ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো ডি-৮ হালাল প্রদর্শনী।
বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়ার হালাল পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ সাড়া দিতে হবে
ভিয়েতনাম, চীনের পরিবর্তে বাংলাদেশকেই ইনশাআল্লাহ হতে হবে ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের হালাল পণ্যের রফতানীকারী দেশ
, ২৯ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৬ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৫ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ৩১ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) সম্পাদকীয়
সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।
(১)
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় প্রথমবারের মতো ডি-৮ (উ-৮) জোটের উদ্যোগে ‘আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে ডি-৮ দেশগুলোতে হালাল অর্থনীতির প্রসার’ - এই প্রতিপাদ্য নিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী (৮ থেকে ১২ জুলাই) প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এই প্রদর্শনী মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হালাল বাণিজ্য ও জীবন পদ্ধতির সর্ববৃহৎ ইভেন্ট।
আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে খাদ্য, ওষুধ, প্রসাধনী, ফ্যাশন ও ইসলামিক ফাইন্যান্সসহ হালাল অর্থনীতির বিভিন্ন খাত তুলে ধরা হয়।
ডি-৮ সদস্যভুক্ত ৮টি দেশের (বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মিশর, ইরান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্ক) পাশাপাশি অন্যান্য দেশের উদ্যোক্তারা এতে অংশ নেন। এক্সপোতে বাংলাদেশ থেকে ২২টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।
(২)
বিশ্বব্যাপী হালাল পণ্যের বাজার ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার। সুবিশাল এই বাজারে প্রবেশে অনেকটাই ব্যর্থ বাংলাদেশ। মান নিয়ন্ত্রণ এবং উন্নত পণ্য ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশও এই সুবিশাল বাজার ধরতে পারে।
হালাল অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের মধ্যে সবচেয়ে বড় অবদান রাখছে হালাল খাদ্য। ২০২৩ সালে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোতে এই খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ছিলো ১ হাজার ২৩৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন বা প্রায় ১ দশমিক ২৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার সম্ভাব্য বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ২ শতাংশ। দ্বিতীয় বৃহত্তম অবস্থানে থাকা হালাল পোশাক খাতে মুসলিম গ্রাহকদের ব্যয়ের পরিমাণ ছিলো ২৭৭ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং এর বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ।
হালাল পণ্য বলতে শুধু হালাল গোশত বা হালাল খাদ্যকে বুঝায় না; হালাল পণ্যের তালিকায় রয়েছে পোশাক, কসমেটিকস, ঔষধ, স্বাস্থ্যসেবা, মেডিকেল সরঞ্জাম, হালাল অর্থায়ন, পর্যটন প্রভৃতি।
বিষয়টিতে বাংলাদেশসহ অন্যান্য মুসলমান দেশ সচেতন এবং সক্রিয় না হলেও অমুসলিম দেশগুলো কিন্তু ঠিকই গুরুত্ব দিচ্ছে এবং মুনাফা লুটছে।
(৩)
উদাহারণত, বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতিতে অংশীদারিত্ব বাড়ানো, মুসলিম দেশগুলোতে রফতানি সম্প্রসারণ এবং মুসলিম পর্যটকদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো একটি পূর্ণাঙ্গ আইনগত হালাল কাঠামো চালু করেছে ভিয়েতনাম। দেশটির সরকার সম্প্রতি ডিক্রি ১২৭/২০২৬ (উবপৎবব ঘড়. ১২৭/২০২৬/ঘউ-ঈচ) জারি করেছে, যা হালাল পণ্য ও সেবার মাননিয়ন্ত্রণ, সার্টিফিকেশন এবং বাজার উন্নয়নের জন্য একটি সমন্বিত কাঠামো প্রদান করবে।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, বর্তমানে ভিয়েতনামে এক হাজারেরও বেশি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরনের হালাল সনদ অর্জন করেছে। নতুন আইন এসব কার্যক্রমকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তুলবে।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে ভিয়েতনাম এখন হালাল অর্থনীতিকে জাতীয় রফতানি কৌশলের অংশে পরিণত করতে চাইছে। একই সঙ্গে মুসলিম পর্যটকদের জন্য হালাল খাদ্য, মুসলিমবান্ধব হোটেল ও পর্যটনসেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে পর্যটন খাতেও নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে চাইছে।
(৪)
অথচ প্রধান মুসলিম দেশ- বাংলাদেশের হালাল পণ্য রফতানির যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। দখল করতে হবে হালাল পণ্যের রফতানি বাজার। এজন্য এখন থেকেই কাজ করতে হবে। ইন্দোনেশিয়ার মত মুসলিম দেশগুলোর সহযোগিতা নিতে হবে।
ইন্দোনেশিয়া দূতাবাস বলেছে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সাথে ব্যবসায়িক সংগঠন ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রেখে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণে কাজ করবে।
প্রসঙ্গত, আমরা মনে করি, ইন্দোনেশিয়ার সহযোগিতার- এ আহবানে সক্রিয় সাড়া দিয়ে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
বাংলাদেশ আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের হালাল পণ্যের বাজার ধরতে সক্ষম ইনশাআল্লাহ! যা বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশকে বিশ্বের সর্বপ্রধান অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালী দেশ হওয়ার পাশাপাশি বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থানও শীর্ষ পর্যায়ে নিবে।
ছহিবে সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্র্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত সিবত্বতু রসূল আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস।
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছ থেকে শুধু পরকালীন শাফায়াত ই একমাত্র চাওয়া পাওয়া নয়;
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সংস্পর্শে নাগরিকদের সংশোধনের জন্য পাঠাতে হবে
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
যা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়াহ আশার আলাইহাস সালাম উনার নিসবাতুল আযীম শরীফ দিবস।
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
“মুসলিম বিশ্ব যদি ডলারের পরিবর্তে নিজেদের মধ্যে ‘ইসলামী দিনার’ চালু করে, তবে তা পশ্চিমাদের জন্য পারমাণবিক বোমার চেয়েও বড় ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।”
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর জুলাই সনদের ৮ নং অনুচ্ছেদ খএইঞছ এর পরিপূর্ণ প্রতিফলন। তারপরেও ঈমান বিক্রী করে, ইসলামের ধ্বংস ডেকে তথাকথিত ইসলামী দল কী করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলনের ঘোষণা দিতে পারে? জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বি.এন.পির নির্বাচনী ইশতেহারে এর সাথে সাংঘর্ষিক। ইসলামী অনুভূতির প্রতি সহযোগী মনোভাবের চরম খেলাফ।
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমান মায়েরা কেন সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াতে গাফলতি করবে?
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মূল্যবৃদ্ধির চাপে পিষ্ট জনগণ উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, শুধুমাত্র মধ্যস্বত্য ভোগী, তথা সিন্ডিকেট নির্মূলেই দ্রব্যমূল্য সুলভ করা সম্ভব।
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ বছরে সাশ্রয় করতে পারে ১ বিলিয়ন ডলার।
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ব্যাংক শোষণের কারণে শুধু একজন মালিকই নয় বা লাখ লাখ শ্রমিকই নয় বরং গোটা আর্থ-সামাজিক খাত হয় ক্ষত-বিক্ষত, বিপর্যস্ত, লা’নতগ্রস্ত, বেকারত্বে জর্জরিত।
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মালদ্বীপের ৬১তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে বাংলাদেশের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ।
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় মাইক্রোচিপ বিজ্ঞানী, বাংলাদেশী এনায়েতুর রহমান এ শিল্পের বিকাশে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশীকে বিশেষ সহায়তা করতে চান।
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












