স্থাপত্য-নিদর্শন
মুসলমানদের শিল্পকলার এক অনন্য নিদর্শন ইসলামী মৃৎপাত্র (২)
, ০৮ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ৫ ছানী, ১৩৯৩ শামসী সন , ৪ জুলাই, ২০২৫ খ্রি:, ২০ আষাঢ়, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) স্থাপত্য নিদর্শন
(গত ২১ যিলহজ্জ শরীফের পর)
পদ্ধতি সম্মতভাবে উৎখননের অভাবে প্রাথমিক ইসলামী যুগের মৃৎপাত্রের শ্রেণি বিন্যাস ও তারিখ নির্ণয়করণ কষ্টসাধ্য বলে মনে হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব প্রতœউপকরণ ব্যবসায়ী কর্তৃক সরবরাহ করায় প্রকৃত প্রাপ্তিস্থল অজানা রয়ে যায় এবং অনুমান ভিত্তিক প্রতœস্থল লিপিবদ্ধ করা হয়। ফলে এগুলোর সময় বা তারিখ বিভাজন সম্পর্কে প্রশ্ন ওঠে।
এগুলোকে অলঙ্করণ মটিফের সাদৃশ্য বিবেচনায় অষ্টম শতাব্দীর মৃৎপাত্র বলে মত প্রকাশ করেছেন। অথচ এগুলোর প্যাটার্ন ও মটিফ পরবর্তী যুগেও পরিদৃষ্ট হয়। এই সংক্ষিপ্ত ভূমিকার পর অষ্টম-দশম শতাব্দীর মৃৎপাত্রের অলঙ্করণ বিভাজনের ওপর নিম্নে আলোকপাত করা হলো-
উঁচু নকশা অলঙ্করণ ও এক-রঙা কাঁচসদৃশ উজ্জ্বল প্রলেপ সম্বলিত মৃৎপাত্র:
এক-রঙা উজ্জ্বল উপকরণের প্রলেপযুক্ত আব্বাসীয় আমলের মৃৎপাত্র দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়। প্রথম শ্রেণির অধিভুক্ত করা হয় এমন বৃহৎ মৃৎপাত্র যা নীল অথবা সবুজ উজ্জ্বল প্রলেপ দ্বারা আচ্ছাদিত। টানারেখা ও পাকানো লতাগুল্ম জাতীয় বস্তুর (স্ক্রোল) স্ফীত নকশা অলঙ্করণ বারবোটাইন (নধৎনড়ঃরহব) টেকনিক প্রয়োগ করে সম্পন্ন করা হয় যেমনটি অনুজ্জ্বল মৃন্ময়পাত্রের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়।
ধূমনলের মধ্য দিয়ে স্বল্প আর্দ্র মাটি তপ্তকরণের প্রক্রিয়াকে বারবোটাইন টেকনিক বলা হয়। হজ্জযাত্রীর বহনযোগ্য বোতলসহ ক্ষুদ্র খাবার খাঞ্চা, পিয়ালা ও অন্যান্য পাত্রাদি স্বল্প স্ফীত অলঙ্করণ সবুজ চকচকে উপকরণে প্রলেপযুক্ত হয়ে মৃৎপাত্রারি উৎকৃষ্ট উদাহরণ উপস্থাপন করেছে। সামাররা ও সুসায় পরিদৃষ্ট এই জাতীয় মৃৎপাত্রারি অলঙ্করণে জ্যামিতিক রেখাচিত্র, এরাবেস্ক ও লতাগুল্ম মটিফ প্রত্যক্ষ করা যায়। প্রথম শ্রেণির প্রাসঙ্গিকতায় দ্বিতীয় শ্রেণিভুক্ত করা যায় ক্ষুদ্র পাত্রাদি যেগুলোর অধিকাংশ খাবার ডিস বা খাঞ্চা। আর এগুলো পরিববৃত হলুদ বর্ণের ক্ষার সীসার ঔজ্জ্বল্যে, আবার কোনো সময় এগুলোর উপরিভাগ স্বর্ণ-ঔজ্জ্বল্যে সুশোভিত। যদিও এগুলো প্রকৃত স্বর্ণ-ঔজ্জ্বল্যে ম-িত তবুও কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ এগুলো খেতে স্বর্ণের মতো প্রকৃত স্বর্ণের আবরণ বলে মনে করেন।
তবে সামাররা, টেসিফোন, সুসা, রাই ও ফুসতাতে প্রাপ্ত অত্যন্ত চমকার মৃৎপাত্রাদির খন্ডাংশ নিরীক্ষা করে বলা যায় যে, এগুলো প্রকৃত লাস্টার বা স্বর্ণ-ঔজ্জ্বল্যের মৃৎপাত্র যার চাকচিক্য লোহা ও কালাই করা ধাতুর সংমিশ্রণে সৃষ্টি হয়েছে। সম্ভবত স্বর্ণ-পাত্রের অনুকরণে এসব মৃৎপাত্র তৈরি করা হয়েছে। (অসমাপ্ত)
-মুহম্মদ নাইম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৪র্থ পর্ব)
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৩য় পর্ব)
০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান”
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (১ম পর্ব)
২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (৩)
১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (২)
১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (১)
০৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খেজুরের পাতায় লিখা পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ
২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মোঘল আমলের ইদ্রাকপুর দুর্গ
২১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের উজ্জ্বল সাক্ষী সাতৈর শাহী মসজিদ (১)
০৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
অস্থায়ী হাসপাতাল নির্মাণে মুসলমানদের অবদান
২৩ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মালয়েশিয়ার ঐতিহাসিক মসজিদ “মসজিদ নেগারা”
১৬ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












