মন্তব্য কলাম
সংসদে সরকারি ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওভেন এমনকী জানালার পর্দা চাইলো জামায়াত এমপি বিরোধী এমপিদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ ঘোষণা, স্পিকার বললেন ‘আমি কোনোদিন কানাকড়িও পাইনি’ সংসদ সদস্যরা ৫০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ পাবেন এমপিদের জন্য ৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দের আইনী ও ব্যবহারিক প্রতিবন্ধকতা অনেক। এমপিদের জন্য বরাদ্দ প্রদান সংবিধান পরিপন্থী সংসদে বসে সাংসদরাই সংবিধান বিরোধী কাজ এবং নিজস্ব ভোগ বিলাসে তথা লুটতরাজে মত্ত (২য় পর্ব)
, ০৩ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৯ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৮ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ০৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মন্তব্য কলাম
এ প্রসঙ্গে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নীতিনির্ধারক ও জাতীয় সংসদের সদস্যদের প্রতি প্রশ্ন নিবদ্ধ হয়, রাষ্ট্রের সংবিধান ও পরিকল্পনা-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে হলেও এ কাজগুলো এমপিদের মাধ্যমে কেন করতে হবে? এ কাজগুলো স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে সম্পন্ন হলে এমপিদের অসুবিধা কোথায়? দেশের উন্নয়নই যদি শেষ পর্যন্ত সরকারের লক্ষ্য হয়, তাহলে তা কার মাধ্যমে হলো সেটি তো জরুরি নয়। জরুরি হচ্ছে, কাজটি মানসম্মতভাবে হলো কি না, সেটি। আর যার কাজ, সেটি তার মাধ্যমে হওয়াটাই তো একটি দক্ষ ও আদর্শ সরকারব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত।
এলজিইডি এরুপ প্রকল্প প্রণয়নে অতি উৎসাহী হতেই পারেন। কারণ ৮ বিভাগের জন্য যদি বৈদেশিক ঋণের অর্থায়নে পৃথক ৮টি প্রকল্প পাশ করানো যায় তাহলে প্রত্যেক প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক নতুন গাড়ী ক্রয় করার সুযোগ সৃষ্টি হবে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মকর্তার বিদেশ ভ্রমণের ব্যবস্থা থাকবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের একচ্ছত্র অধিকার পাবে এলজিইডি- প্রকল্প পরিচালক হতে পারবেন ৮ জন প্রকৌশলী- কিছু নতুন কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগের সুযোগও সৃষ্টি হবে।
উপজেলা পরিষদ সৃষ্টির পর থেকে উপজেলার উন্নয়নের জন্য থোক উন্নয়ন বরাদ্দ হয়ে আসছে। সে অর্থও মূলতঃ এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশল শাখার মাধ্যমে রাস্তাঘাট-কালভার্ট-হাট বাজার ইত্যাদির উন্নয়ন কাজে ব্যয় হয়ে আসছে। ২০০০ সাল অবধি এরূপ থোক বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৫০ থেকে ৭০/৮০ লক্ষ টাকা। উপজেলা পরিষদের তত্বাবধানে এরুপ ৫০-৬০ লক্ষ টাকা ব্যয় করতে ও উপজেলা প্রকৌশল শাখাকে হিমশিম খেতে হয়েছে।
সংসদ সদস্যদের অনুকূলে দেয়া উন্নয়ন বরাদ্দের বছর ওয়ারী ১০ কোটি টাকা সঠিক বাস্তবায়ন পদ্ধতি অনুসরণে ব্যয়ের সক্ষমতা উপজেলা প্রকৌশল শাখার নেই। তাহলে উপজেলা পরিষদের নিজস্ব উন্নয়ন তহবিলের অর্থ এবং সংসদ সদস্যের অনুকুলে বরাদ্দকৃত ১০ কোটি টাকার প্রকল্প উপজেলা প্রকৌশল শাখা কর্তৃক কিভাবে বাস্তবায়ন করা হবে?
উপজেলা পরিষদের আয়তন তো সীমিত। একটা উপজেলায় যদি পৌরসভা থাকে তাহলে পৌরসভার আওতাধীন এলাকায় পৌরসভা কর্তৃক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়ে থাকে। সেটি উপজেলা পরিষদের আওতামুক্ত। সড়ক-জনপথ বিভাগের আওতাধীন সড়ক ও সেতু থেকে থাকলে সেটি ও উপজেলা পরিষদের আওতামুক্ত। জেলা পরিষদের কোন রাস্তা-হাট বাজার থেকে থাকলে সেটি ও উপজেলা পরিষদের আওতামুক্ত। পৌরসভা- সড়ক ও সেতু বিভাগ এবং জেলা পরিষদের আওতাধীন এলাকাসমূহ বাদ দিলে উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতাধীন এলাকা সীমিত হয়ে পড়ছে। ধরা যাক, একটা উপজেলায় ৫০ থেকে ১০০টা বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা প্রয়োজন এবং সেগুলোর নির্মাণ কাজ ১৯৮৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে শেষ হয়ে গিয়েছে- নতুন করে বক্স কাল্ভার্ট নির্মাণের কোন সুযোগ নেই। সেতু নির্মাণের সক্ষমতা উপজেলা প্রকৌশল শাখার নেই। ধরা যাক, একটা উপজেলায় ১০০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক পাকা করণের আবশ্যকতা ছিলো। যদি ধরে নেয়া হয়, ১৯৮৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে উপর্যুক্ত পরিমাণ কাঁচা সড়ক পাকা করণের কাজ শেষ- তাহলে সংসদ সদস্যের জন্য বরাদ্দকৃত বিশাল অংকের অর্থ দিয়ে সড়ক নির্মাণ/পূনঃনির্মাণ কিংবা সংস্কার করা যাবে কি করে?
এবার আসা যাক, পার্বত্য এলাকায় উপজেলা পরিষদের অনুকূলে বরাদ্দকৃত স্বাভাবিক উন্নয়ন তহবিল দ্বারা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে প্রচুর উন্নয়ন মূলক কাজ করা হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। সংসদ সদস্যদের অনুকূলে বরাদ্দকৃত অর্থ দ্বারা যে ধরণের প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কথা পার্বত্য জেলাসমূহে সে ধরণের কোন প্রকল্প খুঁজে বের করা আদৌ সম্ভব হবে না। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মাটিরাংগা উপজেলায় ১৯৮৯-৯২ সময়কালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার বাস্তব অভিজ্ঞতা আমার রয়েছে। তখন গুইমারা থানা মাটিরাংগার অধীনে ছিল। মাটিরাংগার সংসদ সদস্যের পুরো ৫ বছর সময়কালে এক কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প খুঁজে বের করাও দুষ্কর হবে।
উপজেলা পরিষদ কর্তৃক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকার কর্তৃক প্রতি অর্থ বছরে যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়ে থাকে সেই অর্থ দ্বারা যে ধরণের উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করার কথা সংসদ সদস্যের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের দ্বারা ও একই ধরণের প্রকল্প গ্রহণ করা যাবে। উপজেলা প্রকৌশল শাখা কর্তৃক স্বাভাবিক বরাদ্দ এবং সংসদ সদস্যের জন্য প্রদত্ত বিশেষ বরাদ্দ দ্বারা প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করার কথা। উপজেলা পরিষদের উপদেষ্টা হিসেবে উপজেলা পরিষদের নিজস্ব উন্নয়ন তহবিল দ্বারা প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যের এক ধরণের ভূমিকা থাকবে আবার সংসদ সদস্যের অনুকূলে বরাদ্দকৃত বিশাল অংকের অর্থ দ্বারা প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রেও সংসদ সদসস্যের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকবে। এতে একই ধরণের একটা প্রকল্পের বিপরীতে একাধিকবার অর্থ উত্তোলনের সম্ভাবনা থেকে যাবে। উপজেলা প্রকৌশলী এ কাজে সংসদ সদস্যকে পুরো মাত্রায় সহযোগিতা করবেন বলে ধারণা করা যায়। ওভারলেপিং এড়ানোর লক্ষ্যে সংসদ সদস্যের অনুকূলে প্রদত্ত বিশেষ বরাদ্দ দ্বারা বিশেষ ধরণের প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের বিষয় বিবেচনার অবকাশ রয়েছে।
সংসদ সদস্যের অনুকূলে বরাদ্দকৃত বিশাল অংকের এই অর্থকে তিনি বিবেচনা করতে পারেন তাঁর স্বেচ্ছাদীন তহবিলের মত। তিনি আরো মনে করবেন ব্যয়ের ক্ষেত্র থাকুক আর না থাকুক- তাতে কিছু আসে যায় না- যে কোন উপায়ে তাঁকে পুরো অর্থ ব্যয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। সেরূপ ক্ষেত্রে বিশাল অংকের অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা থেকে যাবে। (ইনশাআল্লাহ চলবে)
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুসলমানকে ‘মুসলমানিত্ব’ বুঝতে হবে। ‘আশহাদু আন্না মুহম্মাদার রসূলুল্লাহ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাক্বীক্বীভাবে বলতে হবে ও আমলে আনতে হবে।
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতি বছর শুধু অসুস্থতার কারণে প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রধানমন্ত্রী নিজেই ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেয়া শুরু করেছেন। বাতিল হয়েছে ‘রাষ্ট্রপতির’ সাথে ‘মহামান্য’ শব্দ ব্যবহারও।
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের সামরিক ব্যয় গত দশকগুলোতে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি মূলত বেতন, স্থায়ী খরচ এবং চলমান পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়েছে। তবে সামরিক আধুনিকায়ন, সমরাস্ত্র ক্রয় এবং নতুন প্রযুক্তি সংযোজনের জন্য মোট বাজেটের মাত্র ২-৪ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ্র পরিক্রমায় চললেই সে প্রজ্ঞা পাওয়া সম্ভব ইনশাআল্লাহ
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!!!!
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সরকারের ঋণের পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ কোটি টাকা
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
তবে কি সাবেক সরকারের অসমাপ্ত ষড়যন্ত্রের সমাপনীর পথেই হাঁটতে চাইছে বর্তমান সরকার?
০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুসলিম দেশগুলোর উচিৎ মক্কা চুক্তিকে আরো বিশুদ্ধ ও বিস্তৃত করা যাতে ভারতের গোস্বা এত বাড়ে যে তাদের গোস্বার অনলেই তারা জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












