মন্তব্য কলাম
মৃত আইন- “পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি-১৯০০”: অখ-তার পথে এক ঔপনিবেশিক কাঁটা
, ২২ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১১ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১১ মে, ২০২৬ খ্রি:, ২৯ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) মন্তব্য কলাম
একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের ভেতরে যখন ভিন্ন কোনো প্রশাসনিক বিধিমালা বা সমান্তরাল শাসনব্যবস্থা চালু থাকে, তখন সেই রাষ্ট্রের অখ-তা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া স্বাভাবিক। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই অসংগতির নাম ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি-১৯০০’ বা ‘সিএইচটি ম্যানুয়াল’। ব্রিটিশ শাসনামলে নিজেদের ডিভাইড অ্যান্ড রুল (ভাগ করো এবং শাসন করো) নীতি বাস্তবায়ন করতে তারা এই দুর্গম পাহাড়কে মূল ভূখ- থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার যে অবৈধ আইনি প্রাচীর তৈরি করেছিল, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও সেই ঔপনিবেশিক বোঝা বয়ে বেড়ানো কেবল আত্মঘাতীই নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক চরম হুমকি।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, এ দেশ একটি একক ও অখ- প্রজাতন্ত্র। সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদ স্পষ্টত নাগরিকের সম অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়। কিন্তু ১৯০০ সালের এই বিতর্কিত আইন পাহাড়ের এক-দশমাংশ ভূখ-ে এক অদ্ভুত বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা টিকিয়ে রেখেছে। এই বিধির দোহাই দিয়ে সেখানে বাংলাদেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর প্রবেশাধিকার, ভূমির মালিকানা এবং সাধারণ নাগরিক সুযোগ-সুবিধাকে চরমভাবে সীমিত করা হয়েছে। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে এক দেশের নাগরিক অন্য অংশে গিয়ে জমি কিনতে পারবে না কিংবা সেখানে বসবাস করতে গিয়ে বৈষম্যের শিকার হবে-এমন উদাহরণ আধুনিক বিশে^ বিরল।
পার্বত্য শাসনবিধি ১৯০০ বাতিলের দাবি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা জাতিসত্তার বিরুদ্ধে নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের অখ-তা রক্ষার দাবি। দীর্ঘকাল ধরে এই বিশেষ বিধিমালার সুযোগ নিয়ে আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো পাহাড়কে এক প্রকার ‘নিষিদ্ধ অঞ্চল’ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। তারা এই বিধিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের মূলে কুঠারাঘাত করতে চায়। বিশেষ এই শাসনব্যবস্থার কারণে পাহাড়ে বাংলাদেশের মূল ধারার আইনকানুন ও প্রশাসনিক কর্তৃত্ব প্রয়োগে নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়, যা কার্যত সেখানে একটি ‘রাষ্ট্রের ভেতরে আরেকটি রাষ্ট্র’ জন্ম দিচ্ছে।
ঔপনিবেশিকতার অবসান হয়েছে বহু আগে। ব্রিটিশরা চলে গেছে, পূর্ব পাকিস্তান ভেঙ্গে বাংলাদেশ হয়েছে। তবে পাহাড়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় সেই ১৯০০ সালের বৃটিশদের প্রেতাত্মাকে কেন এখনো লালন করা হচ্ছে? এই আইনের দোহাই দিয়েই পাহাড়ে উন্নয়নের গতি মন্থর রাখা হচ্ছে এবং একটি বিশেষ পক্ষকে উসকে দেওয়া হচ্ছে বিচ্ছিন্নতার পথে। জাতীয় স্বার্থে এখন সময় এসেছে এই বৈষম্যমূলক ও বিভাজন সৃষ্টিকারী আইনটিকে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করার। সমগ্র বাংলাদেশে একটি একক ভূমি ব্যবস্থা এবং একই প্রশাসনিক আইন বলবৎ না করলে পাহাড়ের অশান্তি ও বিচ্ছিন্নতার বীজ কখনোই উপড়ে ফেলা সম্ভব হবে না।
মনে রাখা প্রয়োজন, সার্বভৌমত্ব কোনো আপসযোগ্য পণ্য নয় যে একে বিশেষ অঞ্চলের স্বার্থে ইজারা দেওয়া হবে। পাহাড় ও সমতলের মাঝে আইনের যে অলঙ্ঘনীয় দেয়াল তুলে দেওয়া হয়েছে, তা ভাঙতে দেরি করলে খেসারত দিতে হবে গোটা জাতিকে।
বিশেষ করে ২০০৩ সালের ১৩ মে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এই মামলার রায়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু পর্যবেক্ষণ দেয় যা নি¤œরুপ:
আদালত ঘোষণা করে যে, ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশনটি বর্তমানে একটি 'মৃত আইন' বা 'উবধফ খধ'ি। সেই রায়ে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধান প্রবর্তিত হওয়ার পর কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের জন্য পৃথক বা বিশেষ শাসন ব্যবস্থা থাকতে পারে না। আদালত মনে করেছিল, এই আইনটি বজায় রাখা দেশের সার্বভৌমত্ব এবং নাগরিকদের জন্য 'আইনের দৃষ্টিতে সমতা'র নীতির পরিপন্থী, আদালতের সেই রায় ছিলো বাস্তব এবং স্বাধীনতার চেতনার সাথে পরিপূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
কিন্তু তারপরেও আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরও যারা ব্রিটিশদের তৈরি করা স্বাধীনতা বিরোধী আইনকে ‘অধিকার’ বলে আঁকড়ে ধরতে চায়, তাদেরকে গ্রেফতার করে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। একটি পতাকার নিচে দুই রকমের নাগরিকত্ব থাকতে পারে না।
-মুহম্মদ কুররাতুল আইন হায়দার।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুদী মহাজন ও বড় চোর, সমকামীমনা, ১৬৮ মামলার আসামী, দেশ বিক্রিকারী মার্কিন চুক্তিকারী, ক্ষমতার মসনদে বসে অর্থ লুটকারী, অন্যায় সুবিধা গ্রহণকারী, পাহাড় সম অপরাধ মব-সন্ত্রাসের জনক কুখ্যাত ইউনুসের প্রতি ভীষণ বীতশ্রদ্ধ।
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সুদী মহাজন ও বড় চোর, সমকামীমনা, ১৬৮ মামলার আসামী, দেশ বিক্রিকারী মার্কিন চুক্তিকারী, ক্ষমতার মসনদে বসে অর্থ লুটকারী, অন্যায় সুবিধা গ্রহণকারী, পাহাড় সম অপরাধ মব-সন্ত্রাসের জনক কুখ্যাত ইউনুসের প্রতি ভীষণ বীতশ্রদ্ধ। এই কুলাঙ্গার আবারো ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে, রাষ্টের শীর্ষ পদে তথা প্রেসিডেন্ট পদে আলোচনায় আসে কি করে? নেপথ্যে কি মার্কিন দূত গর? অথচ “ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়”- বিএনপির শ্লোগান
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের সামরিক কৌশল বাড়ানো উচিত
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিএনপির নেতা কর্মী বর্তমান উপদেষ্টা মন্ত্রীরা-এমপিরাও, সুদী মহাজন ও বড় চোর, সমকামীমনা, ১২৬ মামলার আসামী, দেশ বিক্রিকারী মার্কিন চুক্তিকারী, ক্ষমতার মসনদে বসে অর্থ লুটকারী, অন্যায় সুবিধা গ্রহণকারী, পাহাড় সম অপরাধ মব-সন্ত্রাসের জনক কুখ্যাত ইউনুসের প্রতি ভীষণ বীতশ্রদ্ধ।
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
এই কুলাঙ্গার আবারো ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে, রাষ্টের শীর্ষ পদে তথা প্রেসিডেন্ট পদে আলোচনায় আসে কি করে? নেপথ্যে কি মার্কিন দূত গর? অথচ “ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়”- বিএনপির শ্লোগান
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আম্রিকা, চীন, ভারত, রাশিয়া সবার নজর বাংলাদেশের দিকে।
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নতুন নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের অজুহাতে চলছে শোষণ প্রকল্প।
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর দ্বীনদার ব্যক্তির জন্য দ্বীন ইসলামই সবচেয়ে বড়
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইহুদীরাই আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট বানায়, নামায় তথা আমেরিকা চালায়।
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘ছবি’ ও ‘বেপর্দা’- বর্তমানে সমস্ত পাপ কাজের মূল উৎস
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
তেল আমদানিতে আমাদের যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়, এতে আমাদের রিজার্ভে চাপ পড়ে। সমস্যা কৃষকের সক্ষমতায় নয়, বরং নীতিগত অগ্রাধিকার ও বিনিয়োগের ঘাটতিতে।
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে ভারতীয় খপ্পরে বাংলাদেশ!
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












