সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৫ম পর্ব)
, ০৭ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৭ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১২ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) আইন ও জিহাদ
উল্লেখ্য, মুনাফিক সর্দার উবাই বিন সুলূল সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বললো, পবিত্র মদীনা শরীফে থেকেই আমাদের জিহাদ করা হবে উত্তম। মুনাফিক সর্দার জোরালোভাবে পবিত্র মদীনা শরীফে অবস্থান করা ও পবিত্র মদীনা শরীফ উনার বাইরে বেরিয়ে জিহাদ না করার প্রতি জোর দিতে থাকে। নাউযুবিল্লাহ!
কিন্তু পরবর্তীতে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র মদীনা শরীফ উনার বাইরে গিয়ে জিহাদ করার জন্য বললেন। এতে উবাই বিন সুলূল সে জিহাদে না যাওয়ার বিষয়ে নানান চূ-চেরা কিল-কাল করতে লাগলো। নাউযুবিল্লাহ! মূলত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরোধিতা করাই ছিলো তার খাছলত তথা স্বভাব। নাউযুবিল্লাহ!
উবাই বিন সুলূল সবসময় ভিতরে ভিতরে বদর জিহাদ উনার মতো এই জিহাদের সময়ও পবিত্র মক্কা শরীফের কাফির মুশরিকদের সাথে ও ইহুদী গোত্রগুলোর সাথেও যোগাযোগ ও গভীর যড়যন্ত্র করে যাচ্ছিলো। তার উদ্দেশ্য ছিলো, কি করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ও হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে বিপাকে ফেলা যায় এবং উনাদেরকে কষ্ট দেয়া যায়। নাউযুবিল্লাহ! এবং সে এক পর্যায় সম্মানিত উহুদ জিহাদে না যাওয়ার জন্য বিভিন্ন রকম আপত্তি পেশ করতে থাকে। কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিতো ওহী মুবারক ব্যতীত নিজ থেকে কোন কথা মুবারক বলেন না ও কোন কাজ মুবারক করেন না। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের নিকট পরামর্শ চাইলেন তখন কিছু সংখ্যক ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে যারা সম্মানিত বদর জিহাদে অংশগ্রহণ করতে পারেননি আর যারা যুবক ছিলেন উনারা বললেন, “ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! পবিত্র মদীনা শরীফ উনার বাইরে বেরিয়ে কাফির মুশরিকদের সাথে জিহাদ করার সুযোগ আমাদেরকে দিন, যাতে তারা এ ধারণা করতে না পারে যে, আমাদের মধ্যে কোন প্রকার দূর্বলতা আছে।”
কিন্তু দেখা গেলো মুনাফিক সর্দার উবাই বিন সুলূল সেও লজ্জাহীনভাবে বলে উঠলো, “ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি পবিত্র মদীনা শরীফেই অবস্থান করুন, তাদের অবস্থানের দিকে বের হবেন না। যখনই আমরা পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে কোন শত্রুকে লক্ষ্য করে বের হয়েছি, তখনই আমরা পরাভূত হয়েছি। আর যখনই পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যে তারা আমাদের উপর চড়াও হয়েছে, তখন তারা পরাস্ত হয়েছে। সুতরাং কুরাইশ কাফিরদেরকে তাদের অবস্থায় ছেড়ে দিন। যদি তারা স্বস্থানেই ছাউনি গেড়ে বসে থাকে তবে সে স্থান হবে তাদের জন্য নিকৃষ্ট জেলখানা। আর যদি তারা পবিত্র মদীনা শরীফে প্রবেশ করে, তবে পুরুষরা তাদের সাথে শক্ত জিহাদ করবে, আর মহিলা ও শিশুরা ছাদের উপর থেকে তাদের উপর প্রস্তর নিক্ষেপ করবে। আর যদি তারা ফিরে যায় তবে যেমন এসেছিলো তেমনি বিফল হয়ে ফিরে যাবে।”
মুনাফিক সর্দার উবাই বিন সুলূল সে এভাবে ভিরুতার পরিচয় দিচ্ছিলো এবং নিজের অন্তরে থাকা হিংসা-বিদ্বেষ চাপিয়ে রেখে বাহ্যিকভাবে বকবক করছিলো। এদিকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা তার নিফাকীপূর্ণ কথা বুঝতে পেরে সতর্ক হলেন। সে যা বলছিলো তা সত্য নয় বরং তার অন্তরে মুনাফিকী রয়েছে সেই বিষয়টি পথিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছিলো।
প্রসিদ্ধ তারীখ ও সীরত গ্রন্থসমূহে আরো উল্লেখ রয়েছে, ‘হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মধ্য থেকে কতক বয়স্ক ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা এবং যুবক ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা পবিত্র মদীনা শরীফ উনার বাইরে গিয়ে জিহাদ করার ব্যাপারে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট আর্জি পেশ করেছিলেন। উনারা বললেন, “ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমরা বহুদিন ধরে এমন দিনের অপেক্ষায় রয়েছি এবং আমরা এমন দিনের আকাঙ্খা করছি। মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট এমন দিনের জন্য দোয়াও করেছি। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সম্মুখে সেই দিন এনে দিয়েছেন, আর জিহাদের পথও বেশি দূরে নয়।”
সাইয়্যিদুশ শুহাদা, সাইয়্যিদুনা হযরত হামযা আলাইহিস সালাম, হযরত সা’দ ইবনে উবাদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত নু’মান ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা উনারা বললেন, “ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমরা যদি পবিত্র মদীনা শরীফে অবস্থান করে শত্রুর মোকাবিলা করি তাহলে শত্রুরা আমাদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় জিহাদ করার বিষয় ভীতু ও দুর্বল মনে করবে। এক পর্যায়ে সাইয়্যিদুশ শুহাদা, সাইয়্যিদুনা হযরত হামযা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন-
وَاَلّذِي أَنْزَلَ عَلَيْك الْكِتَابَ لَا أَطْعَمُ الْيَوْمَ طَعَامًا حَتّى أُجَالِدَهُمْ بِسَيْفِي خَارِجًا مِنْ الْمَدِينَةِ.
অর্থ: “আপনার প্রতি যিনি সম্মানিত কিতাব নাযিল করেছেন উনার ক্বসম! যে পর্যন্ত পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে বের হয়ে শত্রুদের সাথে তরবারি দিয়ে মোকাবেলা না করবো ততক্ষন পর্যন্ত খাওয়া-দাওয়াও করবো না। (মাগাযিউল ওয়াক্বিদী, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, যুরকানী, সীরাতুল মুস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ) (চলবে)
-আল্লামা সাইয়্যিদ শা’বীব আহমদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মুহব্বত ঈমান, আর উনাদের সমালোচনা করা লা’নতগ্রস্ত হওয়ার কারণ
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৬)
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
দ্বীন ইসলাম ব্যতিত অন্য কোন তন্ত্র-মন্ত্র নিয়মনীতি শরীয়তসম্মত নয়
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৫)
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৫)
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৪র্থ পর্ব)
১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৪)
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৪)
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৩য় পর্ব)
১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৩)
০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (২)
০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












