নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি পশু-পাখিদের মহব্বত ও সম্মান প্রদর্শনের কিছু নমুনা (১)
, ০৪ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৮ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ০১ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) মহিলাদের পাতা
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকের আঞ্জাম দেয়ার জন্য সমস্ত কায়িনাত, হাজারাত, শাজারাত, জিন-ইনসান, বনের পশু-পাখি সকলেই ব্যাকুল ছিলো। হযরত কারামত আলী জৈনপুরী রহমতুল্লাহি তিনি উনার ‘আল বারাহীনুল ক্বতইয়্যিাহ’ কিতাবে ‘মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়াহ’ কিতাবের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের পর গাইব হতে নেদা হলো এই মুক্তা দানা সদৃশ্য একক মর্যাদা মুবারক উনার অধিকারী মহান বালক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতিপালন কে করবে? তখন পাখিরা বললো-
نَحْنُ نَكْفُلُهُ وَنَغْنَمُ خِدْمَتَهُ الْعَظِيمَةَ غَنَمًا
‘আমরা উনার দায়িত্বভার গ্রহণ করবো এবং উনার মহান খেদমত মুবারক করার সুযোগকে পরম সৌভাগ্য ও বিরাট অর্জন হিসেবে মনে করবো।’
আর পশুরা বললো-
نَحْنُ اَوْلَى بِذَالِكَ نَنَالُ شَرفَهُ وَتَعْظِيْمَهُ نَيْلًا
‘আমরাই উনার খিদমত মুবারকে আঞ্জাম দেয়ার অধিক হক্বদার। কাজেই আমরাই এই মহান বুজূর্গী ও সম্মান প্রাপ্ত হবো।’
তখন পুনরায় গাইবী নেদা হলো, হে সমস্ত সৃষ্টিকুল তোমরা জেনে রাখো! মহান আল্লাহ পাক তিনি পূর্বেই লিখে রেখেছেন, উনার মহাসম্মানিত নবী-রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত দুধমাতা হবেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুর রদ্বায়াহ আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম (সাইয়্যিদাতুনা হযরত হালীমাহ সা’দিয়াহ আলাইহাস সালাম) তিনি। অর্থাৎ তিনিই উনার খিদমত মুবারকে আঞ্জাম দিবেন। সুবহানাল্লাহ!
পরবর্তী সময়েও গাছ-পালা, পশু-পাখী, পাথর ইত্যাদি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বিভিন্নভাবে সম্মান প্রদর্শন করেছে, উনাকে তা’যীম-তাকরীম করেছে, মহাসম্মানিত রেসালাত মুবারক উনার সাক্ষ্য প্রদান করেছে। এখঅনে কতিপয় ওয়াক্বেয়াহ বর্ণনা করা হলো।
(১)
নেকড়ে কর্তৃক সম্মানিত রেসালাত মুবারক উনার সাক্ষ্য প্রদান:
পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ: بَيْنَمَا رَاعٍ يَرْعَى بِالْحَرَّةِ، إِذْ نَهَزَ الذِّئْبُ شَاةً، فَحَالَ الرَّاعِي بَيْنَ الذِّئْبِ وَالشَّاةِ، فَأَقْعَى الذِّئْبُ عَلَى ذَنَبِهِ فَقَالَ لِلرَّاعِي: أَلَا تَتَّقِي اللهَ عَزَّ وَجَلَّ، تَحُولُ بَيْنِي وَبَيْنَ رِزْقٍ سَاقَهُ اللهُ إِلَيَّ؟ فَقَالَ الرَّاعِي: الْعَجَبُ مِنَ الذِّئْبِ يُقْعِي عَلَى ذَنَبِهِ وَيُكَلِّمُنِي بِكَلَامِ الْإِنْسِ فَقَالَ الذِّئْبُ لِلرَّاعِي: أَلَا أُحَدِّثُكَ بِأَعْجَبَ مِنِّي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ الْحَرَّتَيْنِ يُحَدِّثُ النَّاسَ بِأَنْبَاءِ مَا قَدْ سَبَقَ، فَسَاقَ الرَّاعِي شَاءَهُ إِلَى الْمَدِينَةِ، فَزَوَّاهَا إِلَى زَاوِيَةٍ مِنْ زَوَايَاهَا ثُمَّ دَخَلَ عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَحَدَّثَهُ بِمَا قَالَ الذِّئْبُ فَخَرَجَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى النَّاسِ فَقَالَ لِلرَّاعِي: أَخْبِرِ النَّاسَ بِمَا رَأَيْتَ، فَقَامَ الرَّاعِي يُحَدِّثُ النَّاسَ بِمَا قَالَ الذِّئْبُ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَدَقَ الرَّاعِي
অর্থ: হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার একজন রাখাল হাররাহ অঞ্চলে পশু চরাচ্ছিল। এমন সময় একটি নেকড়ে একটি ভেড়াকে ধরার জন্য তাড়া করলো। তখন রাখাল নেকড়ে ও ভেড়ার মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়াল। নেকড়েটি তার লেজের উপর ভর দিয়ে বসে পড়ল এবং রাখালকে বলল, সাবধান! তুমি মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো। তুমি আমার ও সেই রিযিক্বের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছ, অথচ তা মহান আল্লাহ পাক তিনি আমার জন্য পাঠিয়েছেন!
রাখাল বলল, এতো আশ্চর্যের বিষয়! একটি নেকড়ে তার লেজের উপর বসে আমার সঙ্গে মানুষের ভাষায় কথা বলছে! তখন নেকড়েটি রাখালকে বলল, আমি কি তোমাকে আমার চেয়েও অধিক আশ্চর্যজনক একটি বিষয়ের সংবাদ দেব না? মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দুই হাররাহর মধ্যবর্তী স্থানে (পবিত্র মদীনা শরীফে) মানুষকে পূর্ববর্তী ঘটনাবলীর সংবাদ দিচ্ছেন।
অতঃপর রাখাল তার ভেড়াগুলোকে নিয়ে পবিত্র মদীনা শরীফে আসলো এবং সেগুলোকে শহরের এক কোণে জড়ো করে রাখল। তারপর সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারকে উপস্থিত হয়ে নেকড়ের কথাগুলো বর্ণনা করল।
তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের নিকট তাশরীফ মুবারক নিলেন। অতঃপর রাখালকে বললেন, তুমি যা দেখেছ তা সবার সম্মুখে বর্ণনা করো। তখন রাখাল দাঁড়িয়ে সবার নিকট নেকড়ের কথাগুলো বর্ণনা করল।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন-
صَدَقَ الرَّاعِي
‘রাখাল সত্য বলেছে।’
(ছহীহ ইবনে হিব্বান ১৪/৪১৯, শরহু মুশকিলিল আছার ১৫/৪৮০, দালায়িলুন নুবুওওয়াহ ৬/৪১ ইত্যাদি)
-মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহিলাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ নির্দেশনা মুবারক- পর্দা পালন করা
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নছীহত মুবারক: মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির সমস্ত কামিয়াবীর সোপান (১ম পর্ব)
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহিলাদের জামায়াতের জন্য মসজিদে ও ঈদগাহে যাওয়া হারাম ও কুফরী (৪)
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইখলাছ অর্জন করা ফরজ; ইখলাছ ছাড়া ইবাদত-বন্দেগী কবুল হয় না
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহিলাদের জন্য হাত, পা ও চেহারা আবৃত করে ঘর থেকে বের হওয়া ফরজ। খোলা রেখে বের হওয়া হারাম, জায়েয বলা কুফরী (৩)
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












