সংসদে সরকারি ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওভেন এমনকী জানালার পর্দা চাইলো জামায়াত এমপি বিরোধী এমপিদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ ঘোষণা, স্পিকার বললেন ‘আমি কোনোদিন কানাকড়িও পাইনি’ সংসদ সদস্যরা ৫০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ পাবেন
এমপিদের জন্য ৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দের আইনী ও ব্যবহারিক প্রতিবন্ধকতা অনেক।
এমপিদের জন্য বরাদ্দ প্রদান সংবিধান পরিপন্থী সংসদে বসে সাংসদরাই সংবিধান বিরোধী কাজ এবং নিজস্ব ভোগ বিলাসে তথা লুটতরাজে মত্ত (৩য় পর্ব)
, ১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মন্তব্য কলাম
রাষ্ট্রের কর্ম বিভাগের আওতায় দেশে একটি পরিকল্পনা কমিশন রয়েছে, যার কাজ হচ্ছে দেশের জন্য জাতীয়ভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, অনুমোদন ও সেসবের বাস্তবায়নের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা। সে ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ স্থানীয় পর্যায়ে যেসব উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবে, পরিকল্পনা কমিশন জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সেসবেরও সমন্বয় ও সংযোগসাধন করবে। ফলে দেখাই যাচ্ছে যে রাষ্ট্রের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে পরিকল্পনা কমিশন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের বাইরে বা এর মধ্যবর্তী পর্যায়ে এমপি বা অন্য কারোরই কোনোরূপ উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের সুযোগ নেই।
কিন্তু তা সত্ত্বেও সেটি করা হলে একদিকে তা যেমন সংবিধানের লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে, অন্যদিকে সেটি হবে পরিকল্পনা-শৃঙ্খলারও চরম পরিপন্থী কাজ। কোনো নির্বাচিত ও দায়িত্বশীল সরকারেরই সেটি করা সমীচীন হবে না।
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে দেশের নির্বাচিত সরকারগুলো গত প্রায় তিন দশক ধারাবাহিকভাবে সংবিধান পরিপন্থী এ কাজ করে যাচ্ছে, যার শুরুটা অষ্টম জাতীয় সংসদের আওতায় ২০০৫-০৬ অর্থবছরে।
সংসদ সদস্যদের পছন্দমতো রাস্তাঘাট ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে এ ধরনের বরাদ্দ নিয়ে অতীতে দুই ধরনের প্রশ্ন উঠেছিল। প্রথমত, এ ধরনের বরাদ্দের মাধ্যমে নেওয়া প্রকল্পে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি হয়। কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো, স্থানীয় উন্নয়নের দায়িত্ব স্থানীয় সরকারের। সংসদ সদস্যদের কাজ আইন প্রণয়ন করা। সেখানে সংসদ সদস্যদের পছন্দমতো রাস্তাঘাট ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ কেন?
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের চেয়ে ভিন্ন পদ্ধতিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার। একসঙ্গে নয়, আটটি বিভাগের সংসদীয় আসনের জন্য আলাদা আটটি প্রকল্প নেওয়া হবে।
নিজেদের পছন্দমতো রাস্তাঘাট ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ পাবেন ২৭৯ জন সংসদ সদস্য।
সূত্র জানিয়েছে, ২৭৯ জন সংসদ সদস্যের নির্বাচনী আসনের জন্য ৫০ কোটি টাকা ধরে পাঁচ বছরে মোট ব্যয় হবে ১৩ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা। আরও ১ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে প্রকল্পের জনবল নিয়োগ, বেতন-ভাতা ও অন্যান্য খাতে।
দুর্নীতি প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করা সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ২০২০ সালে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় করা ৬২৮টি কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বহুমাত্রিক দুর্নীতি ও অনিয়মের চিত্র উঠে আসে। বলা হয় ৩৩ শতাংশ স্কিমে কাজের মান খুবই খারাপ ছিল।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদে বলা আছে, সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব আইন প্রণয়ন করা। আর ৫৯ অনুচ্ছেদে আছে, স্থানীয় উন্নয়ন স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব।
টিআইবির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এসব কাজে মোট ব্যয়ের ৮ থেকে প্রায় ১৩ শতাংশ হারে কমিশন বাণিজ্য হয়। এসবের বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জড়িত থাকেন এলজিইডির কর্মীরা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংসদ সদস্য তাঁর ক্ষমতাবলে সরাসরি বিভিন্ন কর্মসূচির কাজ তাঁর পরিবারের সদস্য, আত্মীয় ও দলের কর্মী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে বণ্টন করে দেয়।
টিআইবি জানায়, বিগত সরকারের সময়ে সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী আসনে বরাদ্দ নিয়ে করা গবেষণায় তাঁরা দলীয়করণ, টাকার অপচয় ও দুর্নীতি পেয়েছে। এবার যদি এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা থাকে, তাহলে আগের চেয়ে বেশি গুরুতর অভিযোগ উঠবে।
স্থানীয় উন্নয়নকাজে সংসদ সদস্যদের যুক্ত করা উচিত কি না, তা নিয়ে বিতর্ক চলছে বহুদিন ধরে। এক্ষেত্রে হালুয়া রুটির ভাগ নিয়ে সংসদ সদস্য এবং জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে জেলা পরিষদ ও উপজেলা চেয়ারম্যানদের দ্বন্দ্ব পুরোনো।
আর এসব বিবেচনা থেকে সরকারের উচিত হবে প্রত্যেক এমপিকে বরাদ্দ দেওয়া-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত থেকে যত দ্রুত সম্ভব সরে আসা। সংসদে দাঁড়িয়ে এমপিরা অনর্গল যেসব স্থানীয় দাবিদাওয়া নিয়ে সংসদ অধিবেশন সরব করে রাখছেন, সেসব থেকেও তাঁদের বিরত থাকতে হবে। কারণ, সংসদ এসব দাবিদাওয়া উত্থাপনের উপযুক্ত স্থান নয় এবং এসব দাবিদাওয়া উত্থাপন তাঁদের কাজও নয়।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুসলমানকে ‘মুসলমানিত্ব’ বুঝতে হবে। ‘আশহাদু আন্না মুহম্মাদার রসূলুল্লাহ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাক্বীক্বীভাবে বলতে হবে ও আমলে আনতে হবে।
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতি বছর শুধু অসুস্থতার কারণে প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রধানমন্ত্রী নিজেই ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেয়া শুরু করেছেন। বাতিল হয়েছে ‘রাষ্ট্রপতির’ সাথে ‘মহামান্য’ শব্দ ব্যবহারও।
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের সামরিক ব্যয় গত দশকগুলোতে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি মূলত বেতন, স্থায়ী খরচ এবং চলমান পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়েছে। তবে সামরিক আধুনিকায়ন, সমরাস্ত্র ক্রয় এবং নতুন প্রযুক্তি সংযোজনের জন্য মোট বাজেটের মাত্র ২-৪ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ্র পরিক্রমায় চললেই সে প্রজ্ঞা পাওয়া সম্ভব ইনশাআল্লাহ
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!!!!
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সরকারের ঋণের পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ কোটি টাকা
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
তবে কি সাবেক সরকারের অসমাপ্ত ষড়যন্ত্রের সমাপনীর পথেই হাঁটতে চাইছে বর্তমান সরকার?
০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুসলিম দেশগুলোর উচিৎ মক্কা চুক্তিকে আরো বিশুদ্ধ ও বিস্তৃত করা যাতে ভারতের গোস্বা এত বাড়ে যে তাদের গোস্বার অনলেই তারা জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












