আপনাদের মতামত
বাংলাদেশ সরকারের আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২৪’- এ গরু-ছাগল-মহিষের গোশত আমদানি নিষিদ্ধ। প্রাণী সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব জানে না, অধিদপ্তরের ট্রেড পরিচালক জানে না- অথচ ভারত সরকারী-বেসরকারীভাবে জানে- ভারতের পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়-
২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত থেকে ৫৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলারের মহিষের গোশত বাংলাদেশে আমদানি হয়েছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দাবীদার সরকারের প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা ভারতের এজেন্টদের ভারতে পাঠাতে হবে।
, ২২ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৯ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৮ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ২৪ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) আপনাদের মতামত
ভারতে গোশত রফতানির সব ধরনের ছাড়পত্র দিয়ে থাকে দেশটির বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রফতানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এপিইডিএ)। তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত থেকে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের কৃষিজাত পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ব্যয়ের হিসাবে সর্বোচ্চ আমদানি হয়েছে মহিষের গোশত, প্রায় ৫৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলারের।
অথচ বাংলাদেশ সরকারের ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২৪’-এ বলা হয়েছে-গরু, ছাগল, মুরগির গোশত ও মানুষের খাওয়ার উপযোগী অন্যান্য পশুর গোশত আমদানির ক্ষেত্রে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পূর্বানুমতি নিতে হবে। দৈনিক আল ইহসান শরীফের অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, তারা কোনো ধরনের গোশত আমদানির জন্য এনওসি দিচ্ছেন না।
ভারতের কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রফতানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের হিসাবে প্রায় ৫৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলারের মহিষের গোশত আমদানির তথ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ট্রেড পরিচালক জানান, এমন কোনো তথ্য বর্তমানে তার কাছে নেই। এ বিষয়ে খোঁজ নিতে হবে বলেও জানান তিনি।
দেশের জিডিপিতে প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান ১ দশমিক ৮১ শতাংশ। এ খাতের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে গোশতের চাহিদা ছিল ৭৭ লাখ ৯২ হাজার টন। বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ৮৯ লাখ ৫৪ হাজার টন। উদ্বৃত্ত রয়েছে ১১ লাখ ৬২ হাজার টন।
সংস্থাটির তথ্যমতে, বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশে মহিষের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মহিষের সংখ্যা ছিল ১৫ লাখ ৩২ হাজার। আগের অর্থবছরে ছিল ১৫ লাখ ২৪ হাজারটি। আর তারও আগের অর্থবছর ২০২২-২৩-এ দেশে মহিষের সংখ্যা ছিল ১৪ লাখ ১৬ হাজার।
তারপরও প্রকৃত সত্য হলো ভারত থেকে বাংলাদেশে মহিষের গোশত আমদানী হচ্ছে। যা ভারতও জানে।
ভারত স্বীকার করে, ভারতের পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ভারত থেকে পরিচালিত কৃষির অনলাইন বাজারভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্লাটফর্ম ট্রেডোলজি ডটকমে সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত ‘ভারত থেকে বাংলাদেশে কৃষিপণ্য রফতানি: বাজারের আকার, চাহিদা ও সুযোগ (২০২৬ গাইড)’ শীর্ষক বিশ্লেষণেও মহিষের গোশত আমদানির বিষয়টি উঠে এসেছে।
সংস্থাটির বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা বিশ্লেষণে বলা হয়, ভারত থেকে বাংলাদেশে কোন কৃষিপণ্য রফতানি করা যায়-এটা ভাবছেন? এর উত্তর হচ্ছে- গোশত ও মৌলিক শস্য (গ্রেইন)। এগুলো বিপুল পরিমাণে বিক্রি হয় এবং প্রতিদিন প্রতিবেশী দেশটিতে পাঠানো হয়।
ঐ লেখায় “দুই দেশের দামের পার্থক্যটিও তুলে ধরে বলা হয়, ভারতে প্রতি টন গোশতের দাম আড়াই-তিন হাজার ডলার। বাংলাদেশে যেটি সাড়ে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার ডলার। যেটি থেকে উচ্চ মার্জিন আসে। ফলে বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে গোশত রফতানি লাভজনক বলেও উল্লেখ করা হয়”।
অথচ বিগত বছরগুলোয় বাংলাদেশ পশু পালনে যথেষ্ট অগ্রগতি করেছে। নিজস্ব উৎপাদন দিয়ে দেশের চাহিদা মিটিয়েও উদ্বৃত্ত থাকছে। সেখানে গোশত আমদানি দেশীয় খামারি ও কৃষকদের আরো লোকসানে ফেলছে বলে মনে করেন কৃষি অর্থনীতিবিদরা।
দৈনিক আল ইহসানের অনুসন্ধানে জানা গেছে- পাঁচ তারকা হোটেল বা এ রকম জায়গায় সামান্য পরিমাণে স্পেশাল কোয়ালিটির গোশতের কিছু অনুমতি আছে। উদাহরণস্বরূপ গরুর সিরলিয়ন ক্যাটাগরির গোশত দেশীয় একটি কোম্পানিই ৫ হাজার টাকা কেজিতে বিক্রি করে। এমন স্পেশাল কিছুর অনুমতি আছে। তবে সেটি গোশত হিসেবে না, স্পেশাল ক্যাটাগরির খাদ্য হিসেবে অনুমোদন দেয়া হয়। তাছাড়া গোশত আমদানির অনুমতি নেই।’
কিন্তু সেটিকে কাজে লাগিয়ে প্রশাসনের নাকের ডগায় অবৈধভাবে অতিরিক্ত গোশত আমদানি করা হচ্ছে।’
দেশে যে পরিমাণ গোশত উৎপাদন হয়, সেটি দিয়েই চাহিদা মেটানো যাচ্ছে। ‘কুরবানির সময় পশু অবিক্রীতও থাকছে। সেখানে আমদানি করা হলে দেশী খামারি ও কৃষকরা আরো বেশি লোকসানে পড়বেন। তাই গোশত আমদানি অনুমোদন না দেয়ার যে নীতি, সেটি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা দরকার।’
পাশাপাশি পাচ তারকা হোটেলের স্পেশাল কোয়ালিটি গোশত আমদানির সার্টিফিকেটও অবিলম্বে বাতিল অত্যাবশ্যকীয় ও অনিবার্য।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুনশী মুহম্মদ মেহেরুল্লাহ সাহেব উনার ঈমানী লড়াই এবং আজকের প্রেক্ষাপট
২৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বাংলাদেশের ৫০ লক্ষ পদাতিক বাহিনীর জন্য ৩য় প্রজন্মের এটিজিএম রোডম্যাপ (পর্ব ৮)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
১০০০ নতুন সেনাক্যাম্প স্থাপনের কৌশলগত অপরিহার্যতা (২)
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১২)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
একবিংশ শতাব্দীর কৌশলগত প্রতিরক্ষা রূপরেখা (২)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
একবিংশ শতাব্দীর কৌশলগত প্রতিরক্ষা রূপরেখা (১)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
জান্নাতের টিকিট বিক্রিকারী জামাতীরা কী মনে করে? বেহেশতে- যাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবেই দুনিয়াতেই হারাম মদের সাথে সম্পৃক্ত থাকা উচিত! নাউযুবিল্লাহ। বিএনপির ভাষায় জামাত মুনাফেক। জাহান্নামের নি¤œস্তরের বাসিন্দা মুনাফিকরা- ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে তারা যে সত্যিই বড় মুনাফেক, তাই প্রমাণ করছে। মাতালদের পক্ষেই সম্ভব ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের টিকিট বেচা।
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সার্বভৌমত্বের বিনিময়ে কী পাচ্ছি আমরা? - আকসা ও জিসোমিয়া চুক্তি প্রত্যাখ্যান করুন
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশীদের ইজারা দিলে বাংলাদেশ যে সমস্ত গুরুতর হুমকিতে পড়বে
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
উত্তরাঞ্চলে এক ভয়ংকর চক্রান্ত ও আলেম সমাজের নীরবতা
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পুরোনো স্মার্টফোন বিক্রির আগে যে কাজ না করলে বিপদ
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পেগাসাসের জাল বিস্তার বাংলাদেশেও। সবাই সাবধান।
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












