মন্তব্য কলাম
বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় ৫০ লক্ষ সেনাবাহিনীর অপ্রতিরোধ্যকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির বিবরণ (পর্ব- ৫)
, ০১ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৮ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৭ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ০৩ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) মন্তব্য কলাম
একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের কৌশলগত মানচিত্র আমূল বদলে গেছে। ইউক্রেন যুদ্ধ দথেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্য কিংবা ককেশাস অঞ্চলের সাম্প্রতিক সংঘাতগুলো প্রমাণ করেছে যে, প্রথাগত ভারী এবং ব্যয়বহুল সামরিক হার্ডওয়্যারের চেয়ে সাশ্রয়ী, নিখুঁত ও প্রযুক্তি-নির্ভর ‘লয়টারিং মিউনিশন’ এবং ‘আত্মঘাতি ড্রোন’ বা কামিকাজে ড্রোন এখন যুদ্ধ জয়ের প্রধান চালিকাশক্তি। বিশেষ করে নদীমাতৃক এবং ঘনবসতিপূর্ণ ভূপ্রকৃতির বাংলাদেশে যেকোনো সম্ভাব্য বহিঃশত্রুর আগ্রাসন নস্যাৎ করতে এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীকে একটি অজেয় শক্তিতে রূপান্তর করতে ড্রোন প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। এই প্রেক্ষাপটে, ড্রোন প্রযুক্তিতে বিশ^মঞ্চে নেতৃত্ব দেওয়া তিন বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র- তুরস্ক, পাকিস্তান এবং ইরানের কৌশলগত ও কারিগরি সহযোগিতায় একটি শক্তিশালী ড্রোন বহর গড়ে তোলা সময়ের দাবি।
একটি সুসংহত এবং বিশাল বাহিনীর জন্য কত বড় ড্রোন বহর প্রয়োজন, তা প্রথাগত সংখ্যার হিসাবে নয়, বরং ‘ডিটারেন্স’ বা কৌশলগত প্রতিরোধ ক্ষমতার ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে। আধুনিক যুদ্ধকৌশল অনুযায়ী, শত্রুর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সাঁজোয়া যান এবং কমান্ড সেন্টারগুলোকে একযোগে স্তব্ধ করতে ‘সোয়ার্ম ড্রোন’ বা ঝাঁকে ঝাঁকে চালিত ড্রোন অত্যন্ত কার্যকর। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং সীমান্ত সুরক্ষার গভীরতা বিবেচনা করলে, প্রাথমিক প্রতিরোধ এবং দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ সক্ষমতা ধরে রাখতে অন্তত কয়েক হাজার থেকে শুরু করে লক্ষাধিক ড্রোনের একটি সমন্বিত মজুত বা ইনভেন্টরি প্রয়োজন।
এই বিশাল চাহিদার ক্ষেত্রে তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইরানের বৈচিত্র্যময় ড্রোন লজিস্টিকস চমৎকার এক ত্রিমুখী সমাধানের দুয়ার খুলে দিতে পারে:
তুরস্কের প্রিসিশন ও নেটওয়ার্ক টেকনোলজি:
ড্রোন প্রযুক্তিতে তুরস্কের ‘বায়রাক্তার’ কিংবা ‘কার্গু’ লয়টারিং মিউনিশনের কার্যকারিতা বিশ^জুড়ে প্রমাণিত। তুরস্কের প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় বাংলাদেশ এমন সব সোয়ার্ম ড্রোন নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারে, যা রাডার ফাঁকি দিয়ে নিখুঁতভাবে শত্রুর গোলন্দাজ ও লজিস্টিকস লাইনে আঘাত হানবে।
পাকিস্তানের ট্যাকটিক্যাল অভিজ্ঞতা:
পাকিস্তান নিজস্ব প্রযুক্তিতে ‘শহপার’ ও ‘উকাব’ -এর মতো ট্যাকটিক্যাল ড্রোন এবং লয়টারিং মিউনিশন তৈরি করছে। তাদের যৌথ উৎপাদন ও কারিগরি সহায়তায় কম খরচে এবং দ্রুততম সময়ে বিপুল পরিমাণ কমব্যাট ড্রোন গণ-উৎপাদন করা সম্ভব।
ইরানের সাশ্রয়ী ও দীর্ঘপাল্লার সুইসাইড ড্রোন স্ট্র্যাটেজি:
সাশ্রয়ী মূল্যে এবং অতি সাধারণ প্রযুক্তিতে তৈরি অথচ অত্যন্ত বিধ্বংসী ‘শহীদ’ সিরিজের কামিকাজে বা সুইসাইড ড্রোনের কার্যকারিতা বর্তমান বিশে^র ভূরাজনীতিতে এক বড় ফ্যাক্টর। ইরানের এই ‘লো-কস্ট, হাই-ইমপ্যাক্ট’ ফর্মুলা ব্যবহার করে বাংলাদেশ নিজস্ব ভূখ-েই লাখ লাখ ড্রোন তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে পারে, যা যেকোনো বড় আকারের আগ্রাসনকে শুরুতেই অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে পঙ্গু করে দেবে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- এই ড্রোনের চাহিদা কেবল আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা অসম্ভব এবং তা কৌশলগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। আসল লক্ষ্য হতে হবে এই তিন দেশের সাথে যৌথ উদ্যোগে প্রযুক্তি হস্তান্তর বা 'ট্রান্সফার অফ টেকনোলজি' নিশ্চিত করা। বাংলাদেশেই যেন এই ড্রোনগুলোর চেসিস, অপটিক্স এবং প্রোপালশন সিস্টেম তৈরি করা যায়, সেই লাইসেন্স ও কারিগরি জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
সুইসাইড ও সোয়ার্ম ড্রোনের এই আধুনিক প্রতিরক্ষা দলীল কেবল একটি সামরিক আধুনিকায়ন নয়, এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের এক নতুন অভেদ্য বর্ম। তুরস্কের নেটওয়ার্কিং মেধা, পাকিস্তানের উৎপাদন অভিজ্ঞতা এবং ইরানের কস্ট-ইফেক্টিভ কৌশলের সমন্বয়ে বাংলাদেশ যদি নিজস্ব ড্রোন ডকট্রিন বা 'ড্রোন ডিরেক্টরেট' গড়ে তুলতে পারে, তবে তা দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং দেশের আকাশ ও সীমানাকে যেকোনো শক্তির জন্য সম্পূর্ণ অনতিক্রম্য করে তুলতে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে।
-মুহম্মদ শামসিত তাবরিজ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
“বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে ১৪০টির বেশি দেশে”- গত পরশু (৮ই জুন) এই বিবৃতি দেয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী ভেবে দেখবেন মার্কিনীদের সাথে করা গোলামী চুক্তিতে তার এই উচ্ছাস পুরোটাই গভীর এবং চরম-পরম উৎকণ্ঠায় পর্যবসিত হয়েছে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের জন্যও মহা ধ্বংস প্রক্রিয়া বাংলাদেশের ৫১ কোটি নাগরিকের নিরাপত্তা নির্মূলীকরণ প্রক্রিয়া। মহা আত্মঘাতী, সর্বনাশী, দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রিকারী এ চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে (২য় পর্ব)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বাংলাদেশের মহাকাশ প্রতিরক্ষা কৌশল: ৫০ লক্ষাধিক বহরের সমন্বিত বাহিনীর জন্য কৃত্রিম উপগ্রহ প্রযুক্তির রূপরেখা (পর্ব-৪)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১১)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বর্তমান জ্বালানী সংকটে অনেক দেশই এখন কয়লার দিকে ঝুকছে। কয়লার উপর নির্ভরতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। দেশে বিপুল পরিমাণ কয়লার মজুদ থাকার পরও রহস্যজনকভাবে তা উত্তোলনে আগ্রহ নেই সরকারের। ৭ হাজার ৮০০ মিলিয়ন টন কয়লা মজুদের দেশে কয়লার ঘাটতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ কেন?
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা: ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১০)
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৯)
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম মিয়াজাকি, পুষ্টিগুণেও ভরপুর
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
“বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে ১৪০টির বেশি দেশে”- গত পরশু (৮ই জুন) এই বিবৃতি দেয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী ভেবে দেখবেন মার্কিনীদের সাথে করা গোলামী চুক্তিতে তার এই উচ্ছাস পুরোটাই গভীর এবং চরম-পরম উৎকণ্ঠায় পর্যবসিত হয়েছে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের জন্যও মহা ধ্বংস প্রক্রিয়া বাংলাদেশের ৫১ কোটি নাগরিকের নিরাপত্তা নির্মূলীকরণ প্রক্রিয়া। মহা আত্মঘাতী, সর্বনাশী, দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রিকারী এ চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে (১ম পর্ব)
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
শুধু একটি মৃত্যুর খবর, নাকি একটি সমাজের ভবিষ্যৎ?
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সস্তা জনপ্রিয়তার বিপরীতে সস্তা জনরোষের পথেই কী হাটতে চায় সরকার? মাত্র ১০/১৫ হাজার কোটি টাকার জন্য ওয়াদা খেলাফ করে বিদ্যুতের দাম আবার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির আগুনে আরো ঘি ঢালছে সরকার। জনভোগান্তির জুলুম থেকে সরে আসতে হবে সরকারকে।
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৮)
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
১৯৯০ সালে কাঁচা চামড়া রফতানীর নিষিদ্ধ করণের প্রেক্ষাপট বর্তমানে নেই। এ মুহুর্তে কাঁচা চামড়া রফতানীর অনুমোদন বর্তমান সংকটকে অনেকটাই কমাতে পারে।
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












