আকাশের অতন্দ্র প্রহরী:
বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও আবহাওয়া রাডার অবকাঠামোর মহাপরিকল্পনা কেন জরুরি? (২য় পর্ব)
, ১৬ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৪ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৩ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ২০ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) আপনাদের মতামত
যে ধরনের রাডার প্রয়োজন :
১. লং-রেঞ্জ আর্লি ওয়ার্নিং রাডার :
প্রস্তাবিত স্থান: উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত (রাজশাহী/চাঁপাইনবাবগঞ্জ) ও সিলেট।
- ধরণ: এস-ব্যান্ড, এক্টিভ ইলেট্রোনিকেলি স্ক্যান্ড অ্যারে (এইএসএ).
- শনাক্তকরণ সীমা : ৪৫০ কিমি (অপারেশনাল), ৮০০ কিমি (সর্বোচ্চ)।
- টার্গেট ট্র্যাকিং: এক সাথে ১০০০+ লক্ষ্যবস্তু (যুদ্ধবিমান, ব্যালিস্টিক মিসাইল, ড্রোন)।
- প্রযুক্তি: ডিজিটাল বিমফর্মিং এবং গ্যালিয়াম নাইট্রাইড (গা-এন) ভিত্তিক ট্রান্সমিট-রিসিভ মডিউল।
- সুরক্ষা: উন্নত ইলেকট্রনিক কাউন্টার-কাউন্টার মেজারস (ইসিসিএম) যা শত্রুর জ্যামিং প্রতিরোধে সক্ষম।
- আইএফএফ: মুড ৫/এস সক্ষমতা (শত্রু ও মিত্র বিমান শনাক্তকরণের আধুনিক মানদ-)।
২. টেরেইন-টলারেন্ট মোবাইল রাডার :
প্রস্তাবিত স্থান: পার্বত্য চট্টগ্রাম (বান্দরবান/রাঙ্গামাটি) ও সুন্দরবন।
- ধরণ: এক্স-ব্যানড বা সি-ব্যন্ড, থ্রিডি মোবাইল রাডার।
- শনাক্তকরণ সীমা: ৮০ - ১২০ কিমি।
- বিশেষত্ব: 'গ্যাপ ফিলার' হিসেবে কাজ করে। পাহাড়ের আড়ালে বা নিচু দিয়ে উড়ে আসা ড্রোন এবং ক্রুজ মিসাইল শনাক্ত করতে সক্ষম।
- গতিশীলতা: হাই-মোবিলিটি ট্রাক মাউন্টেড সিস্টেম, যা ২০ মিনিটের মধ্যে মোতায়েন বা সরিয়ে নেওয়া সম্ভব।
- প্রযুক্তি: পালস ডপলার প্রযুক্তি যা স্থবির বস্তু (পাহাড়/গাছ) থেকে চলন্ত লক্ষ্যবস্তুকে আলাদা করতে পারে।
৩. এস-ব্যান্ড ডপলার আবহাওয়া রাডার :
প্রস্তাবিত স্থান: কক্সবাজার, খেপুপারা ও সাতক্ষীরা।
- ফ্রিকোয়েন্সি: এস-ব্যান্ড (২,৭০০ - ২,৯০০ মেগাহার্টজ)-এটি ভারী বৃষ্টির মধ্যেও সিগন্যাল পাঠাতে পারে।
- স্ক্যানিং রেঞ্জ: ৪৫০ কিমি (ঘূর্ণিঝড় পর্যবেক্ষণের জন্য)।
- পোলারাইজেশন: ডুয়াল পোলারাইজেশন -এটি বৃষ্টির কণা, শিলাবৃষ্টি এবং তুষারপাতের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে।
- সফটওয়্যার: হাই-রেজোলিউশন ডাটা প্রসেসিং যা টর্নেডো বা কালবৈশাখীর ১০-১৫ মিনিট আগেই সতর্কবার্তা দিতে পারে।
- স্থায়িত্ব: লবণাক্ত বাতাস ও উপকূলীয় ঘূর্ণিঝড় সহনশীল কাঠামো।
৪. কোস্টাল সার্ভেইল্যান্স রাডার :
প্রস্তাবিত স্থান: টেকনাফ, পটুয়াখালী ও ভাসান চর।
- ধরণ: এক্স-ব্যান্ড হাই-রেজুলেশন রাডার।
- শনাক্তকরণ সীমা: ৩০ - ৬০ নটিক্যাল মাইল।
- টার্গেট: ছোট কাঠের নৌকা থেকে শুরু করে বড় রণতরী এবং নিচু দিয়ে ওড়া সামুদ্রিক টহল বিমান।
- ইন্টিগ্রেশন: অটোমেটিক আএিডটিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) এবং ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল/ইনফ্রারেড ক্যামেরার সাথে সমন্বিত।
- অপারেশন: ২৪/৭ সব আবহাওয়ায় কাজ করতে সক্ষম এবং সমুদ্রের ঢেউয়ের মধ্যে লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণে উন্নত অ্যালগরিদম।
আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট: তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইরানের শিক্ষা :
বাংলাদেশ যখন রাডার উন্নীতকরণ নিয়ে লড়ছে, তখন আঞ্চলিক শক্তিগুলো রাডার প্রযুক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ। তুরস্কের আসেলসান এখন বিশ^সেরা রাডার তৈরি করছে। পাকিস্তান নিজস্ব প্রযুক্তিতে ৩৫০ কিলোমিটার রেঞ্জের রাডার তৈরি করছে এবং শক্তিশালী এওয়াকস (এয়ারবর্ন আর্লি ওয়ার্নিং) সিস্টেম পরিচালনা করছে। ইরানও কঠোর নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ৮০০ কিলোমিটার রেঞ্জের ‘নাজির’ রাডার মোতায়েন করে তাদের আকাশসীমা সুরক্ষিত রেখেছে।
আগামীর পথ: একটি সমন্বিত জাতীয় নীতি :
বাংলাদেশের জন্য এখন একটি সমন্বিত ‘জাতীয় রাডার অবকাঠামো নীতি’ গ্রহণ করা জরুরি।
১. দ্রুত সংস্কার: অকেজো আবহাওয়া রাডারগুলো দ্রুত মেরামত বা আধুনিকায়ন করতে হবে।
২. নিñিদ্র নজরদারি: পার্বত্য চট্টগ্রাম, সুন্দরবন এবং বঙ্গোপসাগরের ব্লাইন্ড স্পটগুলো আধুনিক সেন্সর দিয়ে পূরণ করতে হবে।
৩. সমন্বয়: বিমান বাহিনীর সামরিক রাডার এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের রাডার ডেটার মধ্যে একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক থাকতে হবে, যাতে জাতীয় প্রয়োজনে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায়।
রাডার স্থাপন একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্য তার নিজস্ব আকাশ ও সীমান্তে কী ঘটছে তা জানার ন্যূনতম পূর্বশর্ত। রাডারের প্রতিটি ‘ব্লাইন্ড স্পট’ মানে হলো একটি অরক্ষিত জনপদ এবং নিরাপত্তাহীন আকাশ। একটি জাতি যখন নিজের আকাশ দেখতে পায় না, সে আসলে অন্ধের মতো পথ চলে। সময় এসেছে আমাদের আকাশকে পুরোপুরি আমাদের নজরদারিতে নিয়ে আসার।
-মুহম্মদ শামসিত তাবরিজ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হে উন্মাদের দলেরা! খেলাচ্ছ্বলে তোমরা কাদেরকে সমর্থন দিচ্ছো ও মহব্বত করছো দেখে নাও; তোমাদের হাশর নশর কাদের সাথে হতে যাচ্ছে তাও বুঝে নাও!
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বাংলাদেশ সরকারের আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২৪’- এ গরু-ছাগল-মহিষের গোশত আমদানি নিষিদ্ধ। প্রাণী সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব জানে না, অধিদপ্তরের ট্রেড পরিচালক জানে না- অথচ ভারত সরকারী-বেসরকারীভাবে জানে- ভারতের পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়-
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুনশী মুহম্মদ মেহেরুল্লাহ সাহেব উনার ঈমানী লড়াই এবং আজকের প্রেক্ষাপট
২৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বাংলাদেশের ৫০ লক্ষ পদাতিক বাহিনীর জন্য ৩য় প্রজন্মের এটিজিএম রোডম্যাপ (পর্ব ৮)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
১০০০ নতুন সেনাক্যাম্প স্থাপনের কৌশলগত অপরিহার্যতা (২)
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১২)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
একবিংশ শতাব্দীর কৌশলগত প্রতিরক্ষা রূপরেখা (২)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
একবিংশ শতাব্দীর কৌশলগত প্রতিরক্ষা রূপরেখা (১)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
জান্নাতের টিকিট বিক্রিকারী জামাতীরা কী মনে করে? বেহেশতে- যাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবেই দুনিয়াতেই হারাম মদের সাথে সম্পৃক্ত থাকা উচিত! নাউযুবিল্লাহ। বিএনপির ভাষায় জামাত মুনাফেক। জাহান্নামের নি¤œস্তরের বাসিন্দা মুনাফিকরা- ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে তারা যে সত্যিই বড় মুনাফেক, তাই প্রমাণ করছে। মাতালদের পক্ষেই সম্ভব ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের টিকিট বেচা।
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সার্বভৌমত্বের বিনিময়ে কী পাচ্ছি আমরা? - আকসা ও জিসোমিয়া চুক্তি প্রত্যাখ্যান করুন
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশীদের ইজারা দিলে বাংলাদেশ যে সমস্ত গুরুতর হুমকিতে পড়বে
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
উত্তরাঞ্চলে এক ভয়ংকর চক্রান্ত ও আলেম সমাজের নীরবতা
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












