বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করে দেশীয় পাথর শিল্প বন্ধ রাখা হচ্ছে।
দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে প্রায় দশ হাজার কোটি টাকা।
বিদেশী ঋণ করার পরিবর্তে সরকারকে দেশীয় পাথর শিল্পের বিকাশে নজর দিতে হবে
, ১৬ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৩ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ০২ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ১৮ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) মন্তব্য কলাম
‘দেশের একমাত্র পাথর খনির উৎপাদন বন্ধ’ শীর্ষক খবর প্রায়ই প্রকাশিত হয়।
বিস্ফোরক সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে দেশের একমাত্র মধ্যপাড়া পাথর খনির উৎপাদন।
গত ১৯ মে ২০২৬, খবর শিরোনাম হয়- ‘বিস্ফোরকের মজুত শেষ, মধ্যপাড়া খনি থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ’
অথচ দিনাজপুরের পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া পাথরখনি থেকে গত মে মাসে ১ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টনের উপরে সর্বোচ্চ পাথর উত্তোলন করে খনির বিদেশী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) দৃষ্টান্ত তৈরী করেছিলো।
মধ্যপাড়া পাথরখনি থেকে উৎপাদনের এই নতুন রেকর্ড সৃষ্টির ফলে সে বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়েছিলো।
দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল পাথর খনি পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৫০ কোটি টাকার সাড়ে ৯ লাখ মেট্রিক টন পাথর বিক্রি হয়েছে।
দেশে বছরে ২০ লাখ টনের মতো পাথর-কয়লা আমদানি হতো বছর পাঁচেক আগেও। তখন মূলত ভারত ও ভুটান থেকেই স্থলবন্দর দিয়ে ট্রাকে করে আমদানি হতো এ দুটো পণ্য। কিন্তু দিন দিন চাহিদা তথা ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন সমুদ্রপথেও বিপুল পরিমাণে পাথর ও কয়লা আসছে। তাতে বছরে আড়াই থেকে তিন কোটি টন পাথর ও কয়লা আমদানি হচ্ছে।
আগে ছোট ছোট ব্যবসায়ী স্থলবন্দর দিয়ে ভারত ও ভুটান থেকে পাথর ও কয়লা আমদানি করতেন। যখন পণ্য দুটির বাজার বড় হতে শুরু করে, তখন তা সিন্ডিকেট গড়ে তোলে কিছু বড় শিল্পগোষ্ঠী।
পাথরের বাজারের আকার হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার পর যুক্ত হতে শুরু করে বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলো।
গত দু-তিন বছরে তারা এই দুটো পণ্য আমদানিতে সিন্ডিকেট তৈরি করেছে। এসব শিল্পগোষ্ঠীর মধ্যে মেঘনা গ্রুপ, আবুল খায়ের গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, আকিজ গ্রুপ ও পারটেক্স গ্রুপ অন্যতম। সাগর ও নদীপথে নিজেদের জাহাজ ব্যবহার করে তারা বিদেশ থেকে সরাসরি পাথর ও কয়লা নিয়ে আসছে।
মূলত যেসব শিল্পগোষ্ঠীর সিমেন্ট কারখানা রয়েছে, তারা পাথর আমদানি সিন্ডিকেটে যুক্ত হচ্ছে। কারণ, রেডিমিক্স কারখানার উপাদান হিসেবে পাথর আমদানি করছে তারা। অর্থনীতির আকার যত বাড়বে, পাথর আমদানিও তত বাড়বে।
পাথর ও কয়লা বাজার ক্রমাগত বড় হওয়ায় বৃহৎ শিল্প গ্রুপগুলো নিজেদের ব্যবহারের পাশাপাশি পণ্য দুটির বাণিজ্যেও যুক্ত হচ্ছে। যেমন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই) পণ্য দুটি আমদানি করে বিক্রি করছে। কয়েক বছর আগে নিজেদের অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নের জন্য তারা পাথর আমদানি শুরু করে। এর পরে বাণিজ্যে যুক্ত হয়।
মূলত বন্দরে বড় জাহাজে পাথর আনার পর সেখানেই, অর্থাৎ সরাসরি বড় জাহাজ থেকেই পাথর বিক্রি শুরু হয়। এ ছাড়া ডিলারদের মাধ্যমেও বিক্রি করছে বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলো।
নিজেদের সমুদ্রগামী জাহাজ থেকে শুরু করে ছোট জাহাজ ও পণ্য পরিবহনের গাড়ি ও সরবরাহ ব্যবস্থা মজবুত থাকায় খুব সহজেই কয়লা ও পাথরের বাণিজ্যে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম চাপিয়ে থাকে বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীগুলো।
দেশে পাথরের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২ কোটি ১৬ লাখ টন। এ চাহিদার সিংহভাগ আমদানি করা হয় দুবাই, ভিয়েতনাম, ভারত ও ভুটান থেকে। আমদানীর কারণে সরকার হারাচ্ছে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব। উপরন্তু ব্যায় হচ্ছে ডলার।
সর্বোপরি সে সিন্ডিকেট দেশীয় পাথর শিল্পে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করে এমনকী আমলাতান্ত্রিক জটিলতা তৈরি করে বিস্ফোরক আমদানী বন্ধ রাখে। বিস্ময়করভাবে ব্যবস্থাপনা পরিচালনাকে প্রলুব্ধ করে অথবা নিয়ন্ত্রণ করে বিভিন্ন কৌশলে পাথর উত্তোলন বন্ধ রাখে এই পূরো দুর্বৃত্ত চক্রকেই নির্মূল করতে সক্রিয় হতে হবে সরকারকে।
মধ্যপাড়া কঠিন শিলা দেশের নির্মাণ খাতে ব্যবহৃত পাথরের অন্যতম প্রধান উৎস। দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকলে কোম্পানির রাজস্ব আয় কমার পাশাপাশি বাজারে পাথর সরবরাহেও প্রভাব পড়তে পারে। ফলে দ্রুত অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট আমদানি নিশ্চিত করে উৎপাদন পুনরায় চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি কোনো ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের স্বার্থ না দেখে দেশের স্বার্থ দেখবে, এমন লোকদের ব্যবস্থপনা পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া উচিত।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রয়োজন শরয়ী সর্বোচ্চ শাস্তি
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বাংলাদেশের ভূ-কৌশলগত প্রতিরক্ষা কৌশলের জরুরি রূপরেখা (পর্ব-১)
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অন্তর্জালে আম্রিকার সাথে বাংলাদেশের গোপন সমঝোতা- নিয়ে তুমুল প্রতিবাদ ও সমালোচনা।
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রয়োজনীয় ৫০ লক্ষাধিক সদস্য সম্পন্ন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ন্যানোটেকনোলজির কৌশলগত উপযোগিতা (পর্ব-১০)
৩০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানদের সাথে রাশিয়ার মুনাফেকী নূতনভাবে প্রকাশ পাচ্ছে। মুসলিম বিশ্বের জাগরণ দরকার।
৩০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বাংলাদেশের ভূ-কৌশলগত প্রতিরক্ষা কৌশলের জরুরি রূপরেখা (পর্ব-২)
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নওমুসলিমদের আইনি সুরক্ষা ও তথাকথিত ‘ডিটেনশন সেল’ উচ্ছেদের দাবি
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
৫০ লক্ষাধিক সেনাবাহিনীর জন্য বাংলাদেশের বাংকার নেটওয়ার্কের রূপরেখা (পর্ব ৯)
২৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ সম্পোর্কোন্নয়ন কেন শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তিতে? অনন্য উচ্চতায় উঠা এ সম্পর্ক কেন ইসলামী মূল্যবোধ ও মুসলিম ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে উজ্জীবিত হবে না? (১ম পর্ব)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন ও কৌশলগত স্বনির্ভরতা: বাংলাদেশের ৫০ লক্ষ পদাতিক বাহিনীর জন্য ৩য় প্রজন্মের এটিজিএম রোডম্যাপ (পর্ব ৭)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিশ্বে তৈরী পোশাক রফতানীতে প্রথম বাংলাদেশ কেনো তুলা আমদানীতেও প্রথম? নামে তুলা উন্নয়ন বোর্ড থাকলেও স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত তুলা চাষে কোনো উন্নয়নই নেই অপার সম্ভাবনা থাকলেও দেশে তুলা উৎপাদনে সরকারী কোনো তৎপরতা নেই অথচ ১৬৫০ থেকে ১৭৫০-এই ১০০ বছরে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোই বাংলা থেকেই ৩ লাখ গজ থেকে ৩ কোটি গজ কাপড় রপ্তানি করেছে। এই বিপুল উৎপাদনে এই বাংলাদেশই কীভাবে তুলার যোগান দিল?
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিশ্বে তৈরী পোশাক রফতানীতে প্রথম বাংলাদেশ কেনো তুলা আমদানীতেও প্রথম? নামে তুলা উন্নয়ন বোর্ড থাকলেও স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত তুলা চাষে কোনো উন্নয়নই নেই অপার সম্ভাবনা থাকলেও দেশে তুলা উৎপাদনে সরকারী কোনো তৎপরতা নেই
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












