মন্তব্য কলাম
বর্তমান ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড নিয়ে সরকার বা তথাকথিত সুশীল অথবা রাজনীতিবিদদের কোনই অনুভূতি- উদ্যোগ নেই। ২০৪০ সালে এই নেয়ামত কমার কথা বলা হচ্ছে। ১৯৭২ সালে সন্তান জন্মদানের হার ৬.৭ আর এখন সন্তান জন্মদানের হার ১.৯ শতাংশ।
, ০৯ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ৩১ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১৫ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) মন্তব্য কলাম
দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রে দেশে কমছে বিয়ের হার, সন্তান জন্মদানের হার
অথচ আগামী বিশ্বে অধিক জনসংখ্যার দেশই কর্তৃত্ব করবে
চীন-জাপান-জার্মান ইত্যাদি দেশগুলো জনসংখ্যার অভাবে জন্মহার বৃদ্ধির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে
কাজেই একদিকে বর্তমান ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের চূড়ান্ত ফায়দা নিতে হবে
পাশাপাশি এটা অব্যাহত রাখার জন্য সমন্বিত কর্মসূচী ও সর্বাত্মক পৃষ্ঠপোষকতা করতে হবে ইনশাআল্লাহ।
আশির দশকে তৎকালীন সামরিক-স্বৈরশাসক জেনারেল এইচ এম এরশাদ অপরিকল্পিত জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে ‘এক নম্বর জাতীয় সমস্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। তার এই বক্তব্য সেই সময় বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করলেও এটি ছিল সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর একটি মন্তব্য। কারণ জনসংখ্যা বৃদ্ধি তা পরিকল্পিতই হোক বা অপরিকল্পিতই হোক, কখনো একটি দেশের জন্য এক নম্বর জাতীয় সমস্যা হতে পারে না। জনসংখ্যা এমনই এক সম্পদ যার কোনো বিকল্প নেই।
পৃথিবীর উন্নয়ন অগ্রযাত্রা জনসংখ্যা ব্যতীত কোনোভাবেই কল্পনা করা যায় না। জনসংখ্যাকে পরিকল্পিতভাবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ এবং উৎপাদনশীল উপকরণে পরিণত করা গেলে তা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদে পরিণত হয়। আর জনসংখ্যা যদি অপরিকল্পিতভাবে বেড়ে উঠে তাহলে তা একটি দেশের জন্য ‘দায়’ হিসেবে বিবেচিত হয়। জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করার দায়িত্ব একান্তভাবেই রাষ্ট্রের। জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করার ব্যর্থতার দায় রাষ্ট্র কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। আর যদি বাংলাদেশের দিকে দৃষ্টি দিই তাহলে দেখব, আমাদের এখানে রাষ্ট্রীয়ভাবে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করার ক্ষেত্রে অমার্জনীয় ব্যর্থতা রয়েছে, যার দায় কোনোভাবেই রাষ্ট্র এড়াতে পারবে না।
স্বাধীনতার ৫৩ বছর গত হয়েছে কিন্তু এখনো আমাদের দেশে জনসংখ্যাকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার ও জনসম্পদে পরিণত করার লক্ষ্যে কোনো রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা গৃহীত হয়নি। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা কার্যত ‘আত্মমর্যাদাসম্পন্ন বেকার তৈরির’ কারখানায় পরিণত হয়েছে। একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে শিক্ষাজীবন শেষ করার পরও নিশ্চিত হতে পারছে না তারা উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে। কারণ যারা শিক্ষা লাভ করছে তাদের কোনো কারিগরি জ্ঞান নেই যা ব্যবহার করে তারা কোনো প্রতিষ্ঠানে উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি অথবা আত্মকর্মসংস্থান করতে পারবেন। জনসংখ্যাকে দক্ষ এবং উপযুক্ত কর্মী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ সবচেয়ে জরুরি হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ বর্তমানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থার মধ্য দিয়ে সময় অতিবাহিত করছে। কিন্তু কিভাবে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে সে সম্পর্কে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো চিন্তা-ভাবনা আছে বলে দেখা যায় না। বিগত ১৫ বছরের একনায়কতান্ত্রিক শাসনামলে উন্নয়নের গল্প শুনতে শুনতে জাতি বেহুঁশ হয়ে পড়ার অবস্থা হয়েছিল। কিন্তু তাদের সেই উন্নয়নের মূল উদ্দেশ্যই ছিল রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটে নেয়া। তারা অবকাঠামোগত খাতে দৃশ্যমান উন্নয়নের কথা বলতে গিয়ে কার্যত জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করার আবশ্যকতার বিষয়টি ভুলেই গিয়েছিলেন।
বাংলাদেশ আরো এক যুগ আগে (২০১২ সালে) ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থায় প্রবেশ করেছে। কিন্তু রাষ্ট্রীয়ভাবে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুফল ভোগ করার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড (উবসড়মৎধঢ়যরপ উরারফবহফ) বলতে বোঝায়, কোনো একটি দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি যখন শ্রমশক্তিতে পরিণত হয়। অর্থাৎ পরনির্ভরশীল জনসংখ্যার চেয়ে কর্মক্ষম জনসংখ্যার হার বেশি হয়।
জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপি) মতে, ১৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সি মানুষের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ বয়সি মানুষ তাদের শ্রম ও মেধা দিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারে। আর বাংলাদেশের এখন বেশিরভাগ মানুষ (৬৮ শতাংশ) কর্মক্ষম। জনমিতির হিসেবে বাংলাদেশ ২০১২ সাল থেকে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের মতো সুবর্ণ সময় পার করছে, যা ২০৪০ সাল পর্যন্ত বিদ্যমান থাকবে।
একটি দেশের কর্মক্ষম হিসেবে বিবেচিত জনসংখ্যার মোট পরিমাণ কর্মক্ষম নয়, এমন জনসংখ্যার (শিশু ও বয়স্ক জনগোষ্ঠী) তুলনায় বেশি হলে তখন সেই অবস্থাটাকে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট বা জনমিতিক লভ্যাংশ বলে।
অর্থনীতির ভাষায়, দেশের জনসংখ্যার ৬০ শতাংশ যদি কর্মক্ষম হয় তাহলে দেশটি ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা জনমিতিক বা জনসংখ্যাতাত্ত্বিক লভ্যাংশ পাওয়ার অবস্থায় রয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়। সে হিসেবে বাংলাদেশ এখন ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট বা জনসংখ্যাতাত্ত্বিক লভ্যাংশ অর্জনের পর্যায়ে রয়েছে।
দেশে কর্মক্ষম মানুষের গুরুত্বের কথা বিবেচনা করছে বিবিএসও। সম্প্রতি সমন্বয় প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে পরিসংখ্যান সচিব বলেন, দেশের মোট জনগোষ্ঠীর মধ্যে ১৫ থেকে ২৯ বয়সী জনগোষ্ঠী ৩২.৮৪ শতাংশ। এরাই আমাদের আগামী দিনের শক্তি। তাদের কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব তথ্য প্রকাশ করা। সরকারের অন্য সংস্থাগুলো এদের নিয়ে কাজ করলে, গবেষণা করলে আগামী দিনে ইতিবাচক ফল পাবে। এদের এখনই কাজে লাগাতে হবে। কারণ এরা প্রোডাক্টিভ। এদের নিয়ে ভাবা উচিত।’
বাজারের চাহিদা অনুযায়ী তাদের বিভিন্ন স্কিল ডেভেলপ করতে হবে। এখন এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন হয়ে গেলে অনেক বাজার সুবিধা থাকবে না। প্রতিযোগিতা সক্ষমতা করতে হবে দক্ষতা এবং উৎপাদনশীলতার ভিত্তিতে। তিনি বলেন, ‘দেশের স্পেশাল ইকোনমিক জোনে দেশি বা বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চাচ্ছি। সেখানে কোন ধরনের চাহিদা সৃষ্টি হচ্ছে, সেটার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চাহিদা সৃষ্টি করতে হবে। প্রতি বছর ২১ লাখের মতো শ্রমবাজারে আসে, এর বড় একটি অংশ বাইরেও চলে যায়। সেখানেও কোনো ধরনের চাহিদা সৃষ্টি হচ্ছে সেটা লক্ষণীয়। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে অনেক ধরনের নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হবে। সেবা খাত, কেয়ারিং সার্ভিস, মেডিকেল টেকনিশিয়ানসহ অনেক চাকরি। বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমরা যদি স্কিলগুলো দিতে পারি তাহলে কাজে লাগবে; বিশেষ করে বাজারে যত বেশি যুবক, তত বেশি আনইমপ্লয়মেন্ট।’
‘বাজারের চাহিদা আগামীতে কী হবে, সেটার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সঙ্গে সার্টিফিকেশন, রিকগনিশন বা যেসব জায়গায় আমাদের ছেলেমেয়েরা যাবে তাদের সঙ্গে মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং করা। এসব জায়গায় নজর দেওয়ার সময় এখন। বৈদেশিক বাজার, অভ্যন্তরীণ বাজার দুটোরই চাহিদা রয়েছে। দেশের স্পেশাল ইকোনমিক জোনসহ অনেক জায়গায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এমওইউ স্বাক্ষরও করেছে, তারা সেখানে কী ধরনের ইনভেস্ট করছে, সেটার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যোগাযোগ বাড়াতে হবে। যেমন আমাদের এখন নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট হচ্ছে, সেখানে এক্সপার্টদের লাগবে আগামী ৫০ বছর। এখানকার সুযোগগুলো বের করে আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। স্বাধীনতার পর আমাদের দেশে কর্মক্ষম লোকের পরিমাণ ছিল মাত্র ২০-২২ শতাংশ। স্বাধীনতার প্রায় ৩৬ বছর পরে ২০০৭ সালে আমাদের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬১ শতাংশের বয়স এই সীমার মধ্যে উপনীত হয়, বর্তমানে যা প্রায় ৭৫ শতাংশ। এমন সম্ভাবনা যা কোনো জাতির জীবনে একবার কিংবা কয়েক শ বছরে একবার আসে। চীন, জাপান, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এসব দেশ এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে উন্নত দেশের তালিকায় নাম লিখিয়েছে। শূন্য থেকে ১৪ ও ৬৪ বছরের ঊর্ধ্বে জনগোষ্ঠীকে নির্ভরশীল বলে ধরা হয়। সে হিসাবে দেশে বর্তমানে নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৩৭.৭৭ শতাংশ। এরা সবাই দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ওপর নির্ভরশীল।’
অভিজ্ঞমহল আরো মনে করেন, ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগাতে হলে ওয়ার্কিং ফোর্স কাজে লাগাতে হবে। ইন্ডাস্ট্রিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের পরিধি বাড়াতে হবে। অ্যাগ্রিকালচার থেকে ম্যানুফ্যাকচারিং বা ইন্ডাস্ট্রি বা ফরমাল সার্ভিস সেক্টরে আসতে হবে। তাহলেই ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড পাওয়া যাবে। আমি যদি গ্রামে থাকি তাহলে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড আসবে না। অথবা যদি রিকশাও চালাই তাহলেও এই ডিভিডেন্ড আসবে না। তবে আইটি খাত হলে ঠিক আছে, এটি অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখে, ভ্যালু এডিশনেও ভূমিকা রাখে। এ ধরনের ট্রান্সফরমেশন দরকার, শুধু জনসংখ্যা বাড়ালেই তো হবে না। তাদের এমপ্লয় করতে হবে। প্রোডাক্টিভলি এমপ্লয় করতে হবে। গত এক দশকে দেশে শিল্পে কোনো কর্মসংস্থান হয়নি।’
‘তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড সবচেয়ে বেশি। এদের যদি কাজে লাগানো না যায় তাহলে তো ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড পাব না। সমস্যা হলো, এদের মধ্যে আনএমপ্লয়মেন্ট কতখানি। যেটা আমরা ধারণা করি, শিক্ষিতদের মধ্যে আনইমপ্লয়মেন্ট কত। এখন প্রশ্ন হলো তাদের কর্মসংস্থান কোথায় হবে। তারা যদি অ্যাগ্রিকালচারে হয় তাহলে লাভ হবে না। ইন্ডাস্ট্রিতে তাদের আসার কথা, কিন্তু এ চ্যালেঞ্জটা রয়ে গেছে এখনো।’
বলার অপেক্ষা রাখে না, এইসকল মহাসম্ভাবনা বিকাশের জন্য প্রয়োজন উন্নত ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠন। এজন্য চাহিদা অনুযায়ী প্রতিটি জেলা শহরে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও মেরিন টেকনোলজি ইন্সটিটিউট গড়ে তোলা প্রয়োজন। যদিও দেশে দেশে সরকারি-বেসরকারি মিলে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংখ্যা মাত্র ৩ হাজার ১১৬টি। বর্তমানে সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থায় কারিগরি শিক্ষার অধীনে শিক্ষা গ্রহণরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ৭ শতাংশের কাছাকাছি। অথচ জাপানে এ ধরনের শিক্ষায় শিক্ষিত জনবল ৬০ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৪০ শতাংশ এবং মালয়েশিয়ায় ৪২ শতাংশ। তাই বাংলাদেশে সর্বপ্রথম কর্মক্ষম জনশক্তিকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে।
এজন্য সরকারিভাবে উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেও মানবসম্পদ উন্নয়নের কাজে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো মানবসম্পদ উন্নয়নে সরকার, শিল্পপতি, সব রাজনৈতিক দল এবং পেশাজীবীদের এগিয়ে আসতে হবে এবং বিশেষ করে স্বয়ংসম্পূর্ণ মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এবং এই মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়ন কতটুকু অর্জিত হয়েছে এবং এর পথে কী কী অন্তরায়, সেই বিষয়ে বিশদ পর্যালোচনা করতে হবে এবং সার্বিকভাবে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। আর এর নিয়মিত মূল্যায়ন করতে হবে। দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে যথাযথভাবে এগিয়ে যেতে হবে। ইনশাআল্লাহ!
ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড একটি অপার সম্ভাবনাময় সময়। এ সময় কর্মক্ষম মানুষের আধিক্য থাকায় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করা অত্যন্ত সহজ হয়ে থাকে। এ সময়কে কাজে লাগিয়েই জাপান, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বহু দেশ সমৃদ্ধি লাভ করেছে। সমৃদ্ধির জন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। জনসংখ্যাতাত্ত্বিক বোনাসকালকে কাজে লাগাতে হলে শিক্ষা, প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্য খাতে সুনজর দিতে হবে। বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটে শিক্ষা, প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্য খাতে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্য খাতে আরও বেশি করে বরাদ্দ ও সরকারের সুনজর দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে জনশক্তির দক্ষতা উন্নয়নমূলক খাতগুলোয় সরকারের সুদৃষ্টি পড়লে গড়ে উঠবে সুখী, সমৃদ্ধ ও আধুনিক বাংলাদেশ।
আবার, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে না পারলে এর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হয়ে থাকে। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সময় যে বিশালসংখ্যক জনগোষ্ঠী কর্মক্ষম ছিল, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড শেষ হয়ে যাওয়ার পর দেখা যায়, সেই বিশালসংখ্যক জনগোষ্ঠী বার্ধক্যে উপনীত হয়ে কর্মে অক্ষম হয়ে গেছে। তখন এই বিশাল জনগোষ্ঠীর পেনশন ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে রাষ্ট্রকে বহু অর্থ ব্যয় করতে হবে। যদি জনসংখ্যাতাত্ত্বিক বোনাসকালকে কাজে লাগিয়ে সমৃদ্ধি অর্জন করা যায়, তাহলে এই ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হবে। অন্যথায় এক কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে (নাউযুবিল্লাহ)।
একটি দেশের কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বা হার যখন বেশি হয় তখন দেশটি তুলনামূলক সস্তায় শ্রমশক্তির জোগান নিশ্চিত করতে পারে। শ্রমিকের মজুরি তুলনামূলকভাবে কম হলে বাইরের বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সহজ হয়। মোট জনসংখ্যার ৬৮ শতাংশই যখন কর্মক্ষম তাদের যদি উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায় তাহলে তা দেশের উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে বিরাট সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। প্রবৃদ্ধি যখন উচ্চ মাত্রায় হতে থাকে তখন সেই দেশটির জনগণের আয় বৃদ্ধি পায়, সঞ্চয়ের সামর্থ্য বাড়ে। মানুষের আয় বৃদ্ধির সাথে সঞ্চয় বৃদ্ধির নিবিড় যোগসূত্র রয়েছে।
১৯৭২ সালে দেশের টোটাল ফার্টিলিটি রেট ছিল গড়ে ৬ দশমিক ৭ পয়েন্ট। অর্থাৎ প্রতিটি মহিলা তার সন্তান ধারণ ক্ষমতাকালে গড়ে প্রায় সাতটি করে সন্তান জন্ম দিতেন। মহিলা প্রতি সন্তান জন্মদানের হার এখন ১ দশমিক ৯ শতাংশ। একটি শিশু জন্মগ্রহণ করার পর কর্মক্ষম হওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। আবার নির্ভরশীল জনসংখ্যা বাড়ার জন্যও একটি সময়ের প্রয়োজন হয়। ২০৪০ সালে গিয়ে আমাদের কর্মক্ষম জনসংখ্যার হার কমতে শুরু করবে এবং ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থা শেষ হবে ২০৫০ সালে।
এক্ষেত্রে বাল্যবিবাহ আইন বন্ধ করতে হবে। বিয়ের জন্য প্রনোদনা ও পৃষ্ঠপোষকতা করতে হবে। ভেজাল খাবার ও ঔষধ বন্ধ করতে হবে। সমন্বিত কর্মসূচী নিতে হবে ইনশাআল্লাহ।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
অন্তর্বর্তী সরকারের আঠারো মাসে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট বলছে, ২০২৬ সালের প্রথম দেড় মাসে, অর্থাৎ ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৪৫ দিনে সরকার ৩৬টি অধ্যাদেশ জারি করে।
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুশরিক ভারতের প্রতি লা’নত ওদের জনসংখ্যা দিন দিন নিম্নমুখী পক্ষান্তরে ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমানের দেশ বাংলাদেশে খোদায়ী রহমত। (সুবহানাল্লাহ) বাংলাদেশে জনসংখ্যার এখন ৬৫ ভাগই কর্মক্ষম এবং জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার উর্ধ্বগামী বাংলাদেশ ভোগ করছে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের নিয়ামত। সুবহানাল্লাহ!
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আফ্রিকার দৈত্য মুসলিম প্রধান দেশ- ‘নাইজেরিয়ায়’ আছে- ‘অফুরন্ত তেলের উৎস’ আছে- সবচেয়ে দামী খনিজ ‘লিথিয়াম’, ‘উচ্চ মানের লৌহ আকরিক’ সহ দুর্লভ সব খনিজ। বিশ্ব লুটেরা, হায়েনা, আমেরিকার- লোলুপ দৃষ্টি এখন ‘নাইজেরিয়ার’ উপর খ্রিস্টান নিধন চলছে এই মিথ্যা অজুহাতে- নাইজেরিয়া আক্রমনের ঘোষণা দিয়েছে, বিশ্ব ডাকাত সর্দার- ট্রাম্প।
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সুলতানুন নাছীর হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার বদ দোয়ার কারণে আমেরিকা এখন চরমভাবে ক্ষতবিক্ষত, বিপর্যস্ত, ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং মৃত আমেরিকা শুধু দাফন করা বাকি কিন্তু ভোগবাদে মক্ত চরম চরিত্রহীণ, পশ্বাধম আমেরিকাবাসী টালমাটাল হওয়ার কারণেই এখনো তা উপলব্ধি করতে পারছে না
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সুলতানুন নাছীর হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার বদ দোয়ার কারণে আমেরিকা এখন চরমভাবে ক্ষতবিক্ষত, বিপর্যস্ত, ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং মৃত আমেরিকা শুধু দাফন করা বাকি কিন্তু ভোগবাদে মক্ত চরম চরিত্রহীণ, পশ্বাধম আমেরিকাবাসী তালমাতাল হওয়ার কারণেই এখনো তা উপলব্ধি করতে পারছে না
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সুলতানুন নাছীর হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার বদ দোয়ার কারণে আমেরিকা এখন চরমভাবে ক্ষতবিক্ষত, বিপর্যস্ত, ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং মৃত আমেরিকা শুধু দাফন করা বাকি কিন্তু ভোগবাদে মক্ত চরম চরিত্রহীণ, পশ্বাধম আমেরিকাবাসী তালমাতাল হওয়ার কারণেই এখনো তা উপলব্ধি করতে পারছে না
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
এক কেজি আলু বেচে এক কাপ চা হয় না আলুর কেজি ৮ টাকা, লোকসানে কাঁদছে কৃষক ও ব্যবসায়ী ২৫০ মিলি লিটার পানির দামে এক কেজি আলু, আলুচাষির কান্নার আওয়াজ কে শুনবে? তিন মাসেও মেলেনি প্রণোদনা, লোকসানের চক্রে আলুচাষি আলু প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের উদ্যোগ জরুরি
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিভিন্ন দেশে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারের নেয়া ঋণকে ‘অডিয়াস ডেট’ বিবেচনা করে মওকুফ বা ঋণ পুনর্গঠনের উদাহরণ রয়েছে এ মুহূর্তে এমন ঋণ নিয়ে প্রক্রিয়া চালাচ্ছে লেবানন, গ্রিস, জাম্বিয়া, শ্রীলংকাসহ বেশ কয়েকটি দেশ কিন্তু দুর্নীতির মা- শেখ হাসিনার আমলে দুর্নীতিগ্রস্থ বিদেশী ঋণ নিয়ে প্রথমে অভিযোগ করলেও এখন নীরব সম্মতিতে, নিস্ক্রিয় হয়ে শেখ হাসিনার পক্ষেই হাটছে সরকার
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বাংলাদেশকে সুদী ইউনুস কতটা ঘৃণা করে এবং বাংলাদেশের চূড়ান্ত ক্ষতি ও সার্বভৌমত্ব বিক্রী কত বেশী পছন্দ করে; তার সাক্ষাত প্রমাণ আমেরিকার সাথে তার সরকারের বাণিজ্য চুক্তি
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিশ্লেষকদের অভিমত: এলএনজি আমদানিতে বিপর্যস্ত হবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। দেশে উৎপাদিত গ্যাসের চেয়ে ২৪ গুণ বেশি দামে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। এলএনজির ভর্তুকি পোষাতে বার বার গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে। জ্বালানি খাতে আর কত শোষিত হবে দেশের জনগণ?
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র যাকাত সঠিকভাবে আদায় না করায় দেশবাসী আক্রান্ত হচ্ছে অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, খরা, বন্যাসহ নানা দুর্যোগে। সঠিকভাবে পবিত্র যাকাত আদায় এবং সঠিক জায়গায় পৌঁছানোই এসব দুর্যোগ থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায়।
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বছরে অর্থনৈতিক অপচয় ৩০ হাজার কোটি টাকা, রোগাক্রান্ত হচ্ছে যুবসমাজ, ধানী জমিতে চাষ হচ্ছে তামাক। অন্য পদক্ষেপের পাশাপাশি ইসলামী মূল্যবোধের আলোকেই সরকারকে তামাক নিয়ন্ত্রণ সক্রিয় ও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে ইনশাআল্লাহ।
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












