সার্বভৌমত্বের বিনিময়ে কী পাচ্ছি আমরা? - আকসা ও জিসোমিয়া চুক্তি প্রত্যাখ্যান করুন
, ২৭ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৫ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৪ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ৩১ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) আপনাদের মতামত
বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ইতিহাস দীর্ঘ ও গৌরবময়। মুক্তিযুদ্ধের রক্তে অর্জিত এই স্বাধীনতাকে আমরা কোনো শর্তযুক্ত সামরিক চুক্তির বেড়িতে বন্দী করতে পারি না। অথচ আকসা (Acquisition and Cross-Servicing Agreement) এবং জিসোমিয়া (General Security of Military Information Agreement) চুক্তি নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা জাতির বিবেকবান মানুষদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলছে।
আকসা কী এবং এটি কেন বিপজ্জনক?
আকসা হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সামরিক সরঞ্জাম ও সেবা আদান-প্রদান চুক্তি। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের সামরিক ঘাঁটি, বন্দর ও বিমানক্ষেত্র মার্কিন বাহিনীর ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায়। সহজ ভাষায় বললে, বাংলাদেশের মাটি মার্কিন সামরিক অভিযানের লজিস্টিক্যাল হাব হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এই চুক্তি শুধু একটি সামরিক সহযোগিতার দলিল নয়, বরং এটি বাংলাদেশকে আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সরাসরি অংশীদার করে তোলে - যার পরিণতি ভয়াবহ হযে।
ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয়। যে সকল দেশ আকসার মতো চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে, তারা পরবর্তীতে মার্কিন সামরিক স্বার্থ রক্ষায় অনিচ্ছাকৃতভাবে জড়িয়ে পড়েছে। আফগানিস্তান, ইরাক, এমনকি ফিলিপাইনের অভিজ্ঞতা স্পষ্ট প্রমাণ করে যে এই ধরনের চুক্তি স্বল্পমেয়াদে সুবিধাজনক মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা দেশের নিরাপত্তাকে হুমকিতে ফেলে।
জিসোমিয়া: তথ্য-সার্বভৌমত্বের সমাপ্তি:
জিসোমিয়া চুক্তি সামরিক গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়। দেখতে নিরীহ মনে হলেও এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা তথ্যের উপর নিয়ন্ত্রণ হারাবে। বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা, সীমান্ত নিরাপত্তা, অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা কাঠামো- এই তথ্যগুলো একবার চুক্তিভুক্ত হলে তৃতীয় পক্ষের কাছে চলে যাবে। ভারত-জাপান-মার্কিন কৌশলগত অক্ষ যেভাবে শক্তিশালী হচ্ছে, তাতে জিসোমিয়া বাংলাদেশকে চীন ও রাশিয়ার বিপক্ষে একটি সুনির্দিষ্ট শিবিরে দাঁড় করিয়ে দেবে।
ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা উপেক্ষা করা যাবে না:
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত সংবেদনশীল। একদিকে ভারত, অন্যদিকে মিয়ানমার, পাশে বঙ্গোপসাগর - যেখানে চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় সক্রিয়। এই পরিস্থিতিতে আকসা ও জিসোমিয়া চুক্তিতে স্বাক্ষর মানে একটি পক্ষকে বেছে নেওয়া। এটি শুধু কূটনৈতিক বোকামি নয়, বরং বাংলাদেশের সামরিক মূলনীতির সরাসরি লঙ্ঘন।
চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং প্রতিরক্ষা সামগ্রীর প্রধান সরবরাহকারী। ভারত আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী এবং অর্থনৈতিক অংশীদার। এই দুটি শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে মার্কিন সামরিক চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়া পরস্পরবিরোধী এবং আত্মঘাতী।
সংসদ ও জনগণের মতামত কোথায়?
যে কোনো চুক্তি যা দেশের সার্বভৌমত্বকে প্রভাবিত করে, তা সংসদে আলোচনা ছাড়া চূড়ান্ত করা সংবিধানের মূল চেতনার পরিপন্থি। জনগণ জানতে চায়- এই চুক্তির বিনিময়ে আমরা কী পাচ্ছি? অর্থনৈতিক সুবিধা? নাকি কেবল মার্কিন অস্ত্রবাজারে প্রবেশের সুযোগ? যদি তাই হয়, তবে তা জাতীয় স্বার্থের তুলনায় নিতান্তই নগণ্য।
নাগরিক সমাজ, বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক দলগুলোকে এই প্রশ্নে জোরালো অবস্থান নিতে হবে। নীরবতা মানে সম্মতি- আর এই সম্মতির মূল্য হতে পারে অপরিসীম।
বাংলাদেশ কারো ঔপনিবেশিক সম্পত্তি নয়। এই দেশের মাটি, আকাশ ও সমুদ্রসীমা কোনো বিদেশি সামরিক শক্তির হাতিয়ার হওয়ার জন্য নয়। আকসা ও জিসোমিয়া চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে বাংলাদেশ স্বেচ্ছায় সেই ফাঁদে পা দেবে, যেখান থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হবে।
আমরা দৃঢ়ভাবে দাবি জানাই- এই চুক্তিদ্বয় প্রত্যাখ্যান করুন। স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অক্ষুণœ রাখুন। কারণ সার্বভৌমত্ব কোনো দরকষাকষির পণ্য নয়।
-মুহম্মদ মুশফিকুর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হে উন্মাদের দলেরা! খেলাচ্ছ্বলে তোমরা কাদেরকে সমর্থন দিচ্ছো ও মহব্বত করছো দেখে নাও; তোমাদের হাশর নশর কাদের সাথে হতে যাচ্ছে তাও বুঝে নাও!
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বাংলাদেশ সরকারের আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২৪’- এ গরু-ছাগল-মহিষের গোশত আমদানি নিষিদ্ধ। প্রাণী সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব জানে না, অধিদপ্তরের ট্রেড পরিচালক জানে না- অথচ ভারত সরকারী-বেসরকারীভাবে জানে- ভারতের পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়-
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুনশী মুহম্মদ মেহেরুল্লাহ সাহেব উনার ঈমানী লড়াই এবং আজকের প্রেক্ষাপট
২৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বাংলাদেশের ৫০ লক্ষ পদাতিক বাহিনীর জন্য ৩য় প্রজন্মের এটিজিএম রোডম্যাপ (পর্ব ৮)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
১০০০ নতুন সেনাক্যাম্প স্থাপনের কৌশলগত অপরিহার্যতা (২)
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১২)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
একবিংশ শতাব্দীর কৌশলগত প্রতিরক্ষা রূপরেখা (২)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
একবিংশ শতাব্দীর কৌশলগত প্রতিরক্ষা রূপরেখা (১)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
জান্নাতের টিকিট বিক্রিকারী জামাতীরা কী মনে করে? বেহেশতে- যাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবেই দুনিয়াতেই হারাম মদের সাথে সম্পৃক্ত থাকা উচিত! নাউযুবিল্লাহ। বিএনপির ভাষায় জামাত মুনাফেক। জাহান্নামের নি¤œস্তরের বাসিন্দা মুনাফিকরা- ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে তারা যে সত্যিই বড় মুনাফেক, তাই প্রমাণ করছে। মাতালদের পক্ষেই সম্ভব ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের টিকিট বেচা।
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশীদের ইজারা দিলে বাংলাদেশ যে সমস্ত গুরুতর হুমকিতে পড়বে
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
উত্তরাঞ্চলে এক ভয়ংকর চক্রান্ত ও আলেম সমাজের নীরবতা
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পুরোনো স্মার্টফোন বিক্রির আগে যে কাজ না করলে বিপদ
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












