বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় ৫০ লক্ষ সেনাবাহিনীর অপ্রতিরোধ্যকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির বিবরণ (পর্ব ৬)
, ০২ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৯ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৮ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ০৪ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) মন্তব্য কলাম
* প্রতিরক্ষার ডিজিটাল বর্ম: ৫০ লক্ষ বাহিনীর একক কমান্ড ও সামরিক স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের অপরিহার্য রোডম্যাপ :
একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে বিজয়ের প্রধান শর্ত কেবল সৈন্যসংখ্যা বা ভারী যুদ্ধাস্ত্র নয়; বরং যুদ্ধক্ষেত্রের আসল নিয়ন্ত্রণ লুকিয়ে থাকে তথ্যপ্রযুক্তির শ্রেষ্ঠত্ব এবং নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর। নেটওয়ার্ক-সেন্ট্রিক ওয়ারফেয়ার বা তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধকৌশলের এই যুগে যেকোনো বাহিনীর জন্য ‘লজিস্টিকস ও কমিউনিকেশন’ হলো মূল ¯œায়ুকেন্দ্র। বিশেষ করে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একটি বিশাল বাহিনীকে একক কমান্ডের অধীনে কার্যকর রাখতে হলে প্রথাগত যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে সম্পূর্ণ নিরাপদ, সাইবার-সুরক্ষিত এবং জ্যামিং-প্রতিরোধী আইটি ও যোগাযোগ পরিকাঠামো গড়ে তোলা আজ সময়ের দাবি।
একটি বিশাল বাহিনীকে রিয়েল-টাইমে (একই সময়ে) যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি আদান-প্রদান এবং নিখুঁতভাবে পরিচালনা করতে শক্তিশালী কমান্ড, কন্ট্রোল ও ইন্টেলিজেন্স লজিস্টিকস ব্যবস্থা গড়ে তোলা আবশ্যক। এর জন্য প্রথম এবং প্রধান লজিস্টিক সাপোর্ট হলো একটি নিজস্ব মিলিটারি গ্রেড স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক। শত্রুপক্ষের শক্তিশালী ইলেকট্রনিক জ্যামিং কিংবা সাইবার আক্রমণের মুখেও এই ব্যবস্থা যেন দেশের স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীর মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি ফিল্ড ইউনিটের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত ব্যাটল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং সুরক্ষিত ‘ট্যাকটিক্যাল ডেটা লিংক’ থাকা জরুরি, যা যুদ্ধের ময়দানে ড্রোন, রাডার এবং ইনফ্যান্ট্রির পাঠানো ডেটা সেকেন্ডের মধ্যে বিশ্লেষণ করে সুনির্দিষ্ট কমান্ড দিতে সক্ষম হবে।
এই বিশাল এবং অত্যাধুনিক আইটি ও যোগাযোগ পরিকাঠামো রাতারাতি একক প্রচেষ্টায় গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এই ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত ও সামরিক দিক থেকে বন্ধুপ্রতিম তিন রাষ্ট্র-তুরস্ক, পাকিস্তান এবং ইরানের আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গেম-চেঞ্জার হতে পারে।
একটি অজেয় নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে এই তিন দেশ থেকে যে ধরনের সরঞ্জামাদি এবং কৌশলগত সহায়তা প্রয়োজন, তার একটি সম্ভাব্য রূপরেখা নিচে দেয়া হলো:
তুরস্কের নেটওয়ার্ক ও প্রিসিশন টেকনোলজি:
মিলিটারি সিগন্যাল ও সাইবার সিকিউরিটিতে তুরস্কের ‘আসেলসান’ ও ‘হাভেলসান’ -এর মতো বৈশি^কমানের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তুরস্ক থেকে অন্তত ৫০০টিরও বেশি হাই-টেক মিলিটারি গ্রেড মোবাইল কমান্ড সেন্টার, ১০ হাজারেরও বেশি জ্যামিং-প্রতিরোধী ট্যাকটিক্যাল ডেটা লিংক টার্মিনাল এবং শতভাগ সুরক্ষিত এআই-চালিত ব্যাটল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার লাইসেন্স প্রয়োজন। এগুলো স্থল ও আকাশসীমার লজিস্টিকসকে এক সুতোয় বেঁধে ফেলবে।
পাকিস্তানের কৌশলগত ও স্যাটেলাইট অভিজ্ঞতা:
নিজস্ব সামরিক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ ও কৌশলগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ‘স্পারকো’ এবং সামরিক সিগন্যাল কোরের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। পাকিস্তানের কারিগরি সহযোগিতায় বাংলাদেশের প্রথম নিজস্ব ডেডিকেটেড ‘মিলিটারি কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট’ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা প্রয়োজন। এর পাশাপাশি পাকিস্তান থেকে অন্তত ৫০ হাজার থ্রি-লেয়ার এনক্রিপ্টেড ট্যাকটিক্যাল রেডিও সিস্টেম এবং স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং গ্রাউন্ড স্টেশন লজিস্টিকস সংগ্রহ করা যেতে পারে, যা যেকোনো পার্বত্য বা নদীমাতৃক রিমোট অঞ্চলেও যোগাযোগ সচল রাখবে।
ইরানের কস্ট-ইফেক্টিভ ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ও জ্যামিং-প্রতিরোধী প্রযুক্তি:
মার্কিন ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও সাইবার আক্রমণের মুখেও ইরান যেভাবে নিজস্ব ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ও রাডার জ্যামিং প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, তা বিশ^জুড়ে স্বীকৃত। ইরানের এই ‘লো-কস্ট, হাই-ইমপ্যাক্ট’ ফর্মুলা থেকে আমাদের অন্তত ২ হাজারেরও বেশি কাউন্টার-সাইবার ডিফেন্স ইউনিট, মোবাইল রাডার জ্যামার এবং স্যাটেলাইট সিগন্যাল প্রটেকশন গিয়ার আনা প্রয়োজন, যা শত্রুর যেকোনো আকস্মিক ই-অ্যাটাক বা সাইবার ব্ল্যাকআউটকে মুহূর্তের মধ্যে নস্যাৎ করে দেবে।
তবে কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- এই বিশাল পরিমাণ সরঞ্জাম কেবল আমদানি করার মধ্যে কোনো স্থায়ী সমাধান নেই। দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার স্বার্থে তুরস্কের সফটওয়্যার মেধা, পাকিস্তানের স্যাটেলাইট প্রযুক্তি এবং ইরানের ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার কৌশলের ‘ট্রান্সফার অফ টেকনোলজি’ বা প্রযুক্তি হস্তান্তর নিশ্চিত করতে হবে। দেশের মাটিতেই যেন এসবের মেইনটেইন্যান্স ও আপগ্রেডেশন করা যায়, সেই সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।
একটি বিশাল বাহিনীর জন্য এই আধুনিক ডিজিটাল ও স্যাটেলাইট বর্ম কেবল একটি সামরিক আধুনিকায়ন নয়, এটি দেশের অখ-তা রক্ষার প্রধান গ্যারান্টি। আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং দেশের আকাশ ও সীমানাকে যেকোনো বহিঃশত্রুর সাইবার বা সামরিক আগ্রাসন থেকে সম্পূর্ণ অনতিক্রম্য করে তুলতে এই ত্রিমুখী প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব ও লজিস্টিকস সাপোর্ট নিশ্চিত করা এখন কেবল কৌশলগত পছন্দ নয়, বরং সময়ের অমোঘ জাতীয় কর্তব্য।
- মুহম্মদ শামসিত তাবরিজ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় ৫০ লক্ষ সেনাবাহিনীর অপ্রতিরোধ্যকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির বিবরণ (পর্ব- ৫)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
“বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে ১৪০টির বেশি দেশে”- গত পরশু (৮ই জুন) এই বিবৃতি দেয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী ভেবে দেখবেন মার্কিনীদের সাথে করা গোলামী চুক্তিতে তার এই উচ্ছাস পুরোটাই গভীর এবং চরম-পরম উৎকণ্ঠায় পর্যবসিত হয়েছে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের জন্যও মহা ধ্বংস প্রক্রিয়া বাংলাদেশের ৫১ কোটি নাগরিকের নিরাপত্তা নির্মূলীকরণ প্রক্রিয়া। মহা আত্মঘাতী, সর্বনাশী, দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রিকারী এ চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে (২য় পর্ব)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বাংলাদেশের মহাকাশ প্রতিরক্ষা কৌশল: ৫০ লক্ষাধিক বহরের সমন্বিত বাহিনীর জন্য কৃত্রিম উপগ্রহ প্রযুক্তির রূপরেখা (পর্ব-৪)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১১)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বর্তমান জ্বালানী সংকটে অনেক দেশই এখন কয়লার দিকে ঝুকছে। কয়লার উপর নির্ভরতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। দেশে বিপুল পরিমাণ কয়লার মজুদ থাকার পরও রহস্যজনকভাবে তা উত্তোলনে আগ্রহ নেই সরকারের। ৭ হাজার ৮০০ মিলিয়ন টন কয়লা মজুদের দেশে কয়লার ঘাটতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ কেন?
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা: ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১০)
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৯)
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম মিয়াজাকি, পুষ্টিগুণেও ভরপুর
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
“বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে ১৪০টির বেশি দেশে”- গত পরশু (৮ই জুন) এই বিবৃতি দেয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী ভেবে দেখবেন মার্কিনীদের সাথে করা গোলামী চুক্তিতে তার এই উচ্ছাস পুরোটাই গভীর এবং চরম-পরম উৎকণ্ঠায় পর্যবসিত হয়েছে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের জন্যও মহা ধ্বংস প্রক্রিয়া বাংলাদেশের ৫১ কোটি নাগরিকের নিরাপত্তা নির্মূলীকরণ প্রক্রিয়া। মহা আত্মঘাতী, সর্বনাশী, দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রিকারী এ চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে (১ম পর্ব)
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
শুধু একটি মৃত্যুর খবর, নাকি একটি সমাজের ভবিষ্যৎ?
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সস্তা জনপ্রিয়তার বিপরীতে সস্তা জনরোষের পথেই কী হাটতে চায় সরকার? মাত্র ১০/১৫ হাজার কোটি টাকার জন্য ওয়াদা খেলাফ করে বিদ্যুতের দাম আবার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির আগুনে আরো ঘি ঢালছে সরকার। জনভোগান্তির জুলুম থেকে সরে আসতে হবে সরকারকে।
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৮)
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












