গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৫)
, ০৬ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৬ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১১ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) আইন ও জিহাদ
হযরত বুদাইল বিন ওয়ারাক্বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মধ্যস্থতা:
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন-
إِنَّا لَمْ نَجِئ لِقِتَالِ أَحَدٍ، وَلٰكِنَّا جِئْنَا مُعْتَمِرِيْنَ، وَإِنَّ قُرَيْشاً قَدْ نَهَكَتْهُمُ الْحَرْبُ وَأَضَرَّتْ بِهِمْ، فَإِنْ شَاءُوْا مَادَدْتُّهُمْ، وَيَخْلُوْا بَيْنِيْ وَبَيْنَ النَّاسِ، وَإِنْ شَاءُوْا أَنْ يَّدْخُلُوْا فِيْمَا دَخَلَ فِيْهِ النَّاسُ فَعَلُوْا، وِإِلَّا فَقَدْ جَمُّوْا، وَإِنْ هُمْ أَبَوْا إِلَّا الْقِتَالَ فَوَالَّذِيْ نَفْسِيْ بِيَدِهِ لَأُقَاتِلَنَّهُمْ عَلٰى أَمْرِيْ هٰذَا حَتّٰى تَنْفَرِدَ سَالفتي، أَوْ لَيَنْفِذَنَّ اللهُ أَمْرَهُ
‘কারো সঙ্গে যুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে আমরা এখানে আগমন করিনি। অতীতের যুদ্ধসমূহ কুরাইশগণকে সম্পূর্ণরূপে পর্যুদস্ত ও তছ্নছ্ করে ফেলেছে। এতে তাদের ক্ষতিও হয়েছে অসামান্য। তাই যদি তারা চায় তাহলে আমি তাদের সঙ্গে একটি সময় নির্ধারণ করবো যে সময় তারা আমার ও বিপক্ষীয় লোকজনের পথ থেকে সরে দাঁড়াবে। এতে বড় আকারের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে। অন্যথায় যদি তারা যুদ্ধ চায় তাহলে তাদের ঔদ্ধত্যজনিত কৃতকার্যের শাস্তি অবশ্যই ভোগ করতে হবে।
আর যুদ্ধই যদি তাদের একমাত্র কাম্য হয়ে থাকে, তবে সেই মহান সত্তার কসম! যাঁর কুদরতী হাত মুবারকে আমার (নূরুল আমর মুবারক) প্রাণ মুবারক রয়েছে, আমি মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার ব্যাপারে তাদের সঙ্গে ঐ সময় পর্যন্ত যুদ্ধ করে যাবো যতক্ষণ পর্যন্ত আমার সম্মানিত জিসিম মুবারকে প্রাণ মুবারক থাকে, কিংবা যতক্ষণ মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বীয় দ্বীন ইসলাম উনার ব্যাপারে একটা চূড়ান্ত ফায়সালা করে না দেন।
হযরত বুদাইল বিন ওয়ারাক্বা খুযায়ী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, ‘আপনি যা বললেন আমি তা কুরাইশগণকে অবহিত করবো।’
অতঃপর তিনি কুরাইশগণের নিকট গিয়ে বললেন, ‘আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে সাক্ষাত মুবারক করে এসেছি। আমি উনার নিকট একটা কথা শুনেছি, যদি তোমরা চাও তাহলে আমি তোমাদের নিকট তা উপস্থাপন করবো।’
এ কথার প্রেক্ষিতে নির্বোধ এবং স্বল্প বুদ্ধিসম্পন্ন লোকেরা বললো, ‘আমাদের এমন কোন প্রয়োজন নেই যে, আপনি কোন কথা আমাদের নিকট বর্ণনা করেন।’
কিন্তু যারা বুদ্ধিমান ও প্রজ্ঞাসম্পন্ন ছিলো তারা বললো, ‘আপনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছ থেকে কি শুনেছেন তা আমাদেরকে বলুন।’
হযরত বুদাইল বিন ওয়ারাক্বা খুযায়ী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছ থেকে যে সকল কথা মুবারক শুনেছিলেন তাদের নিকট তা বর্ণনা করলেন। এ প্রেক্ষিতে কুরাইশরা মিকরায বিন হাফ্স্কে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট প্রেরণ করলো। তাকে দেখে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, ‘এ ব্যক্তি অঙ্গীকার ভঙ্গকারী।’
কিন্তু যখন সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট অগ্রসর হয়ে আলাপ আলোচনা করলো তখন তিনি তাকে সেই সব কথাই বললেন যা হযরত বুদাইল বিন ওয়ারাক্বা খুযায়ী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং উনার সঙ্গী-সাথীদের নিকট বলেছিলেন। অতঃপর সে পবিত্র মক্কা শরীফে ফিরে এসে কুরাইশগণকে তার আলাপ আলোচনার বিষয়াদি অবহিত করলো।
কুরাইশগণের মধ্যস্ততাকারী প্রেরণ:
আলাপ আলোচনার বিষয়াদি অবহিত হয়ে বনু কিনানাহ গোত্রের হুলাইস বিন আলকামা বললো, ‘আমাকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট যেতে দাও।’ লোকেরা বললো, ‘বেশ তবে যাও।’
যখন সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট উপস্থিত হলো তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন-
هٰذَا فُلاَنٌ، وَهُوَ مِنْ قَوْمٍ يُعَظِّمُوْنَ الْبُدْنَ، فَابْعَثُوْهَا
এ ব্যক্তি এমন এক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত যারা হাদয়ীর পশুকে অনেক সম্মান করে। অতএব পশুগুলোকে দাঁড় করে দিন।’
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা পশুগুলোকে দাঁড় করিয়ে দিলেন এবং তাকে স্বাগত জানালেন। এ অবস্থা প্রত্যক্ষ করে সে ব্যক্তি আনন্দে বিভোর হয়ে বলে উঠলো- ‘সুবহানাল্লাহ! এই সকল ব্যক্তিত্ব উনাদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার ঘর হতে বিরত রাখা কোন মতেই সমীচীন হবে না।’ এ কথা বলেই সে তার সঙ্গীদের নিকট ফিরে গেলো।
ফিরে গিয়ে সে কুরাইশগণের নিকট বললো, ‘আমি হাদয়ীর পশু দেখে এলাম যাদের গলায় হার দেওয়া আছে এবং পৃষ্ঠদেশ চিরে দেয়া হয়েছে। এজন্য মহান আল্লাহ পাক উনার ঘর থেকে তাদের নিবৃত্ত রাখা আমি সমীচীন মনে করছি না।’ তার এ সকল কথার প্রেক্ষাপটে কুরাইশ লোকজন ও তার মধ্যে এমন কিছু বাক্য বিনিময় হয়ে গেলো যার ফলে সে খুবই উত্তেজিত হয়ে পড়লো।
এমন সময় উরওয়া বিন মাসউদ সাক্বাফী হস্তক্ষেপ করলো এবং বললো, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তোমাদের নিকট একটি ভালো প্রস্তাব দিয়েছেন। তোমরা উনার প্রস্তাব গ্রহণ করে নাও এবং আমাকে উনার নিকট যেতে দাও।” (চলবে)
-মুহম্মদ নাজমুল হুদা ফরাজী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১২তম পর্ব)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৩)
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১২)
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১২)
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১২)
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়:
২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১১)
২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১০ম পর্ব)
১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১০)
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১১)
০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৯ম পর্ব)
০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৯)
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












