধ্যে কেবল টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাতের কারখানার ছাদগুলো থেকে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যান্য কারখানা মিলে সে পরিমাণ চার হাজার মেগাওয়াটের বেশি হতে পারে।
এছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাদ ব্যবহার করে অন্তত এক হাজার মেগাওয়াট, আবাসিক ভবনের ছাদ ব্যবহার করে তিন হাজার মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ আছে।
বর্তমান চাহিদার প্রায় অর্ধেক এভাবে কেবল রুফটপ সোলার বিদ্যুৎ থেকে পাওয়া সম্ভব।
এর বাইরে কাপ্তাই লেকসহ অনেক লেক, হাওর, নদী, খাল, অবারিত সমুদ্র অঞ্চল, চরাঞ্চল, রাস্তা ও রেললাইনের ওপরের খোলা জায়গা ইত্যাদিতে সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব এবং অনেক দেশই বাণিজ্যিকভাবে করছে।
এ অপার সম্ভাবনার বিপরীতে গত ১০ বছরে সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদন শতগুণ বাড়লেও তা এখনো আমাদের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাত্র ৫ শতাংশ (মাত্র ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটের মতো)। এর মধ্যে আছে তিস্তা, টেকনাফ ও সিরাজগঞ্জের মতো কয়েকটি সোলার পার্ক। যেখানে ভিয়েতনাম বা পাশ্ববর্তী দেশগুলো এ খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২০-৩০ শতাংশে উন্নীত করেছে, সেখানে দেশের সৌর বিদ্যুতের আহরণ ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি কেন?
বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে না পারার প্রধান কারণ ‘মাফিয়া তান্ত্রিক’ সিন্ডিকেট ব্যবস্থা। রেন্টাল/কুইক রেন্টাল আর ক্যাপাসিটি চার্জের ফাঁদ থেকে বাংলাদেশ এখনো বের হতে পারেনি। ফলে বিদ্যুৎ খাতে নতুন উদ্যোগের সক্ষমতা সীমিত। এর বাইরে আছে জ্বালানি আমদানিনির্ভর কমিশন বাণিজ্য।
কয়লা বা এলএনজি আমদানিতে যে পরিমাণ কমিশন এবং বড় অংকের লেনদেনের সুযোগ থাকে, সৌরবিদ্যুতের মতো দেশীয় ও প্রাকৃতিক উৎসের ক্ষেত্রে তা সীমিত। এ ‘ইম্পোর্ট লবি’ অনেক সময় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সৌরশক্তির প্রসারে অলিখিত বাধা হয়ে দাঁড়ায়। নিজস্ব গ্যাস উত্তোলন না করে আমদানিতে ঝুঁকে পড়ার যে প্রবণতা, সোলারের ক্ষেত্রেও একই মানসিকতা দৃশ্যমান। প্রায় সব সরকারই বলে, সোলার পার্কের জন্য প্রচুর জমির প্রয়োজন, যা কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে পাওয়া কঠিন। বাস্তবতা হলো আমাদের দেশে হাজার হাজার কলকারখানা এবং সরকারি-বেসরকারি ভবনের ছাদ অব্যবহৃত পড়ে আছে। ‘রুফটপ সোলার’ বা ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে মেগা প্রকল্পের জমি সংকটের সমাধান অনায়াসেই সম্ভব ছিল। আরেকটা বড় অজুহাত হলো সৌরবিদ্যুৎ কেবল দিনে পাওয়া যায়, কিন্তু চাহিদা বেশি রাতে। এ অজুহাতে ব্যাটারি স্টোরেজের দোহাই দিয়ে সোলারকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। অথচ বিশ্ববাজারে ব্যাটারি প্রযুক্তির দাম দ্রুত কমছে। স্মার্ট গ্রিড ও আধুনিক সঞ্চালন লাইনে সঠিক বিনিয়োগ করে এ চ্যালেঞ্জ পুরোটাই উত্তরণ সম্ভব ইনশাআল্লাহ।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুসলমানকে ‘মুসলমানিত্ব’ বুঝতে হবে। ‘আশহাদু আন্না মুহম্মাদার রসূলুল্লাহ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাক্বীক্বীভাবে বলতে হবে ও আমলে আনতে হবে।
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতি বছর শুধু অসুস্থতার কারণে প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রধানমন্ত্রী নিজেই ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেয়া শুরু করেছেন। বাতিল হয়েছে ‘রাষ্ট্রপতির’ সাথে ‘মহামান্য’ শব্দ ব্যবহারও।
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের সামরিক ব্যয় গত দশকগুলোতে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি মূলত বেতন, স্থায়ী খরচ এবং চলমান পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়েছে। তবে সামরিক আধুনিকায়ন, সমরাস্ত্র ক্রয় এবং নতুন প্রযুক্তি সংযোজনের জন্য মোট বাজেটের মাত্র ২-৪ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ্র পরিক্রমায় চললেই সে প্রজ্ঞা পাওয়া সম্ভব ইনশাআল্লাহ
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!!!!
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সরকারের ঋণের পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ কোটি টাকা
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
তবে কি সাবেক সরকারের অসমাপ্ত ষড়যন্ত্রের সমাপনীর পথেই হাঁটতে চাইছে বর্তমান সরকার?
০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুসলিম দেশগুলোর উচিৎ মক্কা চুক্তিকে আরো বিশুদ্ধ ও বিস্তৃত করা যাতে ভারতের গোস্বা এত বাড়ে যে তাদের গোস্বার অনলেই তারা জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












