ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৫)
, ১লা রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২১ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ০৬ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) আইন ও জিহাদ
খন্দক খননকালে সংঘটিত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মুজিযাহ শরীফ:
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
وَفِي رِوَايَةٍ قَالَ جَابِرٍ رضي الله تعالى عنه: لَمَّا حُفِرَ الخَنْدَقُ رَأيْتُ بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم خَمَصاً، فَانْكَفَأْتُ إِلَى امْرَأتِي، فَقُلتُ: هَلْ عِنْدَكِ شَيْءٌ؟ فَإنّي رَأيْتُ بِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم خَمَصاً شَديداً، فَأخْرَجَتْ إلَيَّ جِرَاباً فِيه صَاعٌ مِنْ شَعِيرٍ، وَلَنَا بَهِيمَةٌ دَاجِنٌ فَذَبَحْتُهَا، وَطَحَنتِ الشَّعِيرَ، فَفَرَغَتْ إِلَى فَرَاغي، وَقَطَعْتُهَا فِي بُرْمَتِهَا، ثُمَّ وَلَّيْتُ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم ، فَقَالَت: لاَ تَفْضَحْنِي بِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَمَنْ مَعَهُ، فَجِئتُهُ فَسَارَرْتُهُ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، ذَبَحْنَا بَهِيمَةً لَنَا، وَطَحَنْتُ صَاعاً مِنْ شَعِيرٍ، فَتَعَالَ أنْتَ وَنَفَرٌ مَعَكَ، فَصَاحَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: يَا أهلَ الخَنْدَقِ: إنَّ جَابِراً قَدْ صَنَعَ سُؤْراً فَحَيَّهَلاً بِكُمْগ্ধ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: لاَ تُنْزِلُنَّ بُرْمَتَكُمْ وَلاَ تَخْبِزُنَّ عَجِينَكُمْ حَتَّى أجِيءَ গ্ধ فَجِئْتُ، وَجَاءَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقْدُمُ النَّاسَ، حَتَّى جِئْتُ امْرَأتِي، فَقَالَتْ: بِكَ وَبِكَ ! فقُلْتُ: قَدْ فَعَلْتُ الَّذِي قُلْتِ. فَأخْرَجَتْ عَجِيناً، فَبسَقَ فِيهِ وَبَاركَ، ثُمَّ عَمَدَ إِلَى بُرْمَتِنا فَبصَقَ وَبَارَكَ، ثُمَّ قَالَ: ادْعِي خَابزَةً فَلْتَخْبِزْ مَعَكِ، وَاقْدَحِي مِنْ بُرْمَتِكُمْ، وَلاَ تُنْزِلُوهَاগ্ধ وَهُم ألْفٌ، فَأُقْسِمُ بِاللهِ لأَكَلُوا حَتَّى تَرَكُوهُ وَانْحَرَفُوا، وَإنَّ بُرْمَتَنَا لَتَغِطُّ كَمَا هِيَ، وَإنَّ عَجِينَنَا لَيُخْبَزُ كَمَا هُوَ.
অপর এক বর্ণনায় রয়েছে, হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, যখন পরিখা খনন করা হলো, তখন আমি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ক্ষুধার্ত শান মুবারকে দেখলাম। অতঃপর আমি আমার আহলিয়ার নিকট গিয়ে বললাম, আপনার নিকট কোন (খাবার) জিনিস আছে কি? আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ক্ষুধার্ত শান মুবারকে দেখছি।’ সুতরাং তিনি একটি চামড়ার থলি বের করলেন, যাতে এক সা’ (প্রায় সাড়ে ৩ কেজি পরিমাণ) যব ছিলো। আর আমাদের নিকট একটি গৃহপালিত ছাগলের বাচ্চা ছিলো। আমি তা জবাই করলাম এবং আমার আহলিয়া যব পিষলেন। আমার (গোশত বানানোর কাজ সম্পন্ন করা পর্যন্ত) তিনিও যব পিষার কাজ সেরে নিলেন। পুনরায় আমি গোশত টুকরো টুকরো করে হাঁড়িতে রাখলাম। তারপর আমি যখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট যেতে লাগলাম। তখন তিনি (আমার আহলিয়া) বললেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার সাথীদের কাছে আমাকে লাঞ্ছিত করবেন না।’
সুতরাং আমি উনার নিকট এলাম এবং চুপি চুপি বললাম, ‘ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমরা আমাদের একটি ছাগল জবাই করেছি এবং আমার আহলিয়া এক সা যব পিষেছেন। সুতরাং আপনি আসুন এবং আপনার সাথে কিছু লোক নিয়ে আসুন।’ এ কথা শুনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বুলন্দ আওয়াজ মুবারকে বললেন, ‘হে পরিখা খননকারীরা! হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু খাবার তৈরী করেছেন, আপনারা আসুন।’ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে বললেন, ‘যে পর্যন্ত আমি না আসি, সে পর্যন্ত আপনি চুলা থেকে ডেকচি নামাবেন না এবং আটার রুটি তৈরী করবেন না।’
অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাশরীফ মুবারক নিলেন এবং আমিও আসলাম। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি লোকদের আগে আগে হাঁটতে লাগলেন। পরিশেষে আমি আমার আহলিয়ার নিকট এলাম (এবং উনাকে সকলের আসার সংবাদ দিলাম)। তিনি আমাকে শুকরিয়া জানালেন। আমি বললাম, আমি তো তাই করেছি যা আপনি আমাকে বলেছিলেন।’ (যাই হোক) তিনি খামীর বের করে দিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খামীরে মহাপবিত্র মহাসম্মানিত নূরুল বারাকাত মুবারক (থুথু মুবারক) মেখে দিলেন এবং বরকতের জন্য দোয়া মুবারক করলেন। তারপর তিনি আমাদের ডেকচির নিকট গিয়ে তাতেও মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল বারাকাত মুবারক (থুথু মুবারক) মাখলেন এবং বরকতের জন্য দোয়া মুবারক করলেন।
আর তিনি (আমার আহলিয়াকে) বললেন, একজন মহিলা ডাকুন; সে আপনার সাথে রুটি তৈরী করুক এবং আপনার ডেকচি থেকে (গোশত) পাত্রে দিতে থাকুন, কিন্তু চুলা থেকে তা নামাবেন না। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সংখ্যায় এক হাজার ছিলেন। হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি মহান আল্লাহ পাক উনার কসম খেয়ে বলছি যে, সকলেই খাবার মুবারক খেলেন এমনকি শেষ পর্যন্ত উনারা কিছু অবশিষ্ট রেখে চলে গেলেন। আর আমাদের ডেকচি আগের মত ফুটতেই থাকলো এবং আমাদের আটা থেকে রুটি প্রস্তুত হতেই রইলো।’ সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র বুখারী শরীফ, পবিত্র মুসলিম শরীফ, তিরমিযী শরীফ, আহমদ শরীফ, দারেমী শরীফ) (চলবে)
-আল্লামা মুহম্মদ নাজমুল হুদা ফরাজী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৮)
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উম্মাহর মাঝে শ্রেষ্ঠতম মর্যাদায় আসীন
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৭ম পর্ব)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সকল কাফিররাই মুসলমানদের প্রকাশ্য শত্রু
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৭)
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র ফাতহে মক্কা অর্থাৎ পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয় দিবস
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৭)
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৬ষ্ঠ পর্ব)
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৬)
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মুহব্বত ঈমান, আর উনাদের সমালোচনা করা লা’নতগ্রস্ত হওয়ার কারণ
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৬)
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
দ্বীন ইসলাম ব্যতিত অন্য কোন তন্ত্র-মন্ত্র নিয়মনীতি শরীয়তসম্মত নয়
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












