সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৩য় পর্ব)
, ২১ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১২ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ২৭ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) আইন ও জিহাদ
পবিত্র মক্কা শরীফের কাফির মুশরিকদের সংঘবদ্ধ ও যুদ্ধের প্রস্তুতি:
এছাড়া কুরাইশ কাফির মুশরিকদের থেকে আবূ ত্বলহা হলো আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল উয্যা ইবনে উছমান ইবনে আব্দুদদার এর কুনিয়াত আর সুলাফা হলো ত্বলহার ছেলে মুসাফি’, জুল্লাস ও কিলাবের মা। তাদের পিতাসহ তারা সকলে উহুদ যুদ্ধে নিহত হয়। বনূ মালিক ইবনে হিসল গোত্রের খুন্নাস বিনতে মালিক ইবনে মাযরাব নামক জনৈক মহিলা তার ছেলে আবূ আযীয ইবনে উমায়েরসহ যুদ্ধে বেরিয়েছিলো। সে হযরত মুসয়াব ইবনে উমাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মা ছিলো। অনুরূপভাবে আমরাহ বিনতে আলক্বামাহ এ অভিযানে অংশগ্রহণ করে। সে ছিলো বনূ হারিছ ইবনে আব্দে মানাত ইবনে কিনানার একজন মহিলা।
হযরত হিন্দ বিনতে উতবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা (পরবর্তীতে তিনি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন) তিনি যখনই হযরত ওয়াহশী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার কাছ দিয়ে অতিক্রম করতেন, কিংবা হযরত ওয়াহশী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি যখন উনার পাশে আসতেন, তখন হযরত হিন্দা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনাকে বলতেন, হে আবূ দাসমা! আমার কলিজা শীতল করুন। আবূ দাসমা ছিলো হযরত ওয়াহশী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার কুনিয়াত। অতঃপর তারা যুদ্ধের জন্য রওয়ানা হয়ে সেখানে পৌঁছে আয়নায়ন পর্বতে আস্তানা গাড়লো, যা পবিত্র মদীনা শরীফ উনার বিপরীত দিকে কানাত উপত্যকার পাশে বাতনে সাবখার নিম্নভূমিতে অবস্থিত ছিলো।
মোট কথা, পবিত্র মক্কা শরীফের কাফির মুশরিকরা যখন যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করলো এবং স্বীয় স্ত্রীদের সঙ্গে নিলো যাতে তারা ছড়া ও কবিতা আবৃত্তি করে যোদ্ধাদের মনোবল বৃদ্ধি করতে পারে এবং পলাতকদের ধিক্কার দিতে পারে। যেন অধিকন্তু যোদ্ধারা নারীদের কাছে অপদস্ত হওয়ার ভয়ে সর্বান্তকরণে প্রাণপণ যুদ্ধ করে পিছনে বসে থাকার চিন্তাও না করে। পবিত্র মক্কা শরীফের কুরাইশ কাফির মুশরিকরা বিভিন্ন গোত্রের প্রতি দূতও প্রেরণ করে যাতে তারা এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে তাদের শক্তি বৃদ্ধি করে। এভাবে তারা ৩০০০ সৈন্য জমা করতে সক্ষম হয়। নাউযুবিল্লাহ! যাদের মধ্যে ৭০০ শত ছিলো বর্ম পরিহিত। অধিকন্তু ২০০ ঘোড়া, তিন হাজার উট, ১৫ জন নারী সহযাত্রী ছিলো। এই ৩০০০ সুসজ্জিত যোদ্ধা হযরত আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নেতৃত্বে তৃতীয় হিজরী সনের ৫ই শাওওয়াল শরীফ পবিত্র মক্কা শরীফ থেকে যাত্রা করে। (সীরাতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি, তাবাকাতে ইবনে সা’দ, যারকানী, তারীখে তাবারী, সীরাতুল মুস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আল বিদায়া)
খতিমুল মুহাজিরীন আব্বাস আলাইহিস সালাম উনার কর্তৃক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কুরাইশদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবহিতকরণ:
যখন পবিত্র মক্কা শরীফের কাফির মুশরিকরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করলো তখন খতিমুল মুহাজিরীন সাইয়্যিদুনা হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম তিনি কাল বিলম্ব না করে দ্রুত একটি পত্র লিখে একজন দূতের মাধ্যমে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারকে প্রেরণ করেন। খতিমুল মুহাজিরীন সাইয়্যিদুনা হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম তিনি তখনও পবিত্র মক্কা শরীফে অবস্থান মুবারক করছিলেন। তিনি দূতকে নির্দেশ দিলেন যেভাবেই হোক খুব দ্রুত তিন দিনের মধ্যে এই পত্র পবিত্র মদীনা শরীফে পৌঁছানোর জন্য। খতিমুল মুহাজিরীন সাইয়্যিদুনা হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম তিনি সেই পত্রে কাফির মুশরিকদের সৈন্য সংখ্যা, তাদের অস্ত্র-শস্ত্র এবং রসদসম্ভারের পূর্ণ বিবরণ উল্লেখ করেন। (যারকানী, মাদারেজুন নুবুওওয়াহ, সীরাতুল মুস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
এ খবর পাওয়া মাত্রই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত মুনিস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদেরকে কাফির মুশরিকদের বর্তমান অবস্থা ও অবস্থান জানার জন্য পাঠালেন। উনারা এসে জানালেন যে, কুরাইশ কাফির মুশরিকদের সৈন্যদল পবিত্র মদীনা শরীফ উনার কাছাকাছি চলে এসেছে। এরপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কাফির মুশরিকদের কতজন সৈন্য রয়েছে তা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে জানানোর জন্য হযরত হুবাব ইবনে মুনযির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে পাঠালেন। হযরত হুবাব ইবনে মুনযির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি কুরাইশ কাফির মুশরিকদের সৈন্যসংখ্যা, তাদের উট ও ঘোড়ার পরিমান ও যুদ্ধাস্ত্র ইত্যাদি সম্পর্কে পূর্ণ তথ্যাদি এসে পেশ করলেন। এ সংবাদ শুনে হযরত সা’দ ইবনে মুয়ায রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত উসাইদ ইবনে হুদাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত সা’দ ইবনে উবাদাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা রাতভর পবিত্র হুজরা শরীফ তথা পবিত্র মসজিদে নববী শরীফ পাহারা দিলেন, পবিত্র মদীনা শরীফ উনার চারিদিকে পাহারার ব্যবস্থা করা হলো। সুবহানাল্লাহ! (তাবাকাতে ইবনে সা’দ, সীরাতে মুস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (চলবে)
-আল্লামা সাইয়্যিদ শা’বীব আহমদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৪)
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৩)
০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (২)
০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৩)
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১ম পর্ব)
২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১)
২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২)
২১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১)
১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত জিহাদ মুসলমানদের একটি বিশেষ ফরয ইবাদত
১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২৩০৩)
১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২৩০২)
১২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












