হে উন্মাদের দলেরা! খেলাচ্ছ্বলে তোমরা কাদেরকে সমর্থন দিচ্ছো ও মহব্বত করছো দেখে নাও; তোমাদের হাশর নশর কাদের সাথে হতে যাচ্ছে তাও বুঝে নাও!
, ০৩ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৯ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৮ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ০৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) আপনাদের মতামত
পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “যার সাথে মহব্বত, পরকালে তার হাশর-নশর তার সাথেই হবে।” (সহীহ বুখারী, হাদীছ নং- ৬১৬৯)
পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে বসে কোনো হারাম বা অন্যায় কাজ সমর্থন করার অর্থ হলো সেই পাপের অংশীদার হওয়া। ইসলামে কোনো অপরাধের প্রতি অন্তরের সন্তুষ্টি বা আসক্তিকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং- ৪৩৪৫)
সম্মানিত দ্বীন ইসলামে খেলাধুলা হারাম। সুতরাং এখন হারাম বিশ্বকাপের যে উন্মাদনা (পাগলামি) চলছে এবং তার স্রোতে মুসলমান নামধারীরা ভেসে বেড়াচ্ছে, তা সম্মানিত শরীয়ত অনুযায়ী কাট্টা হারাম ও কবীরা গুণাহ। যারা খেলাধুলা দেখছে, সমর্থন করছে, টাকা পয়সা খরচ করছে সবই হারাম ও কবীরা গুণাহ হচ্ছে। শুধু তাই নয় সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী এ সকল মুসলমানদের হাশর নশরও কাফেরদের সাথেই হবে। নাউযুবিল্লাহ!
এখন প্রশ্ন হচ্ছে- কাফির মুশরিকদের যে সকল দেশগুলোকে মুসলমান নামধারীরা সমর্থন জানাচ্ছে, তাদেরকে মহব্বত করছে, খেলোয়াড়দের প্রশংসা করছে, তারা কি দ্বীন ইসলাম সমর্থন করে? তারা কি মুসলমানদের মুহব্বত করে? করে না বরং দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি তাদের রয়েছে কট্টর বিদ্বেষ। বাস্তব উদাহরণস্বরূপ এখানে দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি কাফিরদের দেশগুলোর বিদ্বেষী মনোভাব ও ইসলাম বিদ্বেষের কিছু নমুনা তুলে ধরা হলো-
(১ম পর্ব)
আর্জেন্টিনা:
১. ২০২৪ সালের মে মাসে আর্জেন্টিনা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের স্বীকৃতির বিপক্ষে ভোট দিয়েছে, যা মুসলিম গণহত্যায় ইসরায়েলের অবস্থানকে শক্তিশালী করে।
২. ২০২৬ সালের ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে আর্জেন্টিনা সরকার স্পষ্টভাবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিয়েছে।
৩. ইসরায়েলের সাথে সুর মিলিয়ে তেহরান-হামাস-হিজবুল্লাহকে “শয়তান” বলে আখ্যা দিয়েছে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলেই।
৪. ২০২৬ সালের এপ্রিলে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মিলেই ও সন্ত্রাসী নেতানিয়াহু “আইজ্যাক অ্যাকর্ডস” ঘোষণা করে, যা ইসরায়েল ও পশ্চিম গোলার্ধের দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের একটি উদ্যোগ। সূত্র: উইকিপিডিয়া
৫. সাইবার প্রতিরক্ষা, আর্থিক গোয়েন্দা তথ্য ও সন্ত্রাসবাদ দমন সমন্বয়ে আর্জেন্টিনার নিরাপত্তা কাঠামোতে ইসরায়েলি সহযোগিতা ক্রমেই সংযুক্ত হচ্ছে। সূত্র: মিডল ইস্ট ফোরাম
৬. আর্জেন্টিনা আনুষ্ঠানিকভাবে হিজবুল্লাহ ও হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ও আর্থিক পদক্ষেপ সম্প্রসারণ করেছে। সূত্র: মিডল ইস্ট ফোরাম
৭. কথিত জাতিসংঘ নামক ইহুদী সংঘে ঐতিহাসিকভাবে ইসরায়েল-বিরোধী ভোটের ধারা থেকে সরে এসেছে আর্জেন্টিনা।
৮. ২০২৬ সালের মার্চে আর্জেন্টিনা সরকার ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোরকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করে। সূত্র: দ্যা টাইমস অব ইসরায়েল।
৯. ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আর্জেন্টিনা সরকার হামাস হিজবুল্লাহকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করে এবং তাদের সম্পদ জব্দ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
১০. ২০২২ সালে সাল্টা প্রদেশের পুলিশ বিশ্ব হিজাব দিবস উদযাপনরত মুসলিম নারীদের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়, যদিও তাদের সমাবেশ করার পৌরসভার অনুমতি ছিলো।
১১. আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট ‘মিলেই’ নিজে কট্টর ইসলামবিদ্বেষী। সে তার একাধিক ভাষণে “ইসলামিক সন্ত্রাসবাদ” শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছে, যা মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
১২. আর্জেন্টিনার বর্তমান নিরাপত্তামন্ত্রী প্যাট্রিসিয়া ২০১৮ সালে সাংবাদিকদের বলেছিলো- “যদি তারা মুসলিম হয়, তারা সন্ত্রাসী।”
১৩. দেশটিতে “ইনাদি” নামক একটি সরকারি বৈষম্যবিরোধী সংস্থা ছিলো, যা ইসলামভীতির ঘটনা নথিভুক্ত করতো। ইসলাম বিরোধী এমন ৮০টি ঘটনা রিপোর্ট করার পর বর্তমান ইসলাম বিদ্বেষী প্রেসিডেন্ট মিলেই ২০২৪ সালে সংস্থাটির ৩০,০০০ কর্মী ছাঁটাই করে এর কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। ফলে দেশটির সাম্প্রতিক সময়কার ইসলাম বিরোধী কর্মকান্ডের পরিসংখ্যান পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
জার্মানি:
১. ২০২০ সালের এপ্রিলে জার্মানি হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক, সামাজিক ও সামরিক- সব শাখাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে জার্মান, যা ব্রিটেন ও নেদারল্যান্ডস ছাড়া ইউরোপের একমাত্র দেশ হিসেবে সংগঠনটিকে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করার নজির। এই সিদ্ধান্তকে বিশ্ব সন্ত্রাসী ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাৎজ ও বিশ্ব সন্ত্রাসী নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে প্রশংসা করে। এর ফলে দেশটিতে হিজবুল্লাহ সংশ্লিষ্ট মসজিদ ও সংগঠনে পুলিশি অভিযান চালানো হয় এবং সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়।
২. ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বিশ্ব সন্ত্রাসী ইসরায়েলের অভিযোগের পর জার্মানি (যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ ১৬টি দেশের একটি) ফিলিস্তিনি ত্রাণ তহবিলে নতুন তহবিল অনুমোদন বন্ধ করে দেয়।
৩. সন্ত্রাসী ইসরায়েলের বড় অর্থ যোগানদাতা জার্মান। যেমন- লুক্সেমবার্গ চুক্তি (১৯৫২): পশ্চিম জার্মানি সন্ত্রাসী ইসরায়েলকে ৮৪৫ মিলিয়ন ডলার (পণ্য আকারে, ১২-১৪ বছর ধরে) দিতে সম্মত হয়, যা তরুণ ইসরায়েলি অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।
৪. ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সন্ত্রাসী ইসরায়েলকে জার্মানি প্রায় ৮৫ বিলিয়ন ইউরো সহযোগীতা করে, এবং প্রতি বছর জার্মান ফেডারেল বাজেট থেকে নাৎসি নিপীড়নের শিকারদের পেনশন ও যতেœর জন্য প্রায় ১.৪৪ বিলিয়ন ইউরো প্রদান করে
৫. ২০২৬ সালের নতুন রেকর্ড: জার্মান সরকার ২০২৬ সালের জন্য হলোকস্ট বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের হোম কেয়ারের জন্য ১.০৮ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দে সম্মত হয়েছে- এটি ক্লেইমস কনফারেন্সের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ হোম কেয়ার বাজেট, এবং হলোকস্ট শিক্ষা কর্মসূচির জন্য ২০২৯ সাল পর্যন্ত অতিরিক্ত ২০৫ মিলিয়ন ডলার।
৬. পারমাণবিক অর্থায়নের গোপন সহায়তা: ২০২৬ সালের মার্চের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৬১ সালে জার্মানি গোপনে ২ বিলিয়ন ডয়েচমার্কের একটি বিশেষ তহবিল দখলদার ইসরায়েলকে দিয়েছিলো, যা একটি রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ঋণের ছদ্মবেশে পাঠানো হয়, এবং কিছু বিশ্লেষকের মতে এই অর্থ দিমোনা পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে।
৭. ২০০৫ সালে বার্লিন “নিরপেক্ষতা আইন” চালু করে, যা শিক্ষক, পুলিশ ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের প্রকাশ্য ইসলামী প্রতীক পরিধানে নিষেধাজ্ঞা দেয়- এতে মুসলিম নারীদের হিজাব পড়া নিষিদ্ধ হলেও খ্রিষ্টানদের ক্রুশ পরিধানের অনুমতি ছিলো।
৮. পূর্ণ মুখাবরণ (বোরকা/নেকাব) নিষেধাজ্ঞা: ২০১৭ সালে জার্মান পার্লামেন্ট সরকারি কর্মকর্তা, সৈনিক ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের জন্য বোরকা/নেকাব নিষিদ্ধ করে একটি আইন পাস করে।
৯. জার্মান সংবাদমাধ্যমে ২০০৬ সালের ডেনিশ কার্টুন বিতর্কের সময় ইউরোপজুড়ে সংহতি হিসেবে কিছু পুনঃপ্রকাশের ঘটনা ঘটেছিলো।
-মুহম্মদ ইব্রাহিম সোহেল, কেরানীগঞ্জ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ডিপি ওয়ার্ল্ড চুক্তিতে দেশের স্বার্থ যেভাবে বিকিয়ে দেয়া হয়েছে (১)
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বাংলাদেশের কৃষিতে সাদা মাছির আক্রমণ: উদ্বেগ ও প্রতিকার (১)
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পথশিশুদের স্থায়ী পুনর্বাসনে চাই দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত উদ্যোগ
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মাটির হনন ও খাদ্য-সার্বভৌমত্বের সংকট: বিষচক্র থেকে ফেরার ডাক
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
জাহান্নাম সম্পর্কে সবারই চিন্তা-ফিকির করা উচিত
০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
অন্যান্য দেশে উড়াল সেতু ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে; আর বাংলাদেশ সরকার ফ্লাইওভার তৈরি করছে
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উশর কি? পবিত্র দ্বীন ইসলামে উনার গুরুত্ব
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিজ্ঞাপন
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শিক্ষানীতির পরিবর্তন ছাড়া মুসলমানদের অধিকার কখনোই প্রতিষ্ঠিত হবে না
২৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বাংলাদেশ সরকারের আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২৪’- এ গরু-ছাগল-মহিষের গোশত আমদানি নিষিদ্ধ। প্রাণী সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব জানে না, অধিদপ্তরের ট্রেড পরিচালক জানে না- অথচ ভারত সরকারী-বেসরকারীভাবে জানে- ভারতের পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়-
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুনশী মুহম্মদ মেহেরুল্লাহ সাহেব উনার ঈমানী লড়াই এবং আজকের প্রেক্ষাপট
২৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বাংলাদেশের ৫০ লক্ষ পদাতিক বাহিনীর জন্য ৩য় প্রজন্মের এটিজিএম রোডম্যাপ (পর্ব ৮)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












