ব্রেন টিউমারের ঝুঁকি বেশি কাদের?
, ১৯ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৬ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৫ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ২১ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) বিশেষ প্রতিবেদন
ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে মোটর ডিসফাংশন, কগনিটিভ ডিটেরিয়োরেশন, আবেগজনিত সমস্যা, খিঁচুনি, গিলতে অসুবিধা এবং মাথাব্যথার মতো উপসর্গগুলো খুবই সাধারণ।
ব্রেন টিউমার যেকোনো বয়সে যে কারও হতে পারে। তবে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এ রোগের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়।
ব্রেন টিউমার কী?
ব্রেন টিউমার বলতে মস্তিষ্কের ভেতরে বা এর আশপাশে অস্বাভাবিক কোষের বৃদ্ধি বোঝায়। এটি বিনাইন (অক্যানসারজনিত) অথবা ম্যালিগন্যান্ট (ক্যানসারজনিত) হতে পারে। সহজভাবে বলতে গেলে, ব্রেন টিউমার হলো মস্তিষ্কে সৃষ্ট এক ধরনের অস্বাভাবিক ক্ষত।
ব্রেন টিউমার বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ এটি মস্তিষ্কের ভেতরে জায়গা দখল করে চারপাশের টিস্যুর ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।
এ ছাড়া, টিউমার মস্তিষ্কের ভেতরে থাকা ফ্লুইডের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যা বিভিন্ন জটিলতার কারণ হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে টিউমার মস্তিষ্কের অন্যান্য অংশ বা মেরুদ-ে ছড়িয়ে পড়ারও আশঙ্কা থাকে।
কাদের ঝুঁকি বেশি?
ব্রেন টিউমার যেকোনো বয়সে হতে পারে। তবে কিছু ধরনের টিউমার নির্দিষ্ট বয়সের মানুষের মধ্যে বেশি দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ, শিশুদের মধ্যে মেডুলোব্লাস্টোমা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। অন্যদিকে, সাধারণত ৫০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিদের মধ্যে গ্লিওব্লাস্টোমা বেশি শনাক্ত হয়।
পূর্বে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস ও জেনেটিক কারণ:
পূর্বে কারও ব্রেন টিউমার হয়ে থাকলে এ রোগের ঝুঁকি কিছুটা বেড়ে যেতে পারে। আবার কিছু বংশগত রোগ বা জেনেটিক কারণের সঙ্গে ব্রেন টিউমারের সম্পর্ক আছে, যেমন: নিউরোফাইব্রোমাটোসিস (এনএফ) টাইপ ১ এবং টাইপ ২, টিউবারাস স্কে¬রোসিস (টিএসসি), লি-ফ্রাউমেনি সিনড্রোম, ভন হিপেল-লিনডাউ সিনড্রোম (ভিএইচএল), টার্নার সিনড্রোম, টারকট সিনড্রোম ও গরলিন সিনড্রোম।
উচ্চমাত্রার রেডিয়েশনের সংস্পর্শ:
মাথা বা ঘাড়ে পূর্বে রেডিওথেরাপি গ্রহণ করলে পরবর্তী সময়ে ব্রেন টিউমার হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে, শৈশবে রেডিয়েশন থেরাপি নেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে।
দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা:
যাদের শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অপেক্ষাকৃত দুর্বল বা এইচআইভি বা এইডস আক্রান্ত ব্যক্তি এবং অঙ্গ প্রতিস্থাপনের পর দীর্ঘদিন ইমিউনোসাপ্রেসিভ ওষুধ সেবনকারী ব্যক্তিরা এক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকতে পারেন।
স্থূলতা:
স্থূলতা কিছু কিছু ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়, যেমন: মেনিনজিওমা।
শরীরের অন্যান্য অংশে ক্যানসারের উপস্থিতি:
ফুসফুস, স্তন, কিডনি, কোলন বা ত্বকের ক্যানসার থাকলে সেসব স্থান থেকে ক্যানসার কোষ মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
কিছু রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ:
রাসায়নিক পদার্থ, যেমন- কীটনাশক, পেট্রোলিয়ামজাত পদার্থ ও শিল্পকারখানার কিছু রাসায়নিকের সংস্পর্শে দীর্ঘদিন ধরে থাকলে ঝুঁকি সামান্য বাড়তে পারে।
লক্ষণ:
লক্ষণগুলো নির্ভর করে টিউমার ব্রেইনের ঠিক কোন অংশে হয়েছে, সাইজ, ধরন ও টিউমারগুলো কত ধীরে বা দ্রুত বড় হচ্ছে তার ওপর। নিম্নোক্ত লক্ষণগুলোর মধ্যে কোনোটি যদি আপনার মধ্যে লক্ষ্য করে থাকেন, তাহলে দেরি না করে অতিসত্ত্বর চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত-
মাথাব্যথা, খিঁচুনি, চিন্তা করা ও কথা বলতে সমস্যা বোধ করা বা কথা বলতে গিয়ে শব্দ খুঁজে না পাওয়া, ব্যক্তিত্বে বা আচরণে পরিবর্তন, দুর্বলতা, অসাড় অনুভব করা বা শরীরে কোনো একটি অংশ বা এক সাইড অবশ হয়ে যাওয়া, হাঁটতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা, ঘুমঘুম ভাব বা অস্থিরতা অনুভব করা, কানে কম শোনা, দৃষ্টিশক্তিতে পরিবর্তন, দ্বিধান্বিত হয়ে পড়া ও দিকবিদিক জ্ঞান শূন্য হয়ে পড়া, স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া।
ব্রেন টিউমারের ধরন:
আপনি জেনে অবাক হতে পারেন যে ১২০টিরও বেশি ধরনের ব্রেন টিউমার রয়েছে। এর মধ্যে কিছু টিউমার শুরু থেকেই ক্যানসারজনিত (ম্যালিগন্যান্ট) হয়। আবার কিছু টিউমার সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্যানসারে রূপান্তরিত হতে পারে।
যেসব টিউমার ক্যানসারজনিত নয়, সেগুলোকে বিনাইন ব্রেন টিউমার বলা হয়। অন্যদিকে, ক্যানসারজনিত টিউমারগুলোকে ম্যালিগন্যান্ট ব্রেন টিউমার বলা হয়।
ব্রেন টিউমার থেকে সুস্থতার জন্য প্রয়োজন নিবিড় চিকিৎসা, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী, কেয়ার গিভার ও প্রিয়জনদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সাপোর্ট। ব্রেন টিউমার চিকিৎসার সফলতা বা রোগমুক্তি রোগীভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা এবং সাপোর্টিভ কেয়ারের ফলে চিকিৎসার সফলতা ও রোগীর বেঁচে থাকার মানোন্নয়নের অগ্রগতি ঘটছে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
আপনি কতটুকু মুসলমান...?
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রকান্ড কিছু দেখলেই অবনত হওয়া নত হওয়া একটি বদ খাছলত
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সমন্বিত অক্ষ ও বাংলাদেশের অবস্থান
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
শক্ত মানসিকতার দৃঢ়চিত্ত শাসন: বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পার্বত্য চট্টগ্রামে জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করা সরকারের জন্য ফরজ
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বেতন বৃদ্ধি নয়, বরং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো জরুরি (২)
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বেতন বৃদ্ধি নয়, বরং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো জরুরি (১)
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
উপজাতিগুলোকে যেভাবে উস্কানি দিচ্ছে এনজিওগুলো
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আপনি কি শুকরের চর্বিযুক্ত সাবান দিয়ে গোসল করে ইবাদত বন্দেগী করছেন?
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী মূল্যবোধহীন সরকার ব্যবস্থায় ‘ভেজাল খাদ্য’
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থের চরম বিসর্জন-ভারতের উচ্চভোল্টেজ করিডর কার স্বার্থে?
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
অমান্য করলেই কাটা পড়বে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












