এডিবি, বিশ্বব্যাংক, আই.এম.এফ থেকে আত্মঘাতী শর্তে ঋণ আর করের জাল বৃদ্ধি করে দেশবাসীকে শোষণের প্রক্রিয়া থেকে বের হয়ে সরকারকে রফতানীর বহুমাত্রিকতা বাড়াতে হবে।
বঙ্গপোসাগরের শুধু টুনা মাছ বিক্রি করে বছরে ১৫ হাজার কোটি টাকা আয় সম্ভব।
সবার আগে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতির সরকারকে, সবার আগে সোনার বাংলার সোনালী সমৃদ্ধি সম্পর্কে জানতে হবে।
, ১৯ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৬ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৫ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ২১ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মন্তব্য কলাম
বঙ্গোপসাগরে প্রচুর ইয়োলোফিন ও বিগআই টুনা মাছ পাওয়া যায়। জাপান, আমেরিকা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে টুনা মাছের বিপুল চাহিদা রয়েছে।
গভীর সমুদ্রে টুনা মাছ এবং মৎস্য আহরণ কার্যক্রমে বাংলাদেশের শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্ভাবনা থাকলেও তা কেবলই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। সঠিক বিনিয়োগ ও অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারলে এই খাত থেকে বছরে কমপক্ষে এক হাজার কোটি মার্কিন ডলারের বেশি আয় করা সম্ভব হবে।
আন্তর্জাতিক মানের ২৫ থেকে ৫০টি বৃহৎ ও উন্নত প্রযুক্তির গভীর সমুদ্রগামী জাহাজ নামানো গেলে বছরে ৩ লাখ টন ভালো মানের টুনা ধরা যাবে, এই মাছের বৈশ্বিক বাজারমূল্য প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। আবার সংগৃহীত এসব মাছ দেশে প্রক্রিয়াজাত করা গেলে এই আয়ের পরিমাণ আরও তিন গুণ বাড়ানো সম্ভব হবে।
স্যাটেলাইটভিত্তিক সমুদ্র পর্যবেক্ষণ, সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা (এসএসটি), ক্লোরোফিলের ঘনত্ব এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণে বঙ্গোপসাগরের গভীরে টুনা মাছের উপস্থিতির শক্ত প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড, বাংলাদেশের দক্ষিণের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইইজেড) এবং আন্দামান সাগরের দিকে গভীর সমুদ্র টুনা আহরণের জন্য সবচেয়ে সম্ভাবনাময় এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে রয়েছে ইয়েলোফিন টুনা ও স্কিপজ্যাক টুনাসহ ৮টি প্রজাতির টুনা মাছ। তবে এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে না পারায় বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কা বছরে ১ লাখ ১২ হাজার ৪৯৪ মেট্রিক টন, ভারত ৫২ হাজার ২২ মেট্রিক টন টুনা ও বিলফিশ আহরণ করেছে। বিপরীতে বাংলাদেশের আহরণ মাত্র ১৪ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন, যার বেশির ভাগই ট্রলারের পার্শ্ব-আহরণ (বাইক্যাচ)। বিশেষজ্ঞদের মতে, টুনা শিকারের জন্য ২০ থেকে ৪০ মিটার দৈর্ঘ্যের আধুনিক লংলাইন পদ্ধতির মাছ ধরার জাহাজ প্রয়োজন। বর্তমানে বাংলাদেশে এ ধরনের বহর প্রায় নেই বললেই চলে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাংলাদেশের সামুদ্রিক অর্থনীতির সবচেয়ে বড় অপ্রয়োগিত ক্ষেত্রগুলোর একটি হলো গভীর সমুদ্রে টুনা আহরণ। একই সঙ্গে সামুদ্রিক মাছ চাষ (মেরিকালচার), সামুদ্রিক শৈবাল, ও সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পেও বড় ধরনের বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।
২০১৮ সালে ইন্ডিয়ান ওশান টুনা কমিশনের (আইওটিসি) সদস্যপদ পায় বাংলাদেশ। যার মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পানিসীমায় মাছ ধরার অধিকার পেয়েছে। সদস্য দেশ হিসেবে সংস্থাটিকে প্রতিবছর ৭০ হাজার মার্কিন ডলার (৭৭ লাখ টাকা) পরিশোধ করতে হয় বাংলাদেশকে। কিন্তু সক্ষমতা না থাকায় এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পানিসীমায় মাছ শিকার করতে পারেনি বাংলাদেশ।
গভীর সমুদ্রে টুনা মাছ ধরতে তিনটি লং লাইনার প্রকৃতির ফিশিং ভ্যাসেল সংগ্রহের কথা থাকলেও এখনো আলোর মুখ দেখেনি সেই উদ্যোগ। অভিযোগ রয়েছে, এই সুযোগে দুটি প্রতিবেশী দেশের (ভারত ও শ্রীলঙ্কার) জেলেরা প্রতিনিয়ত বঙ্গোপসাগরের গভীর পানিসীমায় অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে বিপুল পরিমাণ মাছ লুটে নিচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারিভাবে টুনা ও সমগোত্রীয় মাছ শিকারের জন্য ১৭টি প্রতিষ্ঠানকে জাহাজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেসব প্রতিষ্ঠান এ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে না।
তারা ‘সরকারের দ্বৈত নীতির কারণে গভীর সাগরে টুনা বা পেলাজিক মাছ শিকারে আগ্রহী হচ্ছে না’।
নীতিমালা অনুযায়ী ২০০ মিটার গভীরতার পরে সাগরে মাছ ধরতে যে জাহাজ প্রয়োজন তা আমদানির জন্য খরচ হবে শতকোটি টাকা। অথচ এখন পর্যন্ত সরকার সেখানে একটি জরিপ পরিচালনাও করতে পারেনি। তাহলে ব্যবসায়ীরা কী ভরসায় জাহাজ আমদানিতে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করবে?
সরকার ব্যবসায়ীদের টুনা শিকারের জন্য ৫৫ মিটারের বেশি দৈর্ঘ্যের জাহাজ আমদানি করতে বলছে। অথচ এ খাতে সরকারি প্রকল্পের জন্য তিনটি জাহাজ কেনা হচ্ছে মাত্র ২৫ মিটার দৈর্ঘ্যের। এ বৈষম্য কেন? বেসরকারীভাবে যদি ওই মানের জাহাজ দিয়ে টুনা শিকারের অনুমতি দেওয়া হতো তবে মৎস্য আহরণে দেশ অনেক এগিয়ে যেতো। এছাড়া টুনার মত পেলাজিক মাছ আহরণের জন্য পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ উদ্যোগ নেওয়া হলে তা অনেক বেশি ফলপ্রসু হতো।
পৃথিবীর ৫২টি দেশে বাংলাদেশের মাছ রপ্তানি হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৮০ হাজার টন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে দেশের আয় হয়েছে ৬ হাজার কোটি টাকা।
এর পাশাপাশি 'মাছ আহরণের সীমার প্রসার ঘটাতে হবে।' গভীর সমুদ্রের মৎস্য সম্পদের দিকে তাগিদ দিতে হবে। এক টুনা মাছ ধরার মাধ্যমেই ১৫ হাজার কোটি টাকার রফতানী আয় সম্ভব।
সরকারের উচিত বিদেশী ঋণ গ্রহণের পরিবর্তে রফতানী খাতের সবগুলো দিক থেকে সমৃদ্ধি অর্জন করা।
সবার আগে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতির সরকারকে, সবার আগে সোনার বাংলার সোনালী সমৃদ্ধি সম্পর্কে জানতে হবে।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুসলমানকে ‘মুসলমানিত্ব’ বুঝতে হবে। ‘আশহাদু আন্না মুহম্মাদার রসূলুল্লাহ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাক্বীক্বীভাবে বলতে হবে ও আমলে আনতে হবে।
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতি বছর শুধু অসুস্থতার কারণে প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রধানমন্ত্রী নিজেই ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেয়া শুরু করেছেন। বাতিল হয়েছে ‘রাষ্ট্রপতির’ সাথে ‘মহামান্য’ শব্দ ব্যবহারও।
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের সামরিক ব্যয় গত দশকগুলোতে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি মূলত বেতন, স্থায়ী খরচ এবং চলমান পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়েছে। তবে সামরিক আধুনিকায়ন, সমরাস্ত্র ক্রয় এবং নতুন প্রযুক্তি সংযোজনের জন্য মোট বাজেটের মাত্র ২-৪ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ্র পরিক্রমায় চললেই সে প্রজ্ঞা পাওয়া সম্ভব ইনশাআল্লাহ
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!!!!
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সরকারের ঋণের পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ কোটি টাকা
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
তবে কি সাবেক সরকারের অসমাপ্ত ষড়যন্ত্রের সমাপনীর পথেই হাঁটতে চাইছে বর্তমান সরকার?
০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুসলিম দেশগুলোর উচিৎ মক্কা চুক্তিকে আরো বিশুদ্ধ ও বিস্তৃত করা যাতে ভারতের গোস্বা এত বাড়ে যে তাদের গোস্বার অনলেই তারা জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












