দ্বীন ইসলাম ব্যতিত অন্য কোন তন্ত্র-মন্ত্র নিয়মনীতি শরীয়তসম্মত নয়
, ০৭ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৭ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১২ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) আইন ও জিহাদ
মানব রচিত শাসন ব্যবস্থা, যার আইন-কানুন, নিয়ম-নীতি, তর্জ তরীক্বা মানুষের দ্বারা রচিত, বিশেষ করে বিধর্মীদের দ্বারা বিশেষ করে ইহুদীদের দ্বারা উদ্ভাবিত ও প্রবর্তিত- তা অনুসরণ-অনুকরণ করা ঈমানদার মুসলমানদের জন্য জায়িয নেই।
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ব্যতীত অন্য মতবাদ অনুসরণ করা নিষেধ, সে বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন-
وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ
অর্থ : যে ব্যক্তি দ্বীন ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্ম (নিয়ম-নীতির) অনুসরণ করে, তার থেকে তা কখনই গ্রহণ করা হবে না এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত। (সূরা আলে ইমরান শরীফ: আয়াত শরীফ ৮৫)
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের রক্ত কণিকার প্রত্যেকটি কোষ হাবীবজী উনার প্রবল মুহব্বতে উজ্জীবিত, যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ ‘জিহাদের ময়দান’
হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আওফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বীরত্ব মুবারক:
হযরত ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমার কাছে কিছু সংখ্যক বিজ্ঞ আলিম বর্ণনা করেছেন যে, সম্মানিত উহুদের জিহাদে হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আওফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার চেহারা মুবারকে একটি পাথর লেগেছিলো যার ফলে উনার সামনের একটি দাঁত মুবারক ভেঙ্গে যায় এবং উনার দেহে বিশ বা তার চেয়েও অধিক আঘাত লেগেছিলো। কিছু আঘাত লেগেছিলো উনার পা মুবারকেও। যার কারণে তিনি খোঁড়া হয়ে গিয়েছিলেন। (সীরাতুন নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি)
হযরত সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ঈমানী জযবা মুবারক:
হযরত সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আমার অন্তরে কোন মানুষকে হত্যা করার তীব্র ইচ্ছা কখানো জন্মেনি, যতটা আমার ভাই কাফির উতবাকে হত্যা করার ব্যাপারে জন্মেছিলো। যদিও আমি জানতাম যে, এ কারণে আমার সম্প্রদায়ের লোকেরা আমাকে ঘৃণা করবে। কিন্তু আমার জন্য নূরে মুুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আদেশ মুবারকই যথেষ্ট। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اشْتَدَّ غَضَبُ اللَّهِ عَلَى مَنْ دَمَّى وَجْهَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: “সে ব্যক্তির উপর মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত বা গযব খুবই কঠোর, যে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুল মুজাসসাম তথা মহাসম্মানিত জিসিম মুবারক নূরুন নাজাত বা মুবারক রক্তে রঞ্জিত করে দিয়েছে। (বুখারী শরীফ, ইবনে হাব্বান, দালায়িলুন নুবুওওয়াহ, মুসনাদে আহমদ, ফায়যুল বারী)
হযরত ইয়াযীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার জিহাদে আহত হওয়া:
হযরত ইবনে ইসহাক বলেন, হযরত আসিম ইবনে উমর ইবনে কাতাদা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের মধ্যে হাতিব ইবনে উমাইয়া ইবনে রাফির এক ছেলে ছিলেন; যিনি ছিলেন- ছাহাবী উনাদের অন্তর্ভুক্ত। উনার নাম মুবারক হযরত ইয়াযীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। সম্মানিত উহুদ জিহাদে তিনি আহত হন। উনাকে উনার বাড়িতে আনা হলো। তখন তিনি মুমূর্ষ অবস্থায় ছিলেন। পরিবারস্থ সকলেই উনার চারপাশে সমবেত। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা অনেকেই উনাকে বলতে লাগলেন, হে হাতিব তনয়! আপনি সম্মানিত জান্নাত মুবারকের সুসংবাদ গ্রহণ করুন। তখন হযরত ইয়াযীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পিতা সে ছিলো এক বৃদ্ধ লোক। তার অন্তরে তখনও জাহিলিয়াত বর্তমান ছিলো। এ সময় তার নিফাকী তথা মুনাফিকী প্রকাশ পেয়ে গেলো। সে বলে উঠলো, আপনারা উনাকে কিসের সুসংবাদ দিচ্ছেন, হারমান জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছেন? নাউযুবিল্লাহ! সে আরো বললো, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আপনারা প্রতারণা করে এই যুবকের জীবন ধ্বংস করলেন। নাউযুবিল্লাহ! (উল্লেখ যে, হারমান হলো এমন একটি গাছের নাম, যার থেকে ছোট কালো দানা উৎপন্ন হয়। সাধারণত: এ গাছ কবরস্থানে জন্মে থাকে। (রওদ্বুল উনূফ, সীরতে হালাবিয়্যাহ, উয়ূনুল আছার, সীরাতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া)
হযরত আসিম ইবনে ছাবিত আবুল আফলাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ঘটনা:
হযরত আসিম ইবনে ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সম্মানিত উহুদ জিহাদে অংশগ্রহণ করেন এবং তিনি কাট্টা কাফির মুসাফি ইবনে ত্বলহা ও তার ভাই কাট্টা কাফির জুল্লাস ইবনে ত্বলহাকে হত্যা করেন। হযরত আসিম ইবনে ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উভয় কাফিরের উপর একের পর এক তীর নিক্ষেপ করেন। তাদের এক একজন করে (মারাত্মকভাবে আহত হয়ে) তাদের মা সুলাফার কাছে পৌঁছে নিজের মাথা তার কোলে রাখে। তাদের মা তাদের দু’জনকে জিজ্ঞাসা করে, হে বৎস! কে তোমাদের আহত করেছে? তারা প্রত্যেকে বললো, তাতো জানি না, তবে আমি আমার উপর তীর নিক্ষেপ করার সময় এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি এই নাও, আমি আবূল আফলাহর ছেলে। তখন তাদের মা প্রতিজ্ঞা করলো যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি যদি তাকে সুযোগ দেন, তবে সে হযরত আসিম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মাথা মুবারকের খুলিতে মদ পান করবে। নাউযুবিল্লাহ! অপর দিকে হযরত আসিম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে দোয়া করেছিলেন-
أَنْ لَا يَمَسَّ مُشْرِكًا أَبَدًا. وَلَا يَمَسّهُ مُشْرِكٌ.
অর্থ: ‘তিনি নিজে কখনও কোন মুশরিককে স্পর্শ করবেন না। আর উনাকেও যেন কোন মুশরিক স্পর্শ করতে না পারে।’ (মুছান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ, মাছাবিহুল জামি’, দালায়িলুন নুবুওওয়াহ)
কাট্টা কাফির উছমান ইবনে আবূ ত্বলহা সম্মানিত উহুদের জিহাদের সময় এই কবিতা আবৃত্তি করেছিলো, তখন সে মুশরিকদের পতাকাবাহী ছিলো, ‘মনে রেখো! পতাকাবাহীদের দায়িত্ব হলো, তারা নিজ তীরগুলোকে (শত্রুর রক্তে) ক্রমাগত রঞ্জিত করতে থাকবে, যতক্ষণ না তা ভেঙ্গে চৌচির হয়ে যায়।’ নাউযুবিল্লাহ!
যখন কাট্টা কাফির উছমান ইবনে আবূ ত্বলহা উক্ত কবিতা আবৃত্তি করছিলো, তখন সাইয়্যিদুশ শুহাদা সাইয়্যিদুনা হযরত হামযা আলাইহিস সালাম তিনি তাকে হত্যা করেন। (রওদ্বুল উনূফ, সীরাতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি, মাগাযিউল ওয়াক্বিদী, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলূক)
-আল্লামা সাইয়্যিদ শা’বীব আহমদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মুহব্বত ঈমান, আর উনাদের সমালোচনা করা লা’নতগ্রস্ত হওয়ার কারণ
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৬)
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৫ম পর্ব)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৫)
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৫)
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৪র্থ পর্ব)
১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৪)
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৪)
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৩য় পর্ব)
১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৩)
০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (২)
০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












