মন্তব্য কলাম
সার্বভৌমত্বের বিনিময়ে এক শতাংশ ছাড়! এ কেমন কালোচুক্তি? প্রকৃতপক্ষে গোলামীর চুক্তি
, ০২ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২০ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ২০ মে, ২০২৬ খ্রি:, ০৬ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) মন্তব্য কলাম
বাংলাদেশের ইতিহাসে কিছু তারিখ কালো অক্ষরে লেখা থাকে। ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সেই তালিকায় নতুন সংযোজন। ওইদিন গভীর রাতে, জনগণের চোখের আড়ালে, একটি অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন একটি বাণিজ্য চুক্তিতে সই করেছে, যার মাশুল দিতে হবে আগামী প্রজন্মকে। নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে অস্থায়ী একটি সরকার কর্তৃক কঠোর গোপনীয়তা বজায় রেখে এই চুক্তি স্বাক্ষরের ঘটনা নানা কারণে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন হলো- এই গোপনীয়তা কেন? কী লুকানোর ছিল?
যা পেলাম, যা দিলাম :
সরকারের দাবি, এই চুক্তিতে বাংলাদেশ “ঐতিহাসিক সাফল্য” অর্জন করেছে। দীর্ঘ প্রায় নয় মাসের ধারাবাহিক আলোচনা শেষে বাংলাদেশ শুল্কহার ২০ শতাংশ থেকে ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেছে সরকার। নয় মাস আলোচনার ফল- মাত্র এক শতাংশ ছাড়! আর এই এক শতাংশের বিনিময়ে কী দিতে হলো? দিতে হলো দেশের জ্বালানি নীতি, খাদ্য সার্বভৌমত্ব, সামরিক স্বাধীনতা এবং পররাষ্ট্রনীতির কর্তৃত্ব।
আগামী ১৫ বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলার বা ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার মার্কিন জ্বালানি, বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনতে হবে। এই বাধ্যবাধকতা কি কোনো স্বাধীন দেশের সঙ্গে সমতার চুক্তির ভাষা, নাকি এটি একটি বশ্যতার দলিল? বিশ^বাজারে যখন প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে জ্বালানি পাওয়া সম্ভব, তখন একটি নির্দিষ্ট দেশ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে কিনতে হলে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার ক্ষতি অনিবার্য।
স্বাধীনতা হারানোর দলিল :
চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ এমন কোনো দেশ থেকে পারমাণবিক চুল্লি, জ্বালানি বা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কিনতে পারবে না, যাদের যুক্তরাষ্ট্র তার ‘স্বার্থের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ’ মনে করে। অর্থাৎ বাংলাদেশের জ্বালানি কূটনীতি এখন থেকে ওয়াশিংটনের কার্যালয় থেকে নির্ধারিত হবে, ঢাকা থেকে নয়।
চুক্তির ৪.৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ যদি চীন বা রাশিয়ার মতো ‘নন-মার্কেট দেশ' -এর সঙ্গে কোনো মুক্ত বাণিজ্য বা অগ্রাধিকারমূলক অর্থনৈতিক চুক্তি করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি বাতিল করে আবার শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করতে পারবে। এই শর্তের মানে পরিষ্কার- বাংলাদেশ এখন আর স্বাধীনভাবে তার বাণিজ্যিক অংশীদার বেছে নিতে পারবে না। ভূরাজনৈতিক নিরপেক্ষতা, যা দশকের পর দশক ধরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি, তা এই একটি চুক্তিতে কার্যত ধূলিসাৎ।
খাদ্যে বিষ, কৃষিতে আঘাত :
চুক্তি অনুসারে যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপদ বলে স্বীকৃত বায়োটেকনোলজি বা জৈব প্রযুক্তি পণ্য বিনা পরীক্ষা ও বাড়তি কোনো লেবেলিং ছাড়াই বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারবে। এর সরল অর্থ, বিতর্কিত জিএমও পণ্য এখন থেকে কোনো বাধা ছাড়াই বাংলাদেশের বাজারে ঢুকবে। ভোক্তা জানবেও না - কী খাচ্ছেন তিনি। এটি কি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় বিশ^াসঘাতকতা নয়?
অস্ত্রের বাজার, যুদ্ধের ফাঁদ :
চুক্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ‘যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বেশি সামরিক সরঞ্জাম কেনার চেষ্টা করবে’ এবং একই সঙ্গে ‘কিছু নির্দিষ্ট দেশ’ থেকে কেনাকাটা কমাতে হবে, যা আসলে চীনের দিকেই ইঙ্গিত করে। মুক্তবাজার অর্থনীতির দোহাই দিয়ে বাংলাদেশকে আসলে একটি ভূরাজনৈতিক শিবিরে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। আজ যারা এই চুক্তিকে “উন্নয়নের সোপান” বলছেন, তাদের বলতে চাই- চীন ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে আমেরিকার বৈশি^ক দ্বন্দ্বে বাংলাদেশকে একটি ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহারের ফাঁদ তৈরি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন :
ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মুহম্মদ সাহাদাত সিদ্দিকী বলেছেন, আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের যে চুক্তি, সে চুক্তিটা একটা বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে রয়েছে- কতটুকু উৎস বৈচিত্র্য আনা সম্ভব হবে তা নিয়ে। এই সতর্কবার্তা কি সরকার শুনছে?
এক শতাংশের মোয়া, একশ’ শতাংশের ক্ষতি :
মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করার পর নতুন আইনের আওতায় প্রায় সব দেশের পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ যে চুক্তির জন্য দেশের সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দেওয়া হলো, সেই চুক্তির “এক শতাংশ সুবিধা”ও এখন প্রশ্নের মুখে। শিল্পমালিকরা নিজেরাই বলছেন, অন্যরা ১৫ শতাংশ শুল্কে রপ্তানি করলে বাংলাদেশ ১৯ শতাংশে আটকে থাকলে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে।
আমাদের দাবি :
এই চুক্তি বাতিল করতে হবে। বাতিলের সাহস দেখাতে হবে।
একাত্তরে এই জাতি রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা কিনেছিল। সেই স্বাধীনতা গোপন কক্ষে রাতের আঁধারে কলমের এক খোঁচায় বিক্রি করার অধিকার কারো নেই- কোনো সরকারের নেই, কোনো উপদেষ্টার নেই।
জাতি জেগে উঠুক। প্রশ্ন করুক। জবাব চাইতে হবে।
-মুহম্মদ কুররাতুল আইন হায়দার।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা: ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১০)
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৯)
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম মিয়াজাকি, পুষ্টিগুণেও ভরপুর
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
“বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে ১৪০টির বেশি দেশে”- গত পরশু (৮ই জুন) এই বিবৃতি দেয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী ভেবে দেখবেন মার্কিনীদের সাথে করা গোলামী চুক্তিতে তার এই উচ্ছাস পুরোটাই গভীর এবং চরম-পরম উৎকণ্ঠায় পর্যবসিত হয়েছে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের জন্যও মহা ধ্বংস প্রক্রিয়া বাংলাদেশের ৫১ কোটি নাগরিকের নিরাপত্তা নির্মূলীকরণ প্রক্রিয়া। মহা আত্মঘাতী, সর্বনাশী, দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রিকারী এ চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে (১ম পর্ব)
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
শুধু একটি মৃত্যুর খবর, নাকি একটি সমাজের ভবিষ্যৎ?
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সস্তা জনপ্রিয়তার বিপরীতে সস্তা জনরোষের পথেই কী হাটতে চায় সরকার? মাত্র ১০/১৫ হাজার কোটি টাকার জন্য ওয়াদা খেলাফ করে বিদ্যুতের দাম আবার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির আগুনে আরো ঘি ঢালছে সরকার। জনভোগান্তির জুলুম থেকে সরে আসতে হবে সরকারকে।
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৮)
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
১৯৯০ সালে কাঁচা চামড়া রফতানীর নিষিদ্ধ করণের প্রেক্ষাপট বর্তমানে নেই। এ মুহুর্তে কাঁচা চামড়া রফতানীর অনুমোদন বর্তমান সংকটকে অনেকটাই কমাতে পারে।
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কুরবানী আসে-যায় মৌসুমী কসাইরা অরক্ষা আর অবহেলাতেই থেকে যায়। তাদের অনেকে আহত হয়, পঙ্গু হয়, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়- মৌসুমী কসাইদের প্রশিক্ষণ ও পৃষ্টপোষকতার পাশাপাশি ঈদুল আদ্বহায় বিশেষ স্বাস্থসেবা চালু করা দরকার।
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
‘দ্যা গ্রেট রিসেট’ ও নমরুদী মশার প্রতিশোধের এক চরম ইহুদী-নাসারায়ী নীলনকশা!
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিদ্যুতের বিল বার বার বাড়ানো শোষক জমিদারি কায়দায় চক্র বৃদ্ধি হারে খাজনার চাবুক মারা অথচ বিদ্যুতে শুধু চুরি নয়, সব দিক থেকে সাগর চুরি হচ্ছে। সে চুরির ক্ষত পোষাতে জনগণের উপর খাজনা বৃদ্ধি করে চোরদের উৎসাহ ও প্রনোদনা এবং নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে।
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সে যুগেও হুসাইন আহমদকে ইহুদীদের দালাল, হিন্দুদের কংগ্রেসের পা চাটা- গোলাম প্রচারণা করা হলেও থানভী গংরা তা বুঝতে পারলো কৈ? আজকে পশ্চিমবঙ্গে হাজার হাজার মসজিদ ভাঙ্গা ও লাখ লাখ মুসলমানদের বাড়ী-ঘর ধ্বংস, হিন্দুত্ববাদ গ্রহণে বাধ্য করার মত মহা জুলুমের মূলে হোসেন আহমদের সর্ব ভারতীয় জাতীয়বাদ।
২৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












